মনোনয়নপত্র জমা দিলেন দুই সিটি’র প্রার্থী: সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যাপারে আশঙ্কা বিএনপির

আপডেট: জানুয়ারি ১, ২০২০
0

আগামী ৩০ জানুয়ারী অনুষ্ঠিতব্য ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে প্রধান চারজন মেয়র প্রার্থী আজ মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

নির্বাচনী তফসিল আনুযায়ী, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে ২ জানুয়ারি। আর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ৯ জানুয়ারি এবং প্রতীক বরাদ্দ হবে ১০ জানুয়ারি। ভোটগ্রহণ হবে ৩০ জানুয়ারি।

এবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী হিসেবে দলের মনোনয়ন পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর নিকট আত্মীয় শেখ ফজলে নূর তাপস এমপি। মেয়র নির্বাচিত হলে ঢাকার নাগরিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সোচ্চার থাকার আকাংখা ব্যক্ত করেছেন শেখ তাপস। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন অবিভক্ত ঢাকার সাবেক মেয়র সদেক হোসেন খোকার পূত্র ইশরাক হোসেন।

ওদিকে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সদ্যবিদায়ী মেয়র আতিকুল ইসলাম আজ দুপুরে তার মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী থাকছেন বিএনপির গতবারের একই প্রার্থী তাবিথ আউয়াল। মেয়র নির্বাচিত হলে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার ব্যাপারেও তার পদ ব্যবহার করবেন বলে জানান তাবিথ আউয়াল।

এর আগে বিএনপি মহাসচিব বলেছেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে সুষ্ঠ নির্বাচনের সম্ভাবনা নেই; তবুও তারা গণতন্ত্রের স্বার্থে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। তিনি ইভিএম নিয়েও তার দলের আপত্তির কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

তবে, আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, সিটি নির্বাচনে হেরে গেলে তাদের মাথায় অকাশ ভেঙ্গে পড়বে না। সরকার একটি সুষ্ঠ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।

এদিকে, নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অনুমতি ছাড়া কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বদলি না করতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এ–সংক্রান্ত আইন উল্লেখ করে ভোটের ফলের গেজেট প্রকাশ হওয়ার পর ১৫ দিন পর্যন্ত অনুমতি ছাড়া কাউকে বদলি না করতে বলা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে দেওয়া ইসির চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এরই মধ্যে নির্বাচন পরিচালনার জন্য রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। আপিল গ্রহণ ও আপিল নিষ্পত্তির জন্য বিভাগীয় কমিশনারকে আপিল কর্তৃপক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা–কর্মচারীদের মধ্য থেকে প্রয়োজনীয়সংখ্যক প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও পোলিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে।

বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি ও সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরাও নির্বাচনে দায়িত্ব পাবেন। এ ছাড়া ভোটকেন্দ্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হবে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার স্থাপনা ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হবে।

আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়, কমিশন তার দায়িত্ব পালনে সহায়তার জন্য রাষ্ট্রের যেকোনো ব্যক্তি বা নির্বাহী কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিতে পারবে। ওই ব্যক্তি বা নির্বাহী কর্তৃপক্ষ সে অনুযায়ী দায়িত্ব পালনে বাধ্য থাকবে। বিধিমালা অনুযায়ী, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার তারিখ থেকে নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর ১৫ দিন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের অনুমতি ছাড়া নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বদলি করা যাবে না।#

LEAVE A REPLY