মুফতি হান্নানের হাত-পায়ের নখ তুলে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য আদায় করেছে – বিএনপি

আপডেট: অক্টোবর ১১, ২০১৮

মুফতি হান্নানের হাত-পায়ের নখ তুলে তারেক রহমানরে বিরুদ্ধে সাক্ষ্য আদায় করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী । তিনি বলেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ২১শে আগষ্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় গতকাল যে সাজা দেয়া হয়েছে তা ‘স্টেট স্পনসর্ড জাজমেন্ট’। বিএনপি-কে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করার জন্যই সরকারের বিশেষ ব্যক্তির মনোবাঞ্ছা পূরণে এই রায়।

আজ সকালে নয়াপল্টনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রিজভী বলেন , ‌”এই রায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এজন্য যে, একতরফা নির্বাচন করার জন্য এই রায় একটি কারাসাজি। ২১শে আগষ্ট বোমা হামলা মামলায় বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ফাঁসানোর জন্য রাষ্ট্রযন্ত্রকে কি নির্মমভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল, সে সম্পর্কে আপনাদেরকে ইতোপূর্বে অবহিত করেছি।

হাত-পায়ের নখ তুলে নিয়ে অকথ্য শারীরিক নির্যাতনের মাধ্যমে সম্পূরক জবানবন্দী নেয়া হয়েছিল। মুফতি হান্নান দাবী করে বলেন, ব্যাপক নির্যাতন করে সিআইডি’র লিখিত কাগজে তার সই আদায় করা হয়েছে। এ বিষয়ে গত ২৮-০৯-২০১১ তারিখে প্রথম আলো পত্রিকায়-“সম্পূরক জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন মুফতি হান্নানের” শীর্ষক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল।

সেখানে বলা হয়েছে-‘২১শে আগষ্ট গ্রেনেড হামলায় তারেক রহমান, লুৎফুজ্জামান বাবরসহ বিএনপি-জামায়াত নেতাদের জড়িয়ে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন মুফতি হান্নান….গতকাল (২৭-০৯-২০১১) মঙ্গলবার আইনজীবীর মাধ্যমে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক শাহেদ নুরউদ্দিন এর কাছে এই আবেদন করেন হরকাতুল জেহাদ (হুজি) নেতা মুফতি হান্নান। তিনি স্বেচ্ছায় আদালতে এধরণের কোন জবানবন্দী দেননি …..রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ ও আকরাম উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, মুফতি হান্নানের জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন তার আইনজীবী লুৎফর রহমান আদালতে দাখিল করেন।

প্রথমে আবেদনে মুফতি হান্নানের সই ছিল না, তারা বলেন-আইন ও পদ্ধতিগতভাবে এই আবেদন করা হয়নি। এধরণের আবেদনে যিনি জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন করেন তাকেই যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে করতে হবে।

অবশ্য রাষ্ট্রপক্ষের আপত্তির পর মুফতি হান্নানের সই নিয়ে তার আইনজীবী আবার আদালতে আবেদনটি জমা দেন। তবে এ নিয়ে আদালত কোন আদেশ দেননি। হাতে লেখা ১০ পৃষ্ঠার প্রত্যাহার আবেদনে বলা হয়, গ্রেফতারের পর এ পর্যন্ত মুফতি হান্নানকে ৪১০ দিন রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।’ মুফতি হান্নান সেদিন আরও বলেছিলেন-২১শে আগষ্ট বোমা হামলায় জনাব তারেক রহমান বা বিএনপি’র কেউ জড়িত নয়।

সুতরাং বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোকে নিশ্চিহ্ন করার জন্যই কারো ইচ্ছা পূরনে গতকাল এই রায় দেয়া হয়েছে। কিন্তু জনগণ এই রায় প্রত্যাখান করেছে। এই রায়ের প্রতিবাদে তাৎক্ষণিভাবে সারাদেশে বিক্ষোভ করেছে বিএনপিসহ সাধারণ জনগণও। প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহাকে বন্দুকের জোরে তাড়িয়ে দেয়া এবং সঠিক বিচার করতে গিয়ে জেলা জজ মোতাহার হোসেনকে দেশ ছাড়তে হয়েছে। সুতরাং গতকাল নিম্ম আদালত যদি সঠিক রায় দিতো তাহলে তাকেও দূর্ভাগ্য বরণ করতে হতো।

লক্ষীপুরে এ্যাডভোকেট নুরুল ইসলামকে প্রকাশ্যে খুন করে ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত আসামীরা রাষ্ট্রপতির ক্ষমা নিয়ে বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তথ্যমতে এ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের নির্দেশে বিশেষ ক্ষমতায় অন্যান্যদের মধ্যে প্রায় ৬ হাজারের মতো ভয়ঙ্কর আসামীদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। সুতরাং সরকার এবং সরকার নিয়ন্ত্রিত বিচার প্রক্রিয়া দুষ্টকে পালন করারই দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। সুতরাং যতদিন এই ভোটারবিহীন সরকার ক্ষমতায় থাকবে ততদিন কেউ ন্যায়বিচার পাবে না বলেই জনগণ মনে করে।