বানারীপাড়ায় হার না মানা সন্ধ্যা রানীর দারিদ্র জয়ের গল্প…

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২০
0

রাহাদ সুমন,বিশেষ প্রতিনিধি॥
বরিশালের বানারীপাড়ায় হার না মানা এক জীবন সংগ্রামী নারী সন্ধ্যা রাণী।এক সময় এ নারীর পরিবারে দারিদ্রতা ছিলো নিত্যসঙ্গী।অনাহারে -অর্ধাহারে জীবন চলতো তাদের। অদম্য ইচ্ছে শক্তি ,নিরলস পরিশ্রম ও আত্ম প্রত্যয় সন্ধ্যা রাণীর জীবনের দারিদ্রতা নামক অমানিশার ঘোর অন্ধকার কেটে আলোময় করে দিয়েছে। ১৯৭৩ সালে তিনি পূর্ব অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণ ছাড়াই এলাকায় শামুক কুঁড়িয়ে তা পুড়িয়ে হাতে খাবার চুন তৈরী করার কাজে নিয়োজিত হন।এ ভাবে চুন তৈরী করে তা বিক্রি করে ২ বেলা খেয়ে না খেয়ে কোন ভাবে চলতো তাদের সংসার। ২০০০ সালে সন্ধ্যা রানী বানারীপাড়া পৌর শহরের ৫ নং ওয়ার্ডে বিডিএস পরিচালিত ‘করবী’ মহিলা সমিতিতে ভর্তি হয়ে প্রথমে ১৫ হাজার টাকা ঋন নিয়ে চুন প্রস্তুতের পরিধি বৃদ্ধি করেন। এরপর আর সন্ধ্যা রানীকে পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। বিডিএস থেকে ধাপে ধাপে ঋনের সিলিং বৃদ্ধি করতে থাকেন। সেই সাথে কারখানায়ও আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন করেন তিনি। সন্ধ্যা রাণী বিডিএস থেকে ১৯ দফায় প্রায় ১০ লাখ টাকা ঋন গ্রহণ করেন। বর্তমানে তার আড়াই লাখ টাকা ঋন চলমান রয়েছে। সন্ধ্যা রানীর তিন ছেলে ও স্বামী এ ব্যবসার সাথে জড়িত। প্রথমে শামুক সংগ্রহ করে স্তুপ করে রাখা হয় এবং পরে তা পুড়িয়ে গুড়া করে বিশেষ পদ্ধতিতে চুন তৈরী করা হয়। ৪ হাজার পিস শামুকের মূল্য ৫শত টাকা যা পোড়ালে ৪০ কেজি গুড়া তৈরী হয়। ৪০ কেজি শামুক গুড়ার মূল্য ১২ শত টাকা।৪০ কেজি গুড়া গুলিয়ে ২০০ কেজি খাবার উপযোগী চুন তৈরী করা যায়। যার বাজার মূল্য ২২০০ থেকে ২৫০০ টাকা। সব খরচ বাদ দিয়ে ৪০ কেজি শামুক গুড়া দিয়ে ২০০ কেজি খাবার চুন তৈরী হয় যা থেকে ৭/৮ শত লাভ থাকে। সন্ধ্যা রাণী জানান প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ মন খাবার উপযোগী চুন প্রস্তুত করা সম্ভব হয়। যা থেকে লাভ থাকে প্রায় ২৫ শত থেকে ৩ হাজার টাকা। সন্ধ্যা রানীর আর্থিক অবস্থার ইতবাচক পরিবর্তণ লক্ষ্যনীয়।একান্নবর্তী পরিবারটি আর্থিকভাবে বর্তমানে খুবই ভাল আছেন। তিনি ইতিমধ্যে জরাজীর্ণ বসত ঘর ভেঙ্গে একটি আধাপকা ভবন নির্মাণ করেছেন। কারখানার যন্ত্রপাতি ক্রয় ও শামুক পরিবহনের জন্য বৃহৎ ট্রলার ক্রয় করেছেন। বিডিএসএ তার সঞ্চয় ও বিভিন্ন ব্যাংকেও রয়েছে ডিপিএস । সন্ধ্যা রাণী এলাকায় একজন সফল নারী উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিতি অর্জণ করেছেন ।তার কারখানায় পরিবারের ৪/৫ জন ছাড়াও খন্ডকালীণ বেশ কয়েকজন শ্রমিক নিয়োজিত থাকেন। এ প্রসঙ্গে বিডিএসএর বানারীপাড়ার সিনিয়র শাখা ব্যবস্থাপক এটিএম মোস্তফা সরদার বলেন কঠোর পরিশ্রম,সততা,নিষ্ঠা ও একাগ্রতা ভাগ্যের চাকা ঘুড়িয়ে দারিদ্র জয়ী সন্ধ্যা রানীকে আজকের এ অবস্থানে নিয়ে এসেছে। এদিকে সন্ধ্যা রাণীর এ সাফল্যের কথা জানতে পেরে সম্প্রতি বাংলাদেশ পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের(বিকেএসএফ) উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড.মো.জসিম উদ্দিন চুনের এ কারখানা সরেজমিন পরিদর্শণ করে এর প্রসারতালাভে সহায়তার আশ্বাস দেন। ###

LEAVE A REPLY