বঙ্গবন্ধুর অমোঘ মন্ত্রশক্তিই বারবার কাছে টানতো ——শাহ মোয়াজ্জেম

আপডেট: অক্টোবর ১৩, ২০১৯
0

সোহেল সানি:

শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন। স্বাধীনতা সংগ্রামী এবং মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক। ষাটের দশকের শুরুতেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়া। সেই সময়ে পূর্বপাকিস্তান ছাত্রলীগের সভাপতি আবদুল মমিন তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক এম এ ওয়াদুদ। আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে শাহ মোয়াজ্জেমের পরিচয়টা আবদুল মমিন তালুকদারের মাধ্যমে। পরবর্তী সম্মেলনে ছাত্রলীগের সভাপতি হন রফিকউল্লাহ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আজহারউদ্দীন আহমদ কিন্তু আজহারউদ্দীন ব্যারিস্টারী পড়তে বিলেতে পাড়ি জমান। ফলে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসাবে লাইম লাইটে উঠে আসেন শাহ মোয়াজ্জেম। বক্তৃতাগুণের সুবাদে শেখ মুজিবের আশীর্বাদে পরবর্তী সম্মেলনেই ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। যখন সাধারণ সম্পাদক শেখ ফজলুল হক মনি। কে এম ওবায়দুর রহমান ও সিরাজুল আলম খানের হাতে ছাত্রলীগের নেতৃত্ব তুলে দিয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন অনলবর্ষী বক্তা শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন। ‘৭০ – এর নির্বাচনে জয়ী হয়ে মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখেন।
স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম জাতীয় সংসদে চীফ হুইপ হওয়া শাহ মোয়াজ্জেম কিছুটা মনঃকষ্টে ভোগার কথা অকপটে স্বীকার করেছেন। চীফ হুইপের পদটি তখন প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা হওয়ায় বঙ্গবন্ধুর কাছে আকার ইঙ্গিতে পূর্ণমন্ত্রীর সমমর্যাদাও প্রত্যাশা করেছন। তাঁর ভাষ্যমতে, আকাঙ্খা পূরণ না হলেও বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের প্রতি ছিলেন অবিচল।
বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পর খন্দকার মোশতাকের প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পক্ষে যুক্তি দেখিয়েছেন ঝানু রাজনীতিবিদ শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন। তাঁর মতে, আওয়ামী লীগের অধিকাংশ মন্ত্রী যোগদানের পর তাঁর না বলার কারণ ছিলো না। কিছুটা ভয় ভীতির কথাও উল্লেখ্ করেন বর্ষিয়াণ এ রাজনীতিবিদ। চীফ হুইপ থেকে তাঁকে মন্ত্রী করার কথা বলা হলেও বঙ্গভবনে শপথ নেন প্রতিমন্ত্রী হিসাবে। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর জেনারেল খালেদ মোশাররফ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেনাপ্রধানের পদ দখলের পর বঙ্গভবন থেকে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া শাহ মোয়াজ্জেম। ৭ নভেম্বর পাল্টা অভ্যুত্থানের পর জেনারেল জিয়া স্বপদে ফিরলে কারামুক্ত হন।
মোশতাকের অধিকাংশ মন্ত্রী পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফিরে এলেও শাহ মোয়াজ্জেম খুনী মোশতাকের নবগঠিত দল ডেমোক্রেটিক লীগে যোগ দেন। এভাবেই বিতর্কিত হয়ে ওঠেন শাহ মোয়াজ্জেম। এরপর জেনারেল এরশাদের উত্থানের পর প্রথমে মন্ত্রী ও পরে উপপ্রধান মন্তী হয়ে জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে প্রভাববিস্তার করেন। জাতীয় পার্টির মহাসচিব শাহ মোয়াজ্জেম জেনারেল এরশাদের বিশ্বস্ত সহচর হিসাবে আবির্ভূত হলেও পরবর্তীতে পাল্টা জাতীয় পার্টি গঠন করেন কাজী জাফর আহমেদের সঙ্গে। সর্বশেষ বিএনপিতে যোগ দিলেও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান দেয়া হয়নি এ ঝানু রাজনীতিবিদকে। রাজনৈতিক জীবন নিয়ে ইতিমধ্যে তিনি যে দুটি গ্রন্থ লিখেছেন, তাতে অবিস্মরণীয় অবদান তুলে ধরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং তাঁর নেতৃত্বে চিরদিন আস্থাশীল ছিলেন বলেও উল্লেখ করেন।
জাতীয় চার নেতা হত্যা মামলার অন্যতম আসামী হওয়া শাহ মোয়াজ্জেম নিজের ওই হত্যাকান্ডে যেকোন প্রকার সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন। নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। এবং বলেছেন আওয়ামী লীগ না করাই তাঁর অপরাধ। অবশ্য আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপি কিংবা জাতীয় পার্টিতে যাওয়া বহু নেতা বঙ্গবন্ধু এবং মুক্তিযুদ্ধেকালীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বকে কটাক্ষ করে ইতিহাসের বিকৃতি করলেও শাহ মোয়াজ্জেম ব্যতিক্রম।

LEAVE A REPLY