পাকিস্তানকে বয়কটের ভারতীয় আবদারে সাড়া দিল না আইসিসি

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০১৯

 

বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ক্রিকেট বোর্ড ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। তাদের দাপট এতটাই যে আইসিসির সিদ্ধান্তেও প্রভাব ফেলতে পারে তারা। ক্রিকেটের সবচেয়ে ধনী বোর্ড।

ক্রিকেট বাণিজ্যের সবচেয়ে বড় কেন্দ্র বলে ক্রিকেটের নিয়ন্তা সংস্থাটির ওপরও মাঝে মাঝে ছড়ি ঘোরাতে চেষ্টা করে তারা।
সম্প্রতি কাশ্মীরে আত্মঘাতী হামলার ঘটনায় পাকিস্তানের সাথে ভারতের পুরনো শত্রুতা আবার জেগে উঠেছে। চিরবৈরী দেশটিকে কোণঠাসা করতে সমস্ত চেষ্টাই করে যাচ্ছে ভারত।

তার অংশ হিসেবে পাকিস্তানকে ক্রিকেট থেকে একঘরে করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে দেশটি।
সন্ত্রাসবাদে মদদ দেওয়ার অভিযোগ ভারতের পক্ষ থেকে দাবি উঠেছে বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে বয়কট করতে। সেই সাথে বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তানের ম্যাচটি বাতিলেরও জোর দাবি উঠেছে।

মোহাম্মদ আজহারউদ্দীন, সৌরভ গাঙ্গুলী, হরভজন সিংদের মতো ভারতের সাবেক গ্রেটরা এই দাবির পক্ষে সুর মেলাচ্ছেন।
সব মিলিয়ে ভারতীয় বোর্ড থেকে একটি চিঠি দেওয়া হয় আইসিসি বরাবর। চিঠিতে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদে যুক্ত রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক ত্যাগের আহ্বান জানানো হয়।

যদিও চিঠিতে পাকিস্তানের নাম উল্লেখ করেনি ভারত।

ওই চিঠি প্রসঙ্গে ভারতীয় বোর্ড পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান বিনোদ রাই বলেছেন, ‘আমরা দুইটি বিষয়ে আইসিসিকে বলেছি। বিশ্বকাপের সময় খেলোয়াড়দের অধিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য বলেছি। আর ক্রিকেট বিশ্বের প্রতি আহ্বান জানিয়েছি, ভবিষ্যতে সন্ত্রাসবাদ সৃষ্টিকারী দেশকে বয়কট করতে।’
এর প্রেক্ষিতে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে ভারতীয় বোর্ডকে আশ্বাস দিলেও পাকিস্তান প্রসঙ্গে কোন কথা বলেনি আইসিসি।

সংস্থাটির চেয়ারম্যান শশাঙ্ক মনোহর বলেছেন, ‘আমি বিসিসিআইর চিঠি পেয়েছি। নিরাপত্তা সবসময়ই আইসিসির প্রথম অগ্রাধিকার।’
তিনি আরো বলেছেন, ‘দুবাইতে আইসিসির সদস্যদের সাথে ২ মার্চ আমরা বসব। সেখানে বিসিসিআইর সামনে সমস্ত নিরাপত্তা পরিকল্পনা তুলে ধরা হবে। আয়োজন দেখে তারা সন্তুষ্ট হবে।

সব বোর্ডেরই এই (নিরাপত্তা পরিকল্পনা দেখার) অধিকার আছে।’
আইসিসির চেয়ারম্যান বক্তব্যে এটা স্পষ্ট যে, পাকিস্তানকে বয়কটের আবেদনটি তারা মোটেও আমলে নেয়নি। অথচ এই দাবিটিই মূলত ভারতের দিক থেকে গুরুত্বের সাথে জানানো হয়েছিল।
এদিকে ১৬ জুন পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জনের বিষয়েও নরম সুর শোনা গেল বিসিসিআইয়ের কর্তাদের মুখ থেকে।

বিষয়টি ভারত সরকারের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন তারা। বিনোদ রাইয়ের কথায়, ‘আমরা বিষয়টি নিয়ে সরকারের সাথে আলোচনা করছি। ১৬ জুনের ম্যাচ নিয়ে এখনো কোন সিদ্ধান্ত হয়নি।’