শনিবার | ২৫শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং | ১১ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | রাত ২:১৭

মহানবীর (সা.) কালজয়ী জীবনাদর্শ বিশ্ব মানবতার মুক্তি সনদ

0

নিজস্ব প্রতিবেদক:
রবিউল আউয়াল মাসে আমাদের প্রিয় রাসুল, সর্বশেষ নবী এবং বিশ্ব মানবতার ইহলৌকিক ও পারলৌকিক মুক্তিদূত হজরত মোহাম্মদ (সা.)-এর আগমন ঘটেছিল এবং এ মাসে তিনি দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়ে আল্লাহ তায়ালার সান্নিধ্যপ্রাপ্ত হন। মাসটি মুসলিম উম্মাহর জন্য একই সঙ্গে আনন্দের, আবেগের ও বেদনার। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন প্রিয় রাসুল সম্পর্কে পবিত্র কোরআন শরীফে ঘোষণা করেছেন, ‘আমি আপনাকে সারা বিশ্বের জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেছি (সূরা আল আম্বিয়া, আয়াত ১০৭)। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দুনিয়ায় সাম্য, শান্তি এবং সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ হিসেবে আমাদের শেষ নবী (সা.) চিরজাগরুক থাকবেন, চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন সে ব্যাপারে বিন্দুমাত্র সন্দেহের অবকাশ নেই। দয়ায়, ক্ষমায়, দানে, কর্মে, উদারতায়, মহত্ত্বে, জ্ঞানে, ধর্মে সাইয়িদুল মুরসালিন, প্রিয় নবী (সা.) সর্বকালের মানুষের সর্বোত্কৃষ্ট আদর্শ।
নবুওয়তির ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ মিশন হজরত মোহাম্মদ (সা.)-এর হাতে পূর্ণতা লাভ করে। তাঁর মিশনের লক্ষ্য ছিল জুলুমের অবসান ঘটিয়ে মানব জীবনের সর্বক্ষেত্রে ন্যায়বিচার ও ইনসাফ কায়েম করা। যে লক্ষ্য নিয়ে তিনি দুনিয়ায় আবির্ভূত হন, ২৩ বছরে প্রাণান্তকর প্রয়াস চালিয়ে তিনি তা কার্যকর করেন সার্থকভাবে। তাঁর উপস্থাপিত জীবন ব্যবস্থা ছিল মানব জীবনের সর্বক্ষেত্রে সবদিক দিয়ে ইনসাফ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার নিয়ামক ও চালিকা শক্তি। আল্লাহ্ তায়ালার নির্দেশনা অনুযায়ী রাসুলুল্লাহ্ (সা.) সমাজে ন্যায়বিচারের মানদণ্ড সুপ্রতিষ্ঠিত করেন। জাতি-ধর্ম, বর্ণ-শ্রেণী, পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন, ধনী-দরিদ্র, প্রভু-ভৃত্য সবাইর ক্ষেত্রে বিচার সমান, এখানে বিন্দুমাত্র হেরফেরের অবকাশ ছিল না। দয়া বা পক্ষপাতিত্ব আল্লাহ্র বিধান কার্যকরকরণে কোনোরূপ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেনি। হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (সা.) তাঁর নিজস্ব ব্যাপারে কারও কাছ থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করেননি (হাফিয আবু শায়খ ইস্ফাহানি, আখলাকুন্ নবী (সা.), পৃ. ১৯)।
রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় মুহাজির ও আনসারদের ভ্রাতৃত্ববন্ধনে আবদ্ধ করার যে মহত্ কর্ম সম্পাদন করেন তা মানব ইতিহাসের এক গৌরবদীপ্ত মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। এটা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অনন্য রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও বিচক্ষণতার প্রমাণ। তিনি ঘোষণা করেন, ‘আল্লাহর পথে তোমরা দু’জন দু’জনে ভাই ভাই হয়ে যাও।’ সে সময় মুসলমানরা যেসব সমস্যার সম্মুখীন হন, এ ভ্রাতৃত্বের বিধান ছিল তার চমত্কার সমাধান। সামাজিকতা, মানবিকতা ও পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে দীন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে রাসুলুল্লাহ (সা.) মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে প্রত্যেকের হাদিয়া-উপঢৌকন কবুল করতেন এবং বিনিময়ে তাদেরও উপহার-উপঢৌকন দিতেন। রাজা-বাদশাহদের পক্ষ থেকে উপহার গ্রহণে তাঁর কোনো দ্বিধা ছিল না। মুসলমানদের বৈরী শক্তি পারস্য সম্রাট কর্তৃক প্রেরিত কিছু হাদিয়া তিনি কবুল করেন। আয়েলার শাসক রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে একটি শ্বেত খচ্চর উপহার দেন, প্রতিদানে তিনি তাকে একটি চাদর প্রদান করেন (জামে তিরমিযি, ৪খ,পৃ. ১৮৩; সহিহ বুখারি, ৪খ, পৃ.৩৬৩)।
মহানবী হজরত মোহাম্মদ (সা.) শিশুদের প্রতি অকৃত্রিম স্নেহ, মমতা ও ভালোবাসা প্রদর্শন করতেন এবং সোহাগভরা ব্যবহার দিয়ে তাদের শিষ্ঠাচার শিক্ষা দিতেন। সফর থেকে গৃহে প্রত্যাবর্তনের সময় পথিমধ্যে যেসব শিশু পাওয়া যেত তিনি সওয়ারির অগ্র-পশ্চাতে তাদের তুলে নিতেন এবং পথে-ঘাটে খেলাধুলারত শিশুদের সঙ্গে দেখা হলে মুচকি হেসে সালাম দিতেন। আনাস ইব্ন মালিক (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর চাইতে শিশুদের প্রতি অধিক স্নেহ প্রদর্শনকারী আমি আর কাউকেও দেখিনি। রাসুলুল্লাহ (সা.) ছোটদের ‘ইয়া বুনাইয়া’ অর্থাত্ ‘হে আমার প্রিয় পুত্র’ বলে সম্বোধন করতেন। তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি ছোটদের স্নেহ করে না আর বয়োজ্যেষ্ঠদের শ্রদ্ধা করে না সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়; হতভাগ্য ব্যক্তি ছাড়া কারও কাছ থেকে দয়া-মমতা ছিনিয়ে নেয়া হয় না; দয়াবানদের আল্লাহ দয়া করেন, তোমরা পৃথিবীবাসীদের প্রতি দয়া করো তাহলে আকাশবাসী (আল্লাহ তায়ালা) তোমাদের প্রতি দয়া করবেন।’
হজরত মোহাম্মদ (সা.) ইতিহাসে সর্বপ্রথম মহামানব যিনি হতভাগ্য দাস-দাসীদের প্রতি অনুপম সহানুভূতি ও মহানুভবতা প্রদর্শনপূর্বক দাসপ্রথা উচ্ছেদের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। দাসমুক্তির লক্ষ্যে তিনি সমাজে পরিবেশ গড়ে তোলেন; মানুষের মন-মেজাজকে তৈরি করেন; বঞ্চিত মানুষের জন্য অন্তরে মানবিক প্রেরণার জোয়ার সৃষ্টি করেন এবং দাসমুক্তিকে ইবাদতরূপে চিহ্নিত করেন। দাস-দাসীদের প্রতি ব্যক্তিগত ও সামষ্টিকভাবে মানবিক আচরণের মাধ্যমে তিনি তাদের মনুষ্য পর্যায়ে উন্নীত করেন; পরিবারের সদস্যরূপে বিবেচনা করেন। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর উদ্ভাবিত ও প্রবর্তিত এ পদ্ধতি দাসপ্রথা উচ্ছেদের পথে কাঙ্ক্ষিত ফল বয়ে আনে।
আজ মুসলমানদের একটি অংশ এখন মহানবী (সা.)-এর প্রদর্শিত পথ ও আদর্শ থেকে বিচ্যুত। তারা কোরআন-হাদিসের শিক্ষা ভুলে গিয়ে পরস্পর হিংসা-বিদ্বেষ ও হানাহানিতে লিপ্ত; ফলে বিশ্বের বিভিন্ন জনপদে বিস্তার লাভ করছে সন্ত্রাস ও অশান্তির দাবানল। মানুষের প্রতি মানুষের করুণা, মমতা, ভালোবাসা ও প্রীতির ধারা হচ্ছে ক্ষীণতর। নির্বিচারে একে অপরকে হত্যার মতো নৃশংসতায় লিপ্ত হয়েছে মানুষ। অনিয়ম ও নৈরাজ্যই যেন পরিণত হয়েছে নিয়মে। দুর্নীতি পরিণত হয়েছে সামাজিক আচারে। মানুষ হয়ে পড়েছে আত্মকেন্দ্রিক ও স্বার্থপর। অথচ মহানবী হজরত মোহাম্মদ (সা.) প্রবর্তিত ধর্মের শিক্ষা হচ্ছে ইহলৌকিক ও পারলৌকিক কল্যাণ। প্রিয়নবী (সা.) মানুষের দুঃখ-কষ্ট বুক পেতে নিয়েছেন। তিনি ছিলেন বিশ্বের শ্রেষ্ঠ মানবতাবাদী। সমাজদেহ থেকে অত্যাচারের মূলোত্পাটন করেছেন তিনি। ইসলাম শান্তি, কল্যাণ ও মানবতার ধর্ম। এটাই প্রিয়নবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ। আজ বিশ্বজুড়ে চলছে অন্যায় যুদ্ধ ও ভয়াবহ নিপীড়ন। তাঁর কালজয়ী শিক্ষা এবং দিকনির্দেশনাই অনাচার, নিপীড়ন, হানাহানি ও নৈরাজ্যের দুঃসহ অবস্থা থেকে মানুষকে মুক্তিদান করতে পারে। মহানবী (সা.)-এর আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে আগ্রাসী শক্তি রুখে দেয়ার লক্ষ্যে মুসলিম উম্মাহর যুবক-তরুণদের সম্মিলিত প্রয়াস নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। আল্লাহ তায়ালা তাওফিক দান করুন।
সূত্র: ইন্টারনেট, ফেসবুক

ডিআরইউ সদস্য লেখক সম্মাননা-২০১৭’ পুরস্কারের মর্যাদা নির্ধারণ হয় বিচার প্রক্রিয়ায়

0

নিজস্ব প্রতিবেদক:
অর্থ নয়, বিচার প্রক্রিয়াই পুরস্কারের মর্যাদা নির্ধারণ করে বলে মন্তব্য করেছেন একুশে পদকে ভূষিত জাতিসত্তার কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) আয়োজিত ‘সদস্য লেখক সম্মাননা-২০১৭’ প্রদান অনুষ্ঠানে দেয়া প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। মুহম্মদ নূরুল হুদা বলেন, পুরস্কারের মর্যাদা নিরূপনে অর্থই সবসময় মানদ- নয়, বিচার প্রক্রিয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ডিআরইউর এ উদ্যোগ সংগঠনের সদস্যদের সৃজনশীলতাকে উৎসাহিত করবে। ডিআরইউর সদস্য লেখকদের মধ্যেই অনেকে হয়ে উঠবেন সমকালীন সাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ কবি-সাহিত্যিক। কারণ সাহিত্য ও সাংবাদিকতা একটি অন্যটির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বাংলা সাহিত্যের দিকপালদের অনেকেই খ্যাতনামা সাংবাদিক ছিলেন। সাংবাদিকদের হাতেই রচিত হয়েছে বিশ্বসাহিত্যের অনেক উজ্জ্বল সৃষ্টি। সাংবাদিকতা সম্পর্কে তিনি বলেন, সাংবাদিকতায় মূলতঃ পাঁচটি ‘নি’ অপরিহার্য। সেগুলো হচ্ছে নিখুঁত, নির্মেদ, নিঃশঙ্ক, নির্লিপ্ত ও নিরপেক্ষ। আর চলমান বাস্তবতা জানার জন্য প্রয়োজন সংঘটিত আসল তথ্য এবং ভবিষ্যতের নতুন বাস্তবতা সংঘটনের জন্য তথ্যের বিশ্লেষন ও সৃষ্টিশীল নবায়ন।

ডিআরইউ সভাপতি জনাব সাখাওয়াত হোসেন বাদশার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ‘সদস্য লেখক সম্মাননা-২০১৭’ কমিটির আহ্বায়ক কাফি কামাল। সভাপতির বক্তব্যে সাখাওয়াত হোসেন বাদশা বলেন, ডিআরইউর সদস্যদের সৃজনশীলতা ও মননশীলতাকে উৎসাহিত করতেই এ আয়োজন। আগামীতে সুনির্দিষ্ট নিয়মে জুরি বোর্ড গঠন করে বিচারের মাধ্যমে সৃজনশীল, মননশীল ও শিশু সাহিত্য তিন ক্যাটাগরিতে তিনজনকে ডিআরইউ সাহিত্য পুরস্কার ও অন্য সদস্য লেখকদের সম্মাননা দেয়া যেতে পারে। এতে পুরস্কারের মর্যাদা যেমন বৃদ্ধি পাবে, সেই সঙ্গে সদস্য লেখকরাও উৎসাহিত হবেন। ডিআরইউ’র সাগর-রুনী মিলনায়তনে ডিআরইউর প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক কাফি কামালের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক মুরসালিন নোমানী, সদস্য লেখক শামসুল আলম বেলাল, চপল বাশার, হাসান হাফিজ, অজিত কুমার সরকার, ডিআরইউ’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ ও অর্থ সম্পাদক মানিক মুনতাসির। এ বছর মননশীল, শিশুসাহিত্য ও গবেষণামূলক বইয়ের জন্য সংগঠনের ৪৩জন সদস্য লেখককে এ সম্মাননা দেয়া হয়। সম্মাননাপ্রাপ্ত সদস্যরা হলেন, বাসসের শামসুল আলম বেলাল, চপল বাশার, হালিম আজাদ, অজিত কুমার সরকার, মুহম্মদ আবদুল বাতেন, পাক্ষিক অনন্যার হাসান হাফিজ, সমকালের মুস্তাফিজ শফি ও ইন্দ্রজিৎ সরকার, প্রথম আলোর মাসুদ আলম, চ্যানেল আইয়ের জাহিদ নেওয়াজ খান ও মোস্তফা মল্লিক, চ্যানেল ২৪ আমীন আল রশীদ, ইত্তেফাকের পিনাকি দাসগুপ্ত, বাংলাভিশনের মোস্তফা কামাল, জিয়াউল হক সবুজ ও ইমরুল কায়েস, জনকণ্ঠের তৌহিদুর রহমান, রাইজিং বিডির উদয় হাকিম, এবি নিউজ ২৪ বিডি.কম শাহীন চৌধুরী, ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের রেজাউল কারীম, সারাবাংলা.নেট-এর মেসবাহ শিমুল, শেয়ার বিজের মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ ও জাকারিয়া পলাশ, ভোরের কাগজের শামসুজ্জামান শামস ও ঝর্ণা মনি, প্রিয় দেশ নিউজের রকিবুল ইসলাম মুকুল, পিটিবি নিউজ ডটকম-এর আশীষ কুমার দে, মাই টিভি আমিরুল মোমেনীন মানিক, নিউজ প্রেস বিডির আবদুল মান্নান, বাংলাদেশ প্রতিদিনের মানিক মুনতাসির, অবজারভারের জীবন ইসলাম, সংগ্রামের শাহেদ মতিউর রহমান ও মিয়া হোসেন, দিগন্ত টিভির জিয়াউল কবির সুমন, আমাদের অর্থনীতির জান্নাতুল ফেরদৌস পান্না, ঢাকা টাইমসের হাবিবুল্লাহ ফাহাদ, উত্তরবঙ্গ সংবাদের নির্মল চক্রবর্তী, আরটিভির মাইদুর রহমান রুবেল, বাংলা ট্রিবিউনের নুরুজ্জামান লাবু, ইনকিলাবের রফিক মুহাম্মদ, নতুন সংবাদের এম. উমর ফারুক, মানবকন্ঠের আসাদ জোবায়ের ও আমাদের সময়ের এম এইচ রবিন। লেখক সদস্যদের সম্মাননা ক্রেস্ট ও তিন হাজার টাকা সম্মাননা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে ডিআরইউর সহ সভাপতি আবু দারদা যোবায়ের, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ জিলানী মিলটন, দপ্তর সম্পাদক নয়ন মুরাদ, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা সম্পাদক শেখ মাহমুদ এ রিয়াত, ক্রীড়া সম্পাদক মো. মজিবুর রহমান, কার্যনির্বাহী সদস্য নূরুল ইসলাম হাসিব, হাবীবুর রহমান, সাইফুল ইসলাম, সাখাওয়াত হোসেন সুমন, মাইনুল হাসান সোহেল, হাফিজ আল আসাদ (সাঈদ খান) ও মো. আনিসুল ইসলাম।

ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হাসপাতালে ফ্রি বার্ন ও প্লাস্টিক এন্ড রিকন্সট্রাস্টিভ সার্জারী ক্যাম্প : চিকিৎসা দিবেন বিদেশী বিশেষজ্ঞরা

0
গাজীপুর সংবাদদাতাঃ শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতালে শনিবার হতে শুরু হতে যাচ্ছে ফ্রি বার্ন ও প্লাস্টিক এন্ড রিকন্সট্রাস্টিভ সার্জারী ক্যাম্প। জার্মানি, হাঙ্গেরি, নেদারল্যান্ড ও বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ আগামী ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত গাজীপুরেরর কাশিমপুর তেতুঁইবাড়ি এলাকার এ হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দিবেন। এসময় সার্জারীর পাশাপাশি তারা বার্ন ও প্লাস্টিক এন্ড রিকন্সট্রাস্টিভ সার্জারী রোগীও দেখবেন এবং পরামর্শ দিবেন। শেখ হাসিনা ন্যাশনাল ইনষ্টিটউট অফ বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারী ও শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতালের স্বনামধন্য চিকিৎসকদের সঙ্গে তারা চিকিৎসা সেবা দিবেন। বঙ্গমাতার নামের প্রতিষ্ঠিত শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতালে বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারী ইউনিট স্থাপন এর মূল উদ্দেশ্যে তারা এ কাজ করবেন।
 
ইতোমধ্যে আট সদস্যের বিদেশী চিকিৎসকগণ বাংলাদেশে এসে পৌছেছেন। শুক্রবার তারা ঢাকার হযরত শাজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পৌছলে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতালের মেডিকেল ডিরেক্টর ডাঃ রাজীব হাসান, বিজনেস ডেভেলপমেন্ট সার্ভিসের আবুল হাসান ও  ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডাঃ হুসাইন ইমাম। পরে তারা বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেন এবং বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। তারা প্রতিকৃতির সামনে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন এবং প্রার্থনা করেন। এরপর তারা গাছের চারা রোপণ করেন।
 
আয়োজকরা জানান, বিদেশী বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ডাঃ জার্যলি পাটাকি, ডাঃ জার্যলি পাটাকি, ডাঃ ইভা ভারগা এলিজাবেত, ডাঃ গিরো রুপার্ট ও ডাঃ আন্দ্রেস কারোলি এবং ওটি নার্স প্রেটাজ জেকবা হেসেলিংসহ অন্যরা রয়েছেন। ক্যাম্প চলাকালীন সময়ে তারা আগুনে পোড়াজনিত জটিলতা ও বিকলাঙ্গতা, দূর্ঘটনা জনিত বিকলাঙ্গতা কিংবা দীর্ঘমেয়াদী ক্ষত, ব্রেস্ট ক্যান্সারসহ যে কোন ক্যান্সর জনিত ক্ষত, জন্মগতত্রুটি (ঠোঁট ও তালু কাটা, রক্তনালীর টিউমার, হাত বা পায়ের বহু আঙ্গুলী) ও ডায়াবেটিস জনিত হাত কিংবা পায়ের ক্ষত রোগীদেও চিকিৎসা সেবা দিবেন। এছাড়াও রোগীদের বিনামূল্যে জেনারেল বেড, প্রয়োজনীয় অপারেশন, প্রয়োজনীয় ল্যাব পরীক্ষা, পোস্ট অপারেটিভ বেড, প্রয়োজনীয় ঔষধপত্রের ব্যবস্থা করা হবে। এব্যাপারে বিস্তারিত জানতে ০১৭০৩৭৮৮৫৬১ বা ০২-৪৪০৭৭০৩০-৩ তে যোগাযোগের জন্য বলা হয়েছে।
###

৩০ নভেম্বর ডিআরইউ নির্বাচনঃ মাটি খুঁড়ে ধূসর মৃৎপাত্রের সন্ধান নয়

0

সোহেল সানি:

ত্রিশ নভেম্বর, চাই একটি সুরভিত ভোর। চাই ঝিরঝিরে ঠান্ডা বাতাস। ভোরের আলো দিগন্তের তলায় হয়ে ওঠুক উজ্জ্বল। সেদিন মেঘহীন আকাশীর বুকে ফোটা উদীয়মান সূর্যের আলোকচ্ছটা ছড়িয়ে থাকুক, অস্তাচলের মুখোমুখি হতে।
ওই দিনও আমার নিবাস থেকে আমি ঝাঁকুনি খেতে খেতে পয়ঃবর্জের স্তুূপের দুর্গন্ধ ছাপিয়ে রিকশাবাহকের গতিতে পৌঁছে যেতে চাই সেগুনবাগিচার ডিআরইউ চত্বরে। হতাশভরা বুকে নয়, নেতৃত্বের সন্ধানে একবুক ভালবাসা প্রকাশে হাজিরা দিতে। আমাদের ভোটের উৎসবে, ভোটার হিসাবে।
বিজয়মাস শুরুর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যাওয়া নভেম্বরের ওই দিনটা শেষের হলেও প্রত্যাশায় সে অশেষ।
বলা যেতে পারে ওই দিনটি হয়ে উঠেছে, ‘ডিআরইউ নির্বাচন দিবস।’কেননা,বছর ঘুরে নভেম্বর ত্রিশে অবতীর্ণ হলেই দেখা মেলে নির্বাচনী উৎসবের। উৎসবে বিরাজ করে আমাদের নিজেদের প্রতি নিজেদের পেশাগত দায়িত্ববোধে অকৃত্রিম সম্প্রীতি, বিশেষ সৌহার্দ্য, প্রবল আস্থা ও অশেষ আনুগত্য।
এটা রাষ্ট্রিক ও রাজনীতির শত বিভাগ-বিভাজনের উর্দ্ধে অবিচল থাকা ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির দুর্দমনীয় এক বার্ষিকী প্রয়াস।
সৌহৃদ্য নেতৃত্ব নির্বাচনে সরাসরি ভোটযুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়া প্রার্থীরা উত্তীর্ণের লক্ষে অংশগ্রহণ করলেও জয়-পরাজয় দুটির যে কোনটি বরণের জন্যই মনস্তত্ত্বে দীক্ষিত। যা প্রকারান্তরে রিপোর্টার্স ইউনিটির ভোটারদের ব্যতিক্রমী ও সংবেদনশীল এক মানসিকী প্রকাশ।
প্রতিবছরের এ দিনটাকে বেছে নেয়া হয়েছে কেন? ভোট দিতে গিয়েই এর উত্তর খুঁজে পাওয়া যায়। নভেম্বরের শেষ সপ্তাহ ধরে পরিবেশ থাকে অনুকূল। সর্বদিক দিয়ে। প্রকৃতিও সুখময়। থাকেনা শুকনো গরম, পেঁচিয়ে ওঠা ধুলোর দৈত্য, চোখ ধাঁধানো প্রখর রোদ। করে না, রাস্তার পিচ-পারদের মতো ঝকমকিয়ে ঝাঁ ঝাঁ। মাথার ওপরের সেদিনের সূর্যটাও ‘গনগনে সূর্য’ নয়।
নির্বাচনে মুহূর্তের একটি মিনিটও গুরুত্ববহন করছে। প্রতিদ্বন্দ্বীদের চলছে দৌড়ঝাঁপ। সুনির্দিষ্ট বিশ্বাস ও আদর্শ নিয়ে লড়ছেন তাঁরা। অজানা আশঙ্কা তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে সব প্রার্থীর চোখের কোণে। দমে যাচ্ছেন না কোন কেউ।
ওদিনের পুবদিগন্তের আলো ফুটে ওঠার মিষ্টি সকালে শুরু হবে ভোট।
সম্পাদক পরিষদের সভাপতি মহামান্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার একুশে পদকধারী প্রখ্যাত বর্ষীয়ান সাংবাদিক গোলাম সারওয়ারের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে।
স্বাধীনতার পক্ষ বিপক্ষীয় ধারায় বিভক্ত প্যানেলভিত্তিক কোন নির্বাচন এটি না হলেও প্রার্থীদের যাচাই-বাছাইয়ে এর প্রভাব অস্বীকার্য নয়। প্রার্থীরা প্রচারাভিযান ভোটারের সহানুভূতি আদায়ে কিছুটা কৌশলীও বটে। ভোটারদের রাজনৈতিক দৃষ্টিপথের প্রতি সজাগ থেকে প্রার্থীরা ভোট প্রার্থনা করছেন। তাদের পদভারে সংবাদপত্রসহ গণমাধ্যমের অফিসগুলো বেশ সরগরম হয়ে উঠেছে।
ভোটপ্রার্থীর চেয়ে ভোটদাতাদের একটা অংশ বরাবরই তৎপর হয়ে নির্বাচনকে ঘিরে। এবারও ব্যতিক্রম নয়। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীদের পরিচিত তুলে ধরার ক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ-বিপক্ষ প্রশ্নের উদ্রেক হচ্ছে। কে কোন কোন স্রোতের লোক তা চিহ্নিত করারও একটা প্রবণতা রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রার্থী আমার কাছে ভোট প্রার্থনা করে যা বলার চেষ্টা করছেন, তার অর্থ দাঁড়িয়েছে- স্বাধীনতা বিরোধী বড় বড় বাদুড়েরা নীরবে বিশাল ডানা ঝাপটে বসে আছে, রিপোর্টার্স ইউনিটি ওদের দখলে রাখতে। যা হোক গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে বেশী প্রার্থী হওয়ায় ভোটারদের কদরও বেড়েছে। যুক্ত হয়েছে শুভ যোগাযোগ, ভালো প্রণয়ও জমেছে এবারকার নির্বাচনে। শুধু রিপোর্টারদের নির্বাচন হলেও এর দিকে দৃষ্টি রয়েছে গোটা সাংবাদিক সমাজের।
সাংবাদিকতা একটি মহান কলম পেশা। অখ্যাত এবং মুখে জরুল আছে, এমন ভোটার নেই। নির্বাচনের দিনে আকাশের রক্তিম সূর্যটা খাড়ির ওপর দিয়ে গড়িয়ে পশ্চিমে হেলে পড়তেই শেষ হবে রিপোর্টারদের ওই নির্বাচনী যুদ্ধ।
জয়, পরাজয় যা হোক, সকলেরই পদচিহ্ন অনুসরণ করে ফিরতে হবে নিবাসে, পেশাগত কর্মযজ্ঞে। যেখানে আমরা অভিন্ন একই সূত্রেগাঁথা। যদিও পরাজয় যাঁরই হবে, তা হবে কষ্টের। যা পরাজিত প্রার্থীর হ্রদপিন্ডে সুইয়ের মতো বিঁধে দেবে। তবুও নিশ্চয়ই আমরা সাংবাদিকরা ন্যাকড়া জড়ানো কেরোসিনে চুবানো লাঠিতে আগুন জ্বেলে মশাল তৈরির কারখানার শ্রমিকের ন্যায় কোন শ্রমকর্মী নই। নিশ্চিত আমরা ক্রমে তা আত্মস্থ করেছি।
শুধু আমার আকাঙ্খা প্রকাশ করে বলছি আসুন আমরা নির্বাচকমন্ডলী একটি সুন্দর সুযোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন করি। এমন একটিগুরুত্বপূর্ণ ভুমিকাকে সাধারণ নির্বাচনের মতো তাচ্ছিল্য করে, যেন মাটি খু্ঁড়ে খুঁড়ে ধূসর মৃৎপাত্রের সন্ধান না করি। ঝিরঝিরে শীতল হাওয়া ও আলোগোছে ত্রিশ নভেম্বরের সূর্যালোকিত দিন বয়ে নিয়ে আসুক একটি আলোকিত নেতৃত্ব। ভোটাদাতা ও ভোটপ্রার্থীদের শুভেচ্ছা।

সোহেল সানি,
প্রথম নির্বাহী সদস্য,
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি-২০০২।

বিদ্যুতের মুল্য বৃদ্ধি গণশুনানিতে কর্তৃপক্ষ এর যৌক্তিকতা প্রমান করতে পারেনি – মেনন

0

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ : ওয়ার্কাস পার্টি সভাপতি বেসামরিক
বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বাংলাদেশ এনার্জি
রেগুলেটরি কমিশন কর্তৃক বিদ্যুতের মুল্য বৃদ্ধির সমালোচনা করে বলেন,
এই নিয়ে গণশুনানিতে কর্তৃপক্ষ এর যৌক্তিকতা প্রমান করতে পারেনি।
অর্থনীতির সব ক্ষেত্রে এর বিরুপ প্রতিক্রিয়া পরবে। তিনি দ্রব্যমূল্য
নিয়ন্ত্রনের জন্য গ্যাস, বিদ্যুতের দাম কমানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃ
পক্ষকে পদক্ষেপ নিতে আহবান জানান। শুক্রবার বিকেলে জেলা কার্যালয়ে
বাংলাদেশের ওয়ার্কাস পার্টি নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মুন্সিগঞ্জ জেলার
পার্টিও সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
রাশেদ খান মেনন বলেন, বিএনপি জোট ক্ষমতায় এলে দেশ পূনরায়
দূর্নীতি, দূর্বৃত্তায়ন, সাম্প্রদায়িকতার ধারাবাহিকতায় ফিরে
যাবে। বিএনপি জোট আমলে দেশ পাঁচ পাঁচবার দূর্নীতিতে
চ্যাম্পিয়ান হয়েছিল। সাম্প্রদায়িকতা-জঙ্গিবাদের বিস্তার ঘটেছিল।
এখন আর বাংলাদেশকে সেই বদনাম নিতে হয় না। এটা ঠিক যে উন্নয়নের
ধারাবাহিকতার সাথে জনদূর্ভোগ বেড়েছে। বেড়েছে বৈষম্য আর
অনাচার। জনগণকে সাথে নিয়ে এখন এসকল অসঙ্গতির বিরুদ্ধে লড়তে হবে।
ওয়ার্কার্স পার্টি সামাজিক ন্যায্যতা, সমতা প্রতিষ্ঠাসহ
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক জনগণতান্ত্রিক আধুনিক বাংলাদেশ
গড়ে তোলার জন্য ২১ দফা কর্মসূচি তুলে ধরেছে। এই কর্মসূচি নিয়ে
পার্টির প্রতিটি কর্মীকে জনগনের বিভিন্ন অংশের মধ্যে যেতে হবে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি হাফিজুর রহমানের
সভাপতিত্বে ও সাধারন সম্পাদক হিমাংশু সাহার সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য
রাখেন পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির বিকল্প সদস্য জাকির হোসেন,
মুন্সিগঞ্জ জেলা সভাপতি এড. মনিরুজ্জামান কনক ও সাধারন সম্পাদক
নূরে আলম বিপ্লব প্রমুখ।

রূপগঞ্জে মিছিল নিয়ে তৈমুরের ব্যানার ফেস্টুন ভাংচুর

0

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবো
পৌরসভার যাত্রামুড়া এলাকায় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা
মিছিল নিয়ে বিএনপির ব্যানার, ফেস্টুন ভাংচুর করেছে বলে অভিযোগ
পাওয়া গেছে। গতকাল শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে ৪০/৫০জনের একটি মিছিল
নিয়ে যাত্রামুড়া এলাকায় থানা ওলামাদলের কার্যালয়ের সামনে সাটানো
ব্যানার, ফেস্টুন ভাংচুর করে যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবকলীগের
নেতাকর্মীরা। এর দুই ঘন্টা আগে নারায়ণগঞ্জ জেলা ওলামাদলের উদ্যোগে ওই
স্থানে তারেক রহমানের ৫৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও মিলাদ
মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
নারায়ণগঞ্জ জেলা ওলামাদলের সভাপতি সামছুর রহমান খান বেনু বলেন,
তারেক রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে মিলাদ মাহফিলের অনুষ্ঠানে শেষে
নেতাকর্মীরা জুমার নামাজে চলে গেলে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের
নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্রেশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সভাস্থলে এসে হামলা ভাংচুর
চালায়। এ সময় বিএনপির নেতাকর্মীদের না পেয়ে তারা বিএনপির
চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক
রহমান, বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক উপদেষ্টা এডভোকেট তৈমূর
আলম খন্দকারের ছবি সম্বলিত সাইনবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুন ও চেয়ার
ভাংচুর করে। হামলাকারীরা যাত্রামুড়া এলাকায় বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে
নানা স্লোগান দেয়।
এ ব্যাপারে এডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার বলেন, সভা চলাকালে না এসে
হামলাকারীরা চোরের মতো এসে হামলা চালিয়েছে। এটা গণতন্ত্র বিরোধী।
এ হামলার ঘটনায় তিনি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

নীলফামারীতে স্কুল ছাত্রী ধর্ষনের অভিযোগে মামলা দায়ের

0

আব্দুর রাজ্জাক, নীলফামারী প্রতিনিধিঃ
স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষনের অভিযোগে জেলার সৈয়দপুর থানায় একটি মামলা দায়ের
হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ধর্ষিতার মা নিলুফা বেগম নিজে বাদী হয়ে
মামলাটি দায়ের করেছেন। ধর্ষক জেলার সৈয়দপুর উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর
ইউনিয়নের মাঝাপাড়া গ্রামের সামসুল হকের পুত্র টাইলস মিস্ত্রি রুবেল (২৫)।
সূত্র মতে, দুুদিন আগে একই গ্রামের বসবাসকারী ওই ছাত্রীর বাড়ীতে একা পেয়ে
জোর পূর্বক ধর্ষন করে প্রতিবেশী রুবেল। ধর্ষনের শিকার ওই তরুনী সাতপাই
স্কুল এন্ড কলেজের নবম শ্রেনীর ছাত্রী (১৪)। সৈয়দপুর থানার অফিসার
ইনচার্জ শাহজাহান পাশা মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা নীলফামারীর তিন চিকিৎসককে !!

0
 
আব্দুর রাজ্জাক, নীলফামারী প্রতিনিধিঃ
নীলফামারীতে তিন চিকিৎসককে দীর্ঘদিন ধরে খুঁজে পাচ্ছেনা হাসপাতাল
কর্তৃপক্ষ। নিখোঁজ হয়ে যাওয়া চিকিৎসকরা হলেন, জেলার ডিমলা উপজেলা
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এর মেডিকেল অফিসার ডাঃ ইমরান হাসান ও একই উপজেলার
নাউতারা ইউনিয়নের উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার ডাঃ মামুনুর রশীদ
চৌধুরী ও ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্েরর মেডিকেল অফিসার ডাঃ শওকত
আলী শাফায়াত। এই তিন চিকিৎসক কর্মস্থল থেকে বিনা ছুটিতে লাপাত্তা রয়েছে।
লাপাত্তার পর হতে তারা এ পর্যন্ত সরকারী কোষাগার হতে বেতন-ভাতাদিও
উত্তোলন করেননি। কর্মস্থলে তাদের অনুপস্থিতির বিষয়টি ধরতে পেরে তাদের
বাড়ির ঠিকানায় তিন দফায় পত্র প্রেরণ করে সংশ্লিষ্ট দপ্তর। কিন্তু এখন
পর্যন্ত কোন উত্তর মেলেনি। এ ব্যাপারে নীলফামারী সিভিল সার্জন ডাঃ রনজিৎ
কুমার বর্ম্মন জানান, কর্মস্থলে অনুপস্থিত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য
মন্ত্রনালয়ের পক্ষে সরেজমিন তদন্ত করেছে। এই তিন চিকিৎসকের ২০১৭ সালের
চলমান নভেম্বর মাস পর্যন্ত ্এখনও কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। খোঁজ নিয়ে জানা
গেছে, ডাঃ মামুনুর রশীদ চৌধুরী (কোড নম্বর ১২৬০১৬) ২০১২ সালের ২৪ জুন
ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্েরর মাধ্যমে নাউতারা ইউনিয়নের
উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার হিসাবে যোগদান করেন। সেখানে কর্মরত
থাকা অবস্থায় ওই বছরের ৪ আগষ্ট হতে অনুপস্থিত রয়েছে। সেখানে তিনি মোট
চল্লিশ দিন কর্মরত ছিলেন। অপরজন ডাঃ ইমরান হাসান (কোডনম্বর ১২৮৮৪৩) ডিমলা
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্েরর মেডিকেল অফিসার হিসাবে যোগদান করেন ২০১৪
সালের ৭ আগষ্ট। এরপর ২০১৫ সালের ১লা আগষ্ট হতে বিনা ছুটিতে লাপাত্তা হন।
এখানে তিনি প্রায় এক বছর কর্মরত ছিলেন। এদিকে ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য
কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাঃ শওকত আলী শাফায়াত ২০১০ সালের ১লা জুলাই
যোগদান এবং যোগদানের পরের দিন হতেই অনুপস্থিত রয়েছেন। তার নামের ফাইলে এর
বেশী কিছু লিখা নেই। এমন কি তার চাকুরীর কোড নম্বর পাওয়া যায়নি।

সরকার জোরপূর্বক আমার দেশ বন্ধ করে রেখেছে: মাহমুদুর রহমান

0

দৈনিক আমার দেশ’র ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেছেন, সরকার জোরপূর্বক আমার দেশ পত্রিকার বন্ধ করে রেখেছে। এর মাধ্যমে তাদের ফ্যাসিবাদী চরিত্রই ফুটে উঠেছে।

তিনি বলেন, আমার দেশ বন্ধ করে রাখার আইনগত কোনো ভিত্তি নেই। এটা সরকার সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে বন্ধ করে রেখেছে। দেশে গণতন্ত্র নেই বলেই সরকার এটা করতে পারছে।

শুক্রবার সকালে আমার দেশ পত্রিকার সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিয়নের মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত রয়েছেন বিএফইউজের সাবেক সভাপতি রুহুল আমীন গাজী, বিএফইউজের মহাসচিব এম. আব্দুল্লাহ, আমার দেশ’র বার্তা সম্পাদক জাহেদ চৌধুরী বিএফইউজের মহাসচিব এম আবদুল্লাহ, প্রেসক্লাবের সাবেক যুগ্ম সাধারন সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী, প্রেসক্লাবের বর্তমান যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ইলিয়াস খান, বিএফইউজের আরেক নেতা মো.শহিদুল ইসলাম প্রমুখ।

‘এই মাহমুদুর রহমান কোনো অবস্থাতেই আমি হতে পারি না’
দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান গাড়ি পোড়ানোর একটি মামলার আসামি তালিকা থেকে তার নাম খারিজ এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় শাস্তি দাবি করেছেন। রবিবার ঢাকার নিম্ন আদালতে চার্জ গঠনের জন্য নির্ধারিত এই মামলার শুনানীকালে মাহমুদুর রহমান এই দাবি করেন।

১৬ জুলাই ঢাকার জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট জসিম উদ্দিনের আদালতে মামলার চার্জ গঠনের শুনানীতে অংশ নিয়ে মাহমুদুর রহমান বলেন আমাকে হয়রানি করার জন্যই সম্পূর্ণ উদ্যেশ্যমূলকভাবে গাড়ী পোড়ানোর মামলায় আসামী করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এই মামলার এজহারে বাদী কোথাও তার নাম উল্লেখ করেননি। মামলার দু’জন সাক্ষীও এ মামলায় তার জড়িত থাকার বিষয়ে কোনো সাক্ষ্য দেননি। এরপরও পুলিশ চার্জশীটে সন্ধিগ্ধ আসামী হিসেবে তার নাম অর্ন্তভূক্ত করেছে। তিনি বলেন, কোনো আসামীর নাম ‘সন্ধিগ্ধ’ হিসেবে এনে তার বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করার কোনো বিধান আইনে নেই।

তিনি বলেন, এই মামলায় আমাকে নয় নম্বর আসামী হিসেবে দেখানো হয়েছে। আমার নামও ভুল লেখা হয়েছে। অন্য আাসামীর পরিচয়, রাজনৈতিক পদবী ইত্যাদি উল্লেখ করা হলেও চার্জশীটে উল্লেখিত মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমানের কোনো পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি। আমার নাম মাহমুদুর রহমান। মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান আমি নই।

২০১৩ সালে যখন মামলাটি দায়ের হয় তখন আমার বয়স ছিলো ৬০ বছর। কিন্তু চার্জশীটে উল্লেখ করা হয়েছে মোহাম্মদ মাহমুদর রহমানের বয়স ৫৭। তিনি আদালতের উদ্দেশ্য বলেন, এই মাহমুদুর রহমান কোনো অবস্থাতেই আমি হতে পারি না। কারণ আমার পরিচয় রয়েছে। আমি সরকারের জ্বালানি উপদেষ্টা ছিলাম, বিনিয়োগ বোর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যান ছিলাম এবং বর্তমানে আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক। আমি বুয়েট থেকে পাশ করা একজন প্রকৌশলী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে এমবিএ। আমার এতগুলি পরিচয় থাকা সত্ত্বেও পুলিশ আমার কোনো পরিচয় উল্লেখ করিনি।

তিনি আদালতের উদ্দেশ্যে বলেন, আমাকে চার্জশীটে বলা হয়েছে গ্রেপ্তারকৃত আসামী। আমি এই মামলায় গ্রেপ্তার হইনি। আমাকে শোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে। এছাড়া এই মামলায় আমার অন্যায় রিমান্ড মঞ্জুর করার ৮ মাস পর রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। দ্বিতীয়বার যখন রিমান্ড মঞ্জুর করা হয় তখন আমাকে আদালতে হাজির করা হয়নি। অথচ হাইকোর্টের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে কোনো আসামীর রিমান্ড মঞ্জুর করতে হলে তাকে আদালতে হাজির করা আবশ্যক।

এসময় তিনি তার যুক্তির পক্ষে হাইকোর্ট ও আপীল বিভাগের তিনটি নির্দেশনা আদালতে দাখিল করেন এবং তাকে হয়রানিমূলক এই মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে দায়ী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় শাস্তি দাবী করেন। এসময় মাহমুদুর রহমানের আইনজীবী অ্যাডকোটে সানাহউল্লাহ মিয়া, অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন মেসবাহ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ, আমার দেশের বার্তা সম্পাদক জাহেদ চৌধুরী, সাংবাদিক সঞ্জীব চৌধুরী সহ বিপুল সংখ্যক আইনজীবী ও সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্টপক্ষে মামলার শুনানী করেন সহকারি পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি)।

আমার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান কারওয়ান বাজারে নিজ কার্যালয়ে পুলিশের নজরবন্দী থানা অবস্থায় ২০১৩ সালের মৎস্যভবন এলাকায় একটি ট্যাক্সি ক্যাবে আগুন দেয়ার ঘটায় মামলা দায়ের করেন ক্যাবের চালক বাবুল মিয়া। এজহারে মাহমুদর রহমানকে আসামী না করা হলেও পরবর্তীতে ওই মামলায় মাহমুদুর রহমানকে শোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়। আদালত আগামী ১১ সেপ্টেম্বর চার্জগঠনের পরবর্তী তারিখ নি

বাংলাদেশ-মিয়ানমার চুক্তি জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি বিএনপির

0

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি জানিয়েছে বিএনপি।

শুক্রবার এ দাবি জানান দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের কী চুক্তি হয়েছে তা জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে।

এর আগে নির্যাতনের মুখে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের দেশে ফিরিয়ে নিতে বৃহস্পতিবার মিয়ানমারের প্রশাসনিক রাজধানী নেপিদোতে এ চুক্তি সই হয়।

চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে সই করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, আর মিয়ানমারের পক্ষে সই করেন দেশটির স্টেট কাউন্সিলরের দফতরের মন্ত্রী খিও তিন্ত সোয়ে।

‘অ্যারেঞ্জমেন্ট অন রিটার্ন অব ডিসপ্লেসড পারসন্স ফ্রম রাখাইন স্টেট’ নামের এই চুক্তিকে সরকারের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী, নির্যাতনের মুখে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের যাচাই-বাছাই করে ফেরত নেবে মিয়ানমার।

তবে ফেরত নেয়ার কাজ কবে নাগাদ শেষ হবে চুক্তিতে সে বিষয়ে কোনো সীমারেখা দেয়া নেই।

প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় নেইপিদো প্রয়োজন মনে করলেই জাতিসংঘ সংস্থা ইউএনসিএইচআরকে সম্পৃক্ত করা যাবে।

বাংলাদেশের তরফে বলা হয়েছে, এই চুক্তির আলোকে আগামী দুই মাসের মধ্যে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে নেয়া শুরু করবে মিয়ানমার।

চুক্তি সই করার তিন সপ্তাহের মধ্যে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠিত হবে। প্রত্যাবাসনের সব প্রস্তুতি দ্রুত সমাপ্ত করতে হবে।

অন্যদিকে মিয়ানমার দাবি করেছে, নতুন অ্যারেঞ্জমেন্ট চুক্তিটির ভিত্তি হল ১৯৯২ সালে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সই করা যৌথ বিবৃতি।

উল্লেখ্য, গত আগস্টে রাখাইন রাজ্যে বিদ্রোহীবিরোধী অভিযান শুরুর জেরে বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটি থেকে ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা বিতাড়িত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। পুরনো রোহিঙ্গাসহ বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গাদের সংখ্যা বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ।