ভোটাধিকার ফিরে পেতে এদেশের মানুষকেই দায়িত্ব নিতে হবে – আমীর খসরু মাহমুদ

আপডেট: মার্চ ১৩, ২০১৯
file photo

ফারহান ফয়সালঃ ভোটাধিকার ফিরে পেতে এদেশের মানুষকেই দায়িত্ব নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি’র জাতীয় কমিটি’র সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন ,‌ডাকসু যেহেতু ছাত্রদের অধিকারের কথা বলবে। তাদের নির্বাচিত হতে হলে, ভোটের জন্য তাদের ছাত্রদের কাছে যাবে। তাদের মতামত নেবে, একটা স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার হবে। কিন্তু বিষয়টা হয়ে গেলো অন্যরকম, এখানে নীতিনৈতিকতা একদম নেই বললেই চলে। এখানে নির্বাচনকে অসম্মান করা হয়েছে। ‘

জাতীয় প্রেসক্লাবে তারেক রহমানের ১৩ তম কারাবন্দী দিবস ও বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের মূল উৎপাটনের ষড়যন্ত্র শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভায় প্রাধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি’র জাতীয় কমিটি’র সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী । বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষক দলের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদু। প্রধান অতিথীর বক্তবে আমীর খসরু মাহমুদ চোধুরী বলেন, বর্তমানে রাজনীতির যে অবস্থা সেটা অনেক মেসেজ দিয়ে যাচ্ছে । ২৯ ডিসেম্বর যে ঝড় এসেছিলো তা মানুষের সব কিছু লন্ডভন্ড করে দিয়েছে । সে তান্ডব থেকে এ দেশের মানুষ বেরিয়ে আসতে পারিনি । জাতির যে আশা আকাঙ্ক্ষা দিকে তাকিয়ে আছে সে জাতীয়তাবাদী দলের দিকে। বিএনপি’র গনতন্ত্রের পথেই আছে। জাতীয়তাবাদী দল গনতন্ত্র ফিরিয়ে দিতেই আন্দোলন সংগ্রাম । যারা ট্রাকের বাহিরে গিয়ে রাতে ভোট ডাকাতি করে ক্ষমতায় এসেছে তারা কি ভাবে ঘুরে দাড়াবে সেটাও একটা বড় প্রশ্ন । বাংলাদেশের মানুষের ভোটের অধিকার কি ভাবে হরন করেছে সেটা গনতান্ত্রিক রাষ্টকে বুঝাতে হবে। আমাদের অনেকে বলেছে নির্বাচন থেকে সরে দাড়াতে কিন্তু নির্বাচনে থেকে প্রমান করে দিয়েছি আ,লীগ মানুষেন মৌলিক অধিকার কি ভাবে হরন করে । এখন রাজনীতি হয়ে গেছে নগ্নভাবে ক্ষমতাকেন্দ্রিক।
তিনি বলেন, পুরো নির্বাচন ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নীতি নৈতিকতাকে ভূলুন্টিত করা হয়েছে। এটা কেনোভাবে কাম্য নয়। এখানে জনেগনের মতামতের কোনো মূল্য নেই। যে যেভাবে পারছে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য যেকেনো পন্থায় অবলম্বন করছে। ডাকসু নির্বাচনে তাই করা হলো।

তিনি বলেন, নির্বাচন এখন নির্বাচন নেই, এটা হয়ে গেছে ক্ষমতায় যাওয়ার একটা রাস্তা। সবাই এখন সেই পথ ধরে যেনোতোনো ভাবো ক্ষমতায় যেতে চাচ্ছে। তাতে নীতিনৈতিকতা যদি নষ্ট হয় তাতে কী। ক্ষমতায় যেতে পারলেই হলো, আমাদের রাজনীতি এখন কলুষিত। ডাকসুতে যার প্রভাব দেখলাম।

তার মধ্যে গ্যাসের দাম, বিদুৎতের দাম বাড়ানো হচ্ছে। তার কারন হলো তাদের কোন জবাবদিহিতা নেই। বাংলাদেশের মানুষকে বোঝানোর মত কিছু নেই, তাদের দায়িত্ব নিয়ে তাদের ভোটাধিকার ফিরে পেতে হলে আরো সচেতন হতে হবে । আমাদের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে আজ বিএনপি শক্তিশালী হয়েছে । আমাদের কঠিন শপথ নিতে হবে । যারা ক্ষমতা দখল করেছে তারা দিশেহারা । বিএনপি’র সাথে প্রতিন্ধিতা করার মত কোন অবস্থা আ,লীগের নেই ।

প্রধান বক্তার বক্তবে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, চারদিকে তাকালে কিছু কিছু বিষয় দেখে ভিভ্রান্ত হচ্ছি । ফ্যাসিবাদের লক্ষ্য হচ্ছে মানুষকে বিভ্রান্ত করা । জিয়া রহমান যখন প্রেসিডেন্ট ছিলেন তখন শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এসেছিলেন । শেখ হাসিনার আমলে তারেক রহমান দেশের বাহিরে, আর খালেদা জিয়া জেলে আ,লীগের নিজস্ব বিচারে । জিয়া পরিবার হচ্ছে পৃথিবীর মধ্যে অন্যতম পরিবার । জিয়ার রহমান যা বলেছিলেন তাই করেছিলেন যা জনগনের জন্য । ডাকসুতে নির্বাচন হয় নি । শেখ হাসিনা যা চেয়েছিলো তাই হয়েছিলো । বর্তামান বিশ্ববিদ্যালয় শেখ হাসিনার বিশ্ববিদ্যালয় । ৯০ ডাকসুতে জয়ী হয়েছিলো ছাত্রদল । সেই ছাত্রদলকে শেখ হাসিনা ঢুকতে দেয় নি । গনতন্ত্র, স্বাধীনতা যারা ধ্বংস করেছে তার জাতির শত্রু । জনাব তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হয় তাহলে এ সরকারের পরিবর্ত ছাড়া সম্বভ না। লড়াই ছাড়া গনতন্ত্র ফিরে পাওয়া সম্ভব না । তরুন যারা আছেন তাদের উদ্দ্যেশে বলতে চাই তোমরাই পারো আরো একবান এদেশের গনতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে ।

বিশেষ অতিথীর বক্তব্যে চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী বলেন, আ,লীগের ইতিহাস হচ্ছেন বিশ্বাসঘাতক। আ,লীগ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন মজলুম জননেতা মাওলা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। মাওলা হামিদ খানকেও আ,লীগ তাকে স্বরণ করেন না । আ,লীগ একটা মিথ্যাচারের দল । আ,লীগ সরকার এদেশের মানুষের ভোটাদিকার হরন করেছে । খালেদা জিয়াকে ষড়যন্ত্র করে জেলখানা আটকে রাখা হয়েছে । বেগম জিয়ার সাথে এ দেশের গনতন্ত্র ওতপ্রোত ভাবে জরিত। বাংলাদেশের ব্যাংক ডাকাতির সাথে জরিত যারা তাদেরকে মন্ত্রী করা হয়েছে । শেখ হাসিনা স্বাধীনতার বিষয়ে জিরো টলালেন্স । বাকস্বাধীনতা বন্ধে জিরো টলালেন্স

ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মামুন বিল্লাহ বলেন, এদেশে গনতন্ত্র নেই । জাতীয় নির্বাচন ছিলো ৩০ ডিসেম্বর কিন্তু নির্বাচন হয়েছে ২৯ শে ডিসেম্বর মধ্যে রাতেই । আমারা । আমরা আবো একবার দেখলাম ডাকসু নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে ভোট ডাকাতির মাহাউৎসব । দীর্ঘ ২৮ বছর পরে ডাকসু নির্বাচন হচ্ছে আমরা ভেবেছিলাম নির্বাচন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সুষ্ঠ ও অবাধ নিরপেক্ষ ভাবে নির্বাচন করবে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সরকার ডাকসু নির্বাচনকেও জাতীয় নির্বাচনের মত কলঙ্কিত করেছে। ভোট ডাকাতির মধ্যে দিয়ে নির্বাচন ব্যাবস্থাকে পুরোপুরি আ,লীগ ধ্বংস করে দিয়েছে ।

বাংলাদেশ জাতীয় দলের আলোচনা সভার সভাপতি এ্যাডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদার সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় । আলেচনা সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপি’র চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, কৃষক দলের আহ্বায়ক সামসুজ্জামান দুদুু ,বিএনপি’র নির্বাহী কমিটি’র সদস্য জেবা আমিন খান,আবু নাসের রহমুতুল্লাহ ,বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মামুন বিল্লাহ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সিঃসহঃসভাপতিঃমো : ইহসান মামদুদ প্রমুখ