বাংলাদেশের মিডিয়াগুলোকে সরকার চরমভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে: ফখরুল

আপডেট: মার্চ ১৭, ২০১৯
0

আজকে যখন স্বাধীনতা দিবস উৎযাপন করতে যাচ্ছি তখন মানুষ তার গণতান্ত্রিক অধিকার হারিয়ে ফেলেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের যুগ্ম সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক ও অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের যৌথসভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।
তিনি বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এবারকার স্বাধীনতা দিবস অতি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা জানি স্বাধীনতার ঘোষক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে সমগ্র জাতি যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিলেন। ২৬ মার্চ এই জন্য আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই দিবসে আমরা স্মরণ করব মুক্তিযুদ্ধ কেন হয়েছিল।

আমরা কেন পাকিস্তানের কাছ থেকে বেরিয়ে আসতে চেয়েছিলাম। একটি মাত্র প্রধান কারণ ছিল আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। আমাদের যে স্বাধীকার তা নস্যাৎ করে দিয়ে হানাদার দখলদার পাকিস্তান বাহিনী জনগণের আশা আকাঙ্খা ধুলিস্যাৎ করে দিয়েছিল। ২৫শে মার্চ কালো রাতে হানাদার বাহিনীর আক্রমণের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র, মানুষের অধিকার ও স্বাধীকার নস্যাৎ করতে চেয়েছিল। বাংলাদেশের জনগণ ২৬শে ঘটনার মধ্যদিয়ে সেই চক্রান্ত নস্যাৎ করে দিয়েছিল।

মির্জা ফখরুল বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মূল লক্ষ্য ছিল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের আজকে সেই স্বাধীনতা দিবস যখন উৎযাপন করতে চলেছি, তখন মানুষ তার গণতান্ত্রিক অধিকার হারিয়ে ফেলেছে। যার স্বামী ২৬শে মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন, তাকে আজ অন্ধকার কারাগারে কারাভোগ করতে হচ্ছে। আজ যখন স্বাধীনতা দিবস পালন করতে যাব, তখন হাজার হাজার নিরাপরাধ মানুষকে বন্দি করে রাখা হয়েছে। লক্ষাধিক গায়েবি মামলা ২৬ লক্ষ মানুষকে আসামী করা হয়েছে। এই অবস্থার মধ্যদিয়ে আমরা দিবসটি পালন করছি। দেশে একদলীয় শাসন ব্যবস্থ্যা প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। গত ১০-১২ বছর ধররে আমরা দেখছি যারা সরকারের অপছন্দনীয় মানুষ তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। হত্যা করা হচ্ছে। প্রয়োজনে তাদেরকে গুম করে ফেলা হচ্ছে। হাজার হাজার নিরাপরাধ মানুষকে মুক্ত করা ও মামলা প্রত্যাহার করার সংগ্রাম চালিয়ে যাব। আমরা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই হানাদার বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য, আমরা এই দিনটি পালন করতে চাই। আমরা আশা করি, বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী মানুষ এই সংগ্রামে বিজয়ী হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা ইতিমধ্যে বলেছি এই গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করা অযৌক্তিক। এর মাধ্যমে নি¤œবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের নাভিস্বাস উঠবে। গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাবের প্রতিবাদ জানিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলো। আবারও বলছি এসব কিছু উপেক্ষা করে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করা হলে বিএনপি সাধ্যমতো ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
বাংলাদেশ নিয়ে মার্কিন রিপোর্টের বিষয়ে তিনি বলেন, শুধু মার্কিন রিপোর্ট নয়। বিবিসি, আল জাজিরা, গার্ডিয়ান, নিউইয়ক টাইমসসহ বিশ্বের বড় বড় পত্রিকাগুলো বলেছে বাংলাদেশে কোন নির্বাচন হয়নি। ভারতের বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় বিষয়টি লেখা হয়েছে। সুতরাং বাংলাদেশে কোন নির্বাচন হয়নি এটা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। বাংলাদেশের মিডিয়াগুলোকে সরকার চরমভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে বলে তারা অনেক কিছু প্রকাশ করতে পারছেনা। এতো প্রতিকুলতার পরও তারা অনেকেই অনেক কিছু প্রকাশ করছে। এজন্য তাদের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা। সুতরাং মার্কিন মানবাধিকার ডিপার্টমেন্ট যে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে এতে কোন সন্দেহ নেই।

সংবাদ সম্মেলনে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ৭ দিন ব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি। কর্মসূচিগুলো হল ২৬ শে মার্চ সকালে সাভার জাতীয় স্মৃতি সৌধের উদ্দেশ্যে যাত্রা। কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে স্মৃতি সৌধে পুষ্পস্তবক অর্পন। একই দিন স্মৃতি সৌধ থেকে ফিরে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা ও ওলামা দলের উদ্যোগে দোয়া ও ফাতেহা পাঠ। ২৫ মার্চ বিএনপির উদ্যোগে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে অথবা মহানগর নাট্য মঞ্চে আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ২৭ শে মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে বিএনপির উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র‌্যালি। এছাড়া ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলাদলসহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো এবং সারাদেশে বিএনপি তাদের সুবিধা অনুযায়ী কর্মসূচি গ্রহণ করবে।

ফখরুল জানান, স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিএনপির পক্ষ থেকে দেশের বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় ক্রোড় পত্র প্রকাশ এবং দলেরর পক্ষ থেকে পোস্টার ছাপানো হবে।

সংবাদ সম্মেলনে দলটির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, সহ দপ্তর সম্পাদক মুনির হোসেন, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসানসহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন।

LEAVE A REPLY