নারী–‌শিশু পাচার রুখতে ভারতে আধুনিক প্রযুক্তি

আপডেট: এপ্রিল ২৮, ২০১৮

দেশ জনতা ডেস্ক:
কোন ক্ষেত্রে কীভাবে পাচার হচ্ছে, সেই বিষয়ে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল থেকে সীমান্তবর্তী এলাকায় সকলের মধ্যে সচেতনতাবোধ গড়ে তোলার কাজে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, পুলিস, প্রশাসন, বিএসএফ, আরপিএফ, কেন্দ্র–রাজ্য সরকার সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আরও জোর দিয়ে পাচার আটকানোর কথা বললেন মন্ত্রী থেকে পুলিস প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা। পাচার রোধের ওপর শুক্রবার আমেরিকান সেন্টারে মার্কিন কনসুলেট জেনারেল কলকাতা এবং স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা শক্তি বাহিনী যৌথভাবে আয়োজন করে সপ্তম কনক্লেভ।

রাজ্যের নারী, শিশু, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডাঃ শশী পাঁজা জানিয়েছেন, ‘‌মহিলা, শিশুদের পাচার আটকাতে রাজ্য সরকার যথেষ্ট তৎপরতার সঙ্গে কাজ করছে। প্রত্যন্ত অঞ্চল, সীমান্ত লাগোয়া গ্রামে সব জায়গায় সচেতনতা বাড়াতে ‘‌স্টেট অ্যাকশন প্ল্যান’‌ চালু করতে চলেছি। দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও মালদায় পাইলট প্রোজেক্ট হিসেবে দ্রুতই চালু হবে। পরবর্তী ধাপে কোচবিহার, আলিপুরদুয়ারে এই প্রোজেক্ট শুরু হবে।’‌ কেন্দ্রীয় সরকারের অধীন সশস্ত্র সীমা বল (‌এসএসবি)‌–এর শিলিগুড়ি বিভাগের আইজি শ্রীকুমার ব্যানার্জি বলেন,‘‌দারিদ্র‌্যের সঙ্গে অনেক পরিবার হার মেনে অসহায় হয়ে নিজের সন্তানদের বিক্রি করছে। আবার বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখেছি নিকটবর্তী পরিচিতরাই বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে, কাজের টোপ দিয়ে পাচার করে দিচ্ছে। আমরা সচেতন করার চেষ্টা করছি দুর্গম এলাকার

মানুষকে।’‌ ডিআইজি (‌আরপিএফ)‌ তারিক আহমেদ বলেন, ‘‌হাওড়া, শিয়ালদা, মালদা, ভাগলপুর স্টেশনের পাশাপাশি এখন নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনেও বেশি পাচার হচ্ছে। পাচার রোধে বিভিন্ন স্টেশনে হেল্প ডেস্ক চালু হয়েছে।’‌ শক্তি বাহিনীর ফাউন্ডার রবি কান্ত এবং ঋষি কান্ত বলেন, ‘‌কন্যাশ্রী প্রকল্প চালুর পর থেকে এখন পশ্চিমবঙ্গে বাল্যবিবাহ, পাচার আগের তুলনায় কিছুটা কমলেও ১৮–২৫ বছর বয়সিরা এখনও পাচার হচ্ছে। নদীয়া, মালদা, মুর্শিদাবাদ, জলপাইগুড়ি থেকে বেশি পাচার হচ্ছে।
পাচার হওয়ার পর কাউকে উদ্ধার করলে তাকে ট্রমা থেকে বার করে আনার জন্য যথাযথ কাউন্সেলিংয়ের প্রয়োজন।’‌ রাজ্য শিশু অধিকার ও সুরক্ষা আয়োগের চেয়ারপার্সন অনন্যা চক্রবর্তী বলেন, ‘‌যে মেয়েরা উদ্ধার হয়ে আসছে তাদের পাচারকারীরা সাক্ষীর অভাবে সহজেই জামিন পেয়ে যায়। ভিডিও কনফারেন্স পদ্ধতিতে সাক্ষী দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করা দরকার।’‌ পাচার রোধে সরকারের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন মার্কিন কনসাল জেনারেল ক্রেইগ হল। সকলে মিলে এ কাজ করার আহ্বান জানান আমেরিকান সেন্টারের ডিরেক্টর জেমি ড্রাগন। পাচারকারীদের ধরতে ডিএনএ প্রযুক্তিকে কাজে লাগানো