বোরো মৌসুমে চাষের উপযোগী ধানের দু’টি নতুন উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবন করেছে ব্রি

আপডেট: অক্টোবর ১০, ২০১৮
ক্যাপশনঃ ধানের উচ্চ ফলনশীল দু’টি নতুন জাতের উদ্ভাবন করেছে ব্রি।।

গাজীপুর থেকে মোঃ রেজাউল বারী বাবুলঃ বোরো মৌসুমে চাষের উপযোগী ধানের দু’টি নতুন উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ( ব্রি)। নতুন উদ্ভাবিত জাত দুটি হলো ব্রি ধান৮৮ ও ব্রি ধান৮৯ ।

ব্রি’র বিজ্ঞানীরা জানান, ব্রি ধান৮৮ এর গড় ফলন হেক্টর প্রতি ৭ টন তবে উপযুক্ত পরিচর্যা পেলে ফলন হেক্টরে ৮.৮ টন পর্যন্ত পাওয়া যায়। ব্রি ধান৮৯এর গড় ফলন হেক্টর প্রতি ৮ টন। তবে উপযুক্ত পরিচর্যায় এ জাত হেক্টর প্রতি ৯.৭ টন ফলন দিতে সক্ষম।

কৃষি মন্ত্রনালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. নাসিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় বীজ বোর্ডের সভায় মঙ্গলবার এ নতুন জাত দুটি অনুমোদন পায়। সভায় ব্রি’র মহাপরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবীরসহ কৃষি মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় বীজ বোর্ডের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

ব্রি’র মহাপরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবীর জানান, ব্রি ধান৮৮ বোরো মৌসুমের স্বল্প মেয়াদি একটি জাত। এতে আধুনিক উফশী ধানের সকল বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। এ জাতের ডিগ পাতা খাড়া এবং লস্বা। ধানের দানা অনেকটা ব্রি ধান২৯ এর মতো তবে সামান্য চিকন। পূর্ণ বয়স্ক গাছের উচ্চতা ১০০ সে. মি. হয় এবং জীবনকাল ১৪০-১৪৩ দিন। এ জাতের এক হাজারটি পুষ্ট ধানের ওজন প্রায় ২২.১ গ্রাম। পাকা ধানের রং খড়ের মতো। চালের আকার মাঝারি চিকন ও ভাত ঝরঝরে। এটিকে ব্রি ধান২৮ এর পরিপূরক জাত হিসেবে নির্বাচন করা হয়। এ ধানে ভাত ঝরঝরে করার উপাদান অ্যামাইলোজের পরিমাণ ২৬.৩%।

ব্রি ধান৮৮ এর জীবনকাল বি ধান২৮ এর চেয়ে ৩-৪ দিন আগাম। এ জাত ঢলে পড়া প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন ইতোপূর্বে উদ্ভাবিত অনুরূপ জাত ব্রি ধান২৮-এ নাই। এ জাতে রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ প্রচলিত জাতের চেয়ে অনেক কম।

তিনি আরো জানান, নতুন উদ্ভাবিত অপর জাত ব্রি ধান৮৯ এর গড় ফলন ৮ টন। এ জাতটি বোরো মৌসুমে সেচ নির্ভর চাষাবাদ এলাকার জন্য উপযোগী। জাতটির জীবনকাল ১৫৪ থেকে ১৫৮ দিন। এ জাতের পূর্ণ বয়স্ক গাছের গড় উচ্চতা ১০৬ সে. মি.। এর কা- শক্ত, পাতা হালকা সবুজ এবং ডিগ পাতা চওড়া। ধানের ছড়া লম্বা এবং পাকার সময় কা- ও পাতা সবুজ থাকে। এ জাতের জীবনকাল ব্রি ধান২৯ এর চেয়ে ৩-৫ দিন আগাম। এক হাজারটি পুষ্ট ধানের ওজন প্রায় ২৪.৪ গ্রাম। এই ধানের চালের ভাত ঝরঝরে এবং সুস্বাদু।এ জাতকে ব্রি ধান২৯ এর পরিপূরক হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে। এ ধানে অ্যামাইলোজের পরিমাণ ২৮.৫%।

ব্রি’র বিজ্ঞানীরা জানান, ব্রি ধান৮৯ এর কৌলিক সারি বিআর (বায়ো) ৯৭৮৬-বিসি২-৫৯-১-২। প্রথমে ২০০৮ সালে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের জীবপ্রযুক্তি বিভাগে ব্রি ধান২৯ এর সঙ্গে বন্য ধান অরাইজা রুফিপোজন (ঙৎুুধ ৎঁভরঢ়ড়মড়হ (ওজএঈ১০৩৪০৪) এর সংকরায়ণ করা হয়। পরবর্তীতে দ্ইু বার ব্যাক ক্রসিং করার পর পেডিগ্রি পদ্ধতিতে হোমোজাইগাস কৌলিক সারি নির্বাচন করে এই সারিটি উদ্ভাবন করা হয়। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষণা মাঠে নির্বাচিত কৌলিক সারিটির পর পর ৩ বৎসর ফলন পরীক্ষা করা হয় এবং পরবর্তীতে কৌলিক সারিটি বোরো ২০১৬-১৭ মৌসুমে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় কৃষকের মাঠে পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়। উক্ত কৌলিক সারিটির জীবনকাল ব্রি ধান২৯ এর চেয়ে ৩-৫ দিন আগাম এবং ফলন বেশী ও সন্তোষজনক হওয়ায় এ জাতটিকে (ব্রি ধান৮৯) বোরো মৌসুমের জন্য ব্রি ধান২৯ এর একটি পরিপূরক জাত হিসাবে চ’ড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়।

ব্রি’র বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, নতুন জাত দুটি কৃষক পর্যায়ে জনপ্রিয় হবে এবং সামগ্রিকভাবে ধান উৎপাদন বাড়বে।