ভারতের সাথে চুক্তি বাস্তবায়ন হলে দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হবে–নূর হোসাইন কাসেমী

আপডেট: অক্টোবর ১৬, ২০১৯
0

ঢাকা, ১৬ অক্টোবর, ২০১৯:
গত ৫ অক্টোবর দিল্লীতে দ্বি-দেশীয় বৈঠকে ভারতের সাথে সম্পাদিত সাতটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক বাতিলের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ-এর মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী

। তিনি বলেন, এসব চুক্তি বাস্তবায়ন হলে আর্থসামাজিক দিক থেকেই শুধু দেশ বড় রকমের ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, বরং দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বও বিপন্ন হবে। জনগণ দেশবিরোধী এসব চুক্তি কখনো মেনে নিবে না, এসব চুক্তি অবশ্যই বাতিল করতে হবে।

আজ (১৬ অক্টোবর) বুধবার এক বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, এসব চুক্তির ফলে দেশের হৃদপি- বলে খ্যাত চট্টগ্রাম ও মংলা সমুদ্র বন্দর ব্যবহারে ভারত উন্মুক্ত সুযোগ পাবে। এতে করে চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর থেকে ভারতের পূর্বাঞ্চলে মাল আনা-নেওয়া করতে দেশের প্রধান প্রধান সড়ক ও রেল পথ ব্যবহার করবে ভারত।

বাংলাদেশের ফেনী নদী থেকে পানি তুলে নেওয়ার বৈধতা পাবে। ভারতে গ্যাস রফতানি হবে। বাংলাদেশের উপকূলে ভারত রাডার স্থাপন করে নজরদারি করবে। বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে ভারতীয় ট্রেন কলকাতা থেকে শিলিগুড়ি যাওয়া-আসা করবে।

জমিয়ত মহাসচিব বলেন, এসব দ্বিপক্ষীয় চুক্তিসমূহে বাংলাদেশের অর্জনের খাতা যে একেবারেই শূন্য- এখানে শেষ নয়। বরং এই চুক্তিসমূহ বাস্তবায়ন হতে শুরু হলে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা গভীর হুমকির মুখে পড়বে। চট্টগ্রাম ও মংলা সমুদ্র বন্দর দেশের আমদানী-রফতানীর ভার বহন করতেই যেখানে হিমশিম খাচ্ছে।

অনেক সময় সপ্তাহর পর সপ্তাহ বন্দরে জাহাজ জট লেগে থাকে। এর মধ্যে ভারতের পূর্বাঞ্চলের সাত রাজ্যের আমদানী-রফতানীর ভারও এই দুই বন্দরের উপর পড়লে সন্দেহাতীতভাবে দেশের অর্থনীতি মারাত্মক সংকটের মুখে পড়বে। অপরদিকে বাংলাদেশের নাজুক সড়ক ব্যবস্থাপনার কথা আমাদের সকলেরই জানা। এমনিতেই ব্যাপক দুর্নীতির কারণে দেশের সড়ক নির্মাণে যথাযথ মান রক্ষা না হওয়ায় বছর না ঘুরতেই খানাখন্দকে নাজুক অবস্থা তৈরি হয়।

এরপর ভূ-সংকটে কম প্রশস্ততা ও অব্যবস্থাপনার কারণে মহাসড়কগুলোতে প্রায়ই দীর্ঘ জ্যাম লেগে থাকে। যখন চুক্তি মতে দুই বন্দর ব্যবহার শুরু করবে ভারতের সাত রাজ্য, তখন দেশের প্রাধান প্রধান মহাসড়কগুলোতে গাড়ির চাপ বহুগুণ বেড়ে যাবে।

এতে পরিস্থিতি যে কতটা শোচনীয় হয়ে উঠবে, ভাবতেও গা শিউরে উঠে। এর মধ্যে ভারতকে দেওয়া হয়েছে বিনাশুল্কের ট্রানজিট সুবিধা। তখন পরিস্থিতি যা দাঁড়াবে, দেশের সামগ্রীক অর্থনীতিই কেবল স্থবির হবে না, ভারতীয় গাড়ি চলাচল ও আমদানী-রফতানির জন্য সড়ক ও বন্দর সচল রাখতে জনগণের ট্যাক্সের টাকা খরচ করতে হবে। তাছাড়া ভারতের অবাধ আমদানী-রফতানী ও চলাচলের কারণে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা চরম নাজুক হয়ে পড়বে।

ফেনী নদী থেকে পানি তুলে নেওয়ার চুক্তির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে আল্লামা কাসেমী বলেন, ভারতের সাথে ফেনী নদীর পানি চুক্তিতে অকার্যকর হয়ে পড়বে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ‘মুহুরী সেচ প্রকল্প’। এ প্রকল্পের আওতায় যেখানে ফেনী, মুহুরী ও কালিদাস পাহালিয়া- এ তিনটি নদীর পানি দিয়ে ৮-৯ লাখ হেক্টর জমির সেচকাজ করার কথা, সেখানে এখনই শুকনো মৌসুমে পানির অভাবে ২৩ হাজার হেক্টর জমিতেও সেচ দেয় সম্ভব হয় না। এছাড়াও মুহুরী সেচপ্রকল্পকে ঘিরে গড়ে ওঠা ৩৫ হাজার একর মৎস্য প্রকল্প ধ্বংস হয়ে যাবে। এতে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এ অঞ্চলের প্রায় অর্ধকোটিরও বেশি মানুষ।
আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী আরো বলেন, চুক্তিতে উপকূলীয় নজরদারির জ

ন্য বাংলাদেশে ভারতকে রাডার স্থাপনের অনুমতি দেয়া হয়েছে। এর ফলে চীনের সাথে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বিশ্বের পরাশক্তি ও আঞ্চলিক শক্তিসমূহের সাথে নিরপেক্ষ ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে চলে।

কিন্তু এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক ও পরাশক্তিসমূহের দ্বন্দ্ব-সঙ্ঘাত ও প্রতিযোগিতায় জড়ানো হবে। যেটা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত ও হুমকির মুখে নিয়ে যেতে পারে।

তিনি বলেন, আমরা মনে করি ভারতের সাথে একতরফা এসব চুক্তি দেশের আর্থসামাজিক পরিস্থিতির পাশাপাশি স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকেও গভীর সংকটের মুখে নিয়ে যেতে পারে। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে সরকার ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করতে ভারত তুষ্টিতেই বিভোর হয়ে আছে। ভারত নিজেদের স্বার্থ ১৬ আনা বুঝে নিচ্ছে।

আর সরকার বাংলাদেশের স্বার্থ একে একে বিসর্জন দিয়েই যাচ্ছে।
তিনি বলেন, আমরা ফেনী নদীর পানি তুলে নেওয়া, বন্দর ব্যবহার, ট্রানজিট, ভারতীয় রাডার স্থাপনসহ দেশবিরোধী এসব চুক্তির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে এসব চুক্তি বাতিলের জোর দাবি জানাচ্ছি।

LEAVE A REPLY