ফলোআপ চারদিন যন্ত্রণায় কাতরানোর পর অবশেষে মরিয়মের ঠাঁই হয়েছে বার্ণ ইউনিটে : স্বামীর বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি

0
10
গাজীপুর সংবাদদাতাঃ গাজীপুরের কালীগঞ্জে অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে না পেরে
চারদিন যন্ত্রনায় কাতরানোর পর অবশেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ
ইউনিটে ঠাঁই পেয়েছে স্বামীর বর্বর নির্যাতনের শিকার বিদেশ ফেরত চার
সন্তানের জননী মরিয়ম বেগম (৩৬)। কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার খন্দকার
মু. মুশফিকুর রহমানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক
অধিদপ্তরের সহযোগীতায় সোমবার বিকেলে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। এদিকে
ব্র্যাকের লিগ্যাল সাপোর্টে নির্যাতনকারী স্বামী তমিজ উদ্দিনের (৫০)
বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
কালীগঞ্জ উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিসার শাহানাজ আক্তার ও নির্যাতিতার মা
খোসআক্তারসহ স্থানীয়রা জানান, কালীগঞ্জ উপজেলার কালীগঞ্জ পৌর এলাকার
বালীগাঁও গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে তমিজ উদ্দিনের সঙ্গে বেশ কিছুদিন
ধরে পারিবারিক নানা বিষয়াদি নিয়ে তার স্ত্রী মরিয়ম বেগমের প্রায়শঃ ঝগড়া
বিবাদ চলে আসছিল। এর জের ধরে ঈদের একদিন পর ৪ সেপ্টেম্বর হতে ৭
সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চারদিন ঘরে আটকে রেখে তমিজ উদ্দিন তার স্ত্রী মরিয়মকে
নানাভাবে নির্যাতন করে। পাষন্ড স্বামী নির্যাতনকালে লোহার রড গরম করে
মরিয়মের গোপনাঙ্গ ও হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছেঁকা দেয় ও দুটি
স্তনের অগ্রভাগ কেটে ফেলে। এসময় সে তার স্ত্রীকে এলাপাতাড়ি মারধর করে।
খবর পেয়ে ৭ সেপ্টেম্বর রাতে গুরুতর আহত মরিয়মকে বিবস্ত্র অবস্থায়
তালাবদ্ধ ঘর থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। এসময় তার স্বামী তমিজ উদ্দিনকে আটক
করে পুলিশ। আহত ও দ্বগ্ধ মরিয়মকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে
নিয়ে যাওয়া হয়। তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক মরিয়মকে উন্নত
চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। কিন্তু অর্থাভাবে
ঢাকায় না গিয়ে ফেরৎ এসে পূনঃরায় কালীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়
সে। এ সংবাদটি বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। বিষয়টি নজরে আসে
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দার মু. মুশফিকুর রহমানের। তিনি
মরিয়মকে দেখতে রবিবার কালীগঞ্জের হাসপাতালে যান এবং নির্যাতিতার চিকিৎসার
খোঁজ-খবর নেন। এসময় তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢামেকের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস
সেন্টারে যোগাযোগ করে সেখানে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সোমবার তাকে উপজেলা
মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের সহযোগীতায় ঢামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। বিকেল সাড়ে
চারটার দিকে মরিয়মকে ঢামেক হাসপাতালের বার্ণ এন্ড প্লাস্টিক সার্জারী
বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ডা. আবুল কালামের অধীনে গ্রীণ ইউনিটে
ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে নিশ্চিত
করেছেন ওই বিভাগের এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ডা. প্রদীপ চন্দ্র দাস।
উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মো. শাহাদাত হোসেন জানান, কালীগঞ্জ উপজেলা উপজেলা
নির্বাহী অফিসার খন্দকার মু. মুশফিকুর রহমানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে
সমাজসেবা, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর ও ব্র্যাক মরিয়ম বেগমকে আর্থিক সহযোগীতা
করছে। এছাড়াও ব্র্যাক নির্যাতনের শিকার ওই নারীর চিকিৎসা ও আইনি সহায়তা
করছে।
ব্র্যাক কালীগঞ্জ শাখার প্রতিনিধি মো. রাশেদুল হক জানান, ব্র্যাকের
লিগ্যাল সাপোর্টে নারী নির্যাতন আইনে মরিয়ম বেগমের স্বামী তমিজ উদ্দিনের
(৫০) বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার খন্দকার মু. মুশফিকুর রহমান জানান,
গৃহবধূ নির্যাতনের খবর জানার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্টদেরকে ব্যবস্থা গ্রহণ
করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্যাতিতার মা খোসআক্তার ও স্বজনরা জানান, প্রায় দেড়যুগ আগে নরসিংদীর
পলাশ উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নের কাজৈর গ্রামের তৈয়ব আলীর মেয়ে মরিয়ম বেগমের
সঙ্গে তার মামাত ভাই তমিজ উদ্দিনের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে চারটি ছেলে
সন্তান রয়েছে। স্থানীয় এক কারখানার পাশে তমিজ উদ্দিনের চায়ের দোকান
রয়েছে। সংসারে অভাব অনটন মেটাতে প্রায় চার বছর আগে স্বামীর সম্মতিতেই
তমিজ উদ্দিনের স্ত্রী লেবাননে যায় নারী শ্রমিকের কাজে যায়। সেখান থেকে
দুই বছর পর দেশে ফিরে আসে সে। প্রথম স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে তমিজ উদ্দিন
আরো ৫টি বিয়ে করে। তবে সেগুলো টিকে নি। এদিকে প্রথম স্ত্রী দেশে ফিরে
আসার পর পারিবারিক নানা বিষয়াদি নিয়ে তার সঙ্গে স্বামীর প্রায়শঃ ঝগড়া
বিবাদ চলে আসছিল। এর জের ধরে মরিয়ম বেগমকে নির্যাতন করে তার স্বামী তমিজ
উদ্দিন।

LEAVE A REPLY