পরিস্থিতি বুঝে দেশে ফিরবেন না’গঞ্জের বিএনপির দুই প্রভাবশালী নেতা শাহআলম ও এটিএম কামাল

আপডেট: অক্টোবর ৯, ২০১৮

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ : দীর্ঘদিন ধরে সরকারি দলে না থাকায় বিএনপির নেতাকর্মীরা ক্ষমতাসীন দলের রোষানলে পড়ে অনেকেই দেশ ছেড়ে বিদেশ পাড়ি জমিয়েছেন। তারই ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রাজপথের লড়াকু সৈনিক এটিএম কামাল এবং জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শিল্পপতি শাহ আলম (কখনো মাঠে দেখা যায়নি) বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তারা অনেকদিন ধরে বিদেশ থাকলেও আবার পরিস্থিতি বুঝেই দেশে ফিরবেন বলে জানা গেছে।
সূত্র মতে, ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতার বাইরে চলে যায় বিএনপি। পরবর্তীতে ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফের ক্ষমতার বাইরে চলে যায় বিএনপি। সে হিসেবে দীর্ঘ ১১ বছর যাবত ক্ষমতার বাইরে রয়েছে বিএনপি।
দীর্ঘ এই ১০ বছর ধরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর একের পর এক মামলায় অনেকটা কাবু হয়ে হয়ে পড়েন নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীরা। একের পর এক মামলায় জড়িয়ে তাদেরকে দিনের পর দিন আদালতের বারান্দায় কিংবা পরিবার পরিজন ছাড়া অন কোথাও দিন কাটাতে হয়। অন্যথায় কারাগারই তাদের ঠিকানা হয়ে যায়। আর এর মাত্রা সইতে না পেরে অনেকেই দেশ ছেড়ে বিদেশ পাড়ি জমিয়েছেন।
তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল। যিনি গত ৩১ মার্চ হঠাৎ করে তিনি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। এরপর ডাক্তার বিশ্রামের কথা বললে তিনি গত ৮ এপ্রিল দেশ ছেড়ে সুদূর আমেরিকায় পাড়ি জমান। এর পর থেকে তিনি সেখানেই তার মেয়ের বাসায় রয়েছেন। একান্তই চিকিৎসার জন্য তিনি সেখানে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তার পরিবার এবং চিকিৎসার সামগ্রিক কাজ শেষ হলেই তিনি দেশে ফিরে আসবেন বলে জানিয়েছিলেন তার পরিবারের সদস্যরা। তবে সেই চিকিৎসা কবে শেষ হবে সেটা কারও জানা নেই। বিএনপির একটি সূত্র জনায়, যদি এটিএম কামাল বিদেশে চলে না যেত, তবে তার উপর কঠিন নির্যাতন করতো আওযামী সরকার হয়তো তার বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে পরতো।
অথচ এই এটিএম কামাল ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই নারায়ণগঞ্জ রাজপথের অন্যতম সৈনিক ছিলেন এটিএম কামাল। তৎকালীয় সময় তিনি ছিলেন নারায়ণগঞ্জ শহর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। সাধারণ সম্পাদক থাকা অবস্থায় দলীয় প্রত্যেক কর্মসূচিতেই নেতাকর্মীদের নিয়ে তার সরব উপস্থিতি থাকতো। পুলিশের হামলা-মামলাও রুখতে পারেননি তাকে। একের পর এক মামলায় জেল খেটেছেন বহুবার। তারপরেও তাকে দমিয়ে রাখা যায়নি।
অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শাহ আলম বিএনপির রাজনীতির শুরু থেকেই নিস্ক্রীয় ছিলেন। দলীয় প্রায় সকল কর্মসূচিতেই তার অংশগ্রহণ থাকতো না। নিজে উপস্থিত না থেকে টাকার বিনিময়ে ঘনিষ্টজনদের দিয়ে দলীয় কর্মসূচি পালন করাতেন। স্থানীয় পর্যায়ের কোন কর্মসূচিতে তার অংশগ্রহণ না থাকা সত্ত্বেও বিশাল অংকের টাকার বিনিময়ে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতির পদটি বাগিয়ে নিয়েছেন।
শাহ আলম তিনি দেশের বাইরে থাকা অবস্থায় গত ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর সকাল পর্যন্ত নিখোঁজ থাকেন তারই অনুগত নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মশিউর রহমান রনি। দুইদিন নিখোঁজ থাকার পর ১৭ সেপ্টেম্বর সকালে রনিকে পিস্তল ও গুলি সহ গ্রেফতার দেখানো হয়। এই খবরেও তিনি দেশে ফিরেননি। আদৌ ফিরবেন কিনা সেটাও জানেন না নেতাকর্মীরা।
তবে নেতাকর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ সভাপতি শাহ আলম পরিস্থিতি বুঝেই দেশে ফিরবেন। যেহেতু সারাদেশ জুড়ে নির্বাচনী হাওয়া বইছে। পরিস্থিতি পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর এতে পরিবেশ পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলেই তারা দেশে ফিরবেন বলে জানা গেছে।

নারায়ণগঞ্জ