মিডিয়া মিউজিয়াম সম্মাননা ২০১৮ পেলেন সাত বিশিষ্ট ব্যক্তি

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক:
লোক সংস্কৃতি আমাদের শেকড় যা সম্প্রীতি আর মানবতা নিয়ে বাঁচতে শেখায়, তাই লোকজ সংস্কৃতির বিস্তৃতি আরো বেশি করে আধুনিক সমাজে ছড়িয়ে দেয়ার আহবান জানিয়েছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মালিবাগে কারিতাস মিলনায়তনে “ মিডিয়া মিউজিয়াম সম্মাননা ২০১৮” প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন মানবিক মূল্যবোধ সৃষ্টির সূতিকাগার হল এসব সামাজিক সাংস্কৃতিক আয়োজন। যেখানে লোকজ সংস্কৃতি আমাদের গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যকে স্মরণ করিয়ে দেয়। নতুন প্রজন্মের কাছে এই লোকজ সন্ধ্যা আয়োজনের মাধ্যমে বিশেষ করে পূথি পাঠ ও লোক গান উপস্থাপনের জন্য মিডিয়া মিউজিয়াম অব বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান।

সভাপতির বক্তব্যে মিডিয়া মিউজিয়াম অব বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট বলেন, সমাজের প্রতিটি সেক্টরেই নিজগুনে প্রতিভারর বিচ্ছুরণে সমাজ সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিচ্ছেন গুনীজনরা। কিন্তু তাদের জীবদ্দশায় আনুষ্ঠানিক মূল্যায়নের ব্যবস্থা এই সমাজে খানিকটা কম। তাই “মিডিয়া মিউজিয়াম সম্মাননা” প্রদানের ক্ষুদ্র প্রয়াস নিয়েছে সংগঠনটি। আগামীতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা প্রচারবিমুখ অগ্রপথিক এমন গুনীজনকে খুঁজে সম্মানিত করবে মিডিয়া মিউজিয়াম। যেখানে সবাইকে পাশে চাই আমরা। এখন থেকে প্রতিবছর বিভিন্ন ক্যাটাগরীতে মিডিয়া মিউজিয়াম সম্মাননা প্রদান করা হবে বলে জানান এম এম বাদশাহ ।
অনুষ্ঠানে আট বিশিষ্ট ব্যক্তিকে আট ক্যাটাগরীতে “ মিডিয়া মিউজিয়াম সম্মাননা ২০১৮” প্রদান করা হয়। সম্মাননা প্রাপ্ত হলেন, জহির আলীম ( সংগীত শিল্পী), সৈয়দ নজরুল হক ( লোকসাংস্কৃতিক সংগঠক, ভারত) থিওফিল নকরেক ( লেখক ও কবি), নজরুল ইসলাম ভুঁঞা মাহাবুব ( সমাজ সেবা), শেখ গালিব রহমান (তরুণ প্রযুক্তিবিদ), হাসান মাহমুদ ( অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা), মোহাম্মদ মারুফ ফিরোজ ( শিক্ষা উদ্যোক্তা)।

অনুষ্ঠানে লোকগানের পাশাপাশি হারিয়ে যাওয়া পুথি পাঠের আয়োজন ছিল অনেকটাই উপভোগ্য। ছিল শিশু শিল্পীদের লোকগান ও শিশু শিল্পীর বাশির সুরে পাহাড়ি গান।
মিডিয়া মিউজিয়াম অব বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট এম এম বাদশাহ’র সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন সাপ্তাহিক শিক্ষাবিচিত্রা সম্পাদক আবদার রহমান, আদিবাসী বার্তার সম্পাদক এ এম মিলন, ঢাকা বারের আইনজীবী নেতা অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম, ইআইবিসিএল’র সিও রাকিবুল হাসান, বিশিষ্ট চিত্র শিল্পী এফ এম আনিস, মিডিয়া মিউজিয়াম ইয়ুথ ক্লাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট মোমিন উল্ল্যাহ, রিয়াজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক এফ এম বায়জিদ, মিডিয়া মিউজিয়াম অব বাংলাদেশের পরিচালক সিকদার নজরুল ইসলাম ও রিদওয়ান তুহিন, ক্লাব সদস্য মাসুদ রানা প্রমুখ ।

কয়েকজন সাংবাদিক ও সংস্কৃতি কর্মীর সমন্বয়ে ২০০৯ সালের অক্টোরব মাসে মিডিয়া মিউজিয়াম অব বাংলাদেশের পথচলা শুরু। এই সল্প সময়ে পথশিশুদের শিক্ষাপোকরণ প্রদান, ঈদ উৎসবে নতুন জামা প্রদান, তীব্র শীতে শীতবস্ত্র প্রদানের কর্মসূচি পালন করে আসছে সংগঠনটি। তৃনমূল গ্রাম গঞ্জে এমনকি চরাঞ্চলের শীতার্ত হতদরিদ্রদের পাশেও সামর্থ্য অনুযায়ী সহায়তা নিয়ে ছুটে যায় মিডিয়া মিউজিয়ামের সদস্যরা।