নিউমোনিয়ায় ১ লাখ ৪০ হাজার শিশুর মৃত্যুর আশঙ্কা

আপডেট: জানুয়ারি ৩০, ২০২০
0

শীঘ্রই নিউমোনিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই জোরদার না করা হলে আগামী দশকে বাংলাদেশে ১ লাখ ৪০ হাজার শিশুর প্রাণহানি ঘটতে পারে। জন্স হপকিন্স ইউনিভার্সিটির প্রকাশিত এ বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

মঙ্গলবার (জানুয়ারি ২৯) বার্সেলোনায় শৈশবকালীন নিউমোনিয়া বিষয়ক প্রথম বৈশ্বিক ফোরামের প্রথমদিন এ প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়। ৯টি শীর্ষস্থানীয় স্বাস্থ্য ও শিশু সংস্থার উপস্থিতিতে আয়োজিত এ ফোরামটি ২৯ জানুয়ারি থেকে আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অপুষ্টি, বায়ু দূষণ ও সময়মত টিকা না নেয়া ও অধিক অ্যান্টিবায়োটিক সেবনে এ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এতে গত বছর বাংলাদেশে প্রতি ঘণ্টায় একজন করে শিশুর মৃত্যু ঘটেছে।

তবে নিউমোনিয়া প্রতিরোধ ও চিকিৎসা সেবা জোরদারের মাধ্যমে আনুমানিক ৪৮ হাজার শিশুর মৃত্যু এড়ানো সম্ভব। নিউমোনিয়া মোকাবিলার প্রচেষ্টায় সফল হওয়া গেলে শৈশবকালীন আরো বহু রোগ থেকে ৯২ হাজার শিশুর মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব।

জানা গেছে, ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা ছত্রাকের কারণে নিউমোনিয়া হয় এবং এ রোগে আক্রান্ত হলে শিশুদের ফুসফুস পুঁজ ও তরলে ভরে যায়, যার কারণে তাদের নিঃশ্বাস নিতে রীতিমতো যুদ্ধ করতে হয়। এ রোগটি বাংলাদেশে শিশুদের অন্যতম বড়ঘাতক। যার কারণে পাঁচ বছরের কম বয়সী ১৩ শতাংশ শিশুর মৃত্যু হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই টিকার মাধ্যমে নিউমোনিয়া প্রতিরোধ হতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশে এক বছরের কম বয়সী অনেক শিশুকে টিকা দেয়া হয় না এবং এ রোগের লক্ষণে থাকা সত্ত্বেও অধিকাংশ শিশু প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা পায়না।

এ বিষয়ে সেভ দ্য চিলড্রেনের প্রধান নির্বাহী কেভিন ওয়াটকিন্স বলেন, ‘যে পরিমাণ জীবন বাঁচানো যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, প্রকৃতপক্ষে সম্ভাবনা তার চেয়ে অনেক কম। কারন এ গবেষণায় বায়ু দূষণ কমাতে কোন পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দেয়া হয়নি। এ বিষয়টি নিউমোনিয়ার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত।’

বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি টোমো হোযুমি বলেন, ‘দরিদ্র ও অধিকার বঞ্চিত শিশুরাই সবচেয়ে বেশি নিউমোনিয়ায় মৃত্যুর ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব পরিবারের শিশুদের সেবা পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীন এবং তাদের পাঁচ বছরের আগেই মারা যাওয়ার সম্ভাবনাও দ্বিগুণ। নিউমোনিয়ার কারণে শিশু মৃত্যু বন্ধের যথেষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। এজন্য সুস্বাস্থ্য, পুষ্টি, নিরাপদ পানি ও পয়নিস্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিতের পাশাপাশি বায়ুদূষণ রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে।

LEAVE A REPLY