‘শাপলা চত্বরে শহীদদের জন্য কিছুই করেননি আল্লামা শফী

আপডেট: অক্টোবর ১১, ২০১৮

‌’হেফাজতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা নায়েবে আমির নেজামে ইসলাম পার্টির সভাপতি ও ইসলামী ঐক্যজোট একাংশের চেয়ারম্যান মুফতি ইজহারুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, কওমি সনদের স্বীকৃতি দিয়েছিল ৪ দলীয় জোট সরকার। তখন সরকারিভাবে প্রজ্ঞাপন জারির পর গেজেট হলেও পরবর্তী সরকার তা কার্যকর করেনি।

এখন কওমি সনদের স্বীকৃতির জন্য সরকার প্রধানকে সংবর্ধনা দেয়ার যে ঘোষণা দেয়া হয়েছে তা শাপলা চত্বরে অসংখ্য শহীদের পবিত্র আত্মার প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা ছাড়া আর কিছু নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

গতকাল (সোমবার) দেশপ্রেমিক জাগ্রত তাওহীদী জনতা নামে দেয়া এক বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, শাপলা চত্বরে শহীদদের জন্য কিছুই করেননি হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী। তার হাতে দেয়া কোটি কোটি টাকারও কোন হিসাব-নিকাশ এখনও পাওয়া যায়নি। হেফাজত আমিরের সাম্প্রতিক ভূমিকা সমালোচনা করে মুফতি ইজহার বলেন, পরম উপকারীকেও বেমালুম ভুলে যাওয়া আর অতীতকে এক মুহূর্তে অস্বীকার করার অবিশ্বাস্য গুণ আছে তার।

হেফাজত ঘোষিত ১৩ দফা দাবির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, শাপলা ট্র্যাজেডির পূর্বে লাখ লাখ জনতা দলমত নির্বিশেষে রাস্তায় নেমেছিল আল্লামা শফীর জন্য নয়, ১৩ দফা বাস্তবায়নের জন্য। কিন্তু সে দাবি আজও আদায় হয়নি। আন্দোলনের যৌক্তিকতাও ফুরিয়ে যায়নি। কওমি সনদের স্বীকৃতি আমরা চাই, তবে তা ঈমান ও আত্মমর্যাদার বিনিময়ে নয়।

হেফাজতের সভায় মুফতি ইজহারকে হেফাজতের প্রতিষ্ঠাতা নায়েবে আমির তো দূরের কথা, তার সাথে দূরতম সম্পর্ক নেই বলেও দাবি করার একদিন পর নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে এ বিবৃতি দিলেন মুফতি ইজহার। বিবৃতিতে তিনি বিগত ৪ দলীয় জোট সরকারের সময়ে কওমি সনদের স্বীকৃতি আদায় হয়েছে বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে তার সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা মরহুম সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর সাথে তিনিসহ দেশের শীর্ষ আলেম-ওলামাদের বৈঠক হয়। ওই বৈঠকের পর সরকার কওমি সনদের স্বীকৃতি দেন। তখন প্রেসিডেন্টের অর্ডিন্যান্স জারি হয় এবং গেজেটও প্রকাশিত হয়। কিন্তু সংসদে বিল আকারে সেটি পাশ না হওয়ার সুযোগে বর্তমান সরকার তা আর কার্যকর করেনি। আওয়ামী লীগ সরকার বর্তমান সংসদে বিল আকারে এটি পাশ করেছে। এজন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে শোকরিয়া আদায় এবং শোকরিয়া মিছিল বের করা যৌক্তিক বলে মনে করেন তিনি। গত ১ অক্টোবর হাটহাজারী মাদরাসায় হেফাজত আমিরের সভাপতিত্বে সরকার প্রধানকে সংবর্ধনা দেয়ার যে ঘোষণা দেয়া হয় তার প্রতিবাদ জানান তিনি। হেফাজত আমিরের এ ঘোষণা শাপলা চত্বরের অসংখ্য শহীদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মুফতি ইজহার বলেন, শাপলা চত্বরে যারা জীবন দিয়েছিল তাদের পাশে দাঁড়াননি হেফাজত আমির। এমনকি ওই ঘটনায় মারাত্মক আহতদের পরিবারকেও সাহায্য করা হয়নি। শহীদ ও আহতদের জন্য হেফাজত আমিরের হাতে কোটি কোটি টাকা এসেছে দাবি করে তিনি বলেন, এখনো সে টাকার কোন হিসেব পাওয়া যায়নি। টাকার হিসেব চাইলে তিনি হুমকি দেন, ভয় দেখান। শহীদ পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা দিলে তাদের সওয়াব কম হবে এমন কথাও বলেন তিনি। মুফতি ইজহার বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধান থেকে আল্লাহর উপর আস্থা ও বিশ্বাসের বিষয়টি বাদ দেয়া হলে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমগণ একটি ফতোয়া তৈরি করেন। ফতোয়ার সারমর্ম ছিল ‘যারা সাংবিধানিকভাবে এ জঘন্য কাজ করেছে তারা কুফুরি করেছে এবং সংবিধানে আল্লাহর প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসকে পুনস্থাপন করে তওবা না করলে তাদের মৃত্যু কুফুরির মৃত্যু হওয়ার মতো সমূহ আশঙ্কা রয়েছে’। এ ফতোয়ায় দেশের শীর্ষ আলেমগণ স্বাক্ষর করলেও আল্লামা শফী ‘আমি বৃদ্ধ বয়সে জেলে যেতে পারব না’ বলে তাতে স্বাক্ষর করা থেকে বিরত থাকেন।

তিনি বলেন, শাপলা ট্র্যাজেডির পূর্বে যে লাখ লাখ জনতা দলমত নির্বিশেষে রাস্তায় নেমেছিল তা কি শুধু আল্লামা আহমদ শফীর জন্য? তা কখনো নয়। তারা রাস্তায় নেমেছিলেন আল্লাহর প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস সংবিধানে পুনস্থাপন, খোদাদ্রোহী নাস্তিকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনসহ ১৩ দফা দাবি আদায়ের জন্য। সে দাবি কি আদায় হয়ে গেছে? অতএব আজ কোটি কোটি তাওহিদী জনতার একটি মাত্র কথা- কওমি সনদের স্বীকৃতি চাই তবে ঈমান ও আত্মমর্যাদার বিনিময়ে নয়।