নাসিক নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের দাবী বিএনপির

0
63

নারায়নগঞ্জের নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের দাবী বিএনপির। আজ এক সংবাদ সম্মলনে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এ দাবী জানান।
তার বক্তব্য হুবুহু তুলে ধরা হলো- নির্বাচনকে ঘিরে ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ উদ্দীপনা থাকলেও এখনও ভয়ভীতিমুক্ত হতে পারেনি ভোটাররা। ইতোমধ্যে বিএনপি সমর্থিত ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে ব্যাপক গণজোয়ার তৈরী হয়েছে। নারায়ণগঞ্জবাসী ধানের শীষের প্রার্থীকে ভোট দিতে ঐক্যবদ্ধ। আমাদের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় বিএনপি এবং ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে অবিরাম কাজ করে যাচ্ছেন। যেদিকেই ছুটছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা সেদিকেই মিলছে ধানের শীষের পক্ষে ব্যাপক সাড়া। ভোটারবিহীন নির্বাচনের ফলে দীর্ঘদিন তারা ভোট দিতে না পারায় ভোটাররা ২২ ডিসেম্বর ধানের শীষে ভোট দিতে উন্মুখ হয়ে আছেন। সরকার যদি কোন প্রকার কারচুপি, ভোটডাকাতী কিংবা ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং না করে তাহলে সেদিন ধানের শীষের পক্ষে জয় সুনিশ্চিত হবে। ধানের শীষের পক্ষে বিজয়ের আলামতে ভোটারবিহীন সরকার কী ফন্দি আঁটছেন তা আল্লাহই জানেন। ইতোমধ্যে সরকারের ইশারায় ইসির পুরনো চেহারা স্পষ্ট হতে শুরু করেছে, কারন নাসিক নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সকল দলের প্রার্থীরাই সেনা বাহিনী মোতায়েন চেয়েছিল। কিন্তু প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিব সাহেব সেটিকে অগ্রাহ্য করে নাসিক নির্বাচন নিয়ে একটি গভীর সংশয় সৃষ্টি করেছেন। এতে নারায়গঞ্জ সিটি কর্পোরেশনসহ সারাদেশের মানুষ ভাবতে শুরু করেছে যে, নির্বাচন কমিশন নৌকা প্রতীকের পরাজয়ের আভাস পেয়ে ভোট নিয়ে কোন অশুভ কারসাজিতে লিপ্ত হয়ে পড়েছে কী না ? নির্বাচন নিয়ে শাসকদলের লোকজনদের নিয়ে নানাধরণের অনিয়মকে আমলে না নেওয়ায় কারসাজির বিষয়টি ভোটারদের মনে আরও ঘনীভুত হচ্ছে । ইতোমধ্যে ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের জন্য দলীয় ক্যাডারদের দিয়ে প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার নিয়োগ ও নির্বাচনী দায়িত্বে আনসার বাহিনীর নামে দলীয় ক্যাডার বাহিনী নিয়োগ দেয়ার নানা খবর আমাদের কাছে আসছে। আমরা নির্বাচন কমিশনের নিকট দাবি জানাচ্ছি নির্বাচনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য নিরপেক্ষ প্রিজাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তা নিয়োগ দিন। নির্বাচনে কারচুপি ও ভোট ডাকাতি যাতে না হয় এবং কোন প্রকার প্রভাব খাটানোর সুযোগ যাতে না থাকে সেজন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে নির্বাচন কমিশনকে আহবান জানাচ্ছি।
সাংবাদিক বন্ধুরা,
আমরা আগেও বলেছি-সন্ত্রাসকবলিত নারায়ণগঞ্জে সাধারণ মানুষের মধ্যে এমনিতেই একধরণের ভীতি কাজ করে। তার উপর শাসকদলের ক্যাডারদের দ্বারা জনগণের উপর চাপ ও হয়রানী, ভয়ভীতির খবর পাওয়া যাচ্ছে। তারা বিএনপিসহ সাধারণ ভোটারদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শণ করছেন এমন অভিযোগও উঠছে। ধানের শীষের প্রার্থীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরাও একই ধরণের অভিযোগ করছেন। কিন্তু এ বিষয়ে কোন অভিযোগ আমলে না নিয়ে কিংবা পাত্তা না দিয়ে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশন যথাযথ নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখার অঙ্গিকারের গাজর ঝোলালেও মানুষের মন থেকে ভীতি, সন্দেহ, উদ্বেগ, উৎকন্ঠা কাটছে না। ভয়ভীতিমুক্ত, অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য বিএনপিসহ সকল রাজনৈতিক দলগুলো বারবার সেনা মোতায়েনের দাবি জানালেও সরকারী খাঁচায় বন্দী নির্বাচন কমিশন স্বাধীন সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র পক্ষ থেকে আবারো দাবি জানাচ্ছি-অবিলম্বে নাসিক নির্বাচনে সেনা মোতায়েন করা হউক। এই মূহুর্তে বৈধ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হউক। সকল ন্যায়সংগত দাবি উপেক্ষা ও অগ্রাহ্য করে সরকার দলীয় প্রার্থীকে বিজয় করার জন্য নাসিক নির্বাচনে কোন প্রকার কারচুপি হলে, কোন প্রকার ভোট ডাকাতির চেষ্টা হলে,্ এর প্রতিক্রিয়ায় যেকোন দায়-দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনকেই বহন করতে হবে।

LEAVE A REPLY