নাসিকে মশার তীব্রতায় অতিষ্ট অসহায় নগরবাসী

আপডেট: মার্চ ১৪, ২০১৯

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ :

জনসংখ্যার তুলনায়নিজেদের আধিপত্য কয়েকগুণ বেশী হওয়ায় এখন মশার কাছেযেন রীতিমত অসহায় হয়ে পড়েছেন নগরবাসী।

দীর্ঘদিনশুস্ক মৌসুম থাকায় আর বৃষ্টিপাত না হওয়ার কারনেআবারো নগরীতে বেড়েছে মশার তীব্রতা।তবে শুধুমাত্র শুধু রাতের বেলায়ই নয়, নগরীজুড়ে এখন মশারআধিপত্য এতটাই বিস্তার লাভ করেছে যে, দিনের বেলাতেও
মশার কবল থেকে বাঁচতে ঘরের ভেতরে মশক নিধনের ঔষধব্যবহার করতে হচ্ছে। যেন মশার রাজ্যে পরিনত হয়েছেনারায়ণগঞ্জ।

নৌ কিংবা স্থল পথ, সন্ধ্যার পর উভয়পথেই চলাচলের ক্ষেত্রে মশারকাছে সাধারন পথচারী বা যাত্রীদের অসহায় আত্মসমর্পণকরতে হচ্ছে। কেননা, উন্মুক্ত স্থানে চাইলেও যে কেউ মশকনিধন ঔষধ ব্যবহার করতে পারছেন না।

ফলে মানবদেহেমরনব্যাধি রোগজীবানু ছড়ানো ক্ষুদ্র এই কীটটিরকাছে নিজেদের অসহায়ত্ব প্রকাশ করেই প্রতিনিয়ততাদের বিষাক্ত কামড় যন্ত্রণা সহ্য করতে হচ্ছে নগরবাসীকে।

অথচ, মশার উপদ্রব থেকে নগরবাসীকে রক্ষার দায়িত্বভার যেইসংস্থার উপড় ন্যস্ত রয়েছে, সেই নারায়ণগঞ্জ সিটিকর্পোরেশনেরই কোন ভ্রুক্ষেপ নেই মশক নিধনে কার্যকরীপদক্ষেপ নিতে।জানা গেছে, মশার কামড়ে বড়দের সাথে সাথে শিশুদেরওনানা ধরনের মারাতœক সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ারসম্ভবনা সবচেয়ে বেশী থাকে। নগরীর সর্বত্র এবংআশাপাশের এলাকায় ড্রেন, ডোবা, জলাশয় থাকার কারনেমশার উপদ্রব খুবই বেশী থাকে।কিন্তু এই মশক নিধনে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এরপক্ষ থেকে প্রতি বছর বাজেট নির্ধারিত থাকলেও নগরীরবিভিন্ন ড্রেন ও জলাশয়ের ভেতর মশক নিধনের ঔষধ কার্যতপক্ষে নিয়মিত ব্যবহার করছেনা দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মীরাবলে অভিযোগ করেন নগরবাসী।কোন কোন ওয়ার্ডে সৌভাগ্যবশ:ত নাসিকেরপরিচ্ছন্ন কর্মীদের ফগার মেশিন দ্বারা মশক নিধনেরস্প্রে ছিটাতে দেখা গেলেও তাৎক্ষনিক গোটা এলাকাধোঁয়ায় আচ্ছন্ন থাকার পরেই পুনরায় মশার উপদ্রব বেড়েযায় বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক ওয়ার্ডেরবাসিন্দারা।
তাদের অভিযোগ, মশক নিধনের নামে নাসিকের কর্মীরাশুধুমাত্র এলাকাটি ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন করে যায়।

কিন্তুতাতে মশা আর মরে না। ফলশ্রুতিতে, মশা মরার পরিবর্তেবংশ বিস্তার অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় এখন মশারউপদ্রবে নগরীতে চলাফেরা করাটাও দূরহ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরো কয়েকজন নগরবাসী অভিযোগ করেন, মশক নিধনেনারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে মাঝে মধ্যেএসে ঔষধ স্প্রে করানো হয়।

কিন্তুু ধারাবাহিক নিয়মে তাহচ্ছে না। যদি নিয়মিতভাবে ঔষধ স্প্রে করানো হতোতাহলে মশা থেকে কিছুটা হলেও আমরা রক্ষা পেতাম। দিনে ওরাতে আমাদের ঘরের ভেতর মশক নিধনে ব্যবহার করতে হচ্ছেমশার কয়েল।

এসব বিষাক্ত কয়েলের ধোঁয়া সকলের জন্যক্ষতিকর জানা স্বত্তেও মশার উপদ্রব থেকে বাঁচতে অনেকটাবাধ্য হয়েই আমাদের মশার কয়েল ব্যবহার করতে হচ্ছে।’

মশার কামড় থেকে কি কি ধরনের রোগ হওয়ার সম্ভবনা থাকেএ বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ ১’শ শয্যা বিশিষ্ট(ভিক্টোরিয়া) জেনারেল হাসপাতারেল আবাসিক মেডিকেলঅফিসার (আরএমও) ডা: আসাদুজ্জামান জানান, ‘মশারকামড় থেকে সাবধানে থাকতে হবে।

এই শুস্ক মৌসুমে মশারকামড়ে ম্যালেরিয়া, টাইফয়েড জ্বর হতে পারে। তবে এ ধরনেররোগী তেমন একটা নেই। বৃষ্টি মৌসুমে বৃষ্টির জমেথাকা পানিতে এডিস মশার জন্ম হয়। এই মশার কামড়েডেঙ্গু ও চিকন গুনিয়া হওয়ার সম্ভবনা সবচেয়ে বেশীথাকে।’

এদিকে, মশক নিধনের কার্যক্রম প্রসঙ্গে জানতে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এহতেশামুল হকের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি মুঠোফোন রিসিভ করেননি।