প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে আমরা হতাশ: নুরুল হক নুর

আপডেট: অক্টোবর ৪, ২০১৮

কোটা সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নুর বলেছেন, কোটা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে যে বক্তব্য দিয়েছেন তাতে আমরা হতাশ।

বেসরকারি একটি টেলিভিশনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমরা গত ১৭ ফেব্র“য়ারি থেকে যে আন্দোলনটি শুরু করেছিলাম, তাতে একটি বারও কোটার বাতিল চাইনি। বিশ্বগণমাধ্যমেও স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে আমরা কোটা সংস্কারের জন্য আন্দোলন করে আসছি।

কোটা সংস্কারের লক্ষ্যে আমরা ৫ দফা দাবিও দিয়েছিলাম।

নুরুল হক আরো বলেন, মন্ত্রিপরিষদ কেবিনেট থেকে একটি সিদ্ধান্ত আসলো যে প্রথম এবং দ্বিতীয় শ্রেণির চাকুরিতে কোটা থাকবে না। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বললেন এটা আংশিক সিদ্ধান্ত।

আমরা বারবার বলেছি সকল ধরনের সরকারি নিয়োগে বিদ্যমান বৈষম্যমূলক ও অসামঞ্জস্য কোটাকে একটি যৌক্তিক পর্যায়ে নিয়ে আসা।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন কোটা আন্দোলন করেছে সেজন্য বাতিল করা হয়েছে।

আর যদি কারো কোটার প্রয়োজন হয়, আবার আন্দোলন করলে বিবেচনায় নেয়া হবে। এতে বুঝা যাচ্ছে আন্দোলনের জন্য উসকে দেওয়া হচ্ছে।

আমরা বুঝতে পারছি না যে সরকার আন্তরিকভাবে ছাত্রদের দাবি আমলে নিয়েছে কি না। তারপরও আমরা সরকারের কাছে বিনীত অনুরোধ জানাবো ছাত্রসমাজ কারো প্রতিপক্ষ নয়।

আমরা তো কোটা সংস্কার চেয়েছিলাম। ৭ মাস ধরে আন্দোলন করে আসছি। আন্দোলন বন্ধ করার জন্য আমাদেরকে অন্যায়ভাবে মিথ্যা মামলা দেয়া হলো। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা করা হলো।

আমরা তারপর বলেছি যে ছাত্রসমাজ ৩টি দাবি নিয়ে আন্দোলন করছে। যৌক্তিক কোটা সংস্কারের দাবি, ৫ দফার আলোকে প্রজ্ঞাপন ও ছাত্রদের ওপর যারা হামলা করেছে তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং ছাত্রদের ওপর যে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে যেগুলো প্রত্যাহার চেয়েছেন বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, ৩ অক্টোবর সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, কোটা যদি না থাকে সংস্কারের প্রশ্ন উঠবে না। আর যদি কারো কোটা চায় তাহলে কোটা চাই বলে আন্দোলন করতে হবে। আর আন্দোলন যদি ভালোভাবে করতে পারে, তখন ভেবে চিন্তে দেখবো কি করা যায়। এরপর যদি কেউ কোন কোটা চায় তাহলে আন্দোলন করতে হবে, বলতে হবে আমি এই কোটা চাই। সেটা আগে বলুক, আন্দোলন করুক। আন্দোলন ছাড়া দেব না।