পহেলা বৈশাখ: অবিচার ও অনাচারে প্রাণ হারানো মানুষদের স্মরণ

আপডেট: এপ্রিল ১৪, ২০১৯
0

বাংলা নববর্ষ বরণ অনুষ্ঠানে আজ ছায়ানটের পক্ষ থেকে ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে দেশে সংগঠিত নানা অনাচারের বিপক্ষে। এ সময় শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয় আগুনে পুড়িয়ে হত্যাকরা ফেনী মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত জাহানসহ নানা অবিচার এবং অনাচারে প্রাণ হারানো মানুষদের।

আজ (রোববার) সকালে ছায়ানটের সভাপতি সন্‌জীদা খাতুন তার বক্তব্যের মাঝে সবাইকে একমিনিট দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের অনুরোধ জানান। স্মরণ করা হয় নুসরাত জাহান, তনু, সাগর-রুনি, মিতুকে।

এসময় সন্‌জীদা খাতুন বলেন, ‘আমরা আর যেন নীতিবিহীন অন্যায়- অত্যাচারের নীরব দর্শকমাত্র হয়ে না থাকি।
প্রতিবাদে, প্রতিকার সন্ধানে হতে পারি অবিচল। নববর্ষ এমন বার্তাই সঞ্চার করুন আমাদের অন্তরে।’

‘নুসরাত হত্যা বৈশাখের উৎসবকে ম্লান করে দিয়েছে’:

ওদিকে, ফেনীর নুসরাত হত্যার ঘটনা পহেলা বৈশাখের উৎসবকে ম্লান করে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ। আজ দুপুরে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মহিলা দলের মানববন্ধনে তিনি এই মন্তব্য করেন।

 

এছাড়া, ফেনী ও পিরোজপুর জেলায় বৈশাখী উৎসব উপেক্ষা করে মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যায় জড়িতদের বিচার দাবিতে মানববন্ধন করেছে রাজনৈতিক নেতাকর্মী, মুক্তিযোদ্ধা এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

রোববার দুপুরে পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার দীর্ঘা বাজারে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি পরিষদ, শহীদ জননী মহিলা মহাবিদ্যালয়, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি ও ছাত্র ইউনিয়ন যৌথভাবে এ কর্মসূচির আয়োজন করে।

আমাদের কোনো পহেলা বৈশাখ নেই- রিজভী আহমেদ

তবে, শোক আর প্রতিবাদের মাঝেও পহেলা বৈশাখের উচ্ছ্বাস এবার দীর্ঘশ্বাস হয়ে দেখা দিয়েছে খুলনার রাষ্ট্রায়ত্ত নয়টি পাটকলের অর্ধলাখ শ্রমিক পরিবারে।

অর্ধাহারে-অনাহারে থাকা শ্রমিকরা মজুরি কমিশন বাস্তবায়নসহ ৯ দফা দাবিতে নববর্ষের প্রথম দিনেও আন্দোলনে নেমেছেন রাজপথে। রোববার সকাল নয়টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত মহানগরীর খালিশপুর শিল্পাঞ্চলে বিক্ষোভ মিছিল করেছে শ্রমিকরা।

খুলনার ক্রিসেন্ট, প্লাটিনাম, খালিশপুর, দৌলতপুর, স্টার, ইস্টার্ন, আলিম এবং যশোরের জেজেআই ও কার্পেটিং জুট মিলের শ্রমিকরা এ আন্দোলনে যোগ দেয়।

বাংলাদেশ পাটকল শ্রমিক লীগ ও সিবিএ-ননসিবিএ পরিষদের ডাকে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

খুলনায় পাটকল শ্রমিকদের বিক্ষোভ:
বাংলাদেশ পাটকল শ্রমিক লীগ খুলনা অঞ্চলের আহ্বায়ক মো. মুরাদ হোসেন বলেন, আমাদের কোনো পহেলা বৈশাখ নেই। ঠিকমতো দু’মুঠো খেতে পারছে না শ্রমিকরা।
বেতন না থাকায় অনেকের ছেলে-মেয়ের লেখাপড়াও বন্ধ হয়ে গেছে। সবাই নববর্ষ পালন করছে। আর পাটকল শ্রমিকরা দাবি আদায়ে আন্দোলন করছেন।

উল্লেখ্য, রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোতে ৮ থেকে ৯ সপ্তাহ মজুরি না পেয়ে শ্রমিকরা মানবেতর জীবনযাপন করছে। ৯ দফা দাবি আদায়ে গত ৬ মার্চ ঢাকায় বিজেএমসির সঙ্গে দ্বি-পাক্ষিক আলোচনা সফল না হওয়ায় টানা কর্মসূচি ঘোষণা করে শ্রমিকরা।

শ্রমিকরা সোমবার সকাল থেকে টানা ৯৬ ঘণ্টা মিলের উৎপাদন বন্ধ রেখে ধর্মঘট কর্মসূচি পালন করার ঘোষণা দিয়েছে।
একইসঙ্গে প্রতিদিন সকাল আটটা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত রাজপথ-রেলপথ অবরোধ করা হবে।#

LEAVE A REPLY