‘মাঠে নামো জামায়াত কোথায় এসব খালেদার কনভার্সেশন‘: অ্যার্টনি জেনারেল

আপডেট: জুন ২৪, ২০১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক

অ্যার্টনি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, ২০১৫ সালের অবরোধের আগে নেতাদের সঙ্গে ফোনে বা ওভার ফোনে বিএনপি নেতাদের বেগম খালেদা জিয়ার কথোপকথনের ‘মাঠে নামো জামাত (বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী) কোথায় এসব কনভার্সেশনের রেকর্ড আছে।

তিনি বলেন, ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বাসে পেট্টোল বোমা ছোড়ে মানুষ হত্যার ঘটনার আগে অবরোধ ডাকা এবং পরে মানুষ হত্যার দায় কোন ভাবেই এড়াতে পারেন না বেগম খালেদা জিয়া।

রোববার (২৪ জুন) কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের ওপর উভয় পক্ষের শুনানি শেষে অ্যার্টনি জেনারেল তার নিজ কাযালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন।

অ্যার্টনি জেনারেল বলেন, “২০১৫ সনের ৩ ফেব্রুয়ারিতে ১৪ গ্রামে গভীর রাতে একটি বাসের ওপরে বোমা ককটেল নিক্ষপ্ত করে বাসে আগুন লাগিয়ে দেয় হয়। এবং তৎক্ষনাত সাতজন লোক মারা যায়। পরে একজন হাসপাতালে মারা যায়।”

তিনি বলেন, “এই মামলাটিতে যে এফআইআর করা হয়েছে, তাতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে খালেদা জিয়ার উস্কানিতে যে অবরোধ হয়েছে। খালেদার হুকুমের পরিপ্রেক্ষিতেই এই ঘটনা ঘটেছে। এই অবরোধ সফল করতে গিয়ে কর্মকান্ড করেছে তাতে লোক মারা গেছে। চার্জশিটে বলা হয়েছে বেগম খালেদা জিয়ার কনভার্সেশন ওভার টেলিফোন, তিনি (খালদা জিয়া) বলেছেন লোক নামাও, মাঠে থাকো, জামাত (বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী) কোথায়।’ ইত্যাদি কথা।’

অ্যার্টনি জেনারেল বলেন, “তাতে (চার্জশিটে) স্পষ্ট উল্লেখ আছে খালেদা জিয়া হলেন মূখ্য নির্দেশ দাতা। খালেদা জিয়ার নির্দেশে খালেদা জিয়ার উস্কানিতে এই ঘটনা ঘটেছে।” “এই ঘটনায় নিম্ন আদালতে মামলা পেন্ডিং রেখে হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেছিল। এবং হাইকোর্ট তাদের বেইল দেয়। তার এগিনেস্টে আমরা আপিল করেছিলাম। সেই মামলাটি আজ শুনানির জন্য ছিল। ‘মানুষ পুড়ে কিভাবে কয়লা হয়েছিল তা আমি আদালতে দেখিয়েছি।’

তিনি জানান, আদালতে বলেছি নির্দেশদাতা এবং উস্কানি দাতা হলেও এই মামলায় হাইকোর্টে খালেদা জিয়াকে জামিন দিয়েছিল।” এই মামলায় জামিন দিতে পারে না। শুনানি শেষ করার পর আগামী ২ জুলাই এই মামলাটি আদেশের জন্য রেখেছেন। আরেকটি মামলাও ওই সময়ের। বাস পোড়ানোর ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ সালের। সেই মামলাতেও খালেদাকে জামিন দিয়েছিল হাইকোর্ট। সেটির বিষয়ে আগামীকাল সোমবার শুনানির জন্য রেখেছেন।

ঘটনার বিষয়ে অ্যার্টনি জেনারেল আারো বলেন, বাস পোড়ে সাতজন লোক মারা গেছে সত্য ঘটনা। এটা কেউই অ-স্বীকার করতে পারবে না। এই মামলায় যে হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে তার বিভৎসতা আদালতে তুলে ধরেছি। এর পরেও যদি মামলার মূখ্য ইন্ধনদাতা জামিন পেয়ে যায় তা হলে বিচার ও বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদবে। এবং এই ধরণের অপরাধে জামিন নিতে পারেন না।

বিএনপি আইনজীবীরা ঘটনা স্বীকার করলেও খালেদা জিয়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত না বলেছেন এর জবাবে অ্যার্টনি জেনারেল বলেন, আমরা বলেছি যে খালেদা জিয়ার উস্কানিতে এবং নির্দেশে ঘটনা হয়েছে। সেখানে টেপ রেকর্ড করা আছে তার বক্তব্য আদালতে চাইলে সেটা জমা দেয়া যাবে।

এখানে তিনি বলেছেন, তোমরা মাঠে নামো। অর্থাৎ মাঠে নামার মানে দেখা গেলো বাসে আগুন। বাসে আগুন মানে হত্যা। সেটা হরতাল শুধু ছিল না এটা ছিল অবরোধও। গাড়ীতে যে হামলা করা হয়েছিল, তার মানে হলো অবরোধকে সার্থক করা। ‘হরতাল করার গণতান্ত্রিক অধিকার হয়তো বলতে পারেন। সেটা করতেই পারে। কিন্তু অবরোধ করার অধিকার তো কারো নেই। তারা করতে পারে না। মানুষের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করা সেটা সাংবিধানিক না। ’

অ্যার্টনি জেনারেল বলেন, ‘সেই অবরোধ যেন মানতে বাধ্য হয় সেই জন্যই মানুষ হত্যা।’ সাতজন লোক যে মারা গেছেন তার মূখ্য ইন্ধনদাতা খালেদা জিয়া। আমরা বলছি যে খালেদা জিয়ার উস্কানিতে এই ঘটনা ঘটেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমি আদালতে বলেছি যে ইহুদিদের হিটলার যে ভাবে মেরেছে, ঠিক একই ভাবে বাসে আবদ্ধ রেখে বোমা মেরে মানুষ মারা হয়েছে। এর চেয়ে বিভৎসতা আর হতে পারে না। ‘ওনি বলেছেন যে তোমরা মাঠে নামো। মাঠে নামার ফলশ্রুতিতে এই ঘটনা। তৎক্ষনাত সাত লোকের মৃত্যু।’

বিচারপতিদের সঙ্গে বিএনপি আইনজীবীদের হট্টগোল এর বিষয়ে অ্যার্টনি জেনারেল বলেন, ‘তারা আদালত সমন্বন্ধে অশালিন একটি মন্তব্য করেছেন। তাই আমি প্রতিবাদ করেছি।’ তিনি বলেন, ‘আদালতকে কথা বললে তো আমি অ্যার্টনি জেনারেল হিসেবে চুপ করে বসে থাকতে পারি না। প্রতিবাদ করেছি। সেটার বাদানোবাদ হয়েছে। তাই তারা (বিএনপির আইইনজীবীরা) হট্ট্রগোল শুরু করেছেন।’

# কাশেম