শীতকাল ইবাদেতর জন্য বসন্তকাল

আপডেট: ডিসেম্বর ১৪, ২০১৬

হেমন্তকাল পেরিয়ে শুরু হয়েছে শীতকাল। শীতের আবরনে আচ্ছাদিত হচ্ছে প্রকৃতি। আল্লাহ তাআলা মানুষের কল্যাণেই প্রকৃতির এ পরিবর্তণ ঘটিয়ে থাকেন। যাতে রয়েছে আল্লাহ তাআলার কুদরতের নির্দশন।

আল্লাহ তাআলা বান্দার উপকারেই দুনিয়ার সব উপকরণ সৃষ্টি করেছেন। চন্দ্র-সূর্য, আলো-বাতাস এমনকি রাত, দিন, ঋতু এবং কালের সৃষ্টিও বান্দার কল্যাণে করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আল্লাহ দিন ও রাত্রির পরিবর্তন ঘটান। এতে অর্ন্তদৃষ্টি-সম্পন্নগণের জন্যে চিন্তার উপকরণ রয়েছে।’ (সুরা নূর : আয়াত ৪৪)

বাংলাদেশ ৬ ঋতুর দেশ বলা হলেও এদেশে প্রায় ৩ থেকে চার মাসব্যাপী শীতের আবহ থাকে। তবে দিন দিন শীতকালের স্থায়ীত্ব হ্রাস পাচ্ছে। শীতকাল মুমিন বান্দার ইবাদত-বন্দেগির জন্য বসন্তকাল। তা মুমিন বান্দার জন্য গণীমত স্বরূপও বটে।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, শীতকাল মুমিনের জন্য গণীমতস্বরূপ। শীতকালীন রাত লম্বা হয়। তাতে মুমিন বান্দা (রাত জেগে) ইবাদত-বন্দেগিতে অতিবাহিত করতে পারে। আর দিন ছোট হয়; তাতে মুমিন বান্দা রোজা পালন করতে পারে।’ শীতের রাতে ইবাদত-বন্দেগির পাশাপাশি দিনের বেলা রোজা রাখা সহজ হয়।

বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মাতে মুহাম্মদিকে উদ্দেশ্য করে নসিহত স্বরূপ আরো বলেছেন, ‘শীতকালীন রাত লম্বা হয়, ঘুমিয়ে ইহাকে ছোট কর না। এবং দিন আলোকিত সুতরাং ইহাকে পাপ কার্যের দ্বারা অন্ধকার কর না।’

শীতকালে দিন ছোট হওয়ায় রোজা পালন করা সহজ। আবার রাত দীর্ঘ হওয়ায় নফল নামাজ, কুরআন তিলাওয়াতসহ দীর্ঘ সময় ইবাদত-বন্দেগি করে পর্যাপ্ত পরিমাণ সময় ঘুমানো যায়। যা মুসলিম উম্মাহর জন্য আল্লাহ তাআলার নিয়ামত।

সুতরাং আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের জন্য যে সব ঋতু দিয়েছেন, তার ওপর সন্তুষ্ট থাকা, সবর করা এবং নিআমাত তথা গণীমত মনে করে তা গ্রহণ করা অনেক কল্যাণকর।

পরিশেষেৃ
যেহেতু মানুষের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে আমলের দরজা বন্ধ হয়ে যায়, সেহেতু শীতকালের দীর্ঘ রাত্রিতে ইবাদত-বন্দেগি এবং দিনের স্বল্প সময়ে রোজা আদায় করা প্রত্যেক ঈমানদারের জন্য আল্লাহ রহমতও বটে।

আল্লাহ তাআলা এ শীতকালকে রহমত হিসেবে গ্রহণ করে ইবাদত-বন্দেগি ও রোজা পালনের জন্য মুসলিম উম্মাহকে তাওফিক দান করুন। আমিন।