বোনের প্রেমিককে শায়েস্তা করতে গিয়ে অপহরনের পর শিশু হত্যা !!

আপডেট: অক্টোবর ১১, ২০১৮

গাজীপুর সংবাদদাতাঃ গাজীপুরে অপহরণের একদিন পর বৃহস্পতিবার বিকেলে এক শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বোনের প্রেমিককে শায়েস্তা করতে গিয়ে ওই শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় ঘাতক পোশাক কর্মী বাবু ইসলামকে (২৪) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নিহতের নাম আব্দুল্লাহ আল নোমান (৫)। গাজীপুর সদর থানার বানিয়ারচালা এলাকার লোকমান হোসেনের ছেলে।

জয়দেবপুর থানার ওসি মো. আসাদুজ্জামান জানান, গাজীপুর সদর থানার বানিয়ারচালা এলাকায় স্ত্রী-সন্তান নিয়ে নিজ বাড়িতে বাস করেন লোকমান হোসেন। ওই বাড়িতে ভাড়া থেকে বাবু ইসলাম স্থানীয় জিটিসি গ্রুপের পোশাক কারখানায় অপারেটর পদে এবং তার বোন শান্তা স্থানীয় মোশারফ কম্পোজিট কারখানায় চাকুরি করে। তারা দিনাজপুরের কাহারুল থানার গুলিয়ারা গ্রামের মৃত জব্বর আলীর ছেলে ও মেয়ে। একই বাড়িতে বসবাস করার সুযোগে বাবু ইসলামের ডিভোর্সী বোন শান্তা’র সঙ্গে নোমানের (লোকমানের ছেলে) মামা আলমগীরের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এ সম্পর্ক মেনে না নেয়ায় বাবুর সঙ্গে আলমগীরের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এক পর্যায়ে ওই বাসা ছেড়ে পার্শ্ববর্তী দু’বাড়িতে পৃথক বাসা ভাড়া নেয় বাবু ও শান্তা। কিন্তু আলমগীর এতেও থেমে না যাওয়ায় তার উপর ক্ষুব্ধ হয় বাবু। এরজেরে বুধবার সকালে বাসার পাশের খেলা করার সময় শিশু নোমানকে ডেকে কৌশলে বাবু তার ঘরে নিয়ে যায়। মুক্তিপণ আদায় ও আলমগীরকে শায়েস্তা করতে নোমানকে অপহরণ করে নিয়ে আসে বাবু। পরে বাবু এনার্জি ড্রিংকস ‘টাইগার’র সঙ্গে মাত্রারিক্ত ঘুমের ঔষুধ মিশিয়ে নোমানকে খাওয়ায়। এতে নোমান অচেতন হয়ে পড়ে এবং সেখানেই মারা যায়। দিনভর বাবু তার কক্ষে নোমানের লাশ লুকিয়ে রাখে। পরে রাত ১১টার দিকে লাশটি একটি কাঁধ ব্যাগে ভরে বাবু বাসে চড়ে টঙ্গীর গাজীপুরা এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে টপলেন পোশাক কারখানার উত্তরে ময়লার স্তুপে লাশটি ব্যাগ থেকে ফেলে রেখে বাবু বাসায় ফিরে যায়।

জয়দেবপুর থানার এসআই আনোয়ার হোসেন জানান, স্বজনরা বিভিন্নস্থানে খোঁজাখুঁজি করেও শিশু নোমানের সন্ধান না পেয়ে বৃহষ্পতিবার পুলিশকে জানায়। পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে বাবু ইসলামকে সকালে গ্রেফতার করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে শিশু নোমানকে হত্যার কথা স্বীকার করে বাবু। পরে তার দেয়া তথ্যমতে বিকেলে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
###
মোঃ রেজাউল বারী বাবুল