মুরসির মৃত্যু ছিল একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড: আল্লামা কাসেমী

আপডেট: জুন ১৯, ২০১৯
0

নিজস্ব প্রতিবেদক:

মিশরের একমাত্র নিরপেক্ষ নির্বাচনে বিজয়ী রাষ্ট্রপতি মুরসির ইন্তিকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ’র মহাসচিব শায়খুল হাদীস আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী।

১৮ জুন এক শোকবার্তায় তিনি বলেছেন, মুরসির ইন্তিকাল স্বাভাবিক মৃত্যু ছিল না। এটা ছিল একটি শক্তিশালী চক্রের যোগসাজশে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এই লক্ষ্যে জেলখানায় সেরকম পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিলো। নির্জন কারাবাসে তাঁকে অমানবিকভাবে মানসিক নির্যাতন ও অত্যাচার করা হয়েছে। তাঁর উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিডনি ও লিভারের অসুখ ছিল। কিন্তু কারাগারে এসব রোগের উপযুক্ত চিকিৎসার জন্য তাঁকে কোনরকম সুযোগ দেওয়া হয়নি। তাঁর পরিবার ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার তরফ থেকে বার বার যথাযথ চিকিৎসার জন্য আবেদন জানানো হয়েছিল। কিন্তু সিসি’র সরকার এতে কর্ণপাত করেনি।

শোকবার্তায় আল্লামা কাসেমী আরো বলেন, পশ্চিমা শক্তিগুলো মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের জিগির তুলে ইরাক, আফগানিস্তান, লিবিয়া, সুদানসহ মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার বহু মুসলিম অধ্যুষিত রাষ্ট্রকে হয় ধ্বংসস্তুপে পরিণত করেছে, নতুবা চরম গোলযোগ ও গৃহযুদ্ধের মতো পরিস্থিতি তৈরি করে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। কিন্তু মুহাম্মদ মুরসি তো পশ্চিমা উস্কানীতে সৃষ্ট কথিত আরব বসন্তের ঢেউয়ে হোসনী মুবারকের উৎখাতের পর পশ্চিমা গণতন্ত্রের সকল নিয়ম অনুসরণ করে অনুষ্ঠিত হওয়া নির্বাচনে বিজয়ী হয়েই ক্ষমতায় বসেছিলেন। তিনি বলেন, মুহাম্মদ মুরসি মিশরের ইতিহাসে পশ্চিমা গণতান্ত্রিক পদ্ধতির স্বচ্ছ নির্বাচনে বিজয়ী ‘একমাত্র’ নেতা।

হোসনি মোবারকের মিশরে মুসলিম ব্রাদারহুড নিষিদ্ধ ছিল। ফলে মোহামদ মুরসি পার্লামেন্টে নিরপেক্ষ প্রার্থী হিসাবে জিতেছিলেন। তাছাড়া তিনি শিক্ষা জীবনে ইঞ্জিনীয়ারিং পড়েছিলেন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সর্বোচ্চ একাডেমিক শিক্ষা পেয়ে পিএইচডি লাভ করেছিলেন। তিনি ইসলামপন্থী রাজনীতিবিদদের মধ্যে একজন আধুনিক উচ্চ শিক্ষিত নেতা, যা বিরল। জমিয়ত মহাসচিব বলেন, গণতন্ত্রের সকল নিয়ম অনুসরণ করে ক্ষমতায় আসার পরও পশ্চিম তাঁকে মিশরের নেতা হিসেবে মেনে নিতে পারেনি। কারণ, তিনি তৃতীয় বিশ্বের সেই সব রাজনীতিবিদদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যারা পাশ্চাত্যের সাম্রাজ্যবাদি ছলাকলা, কৌশল ও প্রতারণা সম্পর্কে ছিলেন অভিজ্ঞ ও সচেতন। পাশাপাশি তাঁর ছিল ইসলামের প্রতি গভীর আনুগত্য ও শ্রদ্ধাবোধ।

ক্ষমতায় বসার পর তিনি শিক্ষা, সংস্কৃতি ও রাষ্ট্র পরিচালনায় ইসলামের নির্দেশনা অনুসরণের সংকল্প করেছিলেন। যার ফলে মুরসিকে নির্মূল করা ছিল সুস্পষ্ট পাশ্চাত্য নীতি। আল্লামা কাসেমী বলেন, ইসলামের পক্ষে মুরসির সুস্পষ্ট অবস্থানের ফলশ্রুতিতেই নির্বাচিত হওয়ার অল্প দিনের মধ্যেই তাঁকে উৎখাতের জন্য পশ্চিমের পুঁজিবাদ, জায়নবাদসহ আন্তর্জাতিক ইসলাম বিদ্বেষী চক্র মিলে মিশরীয় সেনাবাহীর সাথে সাথে হাত মিলিয়ে ক্ষমতাচ্যুত করতে সমর্থন দিয়েছিলো। তিনি বলেন, মুরসি’র কৌশলী হত্যাকাণ্ড সারা দুনিয়ার মজলুম মুসলিম উম্মাহর জন্য বিশাল ক্ষতি। এই ক্ষতি সহজে পূরণ হবার নয়।

তিনি বলেন, পশ্চিমারা গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও শান্তির যে স্লোগান দিয়ে একের পর এক মুসলিম দেশকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। তাদের এই স্লোগান যে স্রেফ ভণ্ডামি, মুরসিকে উৎখাত ও তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে হত্যায় পশ্চিমা সায় ও নীরবতায় আরো স্পষ্ট হয়েছে। মূলত: পশ্চিমা পুঁজিবাদিরা ইসলাম উৎখাতের লড়াই জারি রেখেছে। জমিয়ত মহাসচিব বলেন, মধ্যপ্রাচ্যকে অগ্নিগর্ভে রূপ দেওয়া, নানা ছলছুতা কূটচালের গ্যাড়াকলে ফেলে মুসলিম অধ্যুষিত এক একটি দেশকে ধ্বংস করা, গোলযোগের মুখে ঠেলে দেওয়া এবং সর্বশেষ মুরসির পরিণতির অভিজ্ঞতা নিয়ে বাংলাদেশের উলামায়ে কেরাম ও ইসলামী রাজনীতিবিদগণের চুলচেরা বিশ্লেষণ, পর্যালোচনা ও গবেষণার মাধ্যমে সঠিক কর্মকৌশল নির্ধারণ জরুরী। তিনি বলেন, মুরসি হত্যাকাণ্ড উলামায়ে কেরাম ও ইসলামী রাজনীতিবিদগণকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে আরেকবার স্মরণ করিয়ে দিতে চেষ্টা করেছে যে, এখন বিভাজন, অনৈক্যে ও জনবিচ্ছিন্নতার সময় নয়। অন্যথায় মুরসির মতো বেদনাদায়ক পরিস্থিতির মতো হুমকির মুখে কোন আদর্শবান আলেম ও ইসলামী রাজনীতিবিদ ও কর্মীগণকে পড়তে হবে না, এটা জোর দিয়ে বলবার উপায় নেই।

LEAVE A REPLY