ভারত-পাকিস্তান সংকটের সর্বত্র ইসরাইলের হাতের ছাপ: রবার্ট ফ্লিস্ক

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০১৯
0

 

যখন প্রথম খবরটা শুনলাম, মনে হয়েছিলো গাজা বা সিরিয়ায় ইসরাইলী বিমান হামলা। সন্ত্রাসী ক্যাম্পে বিমান হামলা এমন শব্দই প্রথম শুনেছিলাম। পরে জানতে পারলাম একজন কমান্ড এবং কন্ট্রোল সেন্টার ধ্বংস হয়েছে, অনেক সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। এক ইসলামিক জিহাদী ঘাঁটি ধ্বংস করা হয়েছে।

পরে গিয়ে বালানকোট শব্দটা শুনি। তখন বুঝলাম সেটা না গাজা আর না সিরিয়া, এমনকি লেবাননেও নয় বরং পাকিস্তানে।

বিষ্ময়কর, কিভাবে কেউ ইসরাইল ও ভারতকে মিলিয়ে ফেলতে পারে।!

তবে ভাবনাটা ধূসর হয়নি। দুই হাজার পাঁচশ মাইল দূরের তেল আবিবে ইসরাইলী প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং নিউ দিল্লির ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে এক করে ফেলার নিশ্চয়ই কারণ আছে।

বিগত কয়েক মাস ধরেই ভারতের জাতীয়তাবাদী বিজেপি সরকারের সঙ্গে অব্যক্ত কিন্তু রাজনৈতিভাবে ভয়াবহ ইসলামবিরোধী জোট গড়ে তুলছে ইসরাইল।

ভারতই এখন ইসরাইলের অস্ত্র ব্যবসার সবচেয়ে বড় বাজার।

সেটা শুধু অনুমান নয়, ভারতের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর বলছে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে জয়েশ-ই-মোহাম্মদের সন্ত্রাসীদের ধ্বংস করতে ইসরাইলের তৈরি রাফায়েল স্পাইস ২০০০ ‘স্মার্ট বোমা’ ব্যবহার করেছে ভারতীয় বিমানসেনারা।

যেমন অনেক ইসরাইলীরা কোনো একটি লক্ষ্যবস্তুকে ধ্বংস করার পরে উল্লাস প্রকাশ করে, তেমন পাকিস্তানের ভেতরে ভারতের অভিযানও সেনা সাফল্যের কল্পনার থেকেও বেশি জায়গা দখল করেছে।

৩০০-৪০০ সন্ত্রাসী ধ্বংস করার ওই আক্রমণে ইসরাইলের তৈরি করা এবং তাদের সরবরাহ করা জিপিএস নির্ভর বোমা ব্যবহার করা হয়।

২০১৭ সালে ভারত ইসরাইলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা ছিলো। তারা ৫৩০ ইউরো প্রদান করে ইসরাইলী আকাশ প্রতিরক্ষা, রাডার সিস্টেম, গোলাবারুদ, আকাশ থেকে মাটিতে আক্রমণকারী মিসাইল কেনার জন্য। যেগুলোর বেশিরভাগই ফিলিস্তিন ও সিরিয়ার ইসরাইলের সেনা আক্রমণের সময়ে পরীক্ষা করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY