বঙ্গবন্ধুর ৪৪ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে মহিলা পরিষদের শোক ও স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত

আপডেট: আগস্ট ২০, ২০১৯
0

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের উদ্যোগে শোক ও স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে ।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরেণ্য চিত্রশিল্পী হাশেম খান।

সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি আয়শা খানম।

সভায় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন ১৯৭৫ সালের ১৫ ই আগস্ট জাতির জন্য একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়। এই দিন সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়। আমরা দেখেছি কিভাবে বঙ্গবন্ধু একজন ছাত্রনেতা থেকে অবিসংবাদিত জাতীয় নেতা হয়ে ওঠেন। তিনি মানুষের অধিকার আদায়ে ছিলেন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এক অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে তিনি টুঙ্গীপাড়াতে বেড়ে ওঠেন। পরবর্তীতে এর প্রতিফলন ঘটে তাঁর কর্মে, দেশ পরিচালনায় ও নেতৃত্ব প্রদানে, সংবিধান রচনায়। বঙ্গবন্ধকে হত্যার মাধ্যমে সেই সংবিধানকে হত্যা করা হল্ োযে সংবিধানে এক অসাম্প্রদায়িক, সমতাপূর্ণ, ও মুক্তিচেতনায় একটি দেশ গড়ে তোলার আহ্বান ছিল্। বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুতে যে অপূরণীয় ক্ষতি হলো তার খেসারত আজও দিচ্ছে বাংলাদেশ । আজ বাংলাদেশ অনেক ক্ষেত্রে সমৃদ্ধি অর্জন করেছে কিন্তু অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও সমতাপূর্ণ সমাজ গঠনের যে স্বপ্ন বঙ্গবন্ধু দেখেছিলেন তার থেকে বাংলাদেশ এখনও পিছিয়ে।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত বরেণ্য চিত্রশিল্পী হাশেম খান বলেন আমাদের জাতির পিতা সাড়ে সাত কোটি মানুষের জন্য লড়াই করে একটি স্ভাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র গড়ে তুলেছিলেন। তিনি শোককে শক্তিতে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তাকে যারা হত্যা করেছে তারা জানে না যে তিনি মৃত্যুর মধ্য দিয়ে কতটা শক্তিশালী হয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ আজ বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আজ সেই ভাষণকে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। বঙ্গবন্ধু গণমানুষের অধিকার আদায়ের নেতা ছিলেন। তিনি বৈষম্যহীন ও অসাম্প্রদায়িক সমাজ গড়তে কাজ করেছিলেন। তখন কার রক্ষণশীল সমাজ ব্যবস্থায়ও তিনি নারীদের এগিয়ে নিতে কাজ করেছেন। স্বাধীনতার পরে দেশকে গুছিয়ে নিতে তিনি বৈজ্ঞানিক ও বৈপ্লবিকভাবে পরিবর্তনের উদ্যোগ নিলেন সেটি হলো বাকশাল। বাকশালের কারণেই তাকে হত্যা করা হয়েছিলো। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে যারা দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেয় তারা বাংলাদেশের ঐতিহ্যকে, ভাষাকে আর

সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখতে চায়নি। বাংলাদেশের মাটিকে যদি আমাদের পায়ের নিচে রাখতে হয় তাহলে এই শোকসভার মাধ্যমে আমাদের বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করে যেতে হবে। তার আদর্শ অনুসারে আমাদের কাজ করতে হবে।
সভায় সংগঠনের সভাপতি আয়শা খানম জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের নিহত সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্র থেকে জেলা শাখা কিভাবে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে প্রাণিত হতে পারে সে বিষয়ে কাজ করবো। নারী আন্দোলনের পক্ষথেকে বলতে চাই নারী সমাজ মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে আর সেখান থেকেই আমাদের দায় এবং দায়িত্ব। স্বাধীনতার পরে প্রথম যে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস তা হঠাৎ হয়নি। দেশী ও বিদেশীদের সূক্ষ পরিকল্পনা ছিল। একটি সংগ্রামের যে আদর্শিক লড়াই বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধ শক্তি সেই লড়াইকে থামাতে চেয়েছিলো। তিনি হত্যঅর রাজনীতি বন্ধ করার জন্য সকলকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান।
সভায় জাতির জনকের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে সঙ্গীত পরিবেশন এবং কবিতা আবৃত্তি করা হয়।
সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী মুহিত খান ও শিল্পী সুস্মিতা আহমেদ। কবিতা আবৃত্তি করেন লায়লা আফরোজ এবং আহ্কামউল্লাহ।

স্মরণ সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম, সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. রাখী দাশ পুরকায়স্থ ও সীমা মোসলেম, সংগঠন সম্পাদক উম্মে সালমা বেগম, লিগ্যাল এইড সম্পাদক সাহানা কবির, প্রশিক্ষণ-গবেষণা ও পাঠাগার সম্পাদক রীনা আহমেদ, প্রচার ও গণমাধ্যম সম্পাদক দিল মনোয়ারা মনু, প্রকাশনা সম্পাদক সারাবান তহুরা, রোকেয়া সদন সম্পাদক নাসরিন মনসুর,আন্তর্জাতিক সম্পাদক রেখা সাহা, শিক্ষা ও সংস্কৃতি সম্পাদক বুলা ওসমান, কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম।

LEAVE A REPLY