রবিবার শুরু সা’দ অনুসারিদের ইজতেমা  আমিন আমিন ধ্বনিতে শেষ হলো প্রথম অংশের বিইজতেমা

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০১৯
0

গাজীপুর থেকে মোঃ রেজাউল বারী বাবুলঃ
মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, দুনিয়া ও আখেরাতের শান্তি, দেশের কল্যাণ কামনা করে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শনিবার শেষ হলো জোবায়ের গ্রুপের ৫৪তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব।আজ রবিবার শুরু হবে মাওলানা সাদ গ্রুপের ২দিন ব্যাপী বিশ্ব ইজতেমা এবং আগামী কাল সোমবার আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের বিশ্ব ইজতেমা।মোনাজাতে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, শান্তি, সমৃদ্ধি, ইহলৌকিক ও পরলৌকিক মুক্তি এবং দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছে দেয়ার তৌফিক কামনা করা হয়। জীবনের সব পাপ-তাপ থেকে মুক্তির জন্য, পরম দয়াময় আল্লাহর দরবারে অনুনয়-বিনয় করে পানাহ্ ভিক্ষা করছিলেন মুসুল্লীরা। ক্ষমা লাভের আশায় লাখো মানুষের সঙ্গে একত্রে হাত তুলতে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে এসেছিলেন তাঁরা ভোর থেকেই। বহু মানুষের অংশগ্রহণে ইহলোকের মঙ্গল, পরলোকের ক্ষমা, দেশের কল্যাণ, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও বিশ্বশান্তি কামনা করা হয় তাবলিগ জামাতের ৫৪তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের আখেরী মোনাজাতে। এরআগে হেদায়েতী বয়ান করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন বিশ্ব তাবলিগ জামাতের শীর্ষস্থানীয় মুরব্বি বাংলাদেশের কাকরাইল মসজিদের ইমাম হযরত মাওলানা মুহাম্মদ জোবায়ের। তিনি আরবি ও বাংলা ভাষায় মোনাজাত পরিচালনা করেন।

মাওলানা মুহাম্মদ জোবায়ের বেলা ১১টা ৪০ মিনিট থেকে মোনাজাত শুরু করেন এবং তা চলে ২৪মিনিট।মোনাজাত শুরু হতেই পুরো এলাকা জুড়ে নেমে আসে পিন পতন নীরবতা। খানিক পর পর শুধু ভেসে আসে আমিন, ছুম্মা আমিন, আল্লাহুম্মা আমিন। অনুতপ্ত মানুষের কান্নার আওয়াজে আকাশ বাতাস ভারি হয়ে ওঠে। জীবনের সব পাপ-তাপ থেকে মুক্তির জন্য, পরম দয়াময় আল্লাহর দরবারে অনুনয়-বিনয় করে পানাহ ভিক্ষা করছিলেন তাঁরা। ক্ষমা লাভের আশায় লাখো মানুষের সঙ্গে একত্রে হাত তুলতে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে এসেছিলেন তাঁরা ভোর থেকেই। বহু মানুষের অংশগ্রহণে ইহলোকের মঙ্গল, পরলোকের ক্ষমা, দেশের কল্যাণ, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও বিশ্বশান্তি কামনার মধ্য দিয়ে তাবলিগ জামাতের বিশ্ব ইজতেমার জোবায়ের অনুসারীদের পর্ব শেষ হয়েছে।
আখেরি মোনাজাত উপলক্ষে টঙ্গী, গাজীপুর, উত্তরাসহ চারপাশের এলাকার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কলকারখানা, মার্কেট, বিপণিবিতান, অফিসসহ সবকিছু ছিল বন্ধ।
রবিবার বাদ ফজর থেকে মাওলানা সা’দ অনুসারিগণ ইজতেমা ময়দানে প্রবেশ করবেন। সোমবার আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে ৫৪তম বিশ^ ইজতেমা।

আখেরি মোনাজাত পরিচালনাঃ
ইজতেমার মাওলানা জোবায়ের অনুসারিদের আখেরি মোনাজাতের আগে শনিবার সকাল থেকে হেদায়েতী বয়ান করেন পাকিস্তানের মাওলানা ওবায়দুল্লাহ খোরশেদ। তার বক্তব্য বাংলায় তরজমা করছেন বাংলাদেশের মাওলানা আব্দুল মতিন। হেদায়েতী বয়ান শেষে বাংলাদেশের হাফেজ মাওলানা জোবায়ের প্রথম পক্ষের আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন।

এদিকে ইজতেমার আখেরি মোনাজাতে শরিক হতে শনিবার সকালে চার দিক থেকে লাখ লাখ মুসল্লি পায়ে হেঁটেই টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা স্থলে পৌঁছেন। সকাল ৯টার আগেই ইজতেমা মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে মুসল্লিরা মাঠের আশপাশের রাস্তা, অলি-গলি, বিভিন্ন ভবনের ছাদে অবস্থান নেন। ইজতেমাস্থলে পৌঁছাতে না পেরে হাজার হাজার মানুষ কামারপাড়া সড়ক ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নেন। শনিবার ভোর থেকেই ফজরের নামাজ ও আখেরি মোনাজাতের জন্য পুরানো খবরের কাগজ, পাটি, সিমেন্টের বস্তা ও পলিথিন সিট বিছিয়ে বসে পড়েন। এছাড়াও পাশ্ববর্তী বাসা-বাড়ি-কলকারখানা-অফিস- দোকানের ছাঁদে, যানবাহনের ছাঁদে ও তুরাগ নদীতে নৌকায় মুসল্লিরা অবস্থান নেন। যে দিকেই চোখ যায় সে দিকেই দেখা যায় শুধু টুপি-পাঞ্জাবি পড়া মানুষ। সবাই অপেক্ষায় আছেন কখন শুরু হবে সেই কাঙ্খিত আখেরি মোনাজাত।

ময়দান ছেড়ে যাচ্ছেন জোবায়ের অনুসারিরাঃ

ইজতেমার আখেরি মোনাজাত শেষে শনিবার মধ্য রাতের মধ্যে ইজতেমায় মাওলানা জোবায়ের অনুসারীদের ইজতেমা ময়দান ত্যাগ করার কথা জানিয়েছেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার ওয়াই এম বেলালুর রহমান। শনিবার আখেরি মোনাজাতের পর থেকে রাত ১২টার মধ্যে পুরো মাঠ খালি করে পুলিশ মাঠের নিয়ন্ত্রন নিবে। এরই মধ্যে জোবায়ের অনুসারীদের মাঠ ত্যাগ করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। রবিবার সকাল ৭টার পর মাওলানা সাদ অনুসারীরা মাঠে প্রবেশ করবেন বলে জানিয়েছেন কমিশনার। মুসল্লিদের প্রস্থান এবং প্রবেশ নিয়ে যাতে কোন রকমের বিশৃংখলা না হয় সেদিকে পুলিশের সতর্ক অবস্থান রয়েছে।

ইজতেমা মাঠে আরো তিন মুসল্লির মৃত্যুঃ

টঙ্গীর বিশ^ ইজতেমায় আগত আরো দুই মুসল্লি ইন্তেকাল করেছেন। শনিবার ভোরে ঢাকার কদমতরা এলাকার মোঃ আবুল হোসেন (৫৫) ইজতেমা ময়দানে তার নিজ খিত্তায় ভোর ৫টার দিকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান। ইজতেমা মোনাজাত শেষে বাড়ি ফেরার পথে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে এক মুসল্লি মারা গেছেন। তার নাম আব্দুল আউয়াল (৫৬), তার বাড়ি রাজবাড়ি জেলার বালিয়াকান্দি থানার রুলজানী গ্রামে। তিনি হৃদ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এর আগে শুক্রবার দুপুরে আব্দুর রহমান (৫৫) নামে আরো এক মুসল্লি মারা যান। তিনি সিরাজগঞ্জের বেলকুচি থানার মৃত হাতেম আলীর ছেলে। ইজতেমা মাঠে জানাযা শেষে তাদের লাশ গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এ নিয়ে ইজতেমায় অংশগ্রহনকারী ৭জন মুসল্লি মারা গেলেন। ইজতেমা মাঠের লাশের জিম্মাদার আদম আলী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

২০২০ সালের বিশ^ ইজতেমা জানুয়ারিতে দুই পর্বে হবেঃ

২০২০ সালের বিশ^ ইজতেমার তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার মাওলানা জোবায়ের অনুসারিদের আখেরি মোনাজাতের পর মাইকে এ ঘোষণা দেয়া হয়।
ইজতেমার শীর্ষ মুরুব্বী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চত করে জানান, ২০২০ সালে দুই পর্বে বিশ^ ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে। এর প্রথম ধাপ হবে ১০, ১১ ও ১২ জানুয়ারি এবং দ্বিতীয় ধাপ অনুষ্ঠিত হবে ১৭, ১৮ ও ১৯ জানুয়ারি।

মাঠে প্রবেশ করলেন সা’দ অনুসারি মুসল্লিরাঃ

বিশ^ ইজতেমার আখেরি মোনাজাত শেষে মাওলানা জোবায়ের অনুসারি মুসল্লিগণ ময়দান ত্যাগ করার পর বিকালে সা’দ অনুসারি শীর্ষ মুরুব্বীরা ময়দানে প্রবেশ করেন। নজমে জামাতের মুরুব্বিরা সেখানে মঞ্চ তৈরীসহ আনুষাঙ্গিক বিষয় তদারকি করবেন। মাওলানা সা’দ অনুসারি মাওলানা সৈয়দ আনিসুজ্জামান জানান, রবিবার ভোরে ইজতেমার মুসল্লিগণ ময়দানে আসতে শুরু করবেন। প্রশাসনের লোকজন সকালের মধ্যে ময়দান তাদের কাছে বুঝিয়ে দেবেন। তার পর ইজতেমার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে।

আরবী-বাংলায় আখেরি মোনাজাত
জোবায়ের অনুসারিদের আখেরি মোনাজাতে গত বারের মত এবারও আরবীর ও বাংলায় আখেরি মোনাজাত করা করা হয়েছে। এবারও বাংলাদেশের মাওলানা জোবায়ের মোনাজাত পরিচালনা করেন।

ইজতেমা ছাড়লেন আল্লামা শফীঃ

হেফাজত ইসলামীর আমির আল্লামা আহমদ শফী আখেরি মোনাজাত শেষে শনিবার দুপুরে ইজতেমা ময়দান ত্যাগ করেছেন। গাজীপুর সিটি মেয়র মোঃ জাহাঙ্গীর আলম জানান, শুক্রবার দুপুরে আল্লামা আহমদ শফী ইজতেমায় যোগ দিতে চট্টগ্রাম থেকে হেলিকপ্টারে টঙ্গীর বিশ^ ইজতেমা ময়দানে আসেন। শনিবার মোনাজাত শেষে তিনি বেলা সোয়া দুইটার দিকে হেলিকপ্টার যোগে ফের চট্টগ্রামে ফিরে যান।

বাংলায় মোনাজাতে খুর্শি মুসল্লিরাঃ
বাংলায় মোনাজাতে অংশ নিতে পেরে বাংলা ভাষা-ভাষী মুসল্লিরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। গাজীপুরের ভোগড়া থেকে আখেরী মোনাজাতে যোগ দিতে আসা মো. আবুল হোসেন জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিশ^ ইজতেমার মোনাজাতে অংশ নিচ্ছি। আমি উর্দু-আরবী বুঝি না। আগে ওইসব ভাষায় পরিচালিত মোনাজাতের কথা বুঝতে পারতাম না। সকলের সঙ্গে শুধু আমিন, আল্লাহুম্মা আমিন বলতাম। গতবার থেকে মোনাজাত বাংলায় হওয়ায় এর মোনাজাতের মর্ম বুঝতে পেরেছি। এ জন্য তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।

মোনাজাতে অতিরিক্ত মাইকের ব্যবস্থাঃ

বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের আখেরি মোনাজাত প্রচারের জন্য গণযোগাযোগ অধিদফতর ও গাজীপুর জেলা তথ্য অফিস বিশেষ ব্যবস্থা নেয়। এর মধ্যে গণযোগাযোগ অধিদফতর ইজতেমা ময়দান থেকে আবদুল্লাহপুর ও বিমানবন্দর রোড পর্যন্ত এবং গাজীপুর জেলা তথ্য অফিস ইজতেমা ময়দান থেকে চেরাগআলী, টঙ্গী রেলস্টেশন, স্টেশন রোড থেকে শহীদ আহসান উল্লাহ মাষ্টার উড়াল সেতু ও আশপাশের অলিগলিতে পর্যাপ্ত মাইক সংযোগ দেয়া হয়।
বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মোনাজাতে অংশগ্রহন ঃ

বিশ^ ইজতেমার আখেরী মোনাজাতে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এমপি, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার ওয়াই এম বেলালুর রহমান, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবীর, হেফাজত ইসলামের আমির আল্লামা আহমদ শফী, গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খানসহ বিাভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।
বিদেশি মেহমান ৬ শতাধিকঃ
এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা, উত্তর আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়াসহ কমপক্ষে ৫২টি দেশের তাবলিগ জামাতের ছয় শতাধিক বিদেশি মেহমান এবারের ইজতেমায় অংশগ্রহণ করেছেন। গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।তবে এবছর বিদেশী মেহমানের সংখ্যা অনেক কম বলে জানান আয়োজকরা।

টেলিভিশন-মুঠোফোন ও ওয়্যারলেস সেটে মোনাজাত ঃ
ইজতেমা মাঠে না এসেও মোনাজাতের সময় হাত তুলেছেন অসংখ্য মানুষ। গাজীপুরের চন্দনা চৌরাস্তা মসজিদ মাঠ এলাকায় ওয়্যালেস সেটে, মুঠোফোনের ও মাধ্যমে মোনাজাত প্রচার করা হয়।এছাড়া গাজীপুর মহানগরের নীলের পাড়া অনন্দধারা স্কুল,বাঙ্গালগাছ প্রাইমারী স্কুলসহ বিভিন্ন স্থানে আরোজিত মোনাজাতে নারীদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল। আবার টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে সরাসরি সম্প্রচার করার কারণে অনেকে বাসায় বসে মোনাজাতে অংশ নিয়েছে।
ইজতেমায় নারীদের অংশগ্রহণ ঃ
ইজতেমায় নারীদের অংশ নেয়ার কোন বিধান না থাকলেও আখেরী মোনাজাতে অংশ নিতে বিভিন্ন এলাকা থেকে বিভিন্ন বয়সী কয়েক হাজার মহিলা মুসল্লি¬ও আগের দিন রাত থেকে ইজতেমা ময়দানের আশেপাশে, বিভিন্ন মিলকারখানা, বাসা-বাড়িতে ও বিভিন্ন দালানের ছাদে বসে আখেরী মোনাজাতে অংশ নেন।
চিকিৎসা সেবা ঃ
এবারের বিশ্বইজতেমায় আগত মুসুল্লিদের স্বাস্থ্য সেবা দিতে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা কাজ করছে। এবার প্রায় ৫০টি স্বেচ্ছাসেবী, সরকারি ও বেসরকারী সংস্থা স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করেছে। বিশ্ব ইজতেমার ২ দিনে টঙ্গী সরকারি হাসপাতাল এবং তাদের ইজতেমা মাঠে স্থাপিত চারটি মেডিক্যাল ক্যা¤েপ প্রায় ৫ হাজার জন চিকিৎসা নিয়েছেন।
মোনাজাত শেষে জানজট ও যানজট ঃ
আখেরি মোনাজাত শেষ হওয়ার পরপরই বিভিন্ন স্থান থেকে আশা মানুষ নিজ গন্তব্যে পৌঁছার চেষ্টা করে। আগে যাওয়ার জন্য মুসল্লি¬রা তাড়াহুড়া করতে শুরু করে। এতে টঙ্গীর কামারপাড়া সড়ক, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক, টঙ্গী- কালীগঞ্জ সড়কের আহসান উল্লাহ মাষ্টার উড়াল সেতু ও আশপাশের সড়ক-মহাসড়ক এবং সংযোগ সড়ক গুলোতে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ জনজট ও যানজট। রাত ১২টার মধ্যে ইজতেমা ময়দান ত্যাগ করতে হবে সে জন্য ময়ানের ভিতরে অবস্থানকারী মুসল্লিরাও বের হয়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন।
ভ্রাম্যমান আদালতের জরিমানা
ইজতেমার আখেরি মোনাজাতের দিন ইজতেমা ময়দানের আশপাশের এলাকায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালত হয়। এতে দুটি খাবার হোটেল ও দুটি গাড়ির চালককে সংশ্লিষ্ট আইনে চারজনকে ২৫ হাজার ৭০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এছাড়া টঙ্গী স্টেশন এলাকায় ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে দুইজনকে একমাস করে কারাদন্ড এবং অপর একজনকে ৫০০টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত।

বাংলাদেশে বিশ্ব ইজতেমার প্রচলন ঃ ইজতেমার মুরুব্বীদের দেয়া তথ্যমতে, ১৯৪৬সালে প্রথম কাকরাইল মসজিদে ইজতেমার আয়োজন শুরু করা হয়। তারপর ১৯৪৮সালে চট্টগ্রামের হাজী ক্যাম্পে ও ১৯৫৮সালে নারায়নগঞ্জের সিদ্ধরগঞ্জে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর লোকসংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ১৯৬৬সালে গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে বর্তমানস্থলে স্থানান্তর করা হয়েছে। পরে সরকারি ভাবে তুরাগ তীরের ১৬০একর জমি স্থায়ীভাবে ইজতেমার জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়।
###

LEAVE A REPLY