বৃহস্পতিবার | ২৫শে এপ্রিল, ২০১৯ ইং | ১২ই বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | দুপুর ২:১৯

সংলাপে যাচ্ছেন যে ১৬ জন

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী বাসভবন গণভবনে সংলাপে অংশ নিতে যাওয়ার জন্য একটি প্রতিনিধি দলের তালিকা তৈরি করেছে ফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ। মঙ্গলবার বিকেলে গণফোরাম কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ১৬ জনের নাম চূড়ান্ত করেন নেতারা।

ঐক্যফ্রন্টের নেতা আ স ম আব্দুর রব গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ১৬ জনের একটি দল যাবে গণভবনের সংলাপে অংশ নিতে। ১ নভেম্বর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সংলাপের জন্য ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের নৈশভোজের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে।

ড. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য জগলুল হায়দার আফ্রিক, জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, সহ-সভাপতি তানিয়া রব, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, সাবেক ছাত্রনেতা সুলতান মুহাম্মদ মনসুর, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ।

সংলাপে যাচ্ছেন যারা:

গণভবনের সংলাপে ঐক্যফ্রন্টের প্রতিনিধি দলের দলনেতা হিসেবে থাকবেন ড. কামাল হোসেন। বিএনপি থেকে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার ও মির্জা আব্বাস। নাগরিক ঐক্য থেকে থাকবেন মাহমুদুর রহমান মান্না ও এস এম আকরাম। গণফোরাম থেকে মোস্তফা মহসিন মন্টু ও সুব্রত চৌধুরী। জেএসডি থেকে আ স ম আব্দুর রব, আব্দুল মালেক রতন ও তানিয়া রব। ঐক্য প্রক্রিয়া থেকে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর, আ ব ম মোস্তফা আমিন ও স্বতন্ত্র হিসেবে থাকবেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

যেভাবে চূড়ান্ত হলো সংলাপ প্রক্রিয়া :

গত বেশ কয়েকদিন ধরেই জাতীয় রাজনীতিতে সংলাপের বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। গত রোববার জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে সংলাপের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে একটি চিঠি দেয়া হয়। পরদিন সোমবার প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রীদের এক অনির্ধারিত বৈঠক থেকে সেই সংলাপের আহ্বানে সাড়া দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় সরকারের পক্ষ থেকে।

ওই দিন বিকেলে আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সংবাদ সম্মেলন করে তাদের সংলাপের আহবানে সাড়া দেয়ার
কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের জানান, তফসিলের আগেই ঐক্যফ্রন্টের সাথে সংলাপে রাজি আছে সরকার। সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আজ আমি আপনাদের ও পুরো জাতিকে সারপ্রাইজ দেবো। আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনার সম্মতিক্রমে একটি সুখবর জানাবো। এ খবরে রাজনীতির মাঠে শান্তির বাতাস বইবে বলে মনে করি।’

পরে তিনি বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ড. কামাল হোসেন একটি চিঠি দিয়েছেন। আজ মন্ত্রিসভা বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী ও সভাপতি শেখ হাসিনা উপস্থিত নেতাদের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা করেন। অনির্ধারিত এ বৈঠকে আলোচনা শেষে সর্বসম্মতি সিদ্ধান্ত হয়েছে যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংলাপে বসবে। কারণ শেখ হাসিনার দরজা কারও জন্য বন্ধ থাকে না।’

ঐক্যফ্রন্টের নেতারা এত দ্রুত সরকারের সাড়া পেয়ে বিস্মিত হলেও তারা বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে নিয়েছেন। তারা সরকারের এই সংলাপের আগ্রহকে স্বাগত জানান। সোমবারই জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে ফোন করেন ওবায়দুল কাদের। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা ও গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টুকে ফোন করে তিনি সংলাপের আমন্ত্রণ জানান। সংলাপের আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের জানতে চান ঐক্যফ্রন্টের কতজন সদস্য সংলাপে অংশ নেবে।

ওই দিন রাত ৮টার দিকে এই দু’নেতার মধ্যে ফোনে কথা হয়। এ সময় ঐক্যফ্রন্টকে গণভবনে নৈশভোজের আমন্ত্রণ জানান ওবায়দুল কাদের। জবাবে মহসিন মন্টু তার জোটের নেতাদের সাথে আলোচনা করে সময় দিবেন বলে জানান।

পরদিন মঙ্গলবার সংলাপের বিষয়ে ঐক্যফ্রন্টকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর চিঠি পৌঁছে দিতে মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর বেইলি রোডে ড. কামাল হোসেনের বাসায় যান আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ। ড. কামাল তার চিঠি গ্রহণ করে কিছুক্ষণ কথাবার্তা বলেন। এ সময় সেখানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য ও গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টুও উপস্থিত ছিলেন।

২ নভেম্বর ঢাকায় সমাবেশ করবে ঐক্যফ্রন্ট

লেট এবং চট্টগ্রামের পর এবার রাজধানীতে সমাবেশ করতে চায় নবগঠিত রাজনৈতিক মোর্চা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

এজন্য আগামী ২ নভেম্বর সম্ভাব্য তারিখ ঠিক করা হয়েছে।

আজ সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে এই ঘোষণা দেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম সদস্য বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

রিজভী জানান, আগামী ২ নভেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অথবা নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে জনসভা করতে চান তারা।

তবে এটা নির্ভর করছে অনুমতি সাপেক্ষ। অর্থাৎ এই দুটি স্থানের যেখানে অনুমতি মিলবে সেখানেই সমাবেশ করা হবে।

রিজভী আরও বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাত দফা দাবি আর ১১ দফা লক্ষ্যকে সামনে রেখেই এই সমাবেশের আয়োজন করা হবে।

এর আগে গত ২৭ অক্টোবর চট্টগ্রামের কাজীর দেউড়ি এলাকায় নাসিমন ভবনে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করে ঐক্যফ্রন্ট।

এছাড়া আইনজ্ঞ ও সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপিকে নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের পর গত ২৪ অক্টোবর সিলেটে প্রথম সমাবেশ হয়।

দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যারা শপথ নেবেন, তারা ‘গণদুশমন’: গয়েশ্বর

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে নির্বাচিতরা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে শপথ নিলে তারা ‘গণদুশমন’ বলে মন্তব্য করেছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সাংবাদিকদের ব্যানারে এক মানববন্ধনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও–৩ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপি নেতা জাহিদুর রহমান আজ শপথ নিয়েছেন। দুপুর পৌনে ১২টার দিকে স্পিকার শিরীর শারমিন চৌধুরী তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান।
এর প্রতিক্রিয়ায় গয়েশ্বর বলেন, দলের সিদ্ধান্ত, দলের আদর্শ এবং নেত্রীকে জেলখানায় রেখে কেউ যদি শপথ নিয়ে থাকে বা ভবিষ্যতে নেয়, তারা জাতীয়তাবাদী দলের শক্তির সঙ্গে চলার যোগ্যতা রাখে না। তারা হলো গণদুশমন এবং জনগণই তাদের বিচার সময়মতো করবে।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে ভোট কারচুপি হয়েছে। সরকার জনগণের সঙ্গে থাকতে পারেন নাই, কারণ জনগণ মনে করে এই নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ। সে ক্ষেত্রে বিএনপি থেকে যিনি নির্বাচিত হয়েছেন ব্যক্তিগত স্বার্থে তিনি শপথ নিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরামে এটি সিদ্ধান্ত আগেই হয়ে গেছে যে বিএনপি এবারের সংসদে যোগ দেবে না। সে ক্ষেত্রে আজ সংসদে যিনি যোগ দিয়েছেন বা বাকি যারা সংসদে যাবেন তারা ব্যক্তিগত স্বার্থেই সংসদে যোগ দেবেন।
যারা শপথ নিয়েছেন তারা জনগণের সঙ্গে থাকতে পারেননি জানিয়ে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন,বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে জেলে আছেন। তাই তাকে রেখে সংসদে যাওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। সে ক্ষেত্রে শপথ নেওয়াটা একটা প্রতারণা।
তিনি বলেন, সিদ্ধান্তের জন্য তাকে অপেক্ষা করতে হবে। জনগণও তাকে ক্ষমা করবে না। দল থেকে তার বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এ সময় দল থেকে জাহিদুর রহমানকে বহিষ্কার করা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

উল্লেখ্য, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে (পীরগঞ্জ–রানীশংকৈল) তিন সাবেক সাংসদকে হারিয়ে বিএনপির প্রার্থী জাহিদুর রহমান নির্বাচিত হন। রংপুর বিভাগের মধ্যে জাহিদুর রহমানই একমাত্র বিএনপির প্রার্থী, যিনি জয়ী হতে পেরেছেন। জাহিদুর রহমান (ধানের শীষ) ৮৮ হাজার ৫১০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ইমদাদুল হক। তিনি ৮৪ হাজার ৩৮৫ ভোট পান।

আনিস খাদেম হত্যায় ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড

ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আমিনুল হক খাদেম ওরফে আনিস খাদেমকে গুলি করে হত্যা মামলায় ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড ও একজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার ঢাকার ৪নং দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবদুর রহমান সরদার এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- শহিদুর রহমান খাদেম, শেখ শামীম আহম্মেদ, সোহেল, জুয়েল, মাহবুব আলম লিটন, কামাল হোসেন বিপ্লব। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে আবদুল্লাহ মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন বাবুকে।আজগর হোসেন রানার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় তাকে খালাস দেয়া হয়েছে।

আদালত মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের সাজা পরোয়ানাসহ তাৎক্ষণিক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ইস্যুর নির্দেশ দেন।

১০ বছর আগে আহমদুল্লাহ স্টেটের ক্ষমতা দখল কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।

মামলার নথি থেকে জানা গেছে, ২০০৯ সালের ৩ মে আহমদুল্লাহ স্টেটের ক্ষমতা দখল কেন্দ্র করে মালিবাগ হোল্ডিংয়ের পশ্চিম পাশে পরিকল্পিতভাবে আনিস খাদেমকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরের দিন তার ছেলে সাইদুল হক খাদেম রাজধানীর মতিঝিল থানায় হত্যা মামলা করেন।

সব গির্জা বন্ধ শ্রীলংকার

A boy rides a bicycle past an Orthodox church in the far-eastern Russian port of Vladivostok on April 25, 2019. (Photo by Kirill KUDRYAVTSEV / AFP)

ইস্টার সানডের প্রার্থনায় ভয়াবহ বোমা হামলার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতির আগ পর্যন্ত দেশটির সব খ্রিষ্টান গির্জা বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দেশটির এক জ্যেষ্ঠ পাদ্রী এ কথা জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীর পরামর্শে আমরা সব গির্জা বন্ধ রাখছি। পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত সব গণজমায়েত বন্ধ থাকবে।

এদিকে রাজধানীর কলম্বো থেকে ৪০ কিলোমিটার পূর্বে পুগোদা শহরে একটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। পুলিশ ও স্থানীয়দের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এমন খবর দিয়েছে।

পুলিশের মুখপাত্র রাবন গুনাসেকেরা বলেন, বৃহস্পতিবার শহরটির হাকিম আদালতের পেছনের খোলা মাঠ থেকে বিস্ফোরণের শব্দটি এসেছে।

এ বিস্ফোরণে কেউ হতাহত হয়নি জানিয়ে পুলিশ বলেছে, তারা বিস্ফোরণের কারণ তদন্ত করে দেখছে। গুনাসেকেরা বলেন, আদালতের পেছনে একটি বিস্ফোরণ ঘটেছে, আমরা তদন্ত করে দেখছি।

এটি পুলিশের ঘটানো কোনো নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ ছিল না বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।

গত রোববার ইস্টার সানডের প্রার্থনার সময় দেশটির তিনটি গির্জা ও তিনটি হোটেলে ছয়টি বিস্ফোরণে ৩৬০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও পাঁচ শতাধিক।

হামলায় সন্দেহভাজনদের খুঁজে বের করতে রাতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গোয়েন্দা সতর্কতা সত্ত্বেও এ প্রাণঘাতী হামলা প্রতিরোধে বড় ধরনের ঘাটতির কথা স্বীকার করেছে দেশটির সরকার।

ভারতীয় মুসলিমদের একপেশে করে রাখা হচ্ছে

বিশ্বে সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক চর্চার অনুশীলন হচ্ছে ভারতে। সেখানে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভার নির্বাচন হচ্ছে। কিন্তু নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রান্তিক অবস্থানে রয়েছেন মুসলিমরা। তাই তাদের মধ্যে তেমন উল্লেস নেই। লোকসভায় আসন ৫৪৩। তার মধ্যে বিদায়ী লোকসভায় মুসলিম ছিলেন মাত্র ২২ জন। দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটিতে সংখ্যাগরিষ্ঠদের মধ্যে মুসলিমরা সংখ্যায় বেশি। তারা ১৩০ কোটি জনসংখ্যার মধ্যে শতকরা প্রায় ১৪ ভাগ।

কিন্তু লোকসভায় তাদের প্রতিনিধিত্ব আছে শতকরা মাত্র চার ভাগের। পাঁচ দশকের মধ্যে এটা হলো সেখানে সবচেয়ে কম মুসলিম প্রতিনিধিত্ব। এক দশক আগে তারা ছিলেন শতকরা ৬ ভাগেরও বেশি। আর ১৯৮০ সালে তাদের হার ছিল সবচেয়ে বেশি ৯.৬ ভাগ। এসব অবস্থা নিয়ে অনলাইন আল জাজিরা একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তাতে তরুণ-যুবক মুসলিম ও বিশ্লেষকরা  তাদের হতাশা ও আশার কথা শুনিয়েছেন।

নয়া দিল্লির জামিয়া নগর এলাকায় একটি ট্রাভেল এজেন্সি চালান মোহাম্মদ আদনান। তিনি বলেছেন, গত ৫ বছরে বিজেপি ভোটকে মেরুকরণ করেছে এতটাই যে, এখন রাজনৈতিক দলগুলো মুসলিম প্রার্থীদের নির্বাচনী টিকেট দিতে অনুউৎসাহী হয়ে পড়েছে। দলগুলো আশঙ্কা করছে, হিন্দু ভোটব্যাংককে আয়ত্তে আনতে তাদেরকে অনেকটা কাঠখড় পোড়াতে হবে।

২০১৪ সালের নির্বাচনে রেকর্ড ২৮২ আসনে বিজয়ী হয় বিজেপি। এর মধ্যে একজনও এমপি ছিলেন না মুসলিম সম্প্রদায়ের। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অধীনে গত পাঁচ বছরে বিধানসভাগুলোতেও মুসলিম প্রতিনিধিত্ব কমে গেছে। সমালোচকরা বলেছেন, বিজেপি মুসলিম বিরোধী যে বক্তব্য বিবৃতি দিয়েছে তার কারণে এমনটা হয়েছে। হরিয়ানাভিত্তিক অশোক ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানী গিলস ভার্নিয়েরস বলেন, সরকারি কর্মকা- থেকে মুসলিমদের দূরে রাখার চেষ্টা করেছে বিজেপি খুব সচেতনভাবে ও সুস্পষ্টভাবে। বিজেপি মুসলিমদেরকে নির্বাচনীয় কর্মকান্ডে একপেশে করে রাখার যে নীতি নিয়েছে তা হলো তার ভোটব্যাংকের কাছে একটি ইঙ্গিত। তা হলো, তারা হলো হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠদের দল।

ভারতের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য হলো উত্তর প্রদেশ। সেখানে চার কোটির ওপরে মুসলিম বসবাস করেন। সেই রাজ্য থেকেও একজন মুসলিমকে প্রার্থী করেন নি বিজেপি ২০১৭ সালে। মোদির নিজের রাজ্য গুজরাট। সেখানেও ২০১৭ সালের নির্বাচনে একজন মুসলিম প্রার্থীকে নির্বাচনের টিকেট দিতে ব্যর্থ হয়েছে দলটি। উভয় রাজ্যে ক্ষমতায় ফিরেছে এই ডানপন্থি দলটি।

ধর্মের ভিত্তিতে কোনো একজন নাগরিকের বিরুদ্ধে বৈষম্য দেখানোর অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন বিজেপির মুখপাত্র নলিন কোহলি। তিনি বলেছেন, কোনো জাতি, ধর্ম, বর্ণ, অঞ্চল বা অন্য কোনো এজেন্ডার ভিত্তিতে বিজেপি ভারতীয় কোনো নাগরিকের প্রতি বৈষম্য করে না বা তাদেরকে আলাদা করে দেখে না। সার্বিকভাবে সবার জন্য সমান অধিকারের যে নীতি আছে সংবিধানের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদে তা অনুসরণ করে বিজেপি। কোনো নির্বাচনে প্রতিনিধি বা আসন দেয়া হয় প্রথমত বিজয়ী হতে পারবেন কিনা তার ভিত্তিতে। আমাদের দলে মুসলিম প্রার্থী ছিলেন। যদি বিজয়ী হতে পারবেন এমন প্রার্থী আমাদের দলে থাকেন তাহলে অবশ্যই তারা সুযোগ পাবেন।
ওদিকে ধর্মনিরপেক্ষ দল হিসেবে দেখা হয় ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেসকে। এই দলটি দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের জন্য গর্ব করে। তারাও সাম্প্রতিক দশকগুলোতে মুসলিমদের এড়িয়ে চলা শুরু করেছে।

গত বছর কংগ্রেসের সাবেক প্রধান সোনিয়া গান্ধী বলেছিলেন, বিজেপি জনগণকে আশ্বত্ব করতে পেরেছে যে, কংগ্রেস হলো একটি মুসলিম দল। এ ছাড়া তার ছেলে ও দলের বর্তমান সভাপতি রাহুল গান্ধী হিন্দু মন্দির সফর করেছেন। তা নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। এসব দিয়ে মোদির ওই ধারণার ওপর প্রলেপ দেয়ার চেষ্টা হয়েছে।
গিলস ভার্নিয়েরস বলেন, বিজেপির দুর্দান্ত উত্থানে অন্য রাজনৈতিক দলগুলো মুসলিম প্রার্থীদের বিষয়ে খুব কম কথা বলে। বিশেষ করে বিজেপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেসই তো নির্বাচনে উল্টো ফল আসবে এমন আশঙ্কায় মুসলিমদের নির্বাচনে টিকেট দেয়া কমিয়ে দিয়েছে।

উত্তর প্রদেশের আলীগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির ইতিহাসের প্রফেসর মোহাম্মদ সাজ্জাদ। তিনি বলেন, হিন্দু আধিপত্যবাদের উদ্দেশ্যই যেন ভারতের নির্বাচনে মুসলিমদের অপ্রাসঙ্গিক  করে তোলা। মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘৃণামুলক বক্তব্য ছড়িয়ে দিয়ে, মুসলিমদের মানহানি করার মাধ্যমে হিন্দুরা তাদের অবস্থান বড় করেছে।

নরেন্দ্র মোদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, অধিক কর্মসংস্থান এবং দুর্নীতির ইতি ঘটানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছেন। কিন্তু তিনি যখন দ্বিতীয় দফায় লড়াই করছেন, তখন দেশটি ৪৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপভাবে কর্মসংস্থানের সংকট মোকাবিলা করছে।
গত পাঁচ বছরকে দেখা হয় মুসলিম ও অন্য সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক অপরাধ বৃদ্ধি হিসেবে। মানুষ, বিশেষ করে মুসলিমরা গরু রক্ষাকারী গ্রুপের হাতে প্রহৃত হয়েছেন। তাদেরকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। ফ্যাক্ট চেকার ডট ইন অনুযায়ী, ২০০৯ সালের পর থেকে ৭৯টি ভয়াবহ এমন ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে গত পাঁচ বছরে ঘটেছে ৭৬টি ঘটনা। অন্যদিকে ঘৃণামূলক এসব অপরাধে যারা জড়িত তাদেরকে ক্ষমতাসীন দলের সিনিয়র নেতারা সম্মানিত করেছেন।

গরু ব্যবসা করার কারণে একজন মুসলিমকে হত্যা করা হয়েছিল। এ হত্যার দায়ে অভিযুক্ত ৮ ব্যক্তি গত বছর যখন জামিনে মুক্তি পান তখন তাদের গলায় ফুলের মালা পরিয়ে দিয়ে বরণ করে নেন মোদির মন্ত্রীসভার সদস্য জয়ন্ত সিনহা। তা নিয়ে খুব বিতর্ক হয় তখন।
পুরনো দিল্লির একজন বাসিন্দা ইহতিশাম উদ্দিন বলেন, বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে মুসলিমরা বসবাস করছেন এক আতঙ্কের পরিবেশে। সব সময়ই আমরা দেখছি, গরুর মাংস খাওয়া বা গরু সংক্রান্ত কোনো ঘটনায় মুসলিমদের ওপর হামলা হয়েছে।
তবে বিজেপি মুখপাত্র কোহলি বলেছেন, এমন কর্মকান্ডের নিন্দা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি নিজে। ওই রকম অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এতে আমরা হস্তক্ষেপ করছি না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক শিব বিশ্বনাথান বলেন, বিজেপির প্রভাব যেমন বাড়ছে ততই তারা অধিক থেকে অধিক হারে স্বতন্ত্র বা এককসুলভ হয়ে উঠছে। তিনি বলেন, বিজেপি চায় একীভূত বিশ্ব। কিন্তু তারা জানে না বহুত্ববাদ কিভাবে রক্ষা করতে হয়। বিজেপির সংখ্যাগরিষ্ঠ নির্বাচনী রীতি সংখ্যালঘু রাজনীতিকদের প্রতি উদাসীনতা তৈরি করেছে। এমন পরিবেশে মুসলিম সংশ্লিষ্ট ইস্যু কেউই তুলছেন না। এই নির্বাচন পরিচিত হয়ে থাকবে ইস্যুর পরিবর্তে মুখবন্ধের হিসেবে।

ভার্নিয়েরস বলেন, বিজেপি বাদে অন্য রাজনৈতিক দলগুলো, যারা নিজেদের ধর্মনিরপেক্ষ বলে দাবি করে, তারাও বিজেপির মুসলিম বিরোধী অবস্থানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, মুসলিমদের বাইরে রাখার যে রীতি বিজেপির তার মোকাবিলা করতে যেন কেউই আগ্রহী নয়। তারা যে এটা মুসলিমপন্থি হয়ে যাওয়ার ভয়ে করছেন না তা নয়। তারা এটা করছেন না হিন্দুবিরোধী হয়ে যাওয়ার ভয়ে।

ভারতের মুসলিমরা দেশটির সাংবিধানিক উচ্চ পদগুলো অলঙ্কৃত করেছিলেন। তার মধ্যে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট, প্রধানবিচারপতি। বিশ্লেষকরা বলছেন, গণতান্ত্রিক ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে এ সম্প্রদায়টি অনেকটা নিচে রয়েছে।
১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় বহু মুসলিম ভারত ছেড়ে পাকিস্তানে যান নি। ১৯৫২ সালে প্রথম নির্বাচন হয় ভারতে। তখন মাত্র ১১ জন মুসলিম পার্লামেন্টে তাদের জায়গা করে নিতে পেরেছিলেন।

আদিবাসী পল্লীতে ২ বোনকে গণধর্ষণ, ১ জনের আত্মহত্যা

মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে আদিবাসী স্কুলছাত্রী ও তার ছোটবোনকে ধর্ষণ করেছে কথিত প্রেমিক এবং তার তিন বন্ধু। এ ঘটনায় বাড়িতে ফিরে লজ্জা এবং ক্ষোভে আত্মহত্যা করেছে প্রেমিকা মেয়েটি।

প্রথমে বিষয়টি অজানা থাকলেও ওই আদিবাসী মেয়েটির মোবাইল ফোনে প্রতারক প্রেমিকের ছবি ও তাকে উদ্দেশ্য করে লেখা ‘বিশ্বাসঘাতক’ আর ‘মৃত্যুর পর কবরে দু-মুঠো মাটি দেয়া’র ক্ষুদে বার্তায় বেরিয়ে আসে আত্মহত্যার পেছনের চাঞ্চল্যকর তথ্য।
ঘটনার ৫ দিন পর মঙ্গলবার রাতে প্রেমিক রতনসহ ৩ জনকে আসামি করে ধর্ষণ এবং আত্মহত্যার প্ররোচণার অভিযোগে মিঠাপুকুর থানায় একটি মামলা হয়েছে। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে আটক করেছে।

তার সহপাঠি ও প্রতিবেশী ছাত্রীরা জানায়, এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ওই আদিবাসী মেয়েটি। রংপুর শহরের মাহিগঞ্জ এলাকার ঢোলভাঙা গ্রামের রতন মিনজির সাথে তার প্রেমের সর্ম্পক ছিল। ১৮ এপ্রিল মোবাইল ফোনে দেখা করতে তাকে ডাকে রতন। ওই দিন বিকেলে চাচাতো বোনকে সাথে নিয়ে আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে বিকেলে বাড়ি থেকে বের হয় সে । এরপর সরাসরি প্রেমিকের সাথে দেখা করতে ঢোলভাঙা গ্রামে যায়। সেখানে রতন ও তার তিন বন্ধু মিলে একটি নির্জনস্থানে নিয়ে দুই বোনকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পরদিন শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তারা বাড়ি ফিরে। তখন তারা অসুস্থ থাকলেও ঘটনাটি কাউকে জানায়নি। এরপর লজ্জা এবং ক্ষোভে বিকেল ৫টার দিকে শয়ন ঘরে আত্মহত্যা করে বড়বোন।

তার প্রতিবেশী ছোটবোন বলেন, অনেক দিন ধরে রতন মোবাইল ফোনে তার দিদিকে বিরক্ত করত, প্রেমের প্রস্তাব দিত। কিন্তু দিদি তাতে রাজি হয়নি। পরে নানা কৌশলে প্রেমের ফাঁদে পড়ে যায়। এরপর থেকে তারা মোবাইলে এসএমএসে নিয়মিত কথা বলত।

ধর্ষণের শিকার অপর স্কুলছাত্রীর মাসহ প্রতিবেশী অনেকেই বলেন, ধর্ষক পক্ষ হুমকি দিচ্ছে- সে তো আত্মহত্যা করেছে। এ ঘটনায় আইনের আশ্রয় নিলে ধর্ষণের শিকার অন্যজনকে মেরে ফেলা হবে। এই ভয়ে এতদিন কেউ মুখ খোলেনি, ধর্ষণের মামলাও করেনি।
এদিকে ঘটনার ৫ দিন পর নিহত মেয়েটির বোন বাদী হয়ে কথিত প্রেমিক রতনসহ ৩ জনকে আসামি করে থানায় একটি মামলা করেন।

মিঠাপুকুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাফর আলী বিশ্বাস বলেন, আদিবাসী স্কুলছাত্রী আত্মহত্যার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে সবার সাথে কথা বলেছি। ওই সময় কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। এরপরও মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। ধর্ষণের বিষয়টি জানার পর তার স্বজনকে ডেকে এনে মামলা নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় ধর্ষক রতনের বাবা বুধুয়া মিনজিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে জোর চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশেও জঙ্গি হামলার চেষ্টা চলছে: প্রধানমন্ত্রী

ফাইল ছবি

সম্প্রতি শ্রীলঙ্কায় সন্ত্রাসীদের ভয়াবহ বোমা হামলার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, বাংলাদেশেও এ ধরনের ঘটনা ঘটানোর অনেক চেষ্টা চলছে।

আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ২ মিনিটে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে রাজশাহী-ঢাকা রুটের নতুন বিরতিহীন আন্তঃনগর ট্রেন ‘বনলতা এক্সপ্রেস’র উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশেও এই ঘটনা ঘটানোর অনেক চেষ্টা চলছে। তবে আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা যথেষ্ট সর্তকতা অবলম্বন করে যাচ্ছে।’

সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কোনো তথ্য পেলে তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘পবিত্র ধর্মটাকে কলুষিত করছে। এই পবিত্র ধর্মটার বদনাম করছে সমগ্র বিশ্বব্যাপী। তারা ইসলামের কোনো ভালো কাজ করছে না; তারা আসলে ইসলাম ধর্মকে প্রশ্নবিদ্ধ করে ফেলেছে। ইসলাম ধর্মের তারা প্রচণ্ড ক্ষতি করে দিচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ইসলাম ধর্ম মানবতার ধর্ম, সবচেয়ে শান্তির ধর্ম। সেই ধর্মের নামে তারা জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করে। এই ধরনের কাজে যারা সমৃক্ত তাদের বিরত থাকতে হবে। সে কারণেই আমি সকল অভিভাবক, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, বাংলাদেশের জনগণ এবং মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন যারা আছেন, ধর্মীয় শিক্ষাগুরু বা অন্য ধর্মবলাম্বী যারা তাদের প্রত্যেককেই আমি বলবো, যার যার আওতায় যে সমস্ত শিশু, কিশোর এবং যুবক যারা আছে, ছাত্র বা শিক্ষক যারা আছে, তাদের কেউ যদি সাধারণ মানুষের মধ্যে এ ধরনের প্রবণতা দেখা দেয় তাহলে সম্মিলিতভাবে এর বিরুদ্ধে সবাইকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমি আহ্বান জানাচ্ছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি চাই, আগামীকাল শুক্রবার জায়ান চৌধুরীর নামে যে একটি শিশু মারা গেল এবং কয়েকদিন আগে নিউজিল্যান্ডে মসজিদের ভেতর ঢুকে আমাদের অনেক মুসলমানদের হত্যা করা হয়েছে, সেখানে বাংলাদেশিও ছিল। আর শ্রীলঙ্কার এই ঘটনা। পরপর যে ঘটনাগুলো ঘটছে আমি চাই, প্রত্যেকটা মসজিদে যেন দোয়া কামনা করা হয়।

মসজিদের ইমামদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা দোয়া কামনা করে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস এগুলো যে মানবতার বিরুদ্ধে, এগুলোর সঙ্গে ধর্মের কোনো সংযোগ নেই। যারা এসব কাজে সম্পৃক্ত হয় তারা জঙ্গি, তার কোনো ধর্ম নেই, দেশ নেই কোনো কিছু নেই। কাজেই তাদের বিরুদ্ধে এবং জঙ্গিবাদ যে ইসলাম ধর্মের জন্য ক্ষতিকারক তা বুঝিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।

বনলতা’ র যাত্রা শুরু

সবুজ পতাকা নেড়ে ও বাঁশি বাজিয়ে রাজশাহী-ঢাকা রুটে বিরতিহীন আন্তঃনগর এক্সপ্রেস বনলতার উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ ট্রেনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

রাজশাহী থেকে ভিডিও কনফারেন্সে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন।

বনলতা এক্সপ্রেসের উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী বলেন, সামনে ঈদ আসছে। আর এই বিরতিহীন ট্রেনের মাধ্যমে ঈদে মানুষ দ্রুত বাড়ি যেতে পারবে।

এছাড়া সামনে জৈষ্ঠ মাস আসছে। রাজশাহী আমের জন্য বিখ্যাত। এই ট্রেনের মাধ্যমে রাজশাহীর আম ঢাকায় দ্রুত চলে আসবে।

তিনি বলেন, আমার কেন জানি মনে হয় রাজশাহীর ওই অঞ্চলটার তেমন কোনো উন্নতিই হয়নি। জানি না কেন সেখানে কোনো কোনো শিল্প কারখানা গড়ে ওঠেনি।সেখানকার অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোরও তেমন একটা উন্নতি হয়নি।

তিনি বলেন, আমরা সেজন্য ওই দিকটায় বিশেষভাবে দৃষ্টি দিচ্ছি যাতে ওখানে মানুষের কর্মসংস্থান বাড়ে আর তাদের জীবনমান যাতে আরও উন্নত হয়।

‘উত্তরবঙ্গকে মঙ্গাপীড়িত না রেখে আমরা মঙ্গামুক্ত করছি। পাশাপাশি আমরা চাচ্ছি এই অঞ্চলের মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার আরও উন্নতি হোক’-বলেন প্রধানমন্ত্রী।

এদিকে প্রথম দিন বনলতা ট্রেনটিতে ভ্রমণে কোনো টিকিট লাগবে না বলে জানিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ।

পশ্চিমাঞ্চল রেলসূত্রে জানা গেছে, বনলতায় থাকছে ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করা ১২টি নতুন কোচ।

এর মধ্যে শোভন চেয়ারের কোচ ৭টি, এর আসন সংখ্যা ৬৬৪টি। এসি কোচ দুটি, আসন সংখ্যা ১৬০টি। একটি পাওয়ার কোচের আসন সংখ্যা ১৬টি। দুটি গার্ডব্রেকের আসন সংখ্যা ১০৮টি। মোট আসন সংখ্যা ৯৪৮টি।

এদিকে বনলতার কোচ নতুন হলেও ইঞ্জিন পুরনো। ২০১৩ সালে ভারত থেকে আমদানি করা দুটি ইঞ্জিন দিয়ে চলাচল করবে ট্রেনটি। ঘণ্টায় ট্রেনটির সর্বোচ্চ গতিবেগ ৯০ থেকে ৯৫ কিলোমিটার।

সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, ট্রেনটিতে সংযুক্ত রয়েছে উড়োজাহাজের মতো বায়োটয়লেট। এ কারণে মলমূত্র আর রেললাইনের ওপরে পড়বে না।

ট্রেনটিতে থাকছে রিক্লেনার চেয়ার। আছে ওয়াইফাই সুবিধা। প্রতিটি কোচে রয়েছে এলইডি ডিসপ্লে। যার মাধ্যমে স্টেশন ও ভ্রমণের তথ্য প্রদর্শন করা হবে।

কিন্তু থাকছে না শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কোনো ধরনের শ্লিপিং বার্থ। রেল বিভাগের ভাষ্য, যেহেতু ট্রেনটি দিনেরবেলা চলাচল করবে, সে কারণে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বার্থের দরকার পড়ছে না আপাতত।

‘অবৈধই থাকলো মধুমতি মডেল টাউন প্রকল্প’

অবৈধই থাকলো মধুমতি মডেল টাউন। প্রায় সাত বছর আগে দেয়া এক রায়ে সাভারের আমিনবাজারে বিলামালিয়া ও বলিয়ারপুর মৌজার এ প্রকল্পটি অবৈধ ঘোষণা করা হয়। এই রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে আপিল বিভাগে করা মেট্রো মেকার্স ডেভেলপার্স লিমিটেড ও কয়েকজন প্লটমালিকের আবেদন (রিভিউ) খারিজ করে দেয়া হয়েছে।  প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের আপিল বিভাগ আজ এ আদেশ দেন। এর ফলে মধুমতি মডেল টাউন প্রকল্পের ভূমি আগের অবস্থায় (জলাশয়) ফিরিয়ে আনার যে নির্দেশ আপিল বিভাগ দিয়েছিলেন, তাও বহাল রইল।

এর আগে ২০১২ সালের ৭ই আগস্ট আপিল বিভাগ ওই প্রকল্প অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছিলেন। এই রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে মেট্রো মেকার্স ও কয়েকজন প্লটমালিক পৃথক পাঁচটি আবেদন (রিভিউ) করেন। এর শুনানি নিয়ে আজ রিভিউ আবেদনগুলো খারিজ করে আদেশ দেয়া হয়।

আদালতে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতির (বেলা) পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ফিদা এম কামাল, এ এম আমিন উদ্দিন, সাইদ আহমেদ কবির। মেট্রো মেকার্সসহ পুনর্বিবেচনার আবেদনকারীদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী রোকনউদ্দিন মাহমুদ, আবদুল মতিন খসরু, কামাল উল আলম প্রমুখ।

রাজউকের অনুমোদন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই মেট্রো মেকার্স ডেভেলপার্স লিমিটেড বন্যা প্রবাহিত এলাকায় মধুমতি মডেল টাউন হাউজিং প্রকল্প গ্রহণ করে।

এই প্রকল্পের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০০৪ সালে হাইকোর্টে রিট আবেদন করে বেলা। এতে ভূমি, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত এবং পরিবেশ মন্ত্রণালয়, রাজউক ও মেট্রো মেকার্সকে বিবাদী করা হয়। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রুল জারির পাশাপাশি প্রকল্পের কাজে স্থগিতাদেশ দেন হাইকোর্ট। আর রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০০৫ সালের ২৭শে জুলাই হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ মধুমতি মডেল টাউন প্রকল্প অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন। একই সঙ্গে প্লটগ্রহীতাদের স্বার্থ সংরক্ষণ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। এছাড়া ওই প্রকল্পে মাটিভরাট বন্ধ করার বিষয়ে রাজউকের মেট্রো মেকার্সকে দেয়া নোটিশ চ্যালেঞ্জ করে অপর রিট আবেদনটি করে মেট্রো মেকার্স। এই আবেদনও খারিজ হয়।

আদালত সূত্র জানায়, এসব রায়ের অংশবিশেষের বিরুদ্ধে পক্ষগুলো পৃথক চারটি আপিল ও রাজউক একটি আবেদন করে। এর মধ্যে বেলার রিটে ওই প্রকল্প অবৈধ ঘোষণার বিরুদ্ধে মেট্রো মেকার্স একটি এবং মাটিভরাট বিষয়ে রিট খারিজের বিরুদ্ধে অপর আপিলটি করে। আর প্লটগ্রহীতাদের স্বার্থ সংরক্ষণের নির্দেশনার বিরুদ্ধে বেলা আপিল করে। রাজউকও এ বিষয়ে একটি আবেদন করে। আর প্রকল্প অবৈধ ঘোষণার অংশবিশেষের বিরুদ্ধে প্লটগ্রহীতারাও তাদের স্বার্থ রক্ষার জন্য একটি আপিল করেন। এসব আপিল ও আবেদনের ওপর ২০১২ সালের ১৫শে ফেব্রুয়ারি শুনানি শেষ হয়। পরে আদালত বিষয়টি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন। একই বছরের ৭ই আগস্ট আদালত রায় ঘোষণা করেন।

পরে রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে মেট্রো মেকার্স ও কয়েকজন প্লটমালিক পৃথক পাঁচটি আবেদন (রিভিউ) করেন। এর শুনানি নিয়ে আজ রিভিউ আবেদনগুলো খারিজ করে আদেশ দেয়া হয়।

শপথ নিলেন বিএনপি নেতা জাহিদ

শীর্ষ নেতারা সংসদে না যাওয়ার কথা বারবার বলে এলেও বিএনপি থেকে নির্বাচিত ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমান শপথ নিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর কাছে তিনি শপথ নিয়েছেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জাহিদুর রহমানের শপথগ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। দুপুর ১২টায় সেই আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে জাহিদুর রহমান শপথ নেয়ার বিষয়ে তার আগ্রহের কথা জানিয়ে স্পিকার ড. শিরীর শারমিন চৌধুরীকে চিঠি দেন।

ঠাকুরগাঁও-৩ আসন থেকে নির্বাচিত জাহিদের অনুরোধেই শপথের এ আয়োজন করা হয়েছে বলে সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে (পীরগঞ্জ–রানীশংকৈল) তিন সাবেক সাংসদকে হারিয়ে বিএনপির প্রার্থী জাহিদুর রহমান নির্বাচিত হন।

জাহিদুর রহমান ১৯৯১ সাল থেকে নির্বাচন করছেন। দীর্ঘ ২৭ বছর পর মানুষের সহানুভূতির কারণে তিনি এবার জয়ী হতে পেরেছেন।

জাহিদুর রহমান (ধানের শীষ) ৮৮ হাজার ৫১০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ইমদাদুল হক। তিনি ৮৪ হাজার ৩৮৫ ভোট পান।

রংপুর বিভাগের মধ্যে জাহিদুর রহমানই একমাত্র বিএনপির প্রার্থী, যিনি জয়ী হতে পেরেছেন।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ ৮৭ রুটে পরিবহন ধর্মঘট চলছে

গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে বাস থেকে চালককে নামিয়ে পিটিয়ে হত্যার প্রতিবাদ ও ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ ৮৭ রুটে চলছে পরিবহন ধর্মঘট।

বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের ডাকে শুরু এ ধর্মঘট আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এ ধর্মঘট চলবে বলে জানা গেছে।

বুধবার দুপুরে গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে ইয়াবা তল্লাশির নামে বাসচালক জালাল উদ্দিনকে হত্যার ঘটনায় নগরীর কর্ণফুলী থানায় মামলা হয়েছে। নিহতের ছোট ভাই জুয়েল হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন।
এদিকে দিনাজপুরেও অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ডেকেছেন পরিবহন শ্রমিকরা।

বুধবার জালালের লাশ নিজ বাড়ি দিনাজপুরের হেলেঞ্চাকুড়ি এলাকায় নিয়ে আসা হলে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনরা এ হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন।

অপরদিকে ধর্মঘট প্রত্যাহারে বুধবার বিকাল ৫টায় পরিবহন শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে বৈঠক করেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াছ হোসেন। এতে জেলা পুলিশ সুপার নূরে আলম মিনাসহ পুলিশের বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। তবে বৈঠকে প্রশাসনের ডাকে সাড়া দেননি শ্রমিক নেতারা।

তারা ধর্মঘটের পক্ষে অনড় অবস্থান নিয়ে আজ বেলা ১১টায় শ্রমিক ফেডারেশন কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক আহ্বান করেছেন। এ বৈঠকে সিদ্ধান্ত হবে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হবে কিনা।

কর্ণফুলী থানার ওসি আলমগীর মাহমুদ গণমাধ্যমকে বলেন, শ্যামলী পরিবহনের বাসচালককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় করা মামলার তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনাস্থলে প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য নেয়ার পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের কাজ চলছে। একই ভাবে হত্যাকারীদের ধরতে প্রযুক্তির নানা সহায়তা চাওয়া হচ্ছে। আশা করছি হত্যাকারী যে বা যারাই হোক অবশ্যই তাদের ধরা পড়তে হবে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অলি আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, ডিবি পুলিশ পরিচয়ে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ ও নিহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার দাবিতে এ শ্রমিক ধর্মঘট ডাকা হয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ ৮৭ রুটে (৬৮টি আন্তঃজেলা ও ১৯টি স্থানীয়) চট্টগ্রাম থেকে চলাচলকারী যাত্রীবাহী পরিবহনে শ্রমিক ধর্মঘট চলছে।
এছাড়া রোববার সকাল ৬টা থেকে পরদিন সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টা বৃহত্তর চট্টগ্রামের পাঁচ জেলায় (চট্টগ্রাম, তিন পার্বত্য জেলা ও কক্সবাজার) পণ্য ও যাত্রীবাহী উভয় ধরনের পরিবহনে শ্রমিক ধর্মঘট ডাকা হয়েছে।
সোমবার রাত ৮টায় কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে আসে শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস। পথে পটিয়া ও কর্ণফুলী উপজেলাসংলগ্ন শিকলবাহা সেতু এলাকায় বাসটিকে গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে থামায় অন্তত ৭ ব্যক্তি। তারা বাসে উঠে চালক জালালের হাতে হাতকড়া পরিয়ে ইয়াবা বের করে দিতে বলে।
ইয়াবা নেই বলে জানালে চালককে লাথি মেরে ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গাড়ি থেকে নামিয়ে অন্ধকার জায়গায় নিয়ে যায়। মুমূর্ষু জালালকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা শুরু ১০ মে

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা ১০ মে শুরু হবে। এবার পাঁচ ধাপে নেয়া হবে এ পরীক্ষা। প্রথম ধাপে ২০ হাজারের কম প্রার্থী থাকায় সাত জেলার পরীক্ষা নেয়া হবে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের (ডিপিই) অতিরিক্ত মহাপরিচালক আবদুল মান্নান সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এবারও ডিজিটাল পদ্ধতির ব্যবহার করে নেয়া হবে এ পরীক্ষা হবে। এর মধ্যে আছে- সফটওয়্যারের মাধ্যমে আসন ব্যবস্থা করা; রাতেই অনলাইনে জেলায় জেলায় প্রশ্ন পাঠানো। তবে ওই সব প্রশ্ন সকাল ৮টায় বিশেষ কোডের মাধ্যমে খুলে কেন্দ্রেই ছাপানো হবে। এরপর পরীক্ষা নেয়া হবে। পরীক্ষার জন্য মোট ২০ সেট প্রশ্ন তৈরি করা হবে।

এ পরীক্ষার মাধ্যমে ১২ হাজার শিক্ষক নেয়া হবে। এর বিপরীতে সর্বমোট ২৪ লাখ ৫ প্রার্থী আবেদন করেছেন। সেই হিসাবে প্রতি আসনের বিপরীতে প্রার্থী ২০০। তিন পার্বত্য জেলা বাদে বাকি ৬১ জেলায় এবার শিক্ষক নিয়োগ করা হবে। এসব জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী চট্টগ্রাম জেলায় ৯৮ হাজার ৯৬৯ জন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রার্থী ময়মনসিংহ জেলায় ৮৮ হাজার ২১৮ জন। এছাড়া কুমিল্লায় আবেদন পড়েছে ৮৪ হাজার ৭২৮টি, দিনাজপুরে ৬২ হাজার ৯৭১টি, রংপুরে ৫৯ হাজার ৭১টি, জয়পুরহাটে ১৮ হাজার ১৭৮টি, বগুড়ায় ৬৪ হাজার ৭২৭টি, জামালপুরে ৫০ হাজার ৫০টি, যশোরে ৫৫ হাজার ৯৩২টি, টাঙ্গাইলে ৬১ হাজার ৬৩০টি, নওগাঁয় ৪৯ হাজার ৮৬৩টি, রাজশাহীতে ৫৭ হাজার ৩৮২টি, ঢাকায় ৬৪ হাজার ৫৫৮টি, বরিশালে ৬১ হাজার ৮৮৩টি ও সিলেট জেলায় ৫০ হাজার ৩৭০টি।

ওসিসহ পুলিশের ৪ কর্মকর্তার গাফিলতি খুঁজে পেয়েছে তদন্ত কমিটি

সোনাগাজীতে নিহত মাদরাসা শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যাকাণ্ডে চার পুলিশের গাফিলতি খুঁজে পেয়েছে পুলিশ সদর দপ্তরের তদন্ত কমিটি।

এই তালিকায় সোনাগাজী মডেল থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনসহ জেলা পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তারা রয়েছেন। তদন্ত কমিটি এই চার পুলিশের বিরুদ্ধে চরম গাফিলতি, দায়িত্ব পালনে আন্তরিকতার অভাব, ভুক্তভোগীকে নিরাপত্তা না দিয়ে উল্টো হয়রানি, জিজ্ঞাসাবাদের নামে ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া, যৌন হয়রানির অভিযোগ এনে থানায় মামলা দায়েরের পর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়া ও নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়ার পরেও নিরব ভুমিকার সত্যতা পেয়েছে। চলতি মাসের ভেতরেই তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়া হবে।

এছাড়া মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে আরও শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি, নিয়োগ বাণিজ্য, অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। সব কিছু জেনেও পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও স্থানীয় প্রশাসনের নিরব ভুমিকার কারণে তাদেরকেও দায়ী করা হবে। সব কিছু মিলিয়ে অন্তত ২৫ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে শিগগিরই। পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান ডিআইজি রুহুল আমিন গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে চারদিন অবস্থান করে তদন্ত করেছি। মাদরাসা শিক্ষক, নুসরাতের পরিবারসহ আরো অনেকের সঙ্গে কথা বলেছি। আমাদের তদন্তে নুসরাতকে আগুনে পুড়িয়ে মারার জন্য অনেকের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছি। এদের মধ্যে সোনাগাজী থানার ওসিসহ জেলা পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগ পেয়েছি। সত্যতা যাচাইয়ের জন্য দ্বিতীয় দফায় তদন্ত কমিটির দুইজন কর্মকর্তা আরও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন।

তিনি বলেন, আমরা পুরো ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করেছি। এখন পর্যন্ত যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত প্রতিবেদন তাদের বিরুদ্ধেই দেয়া হবে। অভিযুক্ত কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না।
এক প্রশ্নের জবাবে ডিআইজি বলেন এই ঘটনায় অন্তত চারজন পুলিশের বিরুদ্ধে তাদের কর্তব্য কাজে চরম আন্তরিকতা অভাব ও গাফিলতির প্রমাণ পেয়েছি। আমাদের তদন্ত প্রতিবেদনে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করব। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে কিনা বা কি শাস্তি হতে পারে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, প্রতিবেদনে আমরা যার বিরুদ্ধে যে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছি সেগুলো তুলে ধরব। আশা করছি মে মাসের ২৮ তারিখের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিব। আর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আলাদা বিভাগ আছে। প্রতিবেদন দেয়ার পরে সেই বিভাগ হয়তো অভিযুক্তদের ডেকে আনবে। তাদের বক্তব্য শুনবে। তারাই সিদ্ধান্ত নেবে কি শাস্তি দেয়া হবে।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র বলছে, নুসরাত হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত ৪০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছে তদন্ত কমিটি। এদের মধ্যে ওই মাদরাসার শিক্ষক, মাদরাসা পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, নুসরাতের পরিবার, স্থানীয় পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সাংবাদিক, শিক্ষার্থী, স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্য রয়েছেন। তদন্ত কমিটির জিজ্ঞাসাবাদে নুসরাত হত্যাকান্ডে পুলিশ সদস্যদের পাশপাশি অন্তত ২৫ জনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। শিগগিরই তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়া হবে। এই সূত্র আরও বলছে, যৌন হয়রানির অভিযোগ এনে থানায় নুসরাতের মামলা নিতে অনিহা, মামলার পর নুসরাতের নিরাপত্তা, থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদের সময় ভিডিও ধারণ করে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া, নুসরাতের গায়ে আগুন দেয়ার পরে ঘটনা আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা, টাকার বিনিময়ে অন্যায়কারীর পক্ষ নেয়ার অভিযোগ উঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। আবার ১১ই এপ্রিল ফেনীর এসপি জাহাঙ্গীর আলম নুসরাতের পরিবারকে দায়ী করে একটি চিঠি দেন পুলিশ সদর দপ্তরের বিশেষ শাখা ও চট্টগ্রাম রেঞ্জে। নুসরাতের পরিবার অভিযোগ করে ওসিকে বাঁচাতেই এসপি এই চিঠি দিয়েছেন। এসব অভিযোগ উঠার পরেই পুলিশ সদর দপ্তর পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটি করে।

শ্রীলঙ্কায় নিষিদ্ধ হচ্ছে বোরকা

শ্রীলঙ্কাতে পরপর আটটি বোমা হামলায় দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ওই হামলায় একাধিক নারী বোরকা পরে অংশগ্রহণ করেছিল বলে ধারণা করছে গোয়েন্দারা। আর তাই নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই এবার সেখানে বোরকা পরা নিষিদ্ধ করতে এক পদক্ষেপ নিতে চলেছে শ্রীলঙ্কা সরকার।

গতকাল বুধবার শ্রীলঙ্কার দৈনিক ডেইলি মিরর-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার ইস্টার সানডেতে হামলার শিকার নানা ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া আলামত অনুযায়ী গোয়েন্দারা ধারণা করছে, সিরিজ বোমা বিস্ফোরণে বোরকা পরা নারীদের একটি বড় দল অংশগ্রহণ করেছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে দেশটিতে বোরকা ও নিকাব পরা নিষিদ্ধ করতে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সরকার।
দেশটির পার্লামেন্টের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দেশে বোরকা নিষিদ্ধ করতে একাধিক মন্ত্রী প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনার সঙ্গে কথা বলেছেন। ইতিমধ্যেই এ নিয়ে দেশের মসজিদ কর্তৃপক্ষগুলোর সঙ্গে কথা শুরু করেছে সরকার।

রোববারের দেশটিতে সিরিজ বোমা হামলায় এখন পর্যন্ত ৩৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ৫০০ জন। সোমবার কলম্বোর একটি এলাকায় জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালায় সেনাবাহিনী। সেখান থেকে সেনার নাগাল এড়িয়ে বহু জঙ্গি বোরকা পরে পালিয়ে গিয়েছে বলে দাবি একটি সংবাদপত্রে।

উল্লেখ্য, শ্রীলঙ্কা স্বাধীনের পর সেখানে মুসলিমদের মধ্যে বোরকার চলন ছিল না। কিন্তু ১৯৯০ সালে উপসাগরীয় যুদ্ধের পর তা এই দ্বীপরাষ্ট্রে এটি চালু হয়। ফলে এই বোরকাকেই জঙ্গিরা পালাবার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারে বলে ধারণা গোয়েন্দাদের।
টানা আটটি সিরিজ বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৫৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও পাঁচ শতাধিক মানুষ। গত রোববার শ্রীলঙ্কায় তিনটি গির্জা, তিনটি হোটেল ও আরও কয়েকটি জায়গায় এ সিরিজ বোমা হামলা চালানো হয়।
এদিকে শ্রীলঙ্কায় হামলার দুদিন পর দায় স্বীকার করেছে ইসলামিক স্টেট (আইএস)। বিস্ফোরণে জড়িত থাকার অভিযোগে এখন পর্যন্ত ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আটক করা হয়েছে বিস্ফোরণে নিহত এক আত্মঘাতী জঙ্গির গাড়ির চালককেও। এনিয়ে আরও ধরপাকড় চলেছে। এ ব্যাপারে পুলিশকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছে সরকার।

এদিকে শ্রীলঙ্কায় যদি বোরকা নিষিদ্ধ হয় তাহলে দেশটি নাম জুড়ে যাবে চাঁদ, ক্যামেরুন, গ্যাবন, মরক্কো, অস্ট্রিয়া, বুলগেরিয়া, ফ্রান্স, বেলজিয়াম ও চিনের জিন জিয়াং প্রদেশে। এসব দেশে আগেই বোরকা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

প্রথম পত্রের পরীক্ষায় দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্ন

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় বুধবার উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন প্রথম পত্রের নৈর্ব্যক্তিক (এমসিকিউ) প্রশ্নের বদলে দ্বিতীয পত্রের প্রশ্ন বিলি করা হয়েছে। এই ঘটনায় কর্তব্যে অবহেলা ও গাফিলতির অভিযোগে দুজনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ভুলবশত বিলি হওয়া প্রশ্নপত্র বাতিল করা হয়েছে। ছাপাকৃত নতুন প্রশ্নে আগামী শনিবার দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা নেওয়া হবে বলে জানান কুমিল্লা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. রুহুল আমিন ভূঁইয়া।

শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল ১০টায় কুমিল্লা লাকসাম উপজেলার মুদাফফরগঞ্জ আলী নওয়াব উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ পরীক্ষাকেন্দ্রে উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন প্রথম পত্রসহ আরও তিনটি বিষয়ে পরীক্ষা শুরু হয়। এ সময় প্রথম পত্রের নৈর্ব্যক্তিকের বদলে দ্বিতীয় পত্রের নৈর্ব্যক্তিকের প্রশ্নের খাম খোলা ও বিলি করা হয়। মুহূর্তের মধ্যে সেটি পরীক্ষার্থীদের নজরে এলে অন্য সেটের প্রশ্ন দিয়ে পরীক্ষা শুরু হয়।

এরপর বোর্ডের চেয়ারম্যান ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক তদন্ত করে কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রশাসনের দায়িতপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করার জন্য ইউএনওকে নির্দেশ দেন। পরে ইউএনও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মোজ্জাম্মেল হক মিয়াকে প্রত্যাহার করে মুদাফফরগঞ্জ আলী নওয়াব উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের ভূগোল বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক মুহম্মদ মিজানুর রহমানকে নতুন করে দায়িত্ব দেন। একই সঙ্গে পরীক্ষাকেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা ট্যাগ কর্মকর্তা লাকসাম উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা আবুল কাশেমের জায়গায় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা প্রসাদ কুমার ভাওয়ালকে দায়িত্ব দেন।

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আগামী শনিবার উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন বিষয়ের দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা হবে। ওই পরীক্ষার নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্ন নতুন করে ছাপা হবে। পুরো বোর্ডে এই বিষয়ে ১১ হাজার ৬০২ জন পরীক্ষার্থী রয়েছেন। নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রশ্ন জেলার ৬ উপজেলার ১৮৬টি পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছানো হবে।

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. রুহুল আমিন ভূঁইয়া বলেন, ‘খবর পেয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে গিয়ে পুরো বিষয়টি জেনেছি। বিলি হওয়া নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নপত্র বাতিল করেছি। নতুন ছাপানো হচ্ছে। শনিবার নতুন সেটে পরীক্ষা নেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, প্রশাসনকে পরীক্ষা নিয়ে অবহেলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলেছি। এতে পরীক্ষার্থীরা কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হননি। সময়ও অপচয় হয়নি।

ফের কওমির প্রশ্নফাঁস, আজকের পরীক্ষা স্থগিত

হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা আহমদ শফীর নিয়ন্ত্রণাধীন কওমি মাদ্রাসাগুলোর সরকারি বোর্ড আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশের অধীনে চলমান দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফের ফাঁস হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এ প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে দাওরায়ে হাদিস জামাতের বৃহস্পতিবারের আবু দাউদ শরিফের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
সনদের সরকারি স্বীকৃতি পাওয়ার পর প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হওয়া পরীক্ষার প্রশ্নপত্র দুবার ফাঁস হওয়া নিয়ে হোঁচট খেল এ সংস্থাটি।
এদিকে প্রশ্নপত্র ফের ফাঁস হওয়া নিয়ে চলছে অনলাইনে প্রচুর আলোচনা-সমালোচনা।
কওমি মাদ্রাসাগুলোর নিয়ন্ত্রণাধীন কেন্দ্রীয় বোর্ড আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল কেন্দ্রীয় সদস্য ও বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া গওহরডাঙ্গার চেয়ারম্যান মুফতি রুহুল আমিন এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে দাওরায়ে হাদিস জামাতের আজকের (বৃহস্পতিবার) আবু দাউদ শরিফের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
তবে এ বিষয়ের পরীক্ষা পুনরায় কবে অনুষ্ঠিত হবে তা জানতে চাইলে তিনি জানান, সে সম্পর্কে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আগামী বিষয়গুলোর পরীক্ষা ধারাবাহিকভাবে অনুষ্ঠিত হবে কিনা সে বিষয়ে আজ একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
বৈঠকে আল হাইআতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন। তারাই বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেবেন আগামী বিষয়গুলোর পরীক্ষা ধারাবাহিকভাবে অনুষ্ঠিত হবে কিনা, যা পরে আপনাদের জানানো হবে।
সূত্র জানায়, এর আগে বেফাক মহাসচিব মাওলানা আবদুল কুদ্দুস পরিচালিত ফরিদাবাদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কয়েকটি বড় মাদ্রাসায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ওঠে। এ কারণ কেন্দ্রীয় কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ‘আল হাইআতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ চলমান দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল) পরীক্ষা বাতিল হওয়ার পর দ্বিতীয়বারের মতো গত ২৩ এপ্রিল থেকে পুনরায় পরীক্ষা শুরু হয়।
সনদের সরকারি স্বীকৃতি পাওয়ার পর প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হওয়া পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়া নিয়ে হোঁচট খেয়েছিল এ সংস্থাটি।
ফলে গত ১২ এপ্রিল সকালে ঢাকার মতিঝিলে কার্যালয়ে সংস্থাটির কো-চেয়ারম্যান আল্লামা আশরাফ আলীর সভাপতিত্বে একটি জরুরি বৈঠক হয়। সেখানে পরবর্তী সব পরীক্ষা স্থগিত ও অনুষ্ঠিত সব পরীক্ষা বাতিল ঘোষণা করে নতুন তারিখ ঘোষণা হয়।
ওই দিন শনিবার বোর্ডের জরুরি বৈঠকে প্রশ্নফাঁসের উৎস খুঁজতে বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া গওহরডাঙ্গার চেয়ারম্যান মুফতি রুহুল আমিনকে সভাপতি করে এ কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- বেফাক মহাসচিব মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, মুফতি মোহাম্মদ আলী, মাওলানা বাহাউদ্দিন জাকারিয়া ও মাওলানা মাহফুজুল হক।
প্রসঙ্গত জাতীয় সংসদে ‘কওমি মাদ্রাসাসমূহের দাওরায়ে হাদিসের সনদকে আল হাইআতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’-এর অধীনে মাস্টার্স ডিগ্রি (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি) সমমান প্রদান বিল-২০১৮’ পাস করার পর প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
চলতি বছরে দেশের ৬টি কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রায় ২৬ হাজার ৭২১ শিক্ষার্থীর আল হাইআতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’-এর কেন্দ্রীয় এ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে। গত ৮ এপ্রিল থেকে দাওরায়ে হাদিসের পরীক্ষা আরম্ভ হয়ে ১৮ এপ্রিল পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা ছিল।

ছবিতে খালেদা জিয়ার জেল জীবন

বাংলাদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া তার রাজনৈতিক জীবনে কখনো এত দীর্ঘসময় ধরে কারাভোগ করেননি। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে তিনি গত বছর ৮ই ফেব্রুয়ারি থেকে ঢাকার পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে কারাভোগ করছেন। এর মধ্যে দলটি তার মুক্তির দাবিতে আইনি এবং রাজনৈতিক বেশ কিছু কর্মসূচী দিলেও কোন সুবিধা করতে পারেনি।

খালেদা জিয়ার দীর্ঘ এই জেল জীবনের কোন ছবি আসেনিমি মিডিয়ায়। এই দৃশ্যায়নের ছবিগুলো এঁকেছেন রেডিও ফ্রি এশিয়ার রাজনৈতিক কার্টুনিস্ট ওয়াং লিমিং, যিনি ‘রিবেল পিপার’ ছদ্মনামে কার্টুন এঁকে থাকেন।

বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া। দুর্নীতির মামলায় ১ বছরের বেশি সময় ধরে কারাবন্দী। যদিও এই মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত হিসেবে দাবি করে আসছেন তিনি।
কারাগারে খালেদা জিয়ার কক্ষে যাবার অনুমতি কারো নেই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেতৃবৃন্দের বর্ণনা অনুযায়ী বেনারনিউজ তাঁর কারা জীবন দৃশ্যমান করার চেষ্টা করেছে।
খালেদা জিয়াকে রাখা হয়েছে ঢাকার পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে। ২০১৬ সালে সকল বন্দীকে স্থানান্তরের পর -২২৮ বছরের পুরোনো এই কারাগারে খালেদা জিয়াই একমাত্র বন্দী।
পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের দোতলায় খালেদা জিয়ার কক্ষটি অবস্থিত। খালেদা জিয়ার ঘরটি দৈর্ঘ্যে দশ ও প্রস্থে ৮ ফুট। ঘরে খালেদা জিয়ার জন্য একটি টেলিভিশনও রয়েছে। যেটিতে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) দেখতে পারেন।

খালেদা জিয়ার বিছানাটি দৈর্ঘ্যে ছয় ও প্রস্থে ছয় ফুট। ঘরটিতে চেয়ার, টেবিলসহ ব্যক্তিগত ব্যবহার্য অন্যান্য জিনিস রয়েছে বলে বেনারকে জানিয়েছেন কারা কর্মকর্তারা।

জেলখানায় খালেদা জিয়ার কক্ষের পরিবেশ সম্পর্কে গত বছর ১৭ জুন ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “ঢাকা সেন্ট্রাল জেল সত্যিকার অর্থে জঘন্য। খালেদা জিয়ার ঘরে বড়ো বড়ো ইঁদুর। আপনারা শুনলে অবাক হবেন, তাঁর ঘরে এক রাতে বিড়াল বড় ইঁদুর ধরেছে। তারপর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে একজন সুবিধাপ্রাপ্ত কয়েদি হিসেবে জেলখানায় খালেদা জিয়ার ঘরটি খুবই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। সব সময় জেল কর্তৃপক্ষ তাঁর খেয়াল রাখেন।
খালেদা জিয়ার বিচারের জন্য কারাগারের ভেতরেই একটি অস্থায়ী আদালত স্থাপন করেছে সরকার। আদালত কক্ষটি দৈর্ঘ্যে ২০ ও প্রস্থে ১২ ফুট।

দুইজন পুলিশ সদস্য হুইল চেয়ার ঠেলে খালেদা জিয়াকে নিজের কক্ষ থেকে আদালতে উপস্থিত করেন। ফাতেমা আদালতেও খালেদা জিয়ার সাথে থাকেন। যদিও খালেদা জিয়া বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আদালতে উপস্থিত হতে অস্বীকৃতি জানান।
আদালতে তাঁর সাথে দলের নেতৃবৃন্দ ও আইনজীবীরা কথা বলতে পারেন।
গত ১ এপ্রিল চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর আগে গত অক্টোবরেও তাঁকে মাসখানেকের জন্য এই হাসপাতালে এনে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

তাঁর স্বাস্থ্য সর্ম্পকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বেনারকে বলেন, “ডাক্তাররা আমাদের যা বলেছেন সে অনুযায়ী খালেদা জিয়ার অধিকাংশ স্বাস্থ্য সমস্যা পুরোপুরি ভালো হবে না। এগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।”

ফুটপাতে ট্রাক; চট্টগ্রামে ৪ শ্রমিক নিহত

ছবি সংগৃহীত

ডেস্ক রিপোর্ট:
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতে উল্টে গিয়ে চার শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ২ জন আহত হয়েছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের নাম জানাতে পারেননি ওসি।

আজ বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের গাবতল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
রাঙ্গুনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইমতিয়াজ ভুইয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ট্রাকটি গাছের গুঁড়ি নিয়ে চট্টগ্রামের দিকে যাচ্ছিল। গবতলী এলাকায় চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে ট্রাকটি রাস্তার পাশে নির্মাণ শ্রমিকদের একটি ঝুপড়িতে ঢুকে পড়ে। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস গিয়ে চারজনের লাশ উদ্ধার করে। দুই জনকে পাঠানো হয় হাসপাতালে।

কেরানীগঞ্জে প্লাস্টিক কারখানায় আগুন

কেরানীগঞ্জ: কেরানীগঞ্জে একটি ওয়ানটাইম গ্লাস-প্লেট তৈরির প্লাস্টিকের কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ২২ মিনিটের দিকে চুনকুটিয়ার হিজলতলা বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষের অপারেটর জিয়াউর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করছেন।

তিনি বলেন, খবর পেয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৭টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।
আজ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। আগুন লাগার সূত্রপাত্র সম্পর্কে জানা যায়নি

এছাড়া আগুনে হতাহত সম্পর্কে তাৎক্ষণিক কিছু জানা যায়নি। ক্ষয়ক্ষতি পরিমাণ নিরূপণে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

বিএনপিকে উজ্জীবিত করতে ভূমিকা রাখছে অন্যতম সহায়ক শক্তি মানিকগঞ্জ জেলা প্রচারদল

মোঃ ফজলুল করিম শামীম: বিএনপির অন্যতম এক সহায়ক শক্তি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী প্রচারদল। সারাদেশে ছড়িয়ে পরছে এর সাংগঠনিক কার্যক্রম। যেখানে সকল গণমাধ্যম আজ হুকুমের গোলাম সেখানে দূর্দীনে বিএনপির সকল খবর ও রাজপথে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে এই সংগঠন।
সাংগঠনিক জেলা হিসেবে মানিকগঞ্জ জেলায় প্রচারদল রাজপথ সহ অনলাইনে সক্রীয় ভূমিকা পালন করছে।একঝাক তরুন ও সাহসীদের সমন্বয়ে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে জেলা প্রচারদল। এ সংগঠনের সভাপতি হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছে জেলা ছাত্রদলের সহ সভাপতি আবুল বাশার লিমন, সাধারন সম্পাদক হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছে যুবনেতা এইচ এম মহসীন ও সাংগঠনিক সম্পাদক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সবেদ খান।
প্রচারদল সম্পর্কে জেলা সভাপতি আবুল বাশার লিমন বলেন, প্রচারদল এমনই একটা সংগঠন যেখানে নেতৃত্ব দিচ্ছে সকল অঙ্গসংগঠনের মেধাবী যুবকরা।তিনি আরো বলেন আমাদের কেন্দ্রীয় সংসদও আরোও শক্তিশালী যার প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে আছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ভাই ও উপদেষ্টা হিসেবে আছেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেক ভাই। কেন্দীয় সভাপতি কেন্দ্রীয় যুবদল নেতা মাহফুজ কবির, সাধারন সম্পাদক হিসেবে আছেন কেন্দ্রীয় যুবদলের পরিশ্রমী নেতা রাজীব কুমার ঘোষ যিনি সকল ক্ষেত্রে সকল কর্মীর খোজ রাখেন এবং সাংগঠনিক নির্দেশনা প্রদান করেন।তিনি আরোও বলেন আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে আমাদের এই সংগঠনেই কেন্দ্রীয় পর্যায়ে ও ঢাকা বিভাগের দায়িত্বে আছে আমাদেরই জেলার সন্তান ছাত্রদল নেতা মেহেদী হাসান সানী যিনি কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক পদে আছেন।আমাদের পাশে থেকে সকল কর্মসূচীতে সক্রীয় অংশগ্রহণ ও পরামর্শ প্রদান করেন।

প্রচারদল সম্পর্কে জেলা সাধারন সম্পাদক এইচ এম মহসীন বলেন, আমরা ঐক্যবদ্ধ একটি সংগঠনের নেতৃত্ব দিচ্ছি যারা বিএনপিকে শক্তি জোগাড় করে চলছি।বিপথগামী হওয়ার আগে সকল তরুণদের নিয়ে আমরা রাজপথ ও অনলাইনে কাজ করে যাচ্ছি।আমরা সবাই দলীয় স্বার্থে রাজপথে দেশনেত্রীকে মুক্ত করতে যেকোন সময় ডাক আসা মাত্রই নেমে পরব| ইনশাআল্লাহ প্রচারদল এগিয়ে যাবে।তিনি আরোও বলে|, এই মূহুর্তে বিএনপির সকল উচ্চ পর্যায়ের নেতাদের প্রচারদলের প্রতি দৃষ্টি দেওয়া উচিত।

প্রচারদলের ঢাকা বিভাগের দায়িত্ব পাওয়া ছাত্রদল নেতা কেন্দ্রীয় প্রচারদলের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মেহেদী হাসান সানীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন ‘আমরা দলের এমন একটা সময় সংগঠনের সাথে কাজ করে যাচ্ছি যখন দেশে একনায়কতন্ত্র কায়েক চলছে।সকল অত্যাচার সহ্য করেও আমরা সকলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে বদ্ধপরিকর।যেখানে স্হবিরতা ও দীর্ঘকালীন কমিটি জটের কারণে অনেকে বিমূখ ও বিপথগামী হওয়ার চিন্তা করে তাদেরকে ঐক্যবদ্ধ করে দেশনেত্রীর মুক্তি আন্দোলনে প্রচারদল বিশেষ ভূমিকা রাখছে।সকলকে সাংগঠনিকভাবে কাজে লাগিয়ে পরবর্তিতে প্রচারদলের পাশাপাশি অন্যান্য অঙ্গসংগঠনে নেতৃত্ব দেওয়ার মত যোগ্যতা অর্জন করছে। মানিকগঞ্জ জেলা প্রচারদল প্রসঙ্গে তিনি বলেন মানিকগঞ্জ বিএনপির ঘাটি আর এই ঘাটিকে উজ্জীবিত রাখছে প্রচারদল অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের পাশাপাশি প্রচারদল রাজপথ সহ সকল জায়গায় ভূমিকা রাখছে।জেলা প্রচারদলের সুপার সেভেন কমিটি আমরা করেছি। ইনশাআল্লাহ খুব শীঘ্রই সকল অঙ্গসংগঠনের মেধাবীদের সমন্বয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে।এ নিয়ে সবাই খুবই প্রফুল্লিত। তারপরই হাইকমান্ডের নির্দেশনা আসবে সামনে মানিকগঞ্জ জেলা প্রচারদল দেশনেত্রীর মুক্তি আন্দোলনে একসাথে ঝাপিয়ে পরবে।সকল খবর নিরপেক্ষ ভাবে প্রকাশ ও রাজপথের সকল কর্মসূচি পালনই তাদের মূল লক্ষ্য|

আইনের শাসন ও বর্তমান প্রেক্ষাপট

এ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার:

বিস্মিল্লাহির রাহ্মানির রাহিম। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার (জঁষব ড়ভ খধ)ি দাবী দীর্ঘ দিনের, কিন্তু এর প্রতিষ্ঠার চেয়ে ব্যক্তি শাসন প্রতিষ্ঠার কলাকৌশল অনেক বেশী। বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা ব্যক্তি শাসন প্রতিষ্ঠার পক্ষে, কারণ ব্যক্তি শাসন প্রতিষ্ঠিত থাকলে কর্মচারীরা অর্থাৎ আমলারা সমুদয় সুযোগ সুবিধা “ভোগ করে এবং তাদের ক্ষমতা প্রদর্শনের রাস্তা অনেক প্রশস্ত থাকে, কেননা ব্যক্তি শাসনে জবাব দিহিতার পথ দিনে দিনে সরু হতে থাকে বিধায় রাজকর্মচারীরা নিজেকে ধরাকে সড়া জ্ঞান মনে করে যা খুশী তাই করতে পারে, শুধুমাত্র উপরস্ত কর্মকর্তাকে সন্তোষ্ট রাখতে পারলেই তাদের পথে অন্য কোন কাটা থাকে না। ফেনীর সোনাগাজীর নুসরাত থানার সর্বোচ্চ বড় কর্তার নিকট নালিশ করে উপহাসের পাত্র হয়েছে। থানায় ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন নিজেকে জবাবদিহিতার আওতায় রাখার দায়িত্বের পরিবর্তে ভিডিও চিত্র ভাইরাল করে নূসরাতকে পুড়িয়ে হত্যাকে ত্বরান্বিত করেছে।

বিচার প্রক্রিয়া, বিচারকের স্বাধীনতা প্রভৃতি নিয়ে প্রতিনিয়তই অনেক কথা আওড়ানো হচ্ছে। বিচারকগণ সরকারের মূখের দিকে তাকিয়ে মামলার রায় প্রদান করে একথাও বিচারপ্রার্থীগণ বিশ্বাস করে। বিচার বিভাগের ভাবমুর্তি নিয়ে কথা বলার পূর্বে বিচারপতি এস.কে. সিনহার বিদায় বেলাটি পর্যালোচনা করলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আজ কোথায় তা সহজেই উপলব্দি করা যাবে।

ফেনী জেলাধীন সোনাগাজীর উপজেলার ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফির প্রতি ওসি কর্তৃক যে উপহাস করা হয়েছে তা বর্তমান সমাজ ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় একটি চিত্র মাত্র। নির্যাতিত বিচার প্রার্থীদের প্রতি এমনি ধরনের উপহাস প্রতি নিয়ত করা হচ্ছে। মিডিয়ার কারণে কোনটি প্রকাশ পায়, কোনটি প্রকাশ পায় না। মাদক ব্যবসায়ীদের সরকার পুলিশ দ্বারা ক্রসফায়ার করে। পুলিশের একটি অংশ মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকায় অভিযোগে গ্রেফতার হচ্ছে, কিন্তু তাদের (পুলিশ) ক্রস ফায়ার করা হচ্ছে না (মাদক ব্যবসায়ীদের প্রতি কোন কারণেই বিন্দুমাত্র সমর্থন তো দূরের কথা নুন্যতম সহানুভুতি থাকাও পাপ হবে। শুধুমাত্র দেশে প্রশাসনিক ব্যবস্থার একটি চিত্র প্রকাশের জন্য এ উপমা দেয়া হলো)।

সরকারী দল অর্থাৎ ছাত্রলীগ/যুবলীগ পুলিশ পিটানোর অনেক সংবাদ পত্রিকায় প্রকাশ পাচ্ছে। সরকারী দল পুলিশকে পিটালে তারা (পুলিশ) ব্যবস্থা নেয় না বরং খুশী হয় বলে মনে হচ্ছে। এমনি একটি সংবাদ ১৮/৪/২০১৯ ইং তারিখে পত্রিকান্তরে প্রকাশ পেয়েছে, যার শিরোনাম “ওরা আ.লীগের, বিএনপি হইলে ব্যবস্থা নিতে পারতাম: আড়াইহাজার ওসি”। পাঠকের সুবিদার্থে সংবাদটি নি¤েœ তুলে ধরা হলো :

“পুলিশ পিটিয়েছে আড়াইহাজার গোপালদী ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সুজয় কুমার সাহা ও তার কর্মীরা। ১৭/৪/২০১৯ দুপুরের দিকে গোপালদী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে ঢুকে তিনি পুলিশকে পিটিয়ে আহত করে তারা। তবে, এ ঘটনায় পুলিশ বেধড়ক মার খেলেও আড়াইহাজার থানা পুলিশের অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) মোঃ আক্তার হোসেন মোটেও ব্যথিত নন বরং তিনি পক্ষ অবলম্বন করেছেন হামলাকারী ছাত্রলীগের পক্ষে। একই সাথে তিনি পুলিশ পেটানো ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নিজের লোক বলেই মন্তব্য করেন। একই সাথে এ সক্রান্ত সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ করেন তিনি।”

পুলিশ একটি দীর্ঘ দিনের পুরাতন এবং শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান। সকল আইন তাদের দ্বারা কার্যকর হচ্ছে। দূর্নীতি দমন কমিশন পুলিশ বিভাগ থেকে ডেপুটেশনে অনেক জনবল এনেছে দূর্নীতির মামলা তদন্ত করার জন্য। অথচ পুলিশের বিরুদ্ধে দূর্নীতির অভিযোগই সবচেয়ে বেশী। সব সরকারই পুলিশকে লাঠিয়াল হিসাবে ব্যবহ্নত করেছে। তবে বর্তমান শেখ হাসিনা সরকার একেবারেই পুলিশ নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। কারণ একতরফা নির্বাচনী বৈতরনী পাড় হওয়ার জন্য পুলিশই ছিল সবচেয়ে বড় নিয়ামক শক্তি। একথাগুলির পরিসম্পত্তি করতে চাইলে করা যায় না, কারণ রাষ্ট্র, সমাজ, ব্যক্তি সকলই এখন আমলা নির্ভর। জনপ্রতিনিধিদেরও পুলিশ এখন বুড়ো আঙ্গুল দেখানোর খবর বিভিন্ন জেলায় চাওড় হচ্ছে। তবে এ জন্য যুক্তি সংগত কারণ রয়েছে। পুলিশ জানে জনপ্রতিনিধি পুলিশ বানিয়েছে এবং এ কথাটি অস্বীকার করার উপায় জনপ্রতিনিধিদের হেকমতে কুলাবে না। ফলে জনগণের স্বার্থে যারা সোচ্চার হওয়ার কথা তারাও আমলা ও পুলিশের নিকট জিম্মি। ফলে আমলা ও পুলিশের শক্তি এমনিভাবে প্রকাশ পেয়েছে যার নিকট গোটা সমাজ ব্যবস্থা জিম্মি হয়ে পড়েছে। আমলা ও পুলিশের পোষ্টিং প্রমোশন এখন রাজনৈতিক বিবেচনায় হয় যার প্রকোপ এখন বহুগুনে বৃদ্ধি পেয়েছে। চাকুরী মেয়াদ শেষ হলেও অতি অনুগত আমলাদের চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে নিয়মিত প্রমোশনের দরজা নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। যাদের আতœীয় স্বজন সরকারী দল করে না যোগ্যতা থাকা স্বত্বেও প্রমোশনের ফিট লিষ্টে তাদের নাম উঠে না।

দীর্ঘ দিন পরে হলেও ১৫/৪/২০১৯ ইং তারিখে বি.জি.এম.ই.এ ভবন ভাঙ্গার সংবাদ জাতির জন্য একটি সুখবর। সর্বোচ্চ বিচার বিভাগের হস্তক্ষেপ না হলে সম্পদশালীদের স্বার্থরক্ষার এ ভবনটি ভাঙ্গা সম্ভব হতো না। অর্থশালীরা মনে করে অর্থের নিকট সকলকেই জিম্মি করা যায়। কিন্তুবি.জি.এম.ই.এ ভবন ভাঙ্গার সংবাদ ঐ ধরনের মাসকিতার উপর একটি চপোটাঘাত। বিশাল দ্বৈত্যকার বি.জি.এম.ই.এ ভবনটি অবৈধ পন্থায় কি ভাবে হাতিরঝিল সৌন্দর্য্য বর্ধিত করন এলাকায় গড়ে উঠলো তা নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে একটি স্বেতপত্র প্রকাশ করা আবশ্যক। তবেই জনগণ জানতে পারতো উপর তলার লোকদের হাত কতটুকু লম্বা। উপর তলার লোকদের খাঁই খাঁই স্বভাবের কারণে গোটা দেশের ৬৫%-৭০% সম্পদ তাদের হাতে এককভাবে কুক্ষিগত হয়ে পড়েছে। অন্য দিকে গরীব দিন দিন আরো নিঃস্ব হচ্ছে। ব্যাংক লুটেরা ও ভূমিদস্যুদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে গোটা অর্থনীতি। ব্যাংকের অর্থ তারাই ভিন্ন ভিন্ন নামে আতœসাৎ করছে যারা পরিচালনা পর্ষদের প্রভাবশালী সদস্য। কৃষকদের নিকট থেকে জমি ক্রয় না করেই ড্রেজার দিয়ে ভরাট করে ফেলছে ফসলী জমি। অথচ ফসলী জমি যত্রতত্র ব্যবহার না করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর দিক নির্দেশনা রয়েছে। সংবিধানের অনুচ্ছেদ-১৮ক মোতাবেক পরিবেশকে সুরক্ষা করার জন্য রাষ্ট্র বদ্ধ পরিকর। অথচ সরকার বা পরিবেশ অধিদপ্তরের কোন প্রকার অনুমতি ব্যতিত ভূমিদস্যুরা ঢাকার আশে পাশে বিশেষ করে রাজউকের পূর্বাচল এলাকায় (রূপগঞ্জ উপজেলা) সংলগ্ন খাল, বিল, পুকুর, ঈদগাহ মাঠ, কবরস্থান প্রভৃতি ড্রেজার পাইপ সংযোগ করে বালু দ্বারা ভরাট করে ফেলছে। পরিবেশ অধিদপ্তর বা প্রশাসন এগুলি দেখেও দেখছে না। কারণ আবাসন প্রকল্প করার জন্য ন্যায্যমূল্য দিয়ে কৃষকের জমি ক্রয় প্রয়োজন হয় না, পরিবেশ অধিদপ্তর ও প্রশাসনকে ক্রয় করলেই হয়।

বিচার বিভাগের সংস্কার বিচার প্রার্থী গণমানুষের দীর্ঘ দিনের দাবী। দেশের সর্বোচ্চ আদালত অনেক অবিচার তথা প্রশাসন/আমলাদের অযাচিত কার্যকলাপ অনুভব করেও প্রতিকার করে না বা করতে পারে না, কারণ তারাও মনমানসিকতার দিক কোথায় অবস্থান করার কথা তাহাও উপলব্দি করা দরকার। কারণ বিচারপতি এস.কে সিনহার উত্তান ও পতনের বিষয়টি পর্যালোচনা করলেও সব কিছু বুঝে নেয়া যায়। সম্প্রতি শিশু ও মহিলাদের জবানবন্দী মহিলা ম্যাজিষ্ট্রেট দ্বারা লিপিবদ্ধ করায় সুপ্রীমকোর্টের আদেশ প্রদান নিশ্চয় বিচার বিভাগের সংস্কারমূলক পদক্ষেপ, এ ধরনের পদক্ষেপ সাদুবাদ পাওয়ার যোগ্য। পাশাপাশি বিচারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য প্রসিকিউশন তথা পুলিশ, র‌্যাব, দূদক প্রভৃতির উপর একক নির্ভরশীলতা ন্যায় বিচারের অন্তরায় বিধায় এ নির্ভরশীলতা থেকে বের হওয়ার উদ্দেগে বিচার বিভাগ থেকে নেয়া জনগণের প্রত্যাশা।

লেখক

কলামিষ্ট ও আইনজীবি (এ্যাপিলেট ডিভিশন)

মোবাঃ ০১৭১১-৫৬১৪৫৬

ঊ-সধরষ: ঃধরসঁৎধষধসশযধহফধশবৎ@মসধরষ.পড়স

সর্বশেষ সংবাদ