রাতে ‘বয়ফ্রেন্ড’ সৈকতের সঙ্গে ওই ভবনে প্রবেশ করে রুম্পা: ডিবি

আপডেট: ডিসেম্বর ৮, ২০১৯
0

স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী রুবাইয়াত শারমিন রুম্পা কথিত প্রেমিক রাইমান সৈকতের সঙ্গে সিদ্ধেশ্বরীর ওই ভবনটিতে প্রবেশ করেছিলেন। ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজে সৈকতের সঙ্গে রুম্পার ওই ভবনে প্রবেশ করার দৃশ্য পেয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গেল বুধবার (৪ ডিসেম্বর) রাত সোয়া ১০টায় তার মরদেহ পাওয়া যায় ভবনটির নিচে। ডিবি জানিয়েছে, এখন বিষয়টি ‘আত্মহত্যা’ না ‘হত্যা’ তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য সৈকতকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আজ দুপুরেই সৈকতকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠাবে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) দক্ষিণ গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।

রবিবার (৮ ডিসেম্বর) তাকে আদালতে পাঠানো হবে বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির জনসংযোগ কর্মকর্তা উপ-কমিশনার (ডিসি) মাসুদুর রহমান।

মাসুদুর রহমান বলেন, ‘রুম্পা হত্যা মামলায় সৈকতকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। আজই তাকে আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ড আবেদন করা হবে।
আদালতে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিবির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘১১তলা ওই ভবনে রুম্পা তার বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে প্রবেশ করার বিষয়টি সিসি ক্যামেরার
ফুটেজে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ কারণে সৈকত নামের ওই যুবককে আটক করে আনা হয়েছে এবং জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
ধারণা করা হচ্ছে, বাদানুবাদের এক পর্যায়ে তিনি দৌড়ে গিয়ে লাফিয়ে পড়তে পারেন। তবে বিষয়টি এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’

স্থানীয়দের ধারণা, ১১তলা ভবনের ছাদ থেকেই রুম্পা লাফ দিয়েছে। ১১ তলা এই ভবনটিতে উঠতে কারও বাধা নেই। ভবনটির চার তলায় বিভিন্ন কোম্পানির করপোরেট অফিস। পাঁচতলায় মালিক পক্ষ থাকেন আর ষষ্ঠ তলা থেকে ১১ তলা পর্যন্ত আবাসিক ভবন। লিফট দিয়ে উঠলে ১০ তলা পর্যন্ত উঠে সিঁড়ি বেয়ে ১১তলার ছাদে উঠতে হয়। ভবনটির ছাদে কবুতর পালন করা হয়।

চারতলা ভবনের নীচতলা ও চতুর্থতলায় ব্যাচেলরদের জন্য মেস রয়েছে। পাঁচতলা ভবনটির চতুর্থ তলাতেও একটি মেয়েদের মেস রয়েছে। তবে নীচতলায় ছেলেদের মেসটিতে কাউকে পাওয়া যায়নি। সব কক্ষেই তালা লাগানো পাওয়া গেছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২৫৫ শান্তিবাগে পরিবারের সঙ্গে থাকতেন রুম্পা। এক ভাই এক বোনের মধ্যে বড় ছিলেন রূম্পা।
তার বাবা রোকনউদ্দিন হবিগঞ্জের একটি পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

ঘটনার দিন গেল বুধবার রুম্পা দুটি টিউশনি করে সন্ধ্যায় বাসায় ফেরেন। পরে কাজ আছে বলে বাসা থেকে বেরিয়ে যান।
নেমে তার ব্যবহৃত মুঠোফোন ও পায়ের স্যান্ডেল বাসায় পাঠিয়ে দিয়ে এক জোড়া পুরনো স্যান্ডেল পায়ে দিয়ে বেরিয়ে যান।
কিন্তু রাতে আর বাসায় ফেরেনি। স্বজনেরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান পাননি। পরে খবর পেয়ে রমনা থানায় গিয়ে লাশের ছবি দেখে রুম্পাকে শনাক্ত করেন তারা।

LEAVE A REPLY