বরিশালে আভ্যন্তরিন কোন্দলে গতিহীন মহানগর যুবদল, শক্তিশালী ভুমিকায় জেলা

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৭

বরিশাল ব্যুরো

দীর্ঘদিন ধরে নিস্ক্রিয় দক্ষিন জেলা যুবদল সাংগঠনিক ও দলীয় কর্মসুচী পালনে শক্তিশালী ভুমিকা পালন করছে। কিন্তু একই সময়ে গঠিত মহানগর যুবদল’র গতিহীন অবস্থায় রয়েছে। কমিটি ঘোষনার পাঁচ মাসের মধ্যে ছন্নছাড়া দক্ষিন জেলা যুবদল তৃনমুলের নেতাকর্মিদের কার্যক্রমের গতি এনে দিয়েছে। কিন্তু মহানগর যুবদল নিজেদের মতবিরোধ মিটিয়ে তাদের অস্তিত্ব জানান দিতে পারেনি। এখন পর্যন্ত কোন সাংগঠনিক কার্যক্রম ও কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসুচী একসাথে পালন করতে দেখা যায়নি মহানগর যুবদলের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদককে। যার প্রভাব পড়ছে মহানগর যুবদলের তৃনমুল পর্যায়ে।

জানাগেছে, দীর্ঘ সময় নেতৃত্ব সংকটের অবসন ঘটিয়ে চলতি বছরের ২৭ এপ্রিল ঘোষনা হয় মহানগর ও দক্ষিণ জেলা যুবদলের পৃথক কমিটি। নানান আলোচনা-সমালচনা নিজ দলের রাজনৈতিক মতবিরোধের মধ্যে দিয়ে ঘোষনা হওয়া সুপার সেভেন পৃথক কমিটিতে মহানগর শাখায় আক্তারুজ্জামান শামীম সভাপতি এবং জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ হাসান মামুনকে সাধারন সম্পাদক করা হয়। এছাড়া জেলা কমিটিতে সাবেক ছাত্রদল নেতা এ্যাড. পারভেজ আকন বিপ্লবকে সভাপতি এবং জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এইচএম তসলিম উদ্দিনকে সাধারন সম্পাদক করে নতুন কমিটি ঘোষনা করে কেন্দ্রীয় যুবদলের নেতৃবৃন্দ।

এদিকে যুবদলের নতুন কমিটি ঘোষনার পর থেকেই বরিশাল বিএনপিতে লুকিয়ে থাকা দীর্ঘ দিনের অন্ত.দ্বন্ধ পুনরায় প্রকাশ্যে রূপ নেয়। বিশেষ করে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ও মহানগর শাখার সভাপতি এ্যাড. মজিবুর রহমান সরোয়ার নতুন এই কমিটির প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করেন। তার মধ্যে দিয়েই দুটি কমিটির নেতৃবৃন্দ পথচলতে শুরু করে। তবে পথচলার শুরুতেই রাজনৈতিক মতবিরোধের কারনে হোচট খেয়ে থমকে যায় মহানগর যুবদলের কার্যক্রম। অবশ্য সকল প্রতিকুলতা উপেক্ষা করে দলীয় এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমকে গতিশিল করে তোলে জেলা যুবদলের তরুন নেতৃবৃন্দ।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, কমিটি গঠনের পর পরই কেন্দ্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি নিজস্ব সাংগঠনিক এলাকায় সাংগঠনিক বহু কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে দক্ষিণ জেলা যুবদলের সুপার সেভন নেতৃবৃন্দ। বিশেষ করে তাদের সাংগঠনিক কর্মকান্ডের উল্লেখযোগ্য নিদর্শন ছিলো থানা, পৌরসভা, ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে কর্মিসভা। রাজনৈতিক কর্মক্ষেত্রে তৃনমুলকে উজ্জিবিত এবং আরো শক্তিশালী করে তুলতে সাত দিন ব্যাপী কর্মি সভা করেছেন জেলার নেতৃবৃন্দ। এতে করে তৃনমূল্যে অনেকটা চাঙ্গা ভাব চলে আসে। শুধু কর্মী সভাই নয়, বর্তমানে উপজেলা এবং থানা কমিটি পুনঃগঠনের কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছেন তারা। প্রাথমিক ভাবে বরিশাল কোতয়ালী (সদর উপজেলা) যুবদলকে পুনঃগঠনের লক্ষ্যে গতকাল শনিবার প্রতিনিধি সভা করেছে জেলা যুবদল। বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ার এর বাসভবনে এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর পূর্বে সদর উপজেলা কমিটি গঠন এবং প্রস্তুতির জন্য ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে দু’জনকে।

জেলা যুবদলের এতোসব সাংগঠনিক কর্মকান্ডের মধ্যে শূণ্যের কোটায় মহানগর যুবদল। কমিটি গঠনের পর থেকে এ পর্যন্ত তাদের সাংগঠনিক কোন কর্মকান্ড দৃশ্যমান হয়নি। কমিটির সভাপতি এবং সাধারন সম্পাদককের দেখা মিলছে না দলীয় অনেক কর্মসূচিতে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির কোনটিতে সভাপতি আক্তারুজ্জামান শামীমের দেখা মিললেও থাকছেন না সাধারন সম্পাদক মাসুদ হাসান মামুন। আবার মাসুদ হাসান মামুনের দেখা মিললেও খোঁজ মিলছে না আক্তারুজ্জামান শামীমের। যেমন গতকাল রোববার বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে মহানগর বিএনপি’র আলোচনা ও দোয়া অনুষ্ঠানে মাসুদ হাসান মামুনের উপস্থিতি লক্ষ করা হলেও ছিলেন না আক্তারুজ্জামান শামীম। শুধুমাত্র রাজনৈতিক মতবিরোধ এবং কোরামগত কারনেই নতুন ঘোষনা হওয়া মহানগর যুবদল সাংগঠনিক ভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ নেতা-কর্মীদের। এতে করে মহানগরের পাশাপাশি আরো নাজুক অবস্থার দিকে অগ্রসর হচ্ছে ওয়ার্ড কমিটিগুলো।

মহানগর যুবদলের বেশ কয়েকটি সূত্র জানায়, মহানগর যুবদলে বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব এ্যাড. মজিবর রহমান সরোয়ার সরাসরি ভাবে হস্তক্ষেপ করছেন। এই কমিটির সাধারন সম্পাদক মাসুদ হাসান মামুন মজিবর রহমান সরোয়ার অনুসারী। যে কারনে তার বিরোধী শিবিরের কোন কর্মসূচি মামুন এবং তার অনুসারী নেতা-কর্মীরা অংশগ্রহন করেননি। এমনকি কমিটি ঘোষনার পর পরই কেন্দ্র ঘোষিত গুরুত্বপূর্ন কয়েকটি কর্মসূচিতে অংশগ্রহন না করে রাজনৈতিক ভাবে আলোচনার মুখেও পড়তে হয়েছে মাসুদ হাসান মামুনকে। সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে জ্যেষ্ঠ নেতাদের হস্তক্ষেপ কমিটিকে দুর্বল করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ মহানগর যুবদলের নেতা-কর্মীদের।

তবে অভিযোগ এড়িয়ে গিয়ে মহানগর যুবদলের সভাপতি আক্তারুজ্জামান শামীম বলেন, জেলা’র নেতৃবৃন্দ সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারার কারন জেলার প্রতি মহানগর নেতৃবৃন্দের তেমন হস্তক্ষেপ নেই। কিন্তু মহানগর কমিটি কোন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হলে অনেক কিছু হিসাব নিকাশ করেই করতে হয়। কেননা বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ার মহানগরেরও সভাপতি। তার দিক নির্দেশনা এবং সহযোগিতা ছাড়া আমারা নিরুপায়।

তিনি বলেন, নতুন কমিটি হওয়ার পর থেকেই ওয়ার্ড যুবদলের নেতা-কর্মীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন। তবে আপাতত মহানগর যুবদলকে পুর্নাঙ্গ রূপ দেয়ার জন্য তৎপরতা চালানো হচ্ছে। কেননা কেন্দ্র থেকে এ বিষয়ে আমাদের উপরে চাপ রয়েছে। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মহানগর যুবদলের পুর্ণাঙ্গ তালিকা কেন্দ্রে জমা দেয়ার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কমিটি কেন্দ্রে জমা দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। মহানগরের পরে ওয়ার্ড কমিটি পুনঃগঠনের কার্যক্রম শুরু করা হবে।

তিনি বলেন, মহানগর এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রমের বিষয়াদি নিয়ে ইতিমধ্যে ঈদের পূর্বে আমরা মহানগর যুবদলের নেতৃবৃন্দ বিএনপি’র মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ার এর সাথে সাক্ষাত করেছি। তিনি আমাদের সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। আশা করছি তার সহযোগিতায় আমরা মহানগর যুবদলের কার্যক্রমে আরো গতিশিল করে তুলতে পারবো। অবশ্য ইতিপূর্বে কেন্দ্রীয় সকল কর্মসূচিই মহানগর যুবদল বাস্তায়ন করেছে বলে দাবী তার। তবে তিনি মন্তব্য করেন বলেন, ‘আমি নির্বাচন করবো না। কিন্তু কার্যক্রমের মাধ্যমে কমিটি শক্তিশালী হলে তারাই সবথেকে বেশি লাভবান হবেন, যারা নির্বাচন করবেন। এর বাইরে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।

এদিকে জেলা যুবদলের সভাপতি এ্যাড. পারভেজ আকন বিপ্লব বলেন, আমাদেরকে যোগ্য মনে করেই যুবদলের মত একটি গুরুত্বপূর্ন অংশের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। দেশ নেত্রী এবং যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দের বিশ্বাস এবং ধারনাকে অক্ষুন্ন রাখতেই আমরা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি। দলীয় এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমের মধ্যে দিয়ে বরিশাল জেলা যুবদলকে দেশের সব থেকে শক্তিশালী একটি কমিটি হিসেবে পরিচিত দিতেই আমাদের প্রচেষ্টা বলে দাবী তার।