নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালকে বদলে দেয়ার প্রত্যয়

আপডেট: মে ১০, ২০১৯
0

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুর ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে রোগীদের স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত ও আরো উন্নত করতে বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহনের উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছে। যার মধ্যে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাসপাতালের অভ্যন্তরে ৩০ সদস্যের একটি স্থায়ী আনসার ক্যাম্প স্থাপন পাশাপাশি প্রতিদিন থানা পুলিশের টহল অব্যাহত রাখা।
সেই সাথে হাসপাতালের সকল সিসি টিভি ক্যামেরা সচল রাখা সহ এর সংখ্যা আরো বৃদ্ধি করার ব্যাপারে জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের হয়রানি রোধে হাসপাতালের সার্বিক তথ্য সমৃদ্ধ একটি হেল্পডেক্স স্থাপন এবং জরুরি বিভাগে সার্বক্ষনিক ৩ চিকিৎসক রাখার ব্যবস্থা করতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী আগামী ৭ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত আকারে আবেদন করতে অনুরোধ জানিয়েছেন জেলা স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান।
বৃহস্পতিবার ৯ মে বেলা সাড়ে ১১টায় ৩০০ শয্যা হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে জেলা স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির মাসিক সভায় উক্ত সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। ২০১৯ সালে নব গঠিত স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির এটিই ছিল প্রথম মাসিক সভা। সরকারী নিয়মানুযায়ী গঠিত উক্ত কমিটিতে পূর্বের সদস্যদের মধ্যে মাত্র দুজন কর্মকর্তা ব্যতিত বাকি সকলেই নতুন মুখ।
সভায় এমপি সেলিম ওসমান, খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করার লক্ষ্যে সরকারী ব্যয়ে নির্মাণাধীন নতুন ভবনের কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে আলোচনায় বিভিন্ন সমস্যার কথা উঠে আসে। যার মধ্যে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারটি স্থানান্তরের আলাদা সেটঘর নির্মাণ করা হওয়ার পরেও এখনো সেটি স্থানান্তর করা সম্ভব হয়নি বলে নতুন ভবনের নির্মাণ কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে বলে প্রতীয়মান হয়।
যার ফলে এমপি সেলিম ওসমান আগামী ৭দিনের মধ্যে অপারেশন থিয়েটারটি স্থানান্তরের ব্যবস্থা করতে বলেন। পাশাপাশি ওই সময়ের মধ্যে যাতে হাসপাতালের চিকিৎসা নিতে আসা কোন রোগীর বিড়ম্বনা সৃষ্টি না হয় সে লক্ষ্যে অপারেশন থিয়েটারটি স্থানান্তর সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত নির্ধারিত ওই সময়ে টুকুতে নারায়ণগঞ্জবাসীকে উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ৩০০ শয্যা হাসপাতালে উক্ত সময়ের মধ্যে সার্জারী কার্যক্রম সায়মিক বন্ধ থাকবে বলে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে অবহিত করার অনুরোধ রাখেন।
অপরদিকে হাসপাতালের চিকিৎসকের বিভিন্ন সময় জরুরি বিভাগে নানা কারনে উৎবত পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার কথা উল্লেখ করেন এবং স্থানীয় লোকজনদের মাধ্যমে সৃষ্ট হওয়া সমস্যার কথা তুলে ধরেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল হাসপাতাল সম্পর্কে পূর্ব অভিজ্ঞতা এবং স্থানীয় এলাকাবাসী হিসেবে বিকেএমইএ এর পরিচালক জিএম ফারুককে কমিটিতে কো-আপ্ট সদস্য হিসেবে অর্ন্তভুক্ত করার প্রস্তার রাখেন।
চেম্বার সভাপতির প্রস্তাবে কমিটির সভাপতি সেলিম ওসমান সহ সকলে একমত পোষন করেন। তবে এমপি সেলিম ওসমান এ ব্যাপারে একটি শর্ত জুড়ে দেন। শর্তে তিনি উল্লেখ করেন স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটিতে আমি বাকি সদস্য যারা রয়েছেন তাদের মধ্য থেকে কেউ বা তার পরিবারের সদস্যরা ৩০০ শয্যা হাসপতালের সাথে কোন প্রকার ব্যবসায়ীক কার্যক্রম করতে পারবেন না, এ সকলকে লিখিত আকারে কমিটির কাছে জমা দিতে হবে। আমি কোন ব্যক্তির পক্ষে বা বিপক্ষে বলছি না আমরা সবাই মিলে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নারায়ণগঞ্জবাসীকে একটি মানসম্পন্ন হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কাজ করার চেষ্টা করছি। যাতে করে কমিটিতে থাকা কারো বিরুদ্ধে কোন বদনাম না হয়।
আর খানপুর হাসপাতালকে একটি মানসম্পন্ন হাসপাতালে পরিণত করে জনগনের মৌলিক অধিকার স্বাস্থ্যসেবার নিশ্চিত করতে আমাদের সব থেকে বেশি প্রয়োজন নারায়ণগঞ্জের সাংবাদিকদের সর্বাত্মক সহযোগীতা। হাসপাতালটি ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট কাগজে কলমে থাকলেও প্রকৃত পক্ষে এখানে সঠিক ভাবে ২০০ শয্যা হাসপাতালের জনবল, যন্ত্রপাতি কিছুই নেই। নারায়ণগঞ্জের সাংবাদিক ভাইয়ের এসব সমস্যার কথা গুলো তাদের লেখনির মাধ্যমে তুলে ধরলে আমাদের কাজ করতে আরো অনেক বেশি সুবিধা হবে। আর এ ব্যাপারে আমি নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহাবুবুর রহমান মাসুম এর সহযোগীতা কামনা করছি। যিনি এই স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটিতে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করছেন।
পরিপ্রেক্ষিতে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহাবুর রহমান মাসুম সর্বাত্মক সহযোগীতার আশ্বাস প্রদান সহ হাসপাতালটি বেশ কয়েকটি সমস্যার কথা তুলে ধরে সেগুলো প্রতিকারে ব্যবস্থা গ্রহনের কথা তুলে ধরেন।
জেলা স্বাস্থ্য কমিটির সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের সভাপতিত্বে মাসিক সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, কমিটির সদস্য সচিব ও ৩০০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার আবু জাহের, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোহাম্মদ আলী, সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট হোসনে আরা বেগম বাবলী, জেলা সিভিল সার্জন ডাক্তার ইমতিয়াজ আহম্মেদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মাসুম বিল্লাহ, অতিরিক্তি পুলিশ সুপার সুভাষ চন্দ্র, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি এর সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল, নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহাবুবুর রহমান মাসুম, গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির হোসেন, জেলা সমাজ সেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা নাহিদা পারভীন, ৩০০ শয্যা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডাক্তার জাহাঙ্গীর আলম, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি ডাক্তার বিধান চন্দ্র পোদ্দার, সাধারণ সম্পাদক ডাক্তার দেবাশীষ সাহা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডাক্তার শামসুদ্দোহা প্রমুখ।

LEAVE A REPLY