মোদীর সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনিষ্টতা বেড়ে গেলে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এশিয়াতে-অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২০
0

আগামী নিউজের সৌজন্যে:

মাহমুদা ডলি:
১০ দিন পরেই প্রথম বারের জন্য ভারতে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দু’দিনের সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর রাজ্য গুজরাট সফর ছাড়াও নয়াদিল্লিতে একাধিক বৈঠক করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ট্রাম্পের সফরে ভারতের বাণিজ্যে কতটা লাভবান হবে এ নিয়ে সংশয় তৈরী হয়েছে খোদ ভারতীয় কূটনৈতিক মহলে । একই সঙ্গে এশিয়া মহাদেশে বর্তমান যুদ্ধ যুদ্ধ ও চরম বৈরি পরিবেশের মধ্যেই ট্রাম্পের সফরকে কেন্দ্র করে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। অপরদিকে, ট্রাম্পের সফরকে কেন্দ্র করে কাউন্ট-ডাউন শুরু করেছে ভারত।

গত বছরই দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে ভারতের বিশেষ সুবিধা কেড়ে নিয়েছে আমেরিকা। এবার মার্কিন প্রেসিডেন্টের সফরে অন্যতম আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে উঠতে চলেছে সেই বিষয়টি। এর সাথে বিশেষ কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে ট্যারিফ কমানোর আর্জি জানাতে চলেছে ভারত। এর বাইরে কি কোন সর্ম্পকের মেরুকরণের সম্ভাবনা ? এসব বিষয়ে নানা আলোচনা -বিশ্লেষণ করে চলছেন কূটনীতিকরা। অনেকে আবার বাণিজ্যিক সম্পর্কের বাইরে অন্য কোন সুবিধাকে উড়িয়ে দিয়েছেন।

তবে এই সফরে মোদীর সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনিষ্টতা বেড়ে গেলে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এশিয়াতে; এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের আর্ন্তজাতিক বিষয়ক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ মনে করেন, ”একদিকে ভারতের অভ্যন্তরে সিইএ কান্ড নিয়ে চরম অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং অপরদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনের আগ মুহূর্তে ট্রাম্পের এই সফর মোদী ও ট্রাম্পের উভয়ের জন্যই বিপর্যয় ও চরম দুর্বিপাকের অবস্থা তৈরী করবে।”

আগামী নিউজ ডটকমকে দেয়া একান্ত সাক্ষাতকারে অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ এসব কথা বলেছেন।

বর্তমানে ভারত কতটা লাভবান হতে পারে প্রশ্নের উত্তরে অধ্যাপক ইমতিয়াজ বলেন , ”ভারতের অর্থনীতি বারবার উত্থান-পতনের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে। ওঠা-পড়া স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু গত দুই বছর ধরে অর্থনৈতিক অবস্থা খুব খারাপ। আকাশছোঁয়া খাদ্যপণ্যের দামে মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে, সেটা তাদের অর্থমন্ত্রণালয়েরই দেয়া স্পষ্টভাবে রয়েছে পরিসংখ্যানে। তাতেই মূল্যবৃদ্ধি বেলাগাম। চাকরি অনিশ্চিত। সঞ্চয় কমছে। এই অবস্থায় অর্থনীতির ছবিটা যে সুবিধের নয়, তা কিছুটা মেনেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদী নিজেও। এ অবস্থায় ভারতের বাজারে প্রভাব বিস্তার করতে চাইবে আমেরিকা।

যেহেতু চীনের সঙ্গে ভারত এবং আমেরিকার উভয়েই সর্ম্পক চরম বৈরি তাই এই সুযোগটা ট্রাম্প নেয়ার চেষ্টা করবেন। তারা ভারতের বাজার ধরতে চাইবেন। তবে মোদী কতটা এগিয়ে যাবেন এটাও একটা বিষয়। কেননা যেহেতু ট্রাম্প প্রেডিক্টেবল পার্সন নন। তাই ২৪ ফেব্রুয়ারী যেমন তিনি ভারত সফরে এসেছেন তেমনি এর পরবর্তীতে আবার ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাত করতে পাকিস্তানের সফরেও যেতে পারেন। কোন নিশ্চয়তা নেই। ”

আবার অন্যদিকে, যেহেতু আগামী নভেম্বরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন; নির্বাচনে সেকেন্ড ট্রাম্পকে তারা নাও পেতে পারেন। অন্য কেউ প্রেসিডেন্ট হলে ভারত কূটনৈতিকভাবে বিপাকে পড়ে যাবেন। আর তাই কতটা ঘনিষ্টতা বাড়বে ভারত- আমেরিকার এটাও সঠিকভাবে বলা যাবে না।

ভারত কি কি সুবিধা পেতে পারে প্রসঙ্গে ড .ইমতিয়াজ বলেন , ১৯৭০ সাল থেকে ভারত আমেরিকা থেকে পণ্য আমদানিতে বিশেষ সুবিধা পেত। কিন্তু ২০১৯ সালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভারতের সেই বিশেষ বাণিজ্য বন্ধুর তকমা বাতিল করে দে্ন। পাশাপাশি, হৃদরোগে ব্যবহৃত স্টেন্টের মতো বেশ কিছু চিকিৎসা সামগ্রীর দাম বাড়িয়ে দেওয়ায় ভারতও আমেরিকার আমদানির উপর অনেকগুলি ক্ষেত্রে শুল্ক অত্যধিক হারে বাড়িয়ে দেয়। তার জেরে দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্য নিয়ে টানাপড়েন শুরু হয়। ট্রাম্পের সফরে ভারত সেই সব জটিলতা কিছুটা কাটাতে চাইলেও বড় কোনও পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই আসলেই নেই। পাশাপাশি ট্রাম্পের এই সফরে নতুন বড় কোনও বাণিজ্য চুক্তিও হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই ।

বাংলাদেশের ওপর কোন প্রভাব পড়বে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে কি বলেন সেটা দেখতে হবে। আরেকটা বড় বিষয় হচ্ছে এনআরসি ইস্যু। এনআরসি ইস্যুতে যদি কথা বলেন তাহলে তার জন্য উভয়সঙ্কট রয়েছে ট্রাম্পের। তবে মোদীর সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়নের চেয়ে বড় বিষয় হলো দক্ষিণ এশিয়ার জন্য এনআরসি ইস্যুতে কথা বলতে হবে। এনআরসি নিয়ে কথা না বললে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে বেশি।

LEAVE A REPLY