বৌদ্ধপূর্ণিমায় জঙ্গি হামলার হুমকি: সারা দেশে পুলিশের সতর্কতা

আপডেট: মে ১৩, ২০১৯
0

বৌদ্ধ পূর্ণিমায় জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় সারা দেশে সতর্কতা জারি করেছে পুলিশ। সতর্কবার্তায় সারা দেশের বৌদ্ধ মন্দিরসহ সকল গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে বলা হয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে। এছাড়া দেশের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের আরো সজাগ  থেকে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) ও নিষিদ্ধ সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) ১৮ই মে বৌদ্ধ পূর্নিমায় বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে। বৌদ্ধ মন্দিরগুলোতে এই হামলা চালানো হতে পারে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ সদর দপ্তরের গোপনীয় শাখা থেকে গতকাল এক চিঠিতে এই সতর্কবার্তা দেয়া হয়েছে।

এর আগে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (আইবি) বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে জঙ্গি হামলার আশঙ্কা প্রকাশ করে সতর্কতা জারি ও নিরাপত্তা জোরদার করেছে। শনিবার ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ সদরদপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি (গোপনীয়) মো. মনিরুজ্জামান চিঠির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, জঙ্গি হামলার থ্রেট আছে। তাই সারা দেশে আমরা বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করেছি। প্রতিটি মন্দিরে ইউনিফর্মের পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকের পুলিশ মোতায়েন ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।  স্থানীয় প্রশাসন স্থানীয় কমিউনিটির সঙ্গে যোগাযোগ রেখে দায়িত্বপালন ও বৌদ্ধদের সঙ্গে সার্বক্ষনিক আলোচনা করে তাদের সাহস ও উৎসাহিত করার জন্য বলা হয়েছে। কেন এই হামলার আশঙ্কা করা হচ্ছে এমন প্রশ্নে এই কর্মকর্তা বলেন, যেহেতু বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের একটি বড় অনুষ্ঠান আর শ্রীলঙ্কার ঘটনার পর সেখানকার পরিস্থিতি জঙ্গিদের উৎসাহ দিতে পারে। তাই জঙ্গিদের হুমকি আমরা কোনভাবেই উড়িয়ে দিচ্ছি না। পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছে।

পুলিশ সদর দপ্তরসূত্র বলছে, সম্প্রতি ধর্মীয় উৎসব ভিত্তিক জঙ্গি হামলার প্রবণতা দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কায় দুটি হামলার ঘটনায় এমন আশঙ্কা আরও বেড়ে গেছে। জঙ্গি সংগঠনগুলো কিছু দিন ধরে তাদের নিজস্ব অনলাইন সাইটে পুলিশ, বিশিষ্টজন ও ধর্মীয় স্থাপনায় হামলা করবে বলে হুমকি দিচ্ছে। যদিও এখন পর্যন্ত অপ্রীতিকর কোন ঘটনা ঘটেনি। তাই বলে কোন হুমকিই পুলিশের পক্ষ থেকে উড়িয়ে দেয়া হচ্ছে না। পুলিশ সার্বক্ষণিক গোয়েন্দা নজরদারি ও পুলিশের জঙ্গি বিশেষজ্ঞ টিমগুলো এ নিয়ে কাজ করছে। ধর্মীয় স্থাপনার পাশাপাশি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সকল স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সারা দেশে পুলিশের সতর্কবার্তায় পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনের সময় নিজ নিজ নিরাপত্তার বিষয়ে সতর্ক থাকার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া প্রত্যেক থানা এলাকায় বিশেষ চেকপোস্ট স্থাপন, পুলিশের টহল বৃদ্ধি, সন্দেহভাজনকে তল্লাশী ও নজরদারিতে রাখা। মন্দির এলাকায় সিসি ক্যামেরা সচল রেখে নিয়মিত মনিটরিং করা এবং উধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখার কথাও বলা হয়েছে।

LEAVE A REPLY