মাঠে তৃনমূলদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতারা থাকলেই আন্দোলন সফল হবে- জাহাঙ্গীর শিকদার

আপডেট: অক্টোবর ৪, ২০১৯
0

চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবাসের দেড় বছরের বেশি হলো । গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারাবন্দী হন তিনি। দলীয় প্রধানের মুক্তির জন্য আইনি পথে হাঁটছে বিএনপি। কিন্তু খুব একটা সুবিধা করতে পারছে না। আর খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে রাজপথের আন্দোলন জোরদার হচ্ছে না। আইনি ও আন্দোলন—দুটো পথ বেছে নেওয়া হলেও কোনোটি থেকে এখন পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত ফল পায়নি বিএনপি।

এর মধ্যে খালেদা জিয়াকে ছাড়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিএনপির ভরাডুবির পর দলের নেতা-কর্মী, সমর্থক এমনকি সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন বিএনপি তাহলে কী করবে। কারাগারে থেকেই খালেদা জিয়া দলের নেতৃত্ব দেবেন না কি তাঁর মুক্তির জন্য বিএনপি কঠোর আন্দোলনে যাবে। দলের মধ্যে এমন আলোচনাও আছে সরকার না চাইলে খালেদা জিয়ার মুক্তি কোনো ভাবেই সম্ভব নয়। সে ক্ষেত্রে বিএনপি কি খালেদা জিয়ার জন্য সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করবে। আর সেটা চাইলে কী দিয়ে হবে সেই সমঝোতা?

রাজধানীতে বিএনপির আন্দোলন সফল করার জন্য পদক্ষেপগুলো কি হতে পারে এ নিয়ে কথা হয় মহানগর কয়েকজন নেতার সঙ্গে। তারা রাজধানীর আন্দোলনকে সফল করতে ত্যাগী , দলের প্রতি বিশ্বাসী ও অনুগত নেতা চান। একই সঙ্গে তারা শুধুমাত্র ক্ষমতায় বসানোর জন্য নয় ,বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করার জন্যও প্রত্যেকটা অঙ্গ সংগঠনের নতুন কমিটি চান।তরা মনে করছেন , বিএনপিতে এখন শুধু অমুক ভাই , তমুক ভাইয়ের রাজনীতি চলছে । শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া, কিংবা তারেক রহমানের আদর্শের চেয়ে এখন বড় আদর্শ হয়ে ওঠে ‘ভাই আদর্শ’ রাজনীতি। এসব বাদ দিতে না পারলে গ্রুপিং, অভ্যন্তরীণ কোন্দল, সিন্ডিকেট,এবং কমিটি বাণিজ্যের জন্য দলে আরো বিপর্যয় ঘটবে বলে মনে করছেন। তাদের মধ্যে একজন জাসাসের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহ সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম শিকদার।

দেশ জনতা ডটকমের কাছে দেয়া সাক্ষাতকারে তিনি বলেন এসব কথা বলেছেন ।

তার কাছে প্রশ্ন ছিল ঢাকার আন্দোলনকে সফল করতে বিএনপির এখন জরুরীভাবে কি করা দরকার?

শিকদার: সারা বিশ্বেই যত রাজনৈতিক আন্দোলন হয়েছে ,ক্যাপিটাল সিটি ফেল করলে সব অর্জন অনর্থ হয়ে যায়। বিএনপি যখন সারা দেশে সফল আন্দোলন করেছে তখন ঢাকায় ব্যর্থ। এর কারন হলো নেতৃত্বের ব্যর্থতার কারনে। তারা ঘুরে দাড়াঁতে পারছে না।

সরকারের দমন -পীড়নতো আছেই। প্রত্যেকটা নেতা-কর্মীর নামে ১০ থেকে ৭০টা মামলা রয়েছে। এ নিয়ে দাড়ানোটা অসম্ভব। এর পরে রয়েছে অভ্যন্তরীণ কোন্দল, ভয়াবহ গ্রুপিং এবং কমিটি বাণিজ্য,সুবিধাবাদীদের দৌরাত্ম্য থামেনি এখনো। তৃনমূলে কেন্দ্রীয় নেতারা না গিয়ে বরং অনেকে তাদের কাছে থেকে চাদাঁ তুলছে। পদ-পদবী বেচাকেনা চলছে।

এই যেমন জাসাসের প্রাথমিক পদেও নেই সেই লোক এখন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অর্ন্তভূক্ত। আমরা তো জানি সে কিভাবে ওখানে পদ পেয়েছে!।

ঢাকা মহানগর কমিটিতে আপনার কি মনে হয় যোগ্যরা এসেছেন?

দলের প্রয়োজনে, সময়ের চাহিদায় ও নেতৃত্বের বিকাশের জন্যই যোগ্যদের নেতৃত্বে নিয়ে আসা উচিত।

বিএনপি কঠোর আন্দোলন নিয়ে মাঠে নামছে বলে অনেক নেতা বলেছেন । আপনার কি মনে হয় বিএনপি পারবে?
শিকদার: বিএনপি সাধ্যমত চেষ্টা করবে। তবে আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি হচ্ছে যুবদল। সমস্যা যেটা হয় একদিকে মাঠ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতাদের যোগাযোগ থাকেনা। অপরদিকে আন্দোলনে ডাক দিয়ে দিক নির্দেশনা দেয়ার জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের আর মাঠে পাওয়া যায় না। ফলে আন্দোলনগুলো সফল হয় না।

অর্থাৎ তৃনমূলরা কেন্দ্রীয় নেতােদের ওপর এখন আর বিশ্বাস রাখতে পারছেন না। অপরদিকে যারা আন্দোলনে মাঠে নামবে তারা রিস্ক নিতে পারছে না। কারন দেখা যায় ত্যাগী এবং সফলদেরকেই আবার বিএনপি কোনঠাসা করে একপাশে সরিয়ে রাখে।

অপরদিকে কেউ কাউকে উঠতে দেয় না। একজনে ভালো কিছু করতে চাইলে আরেকজনে টেনে বসিয়ে দেয়। এই ওঠা-নামার প্রতিযোগীতার জন্যই আজ ত্যাগী নেতা পাওয়া যাচ্ছে না।

অন্যদিকে মহানগরীতে এ পর্যন্ত ত্যাগী এবং যারা মাঠের পরীক্ষীত নেতা এমন ৩৫জন গুম হয়েছেন। যাদের পরিবারগুলো এখন করুণ অবস্থায় রয়েছে। এসব বিপর্যয় কাটাতে পারলেই আন্দোলন সফল হবে।

LEAVE A REPLY