ভারত থেকে ১৪লক্ষ নাগরিককে পুশইন শুরু হয়েছে তা নাকি পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় জানেই না -প্রশ্ন বিএনপির

আপডেট: ডিসেম্বর ১১, ২০১৯
0

বিল পাশ করে ভারতের ১৪লক্ষ নাগরিককে ইতিমধ্যেই ভারত থেকে বাংলাদেশের সীমান্তে অবৈধভাবে গণহারে পুশইন করা শুরু হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন বিনেপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্আডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী। তিনি বলেন , ‌” সীমান্তে বিজিবি কয়েক দফা এদেরকে গ্রেফতার করে জেলেও পাঠিয়েছে। যদিও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আজ অবধি এটা জানেনই না বলে গণমাধ্যমে জানিয়েছেন! অন্যদিকে ভারতের নানা প্রান্ত থেকে ‘বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী’ আখ্যা দিয়ে অসংখ্য মুসলিম নারী-পুরুষদের আটক করে দলে দলে কলকাতায় নিয়ে এসে গোপনে ও জোর করে সীমান্ত পার করে দেয়া হচ্ছে বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ করছে। যা খোদ ভারতের সংবাদ মাধ্যমেই প্রকাশ পেয়েছে ।

আজ নয়াপল্টনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনে বিএনপিকে অভিযুক্ত করে ন্যাক্কারজনক বক্তব্য দিয়েছেন। বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন না থামার কারণেই নাকি নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলটি এনেছেন। এক্ষেত্রে তিনি সরাসরি বিএনপি’র নাম উল্লেখ করে অভিযোগ তুলেছেন যে, এই আমলে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন অনেক বেশি হয়েছে।

অমিত শাহ সত্যভ্রষ্ট। অমিত শাহ’র এই দায়িত্বজ্ঞানহীন জঘন্য মিথ্যা অভিযোগ ঘৃনাভরে প্রত্যাখ্যান করছি। আমরা এটার তীব্র নিন্দা এবং এই ভিত্তিহীন অভিযোগ প্রত্যাহারের আহবান জানাচ্ছি। আমরা দ্ব্যর্থহীন কন্ঠে বলছি, বিএনপি সরকারের আমলে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের স্বার্থ রক্ষা করা হয়েছে সবচেয়ে বেশী। বরং অমিত শাহদের আশির্বাদপুষ্ট আওয়ামী লীগের সময়ে তাদের ওপর কমবেশী নির্যাতন হয়েছে।

বিএনপি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বাসী। প্রতিটি নাগরিকের ধর্মপালনের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। আমরা নাগরিকদের ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিত্তিতে সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু বিভাজনে বিশ্বাসী নই। আমাদের সরকারের সময় আমরা কখনো কোনো নাগরিককে তার ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে নির্যাতন, অধিকার থেকে বঞ্চিত করা কিংবা ধর্মাচরণে বাধা দিতে দিইনি। আইনের শাসনকে কঠোরভাবে বলবৎ রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। কেউ আইন ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

আমাদের নেত্রী বিএনপি সরকারের আমলে কোথাও আইন হাতে তুলে না নেয়ার কঠোর আহ্বান জানান। সর্বত্র সার্বিক সম্প্রীতি বজায় রাখার নির্দেশনা দেন। শান্তিভঙ্গের আশঙ্কায় বিজয় মিছিল না করার সিদ্ধান্ত নেন। বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহনের সাথে সাথে শান্তি-শৃঙখলা কঠোর ভাবে বলবৎ করা হয়। দায়িত্ব গ্রহনের আগে নির্বাচনী সহিংসতার সাথে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক প্রতিশোধের বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলোকেও তদন্ত ও আইনের আওতায় আনা হয়। কোথাও অমুসলিম নাগরিকদের ওপর কোনো রকম অত্যাচার চালাবার সুযোগ কাউকে দেয়া হয়নি। বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচারকারী আওয়ামী শাসনামলেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর আঘাত এসেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও আওয়ামী লীগ সমর্থক ড. আবুল বারাকাতের গবেষনা ‘বাংলাদেশে কৃষি ভূমি জলা সংস্কারের রাজনৈতিক অর্থনীতি-২০১৬’ ইতিহাস স্বাক্ষ্য দেয় যে, স্বাধীনতার পর থেকে এইদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর যত অত্যাচার-নির্যাতন-নিপীড়ণ হয়েছে এবং তাদের যত জায়গা-জমি-সহায় সম্পদ দখল হয়েছে তা আওয়ামী লীগের দ্বারাই হয়েছে।
সুতরাং বিএনপির ওপর দায় চাপিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টির প্রেসিডেন্ট অমিত শাহ’র এই বক্তব্য শিষ্টাচার বহির্ভূত এবং সৎ প্রতিবেশীসূলভ সম্পর্কের ক্ষেত্রে অশুভ ইঙ্গিতবাহী। তার এই বক্তব্য বাংলাদেশী জনগণকে উপহাস ও তাচ্ছিল্য করা। একটি দলকে কব্জায় নিয়ে বাংলাদেশে তারা যে আধিপত্য বজায় রেখেছেন, অমিত শাহ’র এই বক্তব্য সেটির সুষ্পষ্ট বহি:প্রকাশ।
সু

LEAVE A REPLY