বানভাসী মানুষের পাশে সরকার নেই : সর্বত্র হাহাকার চলছে – রিজভী

0
9

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী বলেছেন , বানভাসী মানুষের পাশে থাকার জন্য প্রধানমন্ত্রী অঙ্গীকার করলেও বাস্তবে তা নেই। সবর্ত্র চলছে হাহাকারর। আজ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন ।
তার বক্তব্যটি সম্পূর্ণ তুরে দরা হলো —
বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার ২০০৯ সাল থেকে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে গুম, অপহরণ, অবৈধভাবে আটক, বিচার বহির্ভূত হত্যা জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। আদিম অমানবিকতা বর্তমানে সারাদেশকে গ্রাস করে ফেলেছে। দু:শাসনের বিষাক্ত ছোবলে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা, লেখক, কবি, সাহিত্যিক, মানবাধিকার কর্মী, শ্রমিক নেতা, পেশাজীবিসহ সাধারণ মানুষ ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে, অদৃশ্য হয়ে গেছে অন্ধকারের অতলে, অথবা গোপন স্থানে বছরের পর বছর আটকিয়ে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে কিছুদিন পর কারো কারো লাশ মিলেছে খালে-বিলে-নালা-ডোবায় কিংবা রাস্তার ধারে। আর অন্যদের ভাগ্যে কী জুটেছে সেটি এখনও অজানা। সম্প্রতি রাষ্ট্রের রক্ততৃষ্ণা মেটাতে আরেকজন শিকার হচ্ছিলেন দেশের বিশিষ্ট কবি, সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক, রাজনৈতিক ভাষ্যকার জনাব ফরহাদ মজহার। এই ঘটনায় এখন গোটা জাতি মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত। এই ট্রমা শুধু ফরহাদ মজহারকেই আক্রান্ত করেনি, সারাদেশবাসীকেই করেছে। ফরহাদ মজহার অপহরণকে নিছক সন্ত্রাসীদের অপহরণ বলে চালানোর অপচেষ্টা করে সরকার ও দেশের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী যেসমস্ত অসঙ্গতিপূর্ণ কথাবার্তা বলেছে তা নাটকের যবনিকার অন্তরালে প্রকৃত ঘটনা ক্রমাগতভাবে আড়াল করার চেষ্টা হচ্ছে বলে দেশবাসী মনে করে। দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের নিষ্ঠুর কথাবার্তায় দেশবাসীকে চরমভাবে ব্যথিত করেছে।

যেমন ফরহাদ মজহার সাহেবের ব্যাগ কখনো কালো, কখনো সাদা; পুলিশের একজন ডিআইজি বলছেন ‘তিনি ভ্রমনে বেরিয়েছিলেন, এটি সাজানো নাটক; যুগ্ম কমিশনার বলছেন তাঁকে চোখ বেঁধে তুলে নেয়া হয়েছে’, কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন ‘আমরা ফরহাদ মজহারের কোন দোষ খুঁজে পায়নি।’ এটিই সত্য কথা। আজও প্রত্যেকটি গণমাধ্যমে পুলিশের উদ্ধৃতি দিয়ে খবর বেরিয়েছে-ফরহাদ মজহারকে গাড়ীতে তুলে চোখ বেঁধে মারধর করা হয়েছে। ফরহাদ মজহারের মতো একজন গুনী ব্যক্তির যদি এই দশা হয়, তাহলে বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা কত অসহায়। সারাদেশব্যাপী একের পর এক এধরণের গুম, অপহরণ ও বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের ঘটনায় সর্বত্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করতে ভোটারবিহীন সরকারের আক্রোশের শিকার কে হন কিংবা কার ভাগ্যে কখন কী ঘটে সে বিষয়ে তাদের জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন জীবনযাপন করছে দেশের মানুষ। কারন সরকারের সমালোচনা করলেই নিখোঁজ বা গুমের শিকার হতে হচ্ছে যে কাউকে।
গতরাতে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বাংলাদেশের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী দেশের শত শত মানুষকে অবৈধভাবে আটক করেছে এবং গোপন স্থানে আটকে রেখেছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। যাদের অধিকাংশই বিরোধী দলীয় নেতাকর্মী।
ঐ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবার নিখোঁজের জন্য বাংলাদেশে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন এবং ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের কাউকে কাউকে বেশ কিছুদিন পর ফেরত দেয়া হয়েছে এবং অন্যরা এখনও নিখোঁজ রয়েছে বলে প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়। এই প্রাণবিনাশী অপতৎপরতার জন্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগও গ্রহণ করেনা পুলিশ বলে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে। এই সমস্ত রক্তহিম করা গুম, খুন, অপহরণ ও বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের বিরুদ্ধে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনারকে তদন্ত করার জন্য আহবান জানিয়েছে। বাংলাদেশের মানুষের বেঁচে থাকা, নিরাপদে জীবন-যাপন ও ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে হলে উক্ত আন্তর্জাতিক তদন্ত ছাড়া কোন গত্যন্তর নেই। বাংলাদেশে বর্তমান সরকার দেশের মানুষকে এখন বিষাক্ত কাঁটার খাঁচার মধ্যে বন্দী করে রেখেছে। বাংলাদেশে প্রতিটি জনপদে জনপদে, বাড়ীতে বাড়ীতে মৃত্যু ভয়, গুমের ভয়, অপহরণের ভয়, নিখোঁজের ভয়, বিনা বিচারে আটকের ভয় নিয়ে গভীর আশঙ্কায় মানুষ জীবন যাপন করছে।

বন্ধুরা, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এখন বন্যায় ভাসছে। সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাটসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি ও উজানের পানির ঢলে প্লাবিত । এলাকার মানুষ অনাহারে অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছে। প্রধানমন্ত্রী যদিও গতকাল বলেছেন-বানভাসীদের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণ আছে। বাস্তবে বানভাসী মানুষ ত্রাণের জন্য হাহাকার করছে। কোন কোন এলাকায় খাদ্য, পানি বা চাল না দিয়ে খাওয়ার অনুপযোগী সামান্য কিছু গম দিচ্ছে, যে গম প্রচন্ড বৃষ্টিতে শুকোতে কিংবা গম ভেঙ্গে খেতেও পারছে না। এটি কি বানভাসী অসহায় মানুষদেরকে নিয়ে উপহাস করা হচ্ছে ? আসলে লুটপাটের কারনে রাষ্ট্রীয় খাদ্যভান্ডারগুলো এখন যে শুণ্য সেটি প্রমানিত হচ্ছে।

আজকে গণমাধ্যমে আরেকটি খবর বেরিয়েছে-৫ লাখ টন লবন আমদানী করবে সরকার। দেশের বর্তমান যে অবস্থা তাতে ৭৪ এর দূর্ভিক্ষের পদধ্বণি আবারো দরজায় নাড়া দিচ্ছে।

LEAVE A REPLY