ফের অবৈধ ও একতরফা নির্বাচনের জন্যেই গ্রেফতার বানিজ্য চালাচ্ছে -শওকত মাহমুদ

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৮

ফের অবৈধ ও একতরফা নির্বাচনের জন্যেই গ্রেফতার বানিজ্য চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট সাংবাদিক বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ । আজ ফেসবুকে নিজস্ব টাইমলাইনে এসব কথা বলেছেন।
আর তার মন্তব্য দেশ জনতা ডটকমের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো —

শওকত মাহমুদ বলেছেন , ‌” গত কয়েকদিন ধরে বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া থানা এলাকায় পুলিশ গ্রেফতারের নামে বর্বর অভিযান চালাচ্ছে। বিএনপি’র নেতা কর্মীরা বাড়ি ছাড়া। যাদেরকে পাচ্ছে না পুলিশ তাদের বাড়ি-ঘর ভাংচুর করছে এবং মহিলাদের অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করছে। বুড়িচং সদর ও জগতপুর গ্রাম থেকে ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি নাজির মাহমুদ নছির, সহ-সভাপতি দেলোয়ার হোসেন ও যুগ্ম সম্পাদক মোঃ মোস্তফাকে তাদের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে। এ খবর ৮ সেপ্টেম্বরের পত্রিকাগুলোতে ছাপা হয়।
অথচ পুলিশের দায়েরকৃত মামলায় অভিযোগ করা হয়, বিএনপি’র নেতাকর্মীরা ৮ সেপ্টেম্বর সকালে বুড়িচং বাজারে উচ্ছৃংখল আচরণ করে ও পুলিশের ওপর হামলা চালায়, ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। বাস্তবে এ ধরনের কোন ঘটনা ঘটেনি। এ ছাড়া দু’জন পুলিশ আহত হয়েছে এ মর্মে উপজেলা হাসপাতাল থেকে জখমের ভূয়া সার্টিফিকেটও যোগাড় করেছে পুলিশ। এসব ঘটনায় এলাকাবাসী হতভম্ব হয়ে পড়েছে। এ মামলায় থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ও সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল এবং থানা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক পারভেজসহ ২১ জনকে এবং অজ্ঞাতনামা অনেককে আসামী করা হয়েছে। এ ছাড়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে পুলিশ প্রতিনিয়ত হানা দিচ্ছে।

অন্যদিকে ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশ গ্রেফতার করেছে বেশ কয়েকজন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনসমূহের নেতৃবৃন্দকে। এদের মধ্যে রয়েছেন শশীদল ইউনিয়ন বিএনপি সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান মিন্টু, সদর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শাহজালাল, দুলালপুর যুবদল নেতা আবুল বাশার, যুবদল নেতা আবদুল কালাম আজাদ, ইউনিয়নের ছাত্রনেতা জুয়েল ভূঁইয়া ও চান্দলার ছাত্রদল নেতা সাঈদ, সিদলাইয়ের ছাত্রদল নেতা আবুল কালাম, চান্দলার বিরোধী দল সমর্থক সাদেককে গ্রেফতার করে। উল্লেখ্য, ব্রাহ্মণপাড়া বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মাসুদ সরকার ও যুবদল সভাপতি বাবুলসহ অনেক বিএনপি নেতাকে আসামী করে পুলিশ নিজে মামলা রুজু করেছে। এর আগে ব্রাহ্মণপাড়ায় একদিনে ২২ জনকে আলেমকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ।

পুলিশের এই হিংসাত্মক ও বেআইনি অভিযানের পেছনে স্থানীয় শাসকদলের হাইকমান্ডের প্রত্যক্ষ মদদ রয়েছে যাতে আন্দোলন ও নির্বাচনের আগে বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের এলাকাশূন্য করা হয়। আবারও বিনা ভোটে অবৈধ ও একতরফা নির্বাচনের জন্যেই এসব অপতৎপরতা।
এই নির্বাচনী এলাকায় বিরোধী দলকে কোন সভা, সমাবেশ বা গণসংযোগ করতে দেয়া হচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের অগণতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদী মনোভাব ও তৎপরতা বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়ার ধর্মপ্রাণ, দেশপ্রেমিক ও গণতন্ত্র প্রিয় জনগণ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছে। জনগণ এতে ভীত নয়। আন্দোলন ও ভোটের মাধ্যমে এর সমুচিত জবাব দেয়া হবে। সবার প্রত্যাশা অগণতান্ত্রিক শক্তির শুভবুদ্ধির উদয় হবে।
আমি বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়ায় পুলিশের এই নারকীয় তান্ডবের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং গ্রেফতারকৃত বিএনপি’র নেতা কর্মীদের মুক্তি দাবি করছি।