বিতর্কিত রায়ে কারাগারে খালেদা জিয়ার এক বছর : কার্যকর আন্দোলন নেই বিএনপির

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৮, ২০১৯

বিতর্কিত রায়ে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবাসের এক বছর পূর্ণ হলো আজ। জিয়া অরফানেজ ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় দেয়া ওই বিতর্কিত রায়ে ১৭ বছরের সাজা নিয়ে গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি কারাগারে আছেন। ৭৩ বছর বয়সী খালেদা জিয়া হৃদযন্ত্র, চোখ ও হাঁটুর সমস্যায় ভুগছেন।

তার মুক্তির জন্য আজ শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারস ইনস্টিটিউটে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করবে দলটি। এ ছাড়া শনিবারও ঢাকা মহানগরী বাদে দেশজুড়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করবে তারা।
জানা গেছে, তার বিরুদ্ধে করা ৩৬টি মামলার মধ্যে চারটির জামিন এখনও বাকি।

 

কার্যকর আন্দোলনে যায়নি বিএনপি : 

একাদশ নির্বাচনের আগে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের নেত্রীর কারামুক্তিকেই এই মুহূর্তে প্রাধান্য দেয়ার কথা ছিলো। নির্বাচনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতিসহ বেগম খালোদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনের প্রস্তুতিও নেয়ার ঘোষনা দিয়েছিলো ২০দলীয় জোট ।

এমন কথা শুরু থেকেই বলে আসছেন দলেল নেতারা, বিএনপির অবস্থান খুব পরিষ্কার। নো খালেদা নো ইলেকশন। এ অবস্থান থেকে দল সরে যায়নি, বরং যারা খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে নির্বাচনের বিকল্প নেই বলে যেসব তত্ত্ব দিচ্ছিলেন তারাও শেষ পর্যন্ত খালেদা জিয়া ছাড়া নির্বাচনে অংশ গ্রহন করেছেন।

দলীয় চেয়ারপারসনকে কারান্তরীণের পরও গত এক বছরেও দলের নেতারা একটি কার্যকর আন্দোলন গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছেন। এখন খালেদা জিয়াবিহীন দল নিয়ে অস্তিত্বের মুখে পড়েছে দলটি। খঅলেদা জিয়াকে মুক্ত করা ছাড়া নির্বাচনে অংশঘ্রহন করাটা দলটির জন্য যেমন আত্মঘাতী হয়েছে। আবার জিয়া পরিবারের নেতৃত্ব ছাড়া ক্ষমতার বাইরে থেকে দলকে টেনে নিয়ে যাওয়াও দুরূহ হয়ে যাচ্ছে। এমন বাস্তবতায় বিএনপির সমস্ত নেতাকর্মী এখন খালেদা জিয়ার মুক্তির অপেক্ষাতেই আছেন।

এদিকে ভারত সহ বিভিন্ন সরকার প্রধানরা শেখ হাসিনাকে বলা হয়েছিলো যে, এবারে যদি বিএনপিকে ছাড়া বা ভোটার বিহীন নির্বাচন করলে সে নির্বাচন তারা আর বৈধাতা দেবেনা। কিন্তু সেটাও ছিলো ভারতীয়দের কৌশল তাও প্রমান হয়েছে একটা একতরফা পুলিশী নির্বাচনের পরে সঙ্গে সঙ্গে সুষ্ঠু হয়েছে বলে ভারত বিবৃতি দেয়ার পরে।
হাসিনা এতোদিন চেয়েছিলেন বেগম জিয়াকে কারাগারে আঠকে রেখে বিএনপিকে বেকায়দায় ফেলে বা বিএনপি ভেঙ্গে এক অংশকে নির্বাচনে এনে আরেকটা প্রহসনের নির্বাচন করে আবারো তিনি ক্ষমতায় থেকে যাবেন, তার অধিকাংশই তিনি সফল হয়েছেন। তবে বিএনপিকে ভাঙ্গতে না পারলেও বিএনপিকে বার বার ফাঁদে ফেলতে পেরেছে শেখ হাসিনার দল।

কেমন আছেন খালেদা জিয়া : 

তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, কারাগারে খালেদা জিয়া সকালে ঘুম থেকে উঠে ইবাদত-বন্দেগি করেন ও পত্রিকা পড়েন। মূলত: ইবাদত-বন্দেগি ও বই পড়ে দিনের বেশিরভাগ সময় কাটান।
গত বছর ৩০ অক্টোবর অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় হাইকোর্ট বিতর্কিত রায়ে খালেদা জিয়ার নিম্ন আদালতের দেয়া ৫ বছরের সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করেন। সম্প্রতি এ মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে। আর ২৯ অক্টোবর চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দেন বিচারিক আদালত। এ মামলায় খালেদা জিয়ার খালাস চেয়ে হাইকোর্টে আপিল আবেদন করেন আইনজীবীরা। আপিলটি এখনও হাইকোর্টের কোনো বেঞ্চে উপস্থাপন করা হয়নি।

যত মামলা :

নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ৩৬টি মামলার মধ্যে দুর্নীতির মামলা ৫টি।

এগুলো হলো- জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট, নাইকো, গ্যাটকো ও বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি দুর্নীতি মামলা। পাঁচটি মামলাই এক-এগারোর সময়ে করা। বাকি ৩১টি ২০১৪ সালের পর করা। মূলত: এসব মামলা হয় রাষ্ট্রদ্রোহ, হত্যা, ইতিহাস বিকৃতি, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি, ভুয়া জন্মদিন পালন ও ঋণখেলাপির অভিযোগে।
গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি বকশীবাজারে কারা অধিদফতরের প্যারেড গ্রাউন্ডে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় এক বিতর্কিত রায়ে খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন।
ওই দিন থেকেই কারাগারে আছেন সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী।

খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এখন খালেদা জিয়াকে মুক্তি পেতে হলে কুমিল্লায় হত্যা, জিয়া অরফানেজ, জিয়া চ্যারিটেবল ও ঢাকার মানহানির মামলায় জামিন পেতে হবে।

এ বিষয়ে আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন জানান, একের পর এক মামলায় জড়ানো হচ্ছে খালেদা জিয়াকে।

সরকারের সদিচ্ছা না থাকলে কোনোভাবেই তাকে মুক্ত করা সম্ভব নয়। তবে আমরা আইনি লড়াই চালিয়ে যাব।
খালেদা জিয়ার আরেক আইনজীবী ব্যারিস্টার এম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, যে মামলায় খালেদা জিয়াকে সাজা দেয়া হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।

এর কোনো ভিত্তি নেই। আপিলে খালেদা জিয়া খালাস পাবেন।
এদিকে, আইনি প্রক্রিয়া ও তার মুক্তি নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে রয়েছে নানা বিতর্ক।

তাই আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি রাজপথের আন্দোলনেই বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির পথ খুঁজছেন তার আইনজীবীরা।