ফুঁসে উঠছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা

আপডেট: এপ্রিল ২৩, ২০১৯
0
ছবি সংগৃহীত

ডেস্ক রিপোর্ট:

ফুঁসে উঠছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা। কোনভাবেই বেতন থেকে ১০ শতাংশ চাঁদা দিনে চান না তারা। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তারা মাঠে নামারও পরিকল্পনা নিয়েছেন।
সম্প্রতি শিক্ষকদের বেতন থেকে ১০ শতাংশ চাঁদা কর্তনের আদেশ দিয়ে শিক্ষামন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। তার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে দেশের সব কয়টি শিক্ষক সংগঠন। সব মতের শিক্ষক সংগঠনগুলোসহ সারা দেশের পাঁচ লক্ষাধিক শিক্ষক-কর্মচারী প্রজ্ঞাপনের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছেন।

শিক্ষক সংগঠনগুলো অচিরেই প্রজ্ঞাপন বাতিল বা স্থগিত করা না হলে আন্দোলনে নামার ঘোষণা ও হুঁশিয়ারি দিয়েছে। দুই-একটি শিক্ষক সংগঠন গত দুদিনে সংবাদ সম্মেলন করে অবসর-কল্যাণ ট্রাস্ট্রের জন্য ১০ শতাংশ কর্তনের আদেশ বাতিলের দাবিতে কর্মসূচিও ঘোষণা করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- মানববন্ধন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি পেশ এবং অবসর-কল্যাণ ট্রাস্টের অফিস ঘেরাও। সব মত-পথের শিক্ষক সংগঠন, অবসর ভাতা এবং কল্যাণ ট্রাস্টের পরিবর্তে অবিলম্বে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের পেনশন চালুর দাবি তুলেছে। বেশির ভাগ শিক্ষক নেতা এ ব্যাপারে নয়া দিগন্তকে বলেন, আর কত দিন অবসরভাতা ও কল্যাণভাতা চালু থাকবে? সরকার শিক্ষকদের বেতন দিচ্ছে, পেনশন কেন দেবে না? আমরা সরকারের কাছে পূর্ণাঙ্গ পেনশন চাই।

গত ১৫ এপ্রিল‘১৯ শিক্ষামন্ত্রণালয় এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সরকারি বেতন থেকে ১০ শতাংশ কর্তনের আদেশ জারি করে। এর ফলে চলতি এপ্রিল থেকে বেতনের ১০ শতাংশ অর্থ কেটে রাখা হবে। এই অর্থ বেসরকারি শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ড এবং কল্যাণ ট্রাস্টের তহবিলে জমা হবে। এত দিন শিক্ষক প্রতি অবসর বোর্ডের জন্য ৪ শতাংশ এবং কল্যাণ ট্রাস্টের জন্য ২ শতাংশ হারে চাঁদা কর্তন করা হচ্ছিল। প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনা অনুসারে অবসরের জন্য ৬ শতাংশ এবং কল্যাণ ট্রাস্টের জন্য ৪ শতাংশ হারে কাটা হবে। অবসর গ্রহণের পর আবেদন করে সে অর্থ তোলা যাবে। প্রসঙ্গত, গত দু’বছর আগেও একইভাবে এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল। পরে শিক্ষক সংগঠনগুলোর আপত্তি ও আন্দোলনের হুমকির মুখে এবং জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে প্রজ্ঞাপনটি স্থগিত করা হয়। প্রায় দু’বছর পর আবারো সেটি জারি করা হলো।

অবসর সুবিধা বোর্ড এবং কল্যাণ ট্রাস্ট সূত্রে জানা গেছে, এই দু’টি প্রতিষ্ঠানে হাজার হাজার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক তাদের পাওনা দাবিতে আবেদন জমা দিয়ে বছরের পর বছর অপেক্ষার প্রহর গুণছেন। অনেকে ন্যায্য পাওনা বুঝে পাওয়ার আগেই মারা যান। নতুন কোনো আবেদন না নেয়া হলে বর্তমানে যে আবেদন জমা রয়েছে, আগামী দুই বছর লেগে যাবে এগুলোর নিষ্পত্তিতে।

সরকার সমর্থক একটি শিক্ষক সংগঠন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বিটিএ) গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে আগামী ২৫ এপ্রিল বেলা ১১টায় সব উপজেলা সদরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ এবং ইউএনওর মাধ্যমে ৩০ এপ্রিল জেলা সদরে এবং কেন্দ্রীয়ভাবে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ এবং জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদানের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এর পর প্রজ্ঞাপন বাতিল করা না হলে, শিক্ষক-কর্মচারীরা অবিরাম ধর্মঘট ও আমরণ অনশনসহ বোর্ড ও ট্রাস্ট অফিস ঘেরাও করা হবে। সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মো: কাওছার আলী শেখ এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ লিয়াজোঁ ফোরামের মুখপাত্র মো: নজরুল রনি বলেন, কোনো আলোচনা ছাড়াই শিক্ষকদের অতিরিক্ত চার শতাংশ কর্তনের প্রজ্ঞাপনে আমরা ক্ষুব্ধ ও অসন্তুষ্ট। অতিরিক্ত কর্তনে শিক্ষকদের কোনো মত ছিল না, নেইও। কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর সুবিধা বোর্ডের কয়েকজন পুরো পাঁচ লাখ শিক্ষকের অভিভাবক নয়। শিক্ষকদের বেতনের অতিরিক্ত চার শতাংশ কর্তন হলে ভবিষ্যতে শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর সুবিধা বোর্ড ঘেরাও কর্মসূচি দেয়া হবে বলে জানান এ শিক্ষক নেতা।

LEAVE A REPLY