প্রকাশিত ৮৬৫ জন খালাসির ফলাফল বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটি প্রত্যাখান :ক্ষোভ

আপডেট: মে ১২, ২০১৯
0

রেলওয়ের পোষ্য, মুক্তিযোদ্ধা, জেলা কোটা পূরণ না করে অনিয়তান্ত্রিক ভাবে রেলওয়ের প্রকাশিত ৮৬৫ জন খালাসির ফলাফল বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটি প্রত্যাখান করছে এবং সারা দেশে ক্ষোভ ও নিন্দা জ্ঞাপন।

২০১৩ সালের ৮৬৫ জন্য খালিসির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির জারীর প্রায় ৭ বছর পর গতকাল ১১/৫/২০১৯ ইং রোজ শনিবার বিকাল আনুমানিক ৪.৩০ ঘটিকার সময় বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চল চট্টগ্রাম সিআরবি কার্যালয় দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর নিযোগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন নিয়োগ কমিটি। নিয়োগ কমিটির একজন মৃত্যুবরণ করেছিলেন। আরেকজন ক্যাডার পরিবর্তন করেছেন। সাবেক রেল মন্ত্রীর চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত না মানায় ২ জন মহা ব্যবস্থাপককে (জি.এম) বদলী করা হয়েছিল। নিয়োগ প্রক্রিয়া ঘিরে কোটি কোটি টাকা লেনদেনের গুঞ্জন রয়েছে রেলওয়ে অঙ্গনে। মামলা হয়েছিল বেশ কয়েকটি। নানা সমীকরণ ও জটিলতার মধ্য দিয়ে গতকাল শনিবার ছুটির দিনে প্রকাশিত হইল ৮৬৫ জন খালাসির ফলাফল। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে তৎকালীন রেলমন্ত্রী তার বাসায় কমিটির সদস্যদের এবং জি.এম কে ডেকে নিয়ে বৈঠক করেন সেখানে চূড়ান্ত তালিকায় রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের জি.এম কে স্বাক্ষর করতে বলেন মন্ত্রী কিন্তু সেটি বিধি অননুযায়ী না হওয়ায় তৎকালীন জি.এম আ: হাই স্বাক্ষর করতে রাজি হয়নি। পরে বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্য সংবাদ সম্মেলন করেন রেলওয়ের শ্রমিক কর্মচারীর সংগ্রাম পরিষদের নেতারা। এরপর নিয়োগ প্রক্রিয়া থমকে গেলেও বর্তমানে অবসরে থাকা তৎকালীন জি.এম আ: হাইকে তাৎক্ষনিক বদলী করে নিয়োগ দেওয়া বর্তমান সৈয়দ ফারুক আহম্মেদকে। আর আগে এই নিয়োগ ইস্যুতে জি.এম মকবুল আহম্মেদকে বদলী করা হয়েছিল। বর্তমান জি.এম ফারুক আহম্মেদ একটি পত্রিকার স্বাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, বিধি মেনে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করছি। রেলওয়ের বিধি অনুযায়ী নিয়োগ কমিটি নিয়োগ কার্যক্রম চূড়ান্ত করে জি.এম এর কাছে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পাঠাবেন। জি.এম অনুমোদন দিলেই চাকুরীর যোগদান পত্র পাঠানো হয়ে থাকে। কিন্তু অত্যন্ত দু:খ জনক হলেও সত্য রেলওয়ের নিয়োগ বিধি না মেনে এবং রেলওয়ের পোষ্য কোটা ও জেলা কোটা পূরণ না করেই অনিয়মতান্ত্রিক ভাবে ফলাফল প্রকাশ করেছেন। ইতিমধ্যে সারাদেশ থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছি রেলওয়েতে কর্মরত আছে এমন ব্যক্তিদেরকেও পুন:রায় খালাসিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রেলওয়ে পোষ্য ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান থাকার পরেও বহু বিহারীকে খালাসী পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই পরিবারের ইতিপূর্বে ১৪৪১ জন খালাসিতে ছেলে, মেয়ে, জামায়ের চাকুরী হয়েছিল। আমরা জানতে পেরেছি ওই সকল পরিবারের সন্তানদের আবার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অথচ অবসর প্রাপ্ত, মৃত্যুবরণকারী, গরীব- দরিদ্র রেলপরিবারের সন্তানরা গত ১০ বছরে একাধিক নিয়োগ পরীক্ষা দিলেও তাদের কপালে চাকুরী জোটছে না। বার বার তারা নিয়োগ বাণিজ্যের সিন্ডিকেটের কারণে অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাদের মেধা থাকা সত্বেও রেলওয়ের নিয়োগ দূর্নীতির কাছে হার মানছে। কর্তৃপক্ষ সঠিক ভাবে যাচাই বাছাই করে ফলাফল প্রকাশ করলে কর্মরত থাকা অবস্থায় একই ব্যক্তি খালাসিতে নিয়োগ পেত না। নিয়োগের আবেদন ফরমে উল্লেখ্য থাকে যে, আবেদনকারীর কেও রেলওয়েতে কর্মরত আছে কি-না? কিন্তু তারা নিয়োগ দূনীতির কারণে তা সঠিক ভাবে দেখার প্রয়োজন মনে করে না। অন্যদিকে প্রকাশিত ফলাফলে কে কোন কোর্টায় নিয়োগ পেয়েছে তা উল্লেখ করা হয়নি কিন্তু বিগত সময়ে ফলাফলে কোটা তা উল্লেখ থাকতো। অনিয়ম, দূর্ণীতি ও নিয়োগ বাণিজ্য ও স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে এই ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। নিয়োগ বোর্ড ও রেলওয়ের নিয়োগ বাণিজ্যের সিন্ডিগেটে নিজের পছন্দের প্রার্থীদের ও আত্মীয় স্বজনদের নিয়োগ দিচ্ছে অসাধু নিয়োগ বোর্ড কর্মকর্তারা। অনিয়মে ভরা এই ৮৬৫ জন খালাসির নিয়োগ বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটি প্রত্যাখ্যান করছে। অনতিলম্বে এই ফলাফল পুনরায় সঠিক ভাবে যাচাই বাছাই করার দাবী জানাচ্ছে

LEAVE A REPLY