নারায়ণগঞ্জ শহরে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নামে লাখ লাখ টাকা লোপাট

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৫, ২০১৯
0

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ : হতদরিদ্র মানুষ এবং পথশিশুদের সাহায্য করার উদ্যোগ নিয়ে নারায়ণগঞ্জে গড়ে উঠেছে অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। ঈদ কিংবা বিভিন্ন উৎসবে নিজেদের আনন্দ সকলের সাথে ভাগাভাগি করে নিতে অথবা শীতে হতদরিদ্র মানুষকে শীতের কষ্ট নিবারণের জন্য হাত বাড়িয়ে দেয়া সংগঠনগুলোর মূল উদ্দেশ্য।
এছাড়া পথ শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে কিংবা বিভিন্ন দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়াতে কাজ করে সংগঠনগুলো। এমনটাই দাবি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর। বাহ্যিক দৃষ্টিতে উদ্যোগটি মহৎ মনে হলেও এসব হতদরিদ্র মানুষ এবং পথ শিশুকে পুঁজি করে সংগঠনগুলো প্রতি মাসে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অনুমোদনহীন নামে-বেনামে বেআইনি পন্থায় নিজেদের ফায়দা হাতানোর উদ্দেশ্যে তারা চালাচ্ছে সাংগঠনিক কার্যকলাপ। সংগঠনগুলো পথ শিশুদের সাহায্যের কথা বলে কিংবা হতদরিদ্র মানুষকে সাহায্য করার নাম করে হাতে একটি বক্স নিয়ে বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের দিয়ে পাঠাচ্ছে মানুষের কাছে। এরপর সাহায্যের নামে মানবিক কথা বলে আদায় করা হচ্ছে চাঁদা। মানুষের নজর কাড়তে সাহায্য দেবার ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ সব ছবি মানবিকভাবে উপস্থাপনের পর ভাইরাল করে হাতিয়ে নিচ্ছে বড় অংকের টাকা।
সাহায্যের নামে যেসব শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করা হচ্ছে তাঁদের অধিকাংশই জানে না এই সংগঠনগুলোর বিস্তারিত তথ্য। কোথায় সংগঠনের কর্মসূচি। কোথায় স্কুল, কোথায় পথশিশুদের পড়ানো হবে। কিভাবেই বা হতদরিদ্রদের সাহায্য করা হবে এর কিছুই জানে না। এসব শিক্ষার্থী কখনো সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে সংগঠকদের পাতানো জালে ফেঁসে এসব কাজের সাথে জড়িয়েছে। আবার কখনো দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করছে তাঁরা।
এই ধরনেরই একটি সংগঠন হচ্ছে প্রথম অক্ষর। অনুসন্ধান করে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রাণ কেন্দ্র চাষাঢ়ায় প্রায়শই একটি ছেলে ও একটি মেয়েকে দেখা মেলে একটি বাক্স নিয়ে পথ শিশুদের পড়ানো হবে বলে সাহায্য চাইতে। তবে প্রতিদিন একই ছেলে মেয়ে আসছে না। একেক দিন একেক ছেলে মেয়ে দিয়ে টাকা উত্তোলন করা হয়। যাদের কেউ নারায়ণগঞ্জ থাকে না। সবাই ঢাকার কমলাপুর কিংবা এর আশেপাশের এলাকা থেকে আসে।
এক তরুণীর সাথে কথা হয় প্রতিবেদকের। পরিচয় দিয়েছে তার নাম মৌসুমি। সে ঢাকা মুগদায় থাকে। কোন এক বড় ভাইয়ের মাধ্যমে সংগঠনের সাথে তার পরিচয়। সংগঠনের কর্মীদের থেকে মহৎ উদ্যোগের কথা শুনে সেও যোগ দেয় তাদের সাথে। এরপর সংগঠনের কার্যক্রম হিসেবে তাকে নারায়ণগঞ্জে টাকা উত্তোলনের জন্য পাঠানো হয়। কিন্তু অন্যান্য কার্যক্রম সম্পর্কে সে খুব বেশি জানে না।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই সংগঠনটি কয়েকবার চাষাঢ়াস্থ শহীদ মিনারে পথশিশুদের একত্রিত করে পড়ানোর কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। কিন্তু দুই তিনবার কার্যক্রম পরিচালনার পর হঠাৎ তাদের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তিতে সাহায্যের নামে টাকা উত্তোলন চললেও কোনো ধরণের কাযক্রম দেখা যায়নি।
কথা বলার জন্য প্রথম অক্ষর সংগঠনের নারায়ণগঞ্জের কোনো কর্মীকে পাওয়া যায়নি। প্রথম অক্ষরের প্রতিষ্ঠাতা ডা. ইমনের সাথে মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করা হলেও বারবার তিনি ফোন কেটে দেন।

LEAVE A REPLY