মাফিয়া” জন্ম যার মহৎ ; এখন বিশ্বের আতঙ্ক

আপডেট: মার্চ ২, ২০১৯

সোহেল সানি:
“মাফিয়া” এখন পৃথিবীরই এক আতঙ্ক। বহু দেশে সরকারের জন্য এক বিপদজনক শঙ্কার কারণ হয়ে উঠেছে এ গোষ্ঠীটি। মাফিয়া আন্তর্জাতিক এক গোষ্ঠীর নাম।
অথচ যার অভ্যুদয় হয়েছিল মহৎ উদ্দেশ্যে। নিপীড়িত গরীবকে বাঁচাতে।

ইতালির ত্রয়োদশ শতাব্দীকে বলা হয় জমিদার ও ভূস্বামীদের শোষণের শতাব্দী। গরীব প্রজাদের ওপর জমিদারদের জুলুম, লুন্ঠন, নিপীড়ন ও নৃশংসতা যখন চরমে তখন মাফিয়া গোষ্ঠীর জন্ম। একদল দেশপ্রেমিক তরুণ সংঘবদ্ধ হয়। তারা ইতালির সিসিলিতে আত্মপ্রকাশ ঘটায় ‘মাফিয়া গোষ্ঠী’ নামক সংগঠনটির।
ইতালি সরকারের আইন ভঙ্গ করাই ছিল মাফিয়া’র প্রধান ধর্ম। মাফিয়ার সদস্যরা পরিচালিত হতে নিজেদের করা আইনে। তা ভঙ্গ হলে কঠোর শাস্তি হতো।
মাফিয়া প্রধানকে ডাকা হয় ‘বস’ নামে।
ক্রমে মাফিয়া গোষ্ঠী নামে বিভিন্ন দেশে শাখা-প্রশাখা গড়ে ওঠে। বিস্তার লাভ করে তার পরিচিতি।

সাধারনের ওপর শোষণ ঠেকানোর ক্ষেত্রে সমাজে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনও আনে।
মাফিয়ার বৈশিষ্ট্য ছিল ধনীদের অর্থসম্পদ লুটপাট করে গরিবদের মাঝে তা বিলি করে দেয়ার বিষয়টি।
বিস্ময়ের ছিল মাফিয়া গোষ্ঠীর সদস্যরা এসব লুট করা সম্পদ নিজেরা ভোগ করতেন না।

পৃথিবীতে এখন মাফিয়া গোষ্ঠী অস্র, মাদক চোরাচালান, বেশ্যাবৃত্তি, জুয়াসহ সকল অপকর্মের মূল হোতায় পরিণত হলেও তা শতাব্দী ধরে ছিল আদর্শ সংগঠনের নাম।
ঊনিবিংশ শতাব্দীতে ইতালির সীমানা পেরিয়ে আমেরিকায় প্রবেশ করে। বিংশ শতাব্দীতে পৃথিবীর বহু দেশে এর শাখা গড়ে ওঠে।

ইতালিতে সাধারণ মানুষের ওপর জমিদার ও ভূস্বামীদের নিষ্ঠুর শোষণ এবং বর্বরতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে মাফিয়া।

ইতালি সরকার বিভিন্ন অভিযানের পেশীশক্তি ব্যবহার করে নির্মূলের জন্য। কিন্তু ব্যর্থ হয়। বরং এর বিস্তার ঘটে।
আমেরিকার অনুকূল পরিবেশে গোষ্ঠির অগ্রযাত্রা অচিরেই সম্প্রসারিত হয়। এক পর্যায়ে কেবল নিউইয়র্কেই প্রতিষ্ঠা লাভ করে মাফিয়ার পাঁচটি উপ দল।

ভারত উপমহাদেশেও মাফিয়া গোষ্ঠীর শাখা গড়ে উঠেছে। ভারতের দাউদ ইব্রাহিম মাফিয়া নামে এক আতঙ্কের নাম। বাংলাদেশেও মাফিয়া গোষ্ঠীর শাখা রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।