বানারীপাড়ায় অতিশীপর অসহায় বৃদ্ধ’র দায়িত্ব নিয়ে এএসআই জাহিদ’র দৃষ্টান্ত স্থাপন

আপডেট: মার্চ ২৯, ২০১৯
বানারী পাড়ায় অতিশীপর বৃদ্ধ আব্দুল কাদের

রাহাদ সুমন,বিশেষ প্রতিনিধি॥
“মানুষ মানুষের জন্য,জীবন জীবনের জন্য……প্রখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী প্রয়াত ভূপেন হাজারিকার চিরায়ত এ মানবিক গানের বাস্তবরূপ খুঁজে পাওয়া যায় বানারীপাড়া থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক(এএস আই) জাহিদ হোসেনের জীবন ও কর্মে মানবিকতায়। বানারীপাড়ার উত্তর বাইশারী গ্রামের দুই কুলাঙ্গার ছেলে শতবর্ষী বাবার খোঁজ খবর না নেওয়ায় কঙ্কালসারে পরিণত হওয়া অসহায় এ বৃদ্ধ’র ভরণপোষণের দায়িত্ব নিয়ে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন তিনি।
বানারীপাড়া উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের উত্তর বাইশারী গ্রামের আ. কাদের হাওলাদার বয়সের ভারে ন্যুজ হয়ে ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারছেন না। এই বয়সেও তার ঠাঁই হয়নি নিজ ঘরে। দুই ছেলে ও তিন মেয়ে তার। বড় ছেলে সুলতান হাওলাদার (৬০) ও ছোট ছেলে জামাল হাওলাদার (৫০)। ছেলেরা পিতার দেখভাল করাতো দূরের কথা কোন প্রকার খোঁজ খবরও রাখেন না তার। বিষয়টি জানতে পেরে বানারীপাড়া থানার এএসআই মো. জাহিদ হোসেন পিতার মতো পরম শ্রদ্ধাভরে অতিশপর এ বৃদ্ধ’র দায়িত্ব নিয়েছেন।

জানা গেছে কয়েক বছর পূর্বে বৃদ্ধ আ. কাদের অর্থাভাবে তার নিজ নামে রেকর্ডিয় কিছু পরিমান সম্পত্তি বিক্রি করতে চাইলে তার তিন মেয়ে মিলে সেই সম্পত্তি ক্রয় করেন। পরে তার নামের অন্য সম্পত্তি দুই ছেলে ও তিন মেয়ের মধ্যে ভাগভাটোয়ারা করে দিতে চাইলে বাধ সাধেন ছেলেরা। এর পর থেকেই ছেলেদের কাছে পিতা হয়ে যান বড় এক বোঝা। মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে ফেলেন ছেলেদের কাছ থেকে। অর্ধাহারে অনাহারে চলতে থাকে তার জীবন । পরবর্তীতে মেয়েদের কাছে ঠিকানা খুঁজে পান শেষ বয়সে ঠিকানা হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়া বৃদ্ধ আ. কাদের হাওলাদার।

সম্প্রতি দুই ভাই তাদের বোনদের বিরুদ্ধে বানারীপাড়া থানায় সম্পত্তি নিয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। বোনেরাও ভাইদের বিরুদ্বে পাল্টা একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

পাল্টাপাল্টি এ অভিযোগের তদন্তের দায়িত্ব পান বানারীপাড়া থানায়  এএসআই মো. জাহিদ হোসেন। তিনি জানান সরেজমিনে তদন্তে গিয়ে বোনদের তেমন কোন ত্রুটি পাওয়া যায়নি। যা দেখলাম তা রীতিমতো শিউরে ওঠার মতো। শতবর্ষী বৃদ্ব আ. কাদের চলাফেরা ও খাওয়া দাওয়া একে বারেই করতে পারছেন না । তার উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হলেও দেখার কেউ নেই। হতদরিদ্র মেয়েদের সঙ্গতি নেই যে, পিতাকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে উন্নত চিকিৎসা করাবেন। চিকিৎসার অভাবে আ. কাদের হাওলাদারের শরীর অনেকটা কংকালসারে পরিণত হয়েছে। এএসআই জাহিদ জানান স্বচোখে বৃদ্ধ’র এ করুন দৃশ্য দেখে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসার জন্য প্রতিমাসে ১ হাজার টাকা ও খাওয়া দাওয়ার জন্য তার প্রতি মাসের সম্পূর্ণ রেশন তাকে দিয়ে দিবেন। ২৭ মার্চ বুধবার সকালে এএসআই জাহিদ হোসেন বৃদ্ধ আ. কাদেরকে নগদ ১ হাজার টাকা ও তার এক মাসের রেশন দিয়ে এসেছেন। প্রসঙ্গত এ এস আই জাহিদ হোসেন এর আগে বানারীপাড়ার সৈয়দকাঠি ইউনিয়নের সাতবাড়িয়া গ্রামের বেহাল হয়ে পড়া একটি জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তা সংস্কার ও সন্ধ্যা নদীতে নৌকায় বসবাসরত মানতা সম্প্রদায়ের শিক্ষার আলো বঞ্চিত শিশুদের ( স্কুল ড্রেস ও শিক্ষা উপকরণ ক্রয় করে দেওয়া সহ) প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে লেখাপড়ার ব্যবস্থা করে দিয়ে মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন। তার একের পর এক জনহীতকর কাজে স্থানীয় সচেতন মহল তাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।#