শাবান সানি জুটির ৩৫ বছর “হিংসুক এই চিন্তাতেই শুকিয়ে যায়, কেনো প্রতিবেশী তার চেয়ে বেশী সুখে আছে”

আপডেট: মে ২৭, ২০১৯
0
sohel suny- saban mahmud

সোহেল সানি :
রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক এরিস্টটলের উপরোক্ত উক্তিটি মাঝে মাঝে আমার স্নায়ুতন্ত্রকে নাড়িয়ে দেয়। কেউ কেউ আমার সুখদুঃ নিয়ে আপসোসও করেন।
আপসোসের তালিকায় দুই শ্রেণীর লোক আছেন। কেউ সত্যিকার অর্থে আমাকে ভালোবেসে। অপরটির আপসোস নেহাৎ উস্কানীমূলক। আমার বুকেরপাটায় টিপ্পনীর তীর ছুঁড়ে মাড়ার জন্যই যেন তারা ‘আপসোস’ রোগে ভুগছেন।
দরদীকন্ঠের সেই কথাটা হলো- “শাবান মাহমুদ আজ কোথায় অবস্থান করছে, আর তুমি কোথায় পরে আছো?”
এরকম প্রশ্নবানে জর্জরিত করা হয় আমার নিত্য।ফেইসবুকে একটা স্টাটাস দেয়ার মনস্থ করলাম অবশেষে।
আমি মনস্তাত্ত্বিক চিন্তাধারায় পরিপূর্ণ রূপেই সবল। হতাশার চাদর জড়াতে পারেনি আমার গা। আমার অস্তিত্ব আমি অনুভব করি।
গুরুজনদের কথা ভ্রুক্ষেপহীন হয় কি করে?
আমার সর্বশেষ কর্মস্থল বাংলাদেশ প্রতিদিনের একটা গল্পস্বল্প দিয়ে শুরু করা যাক।
মাননীয় সম্পাদক শ্রদ্ধেয় নঈম নিজাম ভাই। তিনি আমাকে নিয়ে বিভিন্ন সময় উক্তি করেন। এর একটি উক্তি মনোগ্রাহী। উক্তিটা হলো- “সোহেল সানি নিজেই নিজেকে বঞ্চিত করেছে, নইলে সুপ্রতিষ্ঠিত হতে পারতো এতদিনে।”
তিনি আমার ওপর মর্মাহতের অপেক্ষা ক্ষুব্ধ বেশী। এর কারণও যর্থাথ। তিনি আমাকে অসামান্য স্নেহের জালে বেঁধে রাখতে চেয়েছিলেন। সুবিশাল সম্ভাবনা আমার ভেতরে আত্মস্থ করেছিলেন।
মাননীয়,সম্পাদক আমার ভেতরে সুযোগসন্ধানীধর্মী রোগের সংক্রমণ টের পেয়েও কর্মস্থলে সর্বোচ্চ সুযোগসুবিধা কবুল করেছিলেন।
কিন্তু আমি এরকম অশেষ স্নেহময়তার সুমহান মর্যাদা সমুন্নত রাখতে পারিনি। নিত্যনতুন অজুহাত প্রদর্শিত করে ক্রমশ নিজের অবস্থানকেই দুর্বল থেকে দুর্বলতর করেছি। প্রকারান্তরে যা ছিলো নিজের সাথে নিজের প্রতারণা।
অফিসবিমুখতা কাটানোর জন্য আমার দোস্ত শাবান মাহমুদ চেষ্টা করেছে অকৃপণভাবে। দিনের পর দিন কাঁধে কাঁধ রেখে কর্মস্থলে নিয়ে যেতে চেয়েছেন তিনি। কিন্তু একটা পর্যায়ে ত্যক্তবিরক্ত হয়ে আমার আশা ছেড়ে দিয়ে “একলা চ-ল-রে” নীতি অনুসরণ করতে হয়েছে তাকে।
শ্রদ্ধেয় নঈম নিজাম ভাইয়ের মতো বাংলাদেশ প্রতিদিনের পূর্ববর্তী সম্পাদক শাহজাহান সরদার ভাই আমার লেখনীশক্তি ও রিপোর্টিং সোর্স সম্পর্কে আশাবাদী ছিলেন। তিনিও সাপ্তাহিক বৈঠকে সব রিপোর্টারদের সম্মুখে বলতেন, “সোহেল সানি ফাঁকিবাজ না হলে দেশের সর্বশ্রেষ্ঠ রিপোর্টার হওয়ার সক্ষমতা রাখে।” ফাঁকিবাজির পরও বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ক্রোড়পত্রে দেখা যায়, প্রথম বছর লিড স্টোরির দিক থেকে আমিই শীর্ষে।
বাংলাদেশ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক পীর হাবিবুর রহমান ভাইও আমাকে সর্বোচ্চ ছাড় দিয়ে অফিসমুখো করতে চেয়েছিলেন। রাজনীতির কিংবদন্তীতুল্য মহান নেতাদের সুখদুঃখের গল্পধর্মী লেখনী লিখিয়ে বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রথম কলামটি আমাকে দিয়ে পাঠকপ্রিয় করে তুলেছিলেন তিনি।
উপ সম্পাদক মাহমুদ হাসান ভাইয়ের আশাতীত সহায়তা আমার রিপোর্টিংকেই সমৃদ্ধ করে তুলতো। যাহোক, বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রায় ছয় বছরের চাকুরী ছিলো তারপরি ফাঁকিবাজির বছর।
আসলে কখনো চাকুরী আমাকে ছাড়েনি, আমিই চাকুরী ছেড়েছি এবং তা না যেতে যেতে।
তারপরও নঈম নিজাম ভাই আমাকে ফেলতে পারেননি। আওয়ামী লীগের সর্বকালের শ্রেষ্ঠতম সর্বশেষ কাউন্সিল উপলক্ষে বাংলাদেশ প্রতিদিনে আমাকে দিয়ে লেখালেন ঐতিহাসিক একটি লেখা। “রোজ গার্ডেন থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান” শীর্ষক লেখাটি পড়েছেন কোটি পাঠক।

শুধু তাই নয়, তিনি বসুন্ধরা গ্রুপের জনপ্রিয় টিভি চ্যানেল “নিউজ ২৪”- এ কয়েক দফা এককভাবে আমাকে – live – হাজির হওয়ার সুযোগ দেন। আওয়ামী লীগের সুকঠিন ইতিহাস বলার জন্য।
নঈম নিজাম ভাই মনচিত্তে দৃশ্যমান চিরন্তনের কৃতজ্ঞতায়।

শুধু পাঠ করে শুধু নয়, ইতিহাস আমার মনপ্রাণে দৃশ্যমান হয়েছে বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচরদের সান্নিধ্য লাভ করার সুবাদে। পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের প্রথম শ্রম সম্পাদক ও স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদ আমাকে সমৃদ্ধ করেন সেকালের ইতিহাস জানিয়ে। এ ছাড়াও সাবেক রাষ্ট্রপতি ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমানের অতি স্নেহসান্নিধ্যে পৌঁছতে সক্ষম হয়েছিলাম আমি। তিনি রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর আমাকে তাঁর এপিএস হতে বলেছিলেন। শপথ গ্রহণের পরক্ষণেই শাবান মাহমুদকে বলেছিলেন, “তোমার দোস্ত সোহেল সানিকে আসতে বলো, আমি ওকে এপিএস করবো।” মহামান্যকে আমি বিনয়ের সাথে অপারগতা প্রকাশ করি।

আমির হোসেন আমু যখন আওয়ামী লীগে “রাজনীতির কিং মেকার” বলে পরিচিত সেই সময়েই আমি তার অতিশয় প্রিয়ভাজন ছিলাম। তিনিও ইতিহাস জান্তা। তাঁর আপন সান্নিধ্য আমার ইতিহাস জানার ক্ষেত্রকে নানাভাবে প্রসিদ্ধ করে।
উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের মহানায়ক তোফায়েল আহমেদ ইতিহাসের অন্ধ চোখ খুলে দেন। তার অফুরান স্নেহময় ভালোবাসায় আমাকে আবদ্ধ করে। প্রবীন জননেতা আব্দুল জলিল ও কর্মী বান্ধব নেতা মোজাফফর হোসেন পল্টুর স্নেহপ্রীতি আমাকে রাজনীতির বহু সূত্র আবিষ্কারে সাহায্য করেছে। আমি এই লেখনীতে গভীর শ্রদ্ধা জানাই ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বরিশাল – ২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শাহে আলম ভাইয়ের প্রতি। কেননা তার হাত ধরেই আমার রাজনীতিতে হাতেখড়ি।

আওয়ামী যুবলীগের সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক ভাইয়ের প্রতি অকৃত্রিম কৃতজ্ঞতা। তিনিই মূলত আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে ঠাঁই দিয়েছিলেন আমাকে ও শাবান মাহমুদকে। ইতিহাসধর্মী লেখনী শুরু প্রারম্ভে এসব মহান নেতার নাম শ্রদ্ধাবনত চিত্তে স্মরণ না করলে অকৃতজ্ঞতা জানানো হবে।

যাই হোক ফিরে আসামি মূল কথায়। এবার জীবনের শেষ,বেলায়,এসে ভাবছি আমার ফাঁকিবাজির দিন শেষ হওয়া দরকার। শুরু থাকলে শেষ হবেই। ই প্রত্যয় যুক্ত করলাম এই কারণে যে, এর বিকল্প নেই। বিকল্প হতে পারে কেবলই মৃত্যু। ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি অর্থাৎ বহুল বিতর্কিত ওয়ান ইলেভেনের দিন রাতে দুষ্কৃতকারীদের দ্বারা আমি গুরুতর আহত হই। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য “আজ সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করতে পারে মর্মে আগাম খবর দিয়ে আমি একটি রিপোর্ট করি। যা বাংলাবাজার পত্রিকায় লাল হরফে কামানের ছবি দিয়ে প্রকাশিত হয়ে ১১ জানুয়ারি। সত্যসত্যই ওদিন বিকালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ডঃ ইয়াজউদ্দিন আহমেদকে প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগে বাধ্য,করে সেনাবাহিনী এবং প্রধান উপদেষ্টা নিযুক্ত হন ডঃ ফখরুদ্দিন আহমেদ।

যাহোক,রাতে হামলা চালিয়ে বিশেষ একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী আমার বাম পায়ের প্যাটেল কেটে ফেলে। এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষতবিক্ষত করে। বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিলেও আজও আমার পায়ে রডযুক্ত রয়েছে। পাঁচ বছর লাঠি ভর করে আমার পথ চলতে হয়েছে। এখানেই শেষ নয়, সেই থেকে এ পর্যন্ত আমার ওপর চার বার হামলা হয়েছে। সর্বশেষ্ঠ হামলায় আমার পিএ ও চালক নিহত হলেও আমি আল্লাহর অসীম রহমতে প্রাণে বেঁচে যাই। এভাবেই ছন্দপতন ঘটে আমার ক্যারিয়ারে।
সম্প্রতি বৈশাখী টেলিভিশনের দিকপাল অশোক চৌধুরীর কিছু কথা মনের দরজায় হঠাৎ কড়া নাড়লো। তাঁর গাড়ীতে বাংলাদেশ প্রতিদিন থেকে বনানীতে যাচ্ছিলাম। সাথে বিএফইউজে’র মহাসচিব শাবান মাহমুদও। অশোক দা’র অতিশয় প্রিয় শাবান মাহমুদ।

আকষ্মিক অশোক দা’ খুব আপসোস করলেন আমাকে নিয়ে। বললেন ” সোহেল সানি ঘুরে দাঁড়ান এখনও সময় আছে। সাংবাদিকতায় একসময় স্টার ছিলেন। নিজেই নিজেকে নিঃশেষ করলেন। সহযোগিতার হাত আপন ভাই বাড়ায় না।” ইত্যাদি বলার পর আরও বললেন, শাবান মাহমুদ ভাই আপনাকে ভালোবাসেন। প্রকৃত বন্ধু সে। আপনি ঠিক হোন, সব আবার ঠিক হয়ে যাবে। অশোক চৌধুরীর সরল, সহজ, সাবলীল আচরণ ও কথাবার্তা ভালো লাগলো। কয়টা কটু কথা বললেও হয়তো প্রতিক্রিয়া হতো না।

অথচ, কেউ কেউ খোঁচা মেড়ে বলেন। মজা লুফে নিতে চান। তখন আমার এরিস্টটলের ওই উক্তিটার কথাই স্মরণে আসে।

যাই হোক, আমি হিংসুক হতে পারবো না। কারণ আমি বিদ্যানুরাগী। অপরদিকে আমার শুভাকাঙ্ক্ষীদের আশ্বস্ত করতে চাই যে, শত ফাঁকিবাজির মাঝেও আমি বইয়ের সান্নিধ্যছাড়া হয়নি কখনো।
দীর্ঘদিন ধরে লিখেছি। ” রাজনীতির পৌনে ষোলোআনা” নামে একটি রাষ্ট্রগ্রন্থ আমি উপহার দিবো ইনশাআল্লাহ। আমি নতুনভাবে শুরু করেছি। নবাগত স্যাটেলাইট চ্যানেল এস টিভি বাংলার সম্পাদক হিসাবে কাজ করছি। পুরাণ ঢাকাসহ দেশের ৫৪ টি জেলা সম্প্রচারিত হচ্ছে চ্যানেলটির কার্যক্রম।

এই মূহুর্তে দার্শনিক মার্ক কার্লাইলের একটি উক্তি মনে পড়ছে। তিনি বলেছেন “কারো কীর্তিকে পেছনে ফেলতে হলে কীর্তি দিয়েই ফেলতে হয়, হিংসা বিদ্বেষ, হত্যা ধ্বংস করে নয়।”
শাবান মাহমুদ নিরলসভাবে এগিয়ে চলেছেন। তার সুফল তিনি পেয়ে আজ সাংবাদিক সমাজের কাছে নন্দিত নেতা। সাংবাদিক বান্ধব নেতা হিসাবেও তার পরিচিতি গড়ে উঠেছে। তিনি এখন আমারও নেতা। আমাদের নেতা।
জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাদের দুবন্ধুর কাছেই মাতৃতুল্যা। মাতৃত্বের স্নেহে আমরা আবদ্ধ হই আরও দুই দশক আগে। প্রথম আলোর সাবেক চিফ রিপোর্টার শ্রদ্ধেয় প্রণব সাহা ফেইসবুকে আমাদের দুই বন্ধুর ছবি দেখে দারুণ প্রতিক্রিয়ায় লিখেছেন, “আমাদের মিঠু-মন্টি।”
এই মিঠু-মন্টি ডাকটা আসলে মাননীয় আপার মুখ থেকে আসা। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা আমাদের দুজনকে এ নামে ডাকাই শুধু নয়, আওয়ামী লীগের প্রচার প্রচারণার কাজে আমাদের সংযুক্ত করতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সদস্য করেছিলেন। ওটাই ছিলো আওয়ামী লীগের ২৯ সদস্য বিশিষ্ট প্রথম উপকমিটি। আমাদের বেকার দশা দেখে তিনি তৎকালীন ১২/,এ কার্যালয়ে বসাবার জন্য তৎকালীন প্রচার সম্পাদক আবদুল মান্নান ভাইকে নির্দেশও দিয়েছিলেন। পরে আপা আমাদের চাকুরীতে থাকারই সিদ্ধান্ত দেন। তবে তাঁর বিভিন্ন সময়ে অর্থসাহায্যের কথা কখনোই ভুলবো না।
আমাদের দুই দোস্তকে নেতা-মন্ত্রীরা এমনকি সাংবাদিকরাও বলেন “মানিকজোড়।” কার্লাইলের ভাষায় “বন্ধুত্ব হলো দুটি দেহে বসবাসকারী একটি আত্মা। ” শাবান মাহমুদ ও সোহেল সানি বিগত ৩৫ বছরে তা প্রমাণ করেছে।
কখনেো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জেন্ট জহুরুল হক হল আবার কখনো হাঙ্গামা গোলাগুলির মুখে হল ত্যাগ করে পত্রিকার অফিসে দুবন্ধু কতশত রাত কাটিয়েছি তার হিসাব নেই। কখনো কখনো এক থালা ভাত আর এক বাটি তরকারি ভাগ করে খেয়েছি। কনকনে শীতে একটা কাঁথা দুজন গায়ে জড়িয়ে গলা ধরাধরি করে ঘুমে বিভোর হয়েছি।
অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে কিংবা মধুর কেন্টিনে সামনে হতে ছাত্রলীগের মিছিল সমাবেশ শেষে প্রেসরিলিজ নিয়ে দুবন্ধু ছুটেগেছি সংবাদপত্র অফিসে।
একই পোষাকে দু’জন দু’জনার হয়েগেছি বিশেষ দিনে। আশ্চর্য মিল আমাদের জীবনের সব অবলম্বনে।
আর্দশে বঙ্গবন্ধু। কর্মী-শেখ হাসিনার।
একই মেয়াদে ছাত্র লীগের ঢাকা মহানগর নেতা আমরা। একই মেয়াদে ছাত্রলীগের জাতীয় পরিষদ সদস্য। একই মেয়াদে ছাছলীগের কেন্দ্রীয় নেতা। একই মেয়াদে আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা।
একই সময় থেকে দেশরত্ন শেখ হাসিনা কর্তৃক আওয়ামী লীগের প্রথম কেন্দ্রীয় উপকমিটির সদস্য। একই সময়ে সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি।
একই কর্মস্থল বাংলাদেশ প্রতিদিন, দৈনিক আমাদের সময়, দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকা। একই সময়ে পূর্ববর্তী কর্মস্থল দৈনিক রূপালী, দৈনিক লালসবুজ। আশির দশকে একই সাথে একই পত্রিকায় লেখালেখি- সাপ্তাহিক সুগন্ধা, আজকের সূর্যোদয়, সাপ্তাহিক সন্দীপ, সাপ্তাহিক ছুটি, সাপ্তাহিক ঢাকা প্রভৃতি।

একই সময়ে অবিভক্ত ঢাকা ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) সদস্যপদ লাভ।
একই সময়ে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সদস্যপদ লাভ। একইভাবে ডিআরইউর নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও শাবান মাহমুদ সাংস্কৃতিক সম্পাদক নির্বাচিত ও আমার কার্যনির্বাহী পরিষদ সদস্য পদে জয়লাভ (উল্লেখ্য এরপর দীর্ঘদিন ডিআরইউ নির্বাচন থেকে শাবান মাহমুদ দূরে সরে থাকলেও আমি চারবার কার্যনির্বাহী সদস্য নির্বাচিত হই। প্রথম নির্বাহী সদস্য নির্বাচিত হই সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে ২০০১ সালে।
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) নির্বাচনে তিনবার কার্যনির্বাহী সদস্য নির্বাচিত হই।

পরবর্তীতে আমি নির্বাচন থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেই। এবং শাবান মাহমুদের পক্ষে কাজ করি। শাবান মাহমুদ ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) নির্বাচনে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার মধ্যদিয়ে সাংবাদিক সমাজের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগান এবং প্রথমে সাধারণ সম্পাদক ও পরবর্তীতে সভাপতি নির্বাচিত হয়ে অপ্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠেন।

সর্বশেষ শাবান মাহমুদ বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব নির্বাচিত হন সত্তুর বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে। দোস্তের এ বিজয় আমারও অহংকার। আত্মার বন্ধন অটুট আছে প্রায় ৩৫ বছর পেছনে ফেলে। তাই তো সাংবাদিক সমাজে আমরা পরিচিত অপূর্ব জুটি হিসাবে। এ বন্ধুত্ব চিরন্তনের। কোনো হিংসার নয়। আমার ব্যক্তিগত হতাশা নেই এতটুকু। আমি স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসি।
সতীর্থ বন্ধু, গুরুজনদের আশ্বস্ত করতে চাই এই বলে যে, উদ্দেশ্য মহৎ হলে আল্লাহপ্রদত্ত প্রতিভা ও সুশিক্ষা আমাকে লক্ষ্য পূরণের দিকেই অগ্রসরমান করবেই। এ বিশ্বাসেই আমার চোখে কাটেনি কান্নার সাঁতার। এখন ফুটে আমার সহাস্যমুখে হাসির ফোয়ারা।

LEAVE A REPLY