যৌন উত্তেজক শরবত ও ভেজাল কয়েল তৈরীর কারখানা ছাত্রলীগ নেতাসহ গ্রেফতার-১২

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২০
0

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার কুতুবপুর এলাকায় অবস্থিত এম. কে ফুডস্ ও এম. এম কনজুমার নামক ২টি কারখানায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়ে অননুমোদিত যৌন উত্তেজক লায়ন ফুড শরবত এবং ভেজাল কয়েল তৈরীর অপরাধে ১২ জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১১।

গতকাল সোমবার সকাল ১০টায় ওই অভিযান চলে। গ্রেফারকৃতদের একজন তাহমীদ হলো, সোনারগাঁও উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।

তিনি উপজেলা আ’লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালামের অনুগামী। গ্রেফতারকৃতরা হলো, সুমন মোল্লা, রকিবুল ইসলাম, ফয়সাল আহম্মেদ, রাজু বেপারী, খায়রুল আলম, হাবু বেপারী, রাকিব হোসাইন, আব্দুর রহমান, আশরাফুল ইসলাম, তাহমীদ ইসলাম, আনোয়ার হোসেন ও রাশেদ গাজী। ওই সময়ে ২ কারখানা হতে আনুমানিক ৭ হাজার ৩শ বোতল অননুমোদিত যৌন উত্তেজক শরবত ও বিপুল পরিমাণ বিভিন্ন ব্রান্ডের কয়েল এবং পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত একটি কাভার্ড ভ্যানও জব্দ করা হয়।

র‌্যাব-১১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জসিম উদ্দীন চৌধুরী জানান, গ্রেফতারকৃতদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, উক্ত ২ কারখানা দীর্ঘদিন যাবৎ অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়ে অননুমোদিত যৌন উত্তেজক শরবত এবং ভেজাল কয়েল উৎপাদন ও বাজারজাত করে আসছে। এম.এম কনজুমার দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে গাংচিল, ইগলু, ম্যাক্স, নাইট মাস্টার ইত্যাদি বিভিন্ন খ্যাতিসম্পন্ন ব্রান্ডের নামে কয়েল তৈরী ও প্যাকেটজাত করে বাজারে বিক্রি করে আসছে।

এই অননুমোদিত ভেজাল কয়েল ও যৌন উত্তেজক শরবত উৎপাদন করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করে আসছে বলে গ্রেফতারকৃতরা জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে। এভাবে কারখানা ২টি অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়ে যৌন উত্তেজক শরবত এবং ভেজাল কয়েল উৎপাদন করে জনস্বাস্থ্যের ও রাষ্ট্রায়াত্ত্ব সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে আসছে।

তিতাস গ্যাস কোম্পানীর টেকনিশিয়ানের প্রাক্কলনে দেখা যায় কারখানা ২টি দীর্ঘদিন ধরে প্রতি মাসে ৩০ লাখ ২৪ হাজার টাকার গ্যাস চুরি করে আসছে। পরবর্তীতে তিতাস গ্যাস কোম্পানী কর্তৃপক্ষ উক্ত কারখানাগুলোর অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

এম আর কামাল

LEAVE A REPLY