মানবতা কথা বলে : শতাধিক ভূমিহীনের ঘর রক্ষা করলেন ইউএনও

আপডেট: অক্টোবর ১২, ২০১৯
0

 

মোঃ আনোয়ার হোসেন আকুঞ্জী, খুলনা ব্যুরো ঃ
মানবতার স্বপ্নকন্যা হিসেবে শতাধিক ভূমিহীনদের পাশে দাঁড়ালেন ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোছা. শাহনাজ বেগম। ভদ্রা নদী খনন ও মাটি ফেলানোর স্বার্থে ডুমুরিয়ার চুকনগর আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর উচ্ছেদের পরিকল্পনা করেন পানি উন্নয়ন বোর্ড। বিষয়টি জেনেই আজ শনিবার বেলা ১১টায় ঘটনাস্থলে গিয়ে শতাধিক ভূমিহীনদের ঘর রক্ষা করলেন তিনি।

সরেজমিনে দেখা যায়; পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক ডুমুরিয়া উপজেলার চুকনগর ভদা নদীর খনন কাজ চলছে। ভদ্রা নদীর তীরে রয়েছে মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার আশ্রয়ন প্রকল্পের একটি গুচ্ছ গ্রাম। ভদ্রার তীরে নির্মিত গুচ্ছ গ্রামে ১ যুগ ধরে ঠাঁই নিয়ে বাস করছে ভূমিহীন শতাধিক পরিবার। কিন্তু ভদ্রা নদী খনন ও মাটি ফেলানোর স্বার্থে আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘরগুলি ভেঙ্গে সরিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করা হয়। এতে হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়ে আশ্রয়ন প্রকল্পের অধিবাসিরা। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ি ভূমিহীনদের শেষ ঠিকানা কিছু ঘর সরিয়েও নেয়া হয়। বিষয়টি মৌখিকভাবে জানতে পারেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোছা. শাহনাজ বেগম। আজ বেলা ১১টায় তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। আশ্রয়ন প্রকল্পের লোকসহ পাঁচ শতাধিক ব্যক্তির উপস্থিতিতে বিষয়টি সরেজমিনে দেখে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন। তিনি সিদ্ধান্ত দেন যে, আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর রেখে আশে পাশে মাটি ফেলতে হবে। যদি আশ্রয়ন প্রকল্পের কোন জনগণের মাটির প্রয়োজন হয় তাহলে এখান থেকে নিয়ে কাজে লাগাতে পারবে। বাকী যে মাটি থাকবে সে গুলো বিক্রয় করে আশ্রয়ন প্রকল্পের মসজিদ সংস্কার বা যদি কোনক্রমে বিশেষ প্রয়োজনে ২/১টি ঘর ভেঙ্গে ফেলতে হয়। তাহলে তার ক্ষতিপূরণ স্বরূপ মাটি বিক্রয়ের টাকা দেয়া হবে। এজন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি কমিটিও গঠন করা হবে।

আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দা অসুস্থ হযরত আলী শেখ (৬০) বলেন; সম্বল বলতে সরকারের দেয়া এই ঘরটিই আমার ঠিকানা। এই ঘর ভেঙ্গে দিলে আমাদের যাওয়ার আর কোন জায়গা নেই। ইউএনও স্যার আজ এসে আমাদের থাকার ঘরটি রক্ষা করলেন।

আটলিয়া ইউনিয়নের ৯ ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল হালিম মুন্না বলেন; ১যুগ ধরে গুচ্ছ গ্রামে শতাধিক ভূমিহীন বাস করছেন। খাল খননের কারণে অপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করলে তারা তারা আশ্রয়স্থলটুকুও হারাতো। কিন্তু ইউএনও স্যারের মহানুভবতায় আজ তা রক্ষা পেয়েছে।

কেন্দ্রীয় পানি কমিটির সভাপতি ও চুকনগর কলেজের অধ্যক্ষ (অবঃ) এবিএম শফিকুল ইসলাম বলেন; বিষয়টি শুনে আমি যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসডিই আসাদুজ্জামানকে আজ শনিবার ঘটনাস্থলে ডেকে নিয়ে আসছিলাম। উনি বিষয়টি শুনে এবং বুঝে ভূমিহীনদের ঘর অক্ষত রাখার ব্যাপারে একমত। তবে ইউএনও মহোদয় তাৎক্ষণিকভাবে যে ভূমিকা নিয়েছেন তা প্রশংসার দাবিদার।

ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উন্নয়নের স্বপ্নকন্যাখ্যাত মোছা. শাহনাজ বেগম বলেন; বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার উন্নয়নের অগ্রযাত্রার ধারাবাহিকতায় ভূমিহীনদের উপহার হিসাবে আশ্রয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে বসবাস করার জন্য ঘর উপহার দেন। কিন্তু ভদ্রা নদী খনন করার কারণে ঘরগুলো ভেঙ্গে সরিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করা হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হলে ভূমিহীনরা গৃহহীন হয়ে পড়বে। বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে গিয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে ঘর ভূমিহীনদের আশ্রয়স্থল রক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছি।

LEAVE A REPLY