সোমবার | ২৫শে জুন, ২০১৮ ইং | ১১ই আষাঢ়, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ১:৪০

সিটি নির্বাচন নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ম্যাসেজ নেই-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

গাজীপুর সংবাদদাতাঃ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, গাজীপুর সিটি নির্বাচনে যাকে খুশি তাকে ভোট দেবেন ভোটাররা। নির্বাচন নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ম্যাসেজ নেই। তবে নির্বাচনে যে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে পারবেন তাকেই ভোট দেবেন ভোটাররা। নির্বাচন কমিশন একটি অবাধ,সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপরহার দেবে এটাই সরকারের প্রত্যাশা।
তিনি রবিবার গাজীপুরের সফিপুরের আনসার ভিডিপি একাডেমিতে আনাসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সার্কেল অ্যাডজুটেন্ট/সহকারী সার্কেল অ্যাডজুটেন্ট/উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা পদে নব নিযুক্ত ১৯১ জনের ৬ মাস মেয়াদী মৌলিক প্রশিক্ষণ সমাপণী কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী একাডেমির ইয়াদ আলী প্যারেড গ্রাউন্ডে নিয়োগপ্রাপ্তদের মৌলিক প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজের অভিবাদন গ্রহণ ও প্যারেড পরিদর্শন করেন ।

আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আনসার সদস্যরা সংসদ নির্বাচনে প্রত্যন্ত অঞ্চলে সবসময় দায়িত্ব পালন করে থাকেন। আগামী নির্বাচনেও আনসার সদস্যদের গুরুদায়িত্ব থাকবে। সে লক্ষ্যে আনসার সদস্যদের প্রস্তুত করা হচ্ছে। বর্তমান সরকার দেশের উন্নয়নে বদ্ধপরিকর। উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের সুযোগ অর্জন করেছে বাংলাদেশ। সরকারের এই বিরাট সাফল্যের অংশীদার বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীও।
কুচকাওয়াজ প্রদর্শনীতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শেখ পাশা হাবিব উদ্দিন, অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহম্মদ নূরুল আলম, উপ-মহাপরিচালক (প্রশাসন) কর্নেল মহিউদ্দীন মো. জাবেদ, উপ-মহাপরিচালক (প্রশিক্ষণ) একেএম মিজানুর রহমান, উপ-মহাপরিচালক (অপারেশন) দিলীপ কুমার বিশ্বাস ও ভারপ্রাপ্ত কমান্ড্যান্ট (একাডেমি) সাইফুদ্দিন মোহাম্মদ খালেদসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শ্রীপুরে জঙ্গী আস্তানায় পুলিশের অভিযান : দম্পতি আটক : পিস্তল ও বোমা উদ্ধার

sdr

গাজীপুর সংবাদদাতাঃ গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের পার্শ্ববর্তী শ্রীপুরের মাওনা এলাকায় এক জঙ্গী আস্তানায় রবিবার অভিযান চালিয়ে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও পুলিশের সদস্যরা অস্ত্র ও বোমাসহ এক দম্পতিকে আটক করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নাশকতা করার জন্য তারা গত কিছুদিন ধরে সেখানে আস্তানা গেড়েছিল।

কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট সূত্র ও কালিয়াকৈর সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) শাহীদুল ইসলাম জানান, শ্রীপুরের পৌরসভার কেওয়া পশ্চিম খন্ড (মাওনায়) এলাকায় পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত হাবিলদার রফিকুল ইসলামের দোতলা বাড়ির নীচতলার একটি ফ্লাটে জেএমবি’র কয়েক সদস্য অবস্থান করছে- এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রবিবার ভোররাতে সেখানে অভিযান চালায় কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সদস্যরা। এ অভিযানে পুলিশ সদর দপ্তরের এলআইসি শাখা ও পুলিশ অংশ নেয়। এসময় ওই ফ্লাটের ভাড়াটিয়া আব্দুর রহমান (৩৭) নামে এক ব্যাক্তিকে আটক করা হয়। এসময় আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আব্দুর রহমানের ঘর থেকে ৩টি পিস্তল ও ৪টি বোমা উদ্ধার করে। আটক আব্দুর রহমানের বাড়ি দিনাজপুরের দেবীগঞ্জ উপজেলার কালীগঞ্জ গ্রামে। এসময় আব্দুর রহমানের স্ত্রী শামসুন্নাহারকেও আটক করা হয়। দুপুরে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার রহমতুল্লাহ চৌধুরী ও কাউন্টার টেরোরিজেমের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এডিশনাল এসপি) আহসান হাবিব ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের পরিদর্শক মুমিন খানের নেতৃত্বে একটি টিম ঘটনাস্থলে আসে। পরে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা বোমাগুলো নিষ্ক্রিয় করে। এ সময় ওই বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং ঘটনার সময় যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ঘরে পানি ছিটিয়ে দেয় মাওনা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। বিকেল ওই অভিযান শেষ হয়।

বাড়ির মালিক রফিকুল ইসলাম জানান, নিজেকে ড্রাইভার হিসেবে পরিচয় দিয়ে আব্দুর রহমান প্রায় দুই মাস আগে স্ত্রীসহ এসে সাড়ে তিন হাজার টাকায় ভাড়া নিয়ে ওই ফ্লাটে বসবাস শুরু করে। তবে আব্দুর রহমান কোন গাড়ি চালাতো তা জানা যায়নি।

বাড়ির মালিকের ছোট ভাই বাচ্চু মিয়াসহ স্থানীয়রা জানান, প্রায় দুই মাস আগে স্ত্রীকে নিয়ে আব্দুর রহমান ওই ফ্লাটে ওঠে। তারা আশেপাশের লোকজনকে এড়িয়ে চলতো। কারো সঙ্গে তেমন কথাবার্তা বলতো না। নিঃসন্তান ওই দম্পতির দুই মাস বয়সের একটি পালিত কন্যা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে দু’দিন আগে মারা যায়। ধারণা করা হচ্ছে, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নাশকতা করার জন্য তারা সেখানে আস্তানা গেড়েছিল।

রাত পেহালেই গাজীপুর সিটিতে শংকার ভোট

সকল প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেও দায়িত্বের সাথে সকল নেতাকর্মীদের ভোট কেন্দ্রে থাকতে হবে– হাসান উদ্দিন সরকার। 

আমাকে সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব দেন,দল মত হয়ে দলমত নির্বিশেষে সকলকে নিয়ে নগরীর উন্নয়ন করতে চাই-জাহাঙ্গীর আলম।

গাজীপুর থেকে মোঃ রেজাউল বারী বাবুলঃ সামনের রাত পোহালেই গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হবে। ২য় বারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই ভোট। উৎসব আমেজের পাশাপাশি বিএনপি প্রার্থী, নেতার্কী ও ভোটারদের মাঝে শংকা বিরাজ করছে।প্রচার প্রচারণার শেষ দিন রবিবার মেয়র প্রার্থীরা পূর্ব নির্ধারিত কোন প্রচার প্রচারণা ছিলনা। সংবাদ সম্মেলন ও নেতা কর্মীদের সাথে নির্বাচনী বিভিন্ন কলাকৌশল নিয়ে আলোচনা ও সাক্ষাত করে ব্যাস্ত সময় পার করেন। তবে তাদের কর্মী সমর্থকরা নগর জুরে ব্যাপক প্রচার প্রচারণায় অংশ নেন। ধানের শীষ প্রতীকে ২০ দলীয় জোট মেয়র পদপ্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা হাসান উদ্দিন সরকার বলেছেন,, পুলিশ দিয়ে ২০ দলীয় জোট নেতাকর্মীদের গণগ্রেফতার ও হুমকি-ধমকি দিয়ে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বানচাল করে দিয়েছে। সকল বাধা প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেও দায়িত্বের সাথে সকল নেতাকর্মীদের ভোট কেন্দ্রে থাকতে হবে।  শেষ পর্যন্ত থেকে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের নোংরা চরিত্র জাতির সামনে তুলে ধরবো।সংবাদ সম্মেলনে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, আমাকে সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব দেন,দল মত হয়ে দলমত নির্বিশেষে সকলকে নিয়ে নগরীর উন্নয়ন করতে চাই।
শেষ দিনের প্রচার প্রটারণায় আরো সরব হয়ে উঠেছেন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের কর্মী সমর্থকরা। রাত পেরোলেই মঙ্গলবার ২৬ জুন অনুষ্ঠিত হবে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ২য় ভোট।২য় বারের মতো নির্ধারিত হবে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের  মেয়র। গাজীপুরের এ নির্বাচনে মেয়র পদের তালিকায় ৭ প্রার্থীর নাম ও প্রতীক থাকলেও সবার দৃষ্টিই এখন প্রধান দু’দল আওয়ামীলীগ ও বিএনপি সমর্থিত দু’মেয়র প্রার্থীর দিকে। উভয় জোটের নেতা কর্মীরা নিজেদের অস্তিত্বের লড়াইয়ে নানা পরিকল্পনায় এলাকায় গণসংযোগ সম্পন্ন করেছেন। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ফলাফলের প্রভাব পরবর্তী নির্বাচনগুলোতে ফেলবে এমন ধারণায় আওয়ামীলীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট এ নির্বাচনকে অধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। তাই নিজেদের আভ্যন্তরীন কোন্দল মিটিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রধান এ দুই জোটের নেতা কর্মী ও সমর্থকরা নির্বাচনী মাঠে নেমেছিলেন। তারা নিজ জোটের মনোনীত মেয়র প্রার্থীকে বিজয়ী করতে সমর্থন আদায়ের জন্য ভোটারদের কাছে ছুটেছেন। তারা নানা কৌশলে ও প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা করেছেন।নির্বাচন কমিশনের প্রজ্ঞাপন অনুসারে ২৩ জুন রাত ১২টার পর থেকে বহিরাগতদের গাজীপুরে অবস্থান নিষিদ্ধ থাকলেও আওয়ামীলগের মনোনীত খুলনার মেয়রসহ কেন্দ্রীয় অনেক নেতৃবৃন্দ ২৪জুন রবিবারও জাহাঙ্গীরের পক্ষে গণসংযোগ ও নির্বাচনী বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহন করেন।
এদিকে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে স্মরণকালের সবচেয়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যেই পুরো নির্বাচনী এলাকা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে। দেশে প্রথমবারের মত কোন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের অধীন একটি করে ভ্রাম্যমান আদালত থাকছে। আর তিনটি ওয়ার্ড মিলে থাকছেন একজন করে বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটের ভ্রাম্যমান আদালত। এছাড়া বিজিবি, পুলিশ, র‌্যাব আর আনসার ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য মিলে নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন প্রায় ১৬ হাজার সদস্য। গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় সিসি ক্যামেরাও বসানো হয়েছে। অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি এড়াতে জোরদার করা হয়েছে প্রার্থীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও। অবাধ, সুষ্ঠ, নিরপেক্ষ, প্রার্থী ও ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এবং নির্বাচন নিয়ে যাতে কোন মহল প্রশ্ন তুলতে না পারে এজন্যই এমন কড়া নিরাপত্তা থাকছে বলে নির্বাচন কমিশন বলছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও নির্বাচন সুষ্ঠ করতে পুরো গাজীপুরে সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে। নির্বাচন পরবর্তী সময়েও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
২০দলীয় জোট প্রার্থীর প্রচার প্রচারণাঃ
গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ২০ দলীয় জোট মেয়র পদপ্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা হাসান উদ্দিন সরকার বলেছেন, গত ২০ জুন নির্বাচন কমিশন ও তাদের নিয়ন্ত্রিত প্রশাসন প্রার্থীদের সাথে মতবিনিময় সভায় যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন নির্বাচনী মাঠে তার বাস্তবায়ন হচ্ছে না। বরং খুলনা স্টাইলে নির্বাচন করার প্রস্তুতি চলছে। পুলিশ ২০ দলীয় জোট নেতাকর্মীদের গণগ্রেফতার ও হুমকি-ধমকি দিয়ে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বানচাল করে দিচ্ছে। ইতিমধ্যে ২০ দলীয় জোটের ৭৫ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আওয়ামীলীগের মেয়রপ্রার্থীকেও পুলিশের গাড়িতে দেখা যাচ্ছে। খুলনার কারচুপির অভিজ্ঞতা সম্পন্ন পুলিশ সদস্যদের ইতিমধ্যে গাজীপুরের নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের জন্য আনা হয়েছে। কিন্তু শত বাধা সত্বেও আমরা নির্বাচনে আছি এবং শেষ পর্যন্ত থাকবো। সরকার ও নির্বাচন কমিশনের নোংরা চরিত্র জাতির সামনে তুলে ধরবো।
হাসান সরকার রোববার টঙ্গী থানা বিএনপি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন। তিনি আওয়ামীলীগের গোপন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বলেন, বাহির থেকে সিল মেরে ভেতরে ঢুকানো হবে। কেন্দ্রে কেন্দ্রে পোলিং এজেন্টদের পুলিশ দিয়ে আটকে রেখে জোরপূর্বক তাদের বানানো রেজান্ট শীটে স্বাক্ষর নেয়া হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত স্বাক্ষর না দিবে ততক্ষণ পর্যন্ত এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের হতে দেবে না। খুলনার মত কারচুপি যাতে ধরা না পড়ে সেজন্য ইতিমধ্যে তারা একটি সুবিন্যাত রেজাল্ট শীট তৈরি করে রেখেছে। তাদের দলীয় ৫০ জন কাউন্সিলরকেও চূড়ান্ত করে রেখেছে।
হাসান সরকার ঝড়-বৃষ্টি ও সকল বাধা উপেক্ষা করে ভোটারদের কেন্দ্রে আসার আহবান জানিয়ে বলেন, আমরা আওয়ামীলীগের সকল অপকৌশল জেনে গেছি। আমরা তাদের এসব অপকৌশল প্রতিহত করার চেষ্টা করবো। তিনি মঙ্গলবার সকাল ৭টার মধ্যে ধানের শীষ প্রতীকের সকল এজেন্টকে ভোট কেন্দ্রে নির্বিঘেœ আসার আহবান জানান এবং কেন্দ্র পাহাড়া দেওয়ার জন্য ২০ দলীয় জোটের সকল নেতাকর্মীকে কেন্দ্রের পাশে অবস্থান নেওয়ার অনুরোধ জানান।
হাসান সরকার বলেন, আওয়ামীলীগ মুক্তিযোদ্ধের চেতনার কথা বলে। কিন্তু বাস্তবে তারা মুক্তিযোদ্ধাদের কতটুকু সম্মান করে ? এই নির্বাচনে আমি হয়তো শেষ মুক্তিযোদ্ধা হবো। আগামীতে হয়তো আর কোন মুক্তিযোদ্ধাকে আপনারা নির্বাচনে পাবেন না। তাই সকল মুক্তিযোদ্ধাকে আমার পক্ষে ভূমিকা রাখার আহবান জানাই।
তিনি বলেন, সুনামের সাথে বেঁচে থাকতে চাই। মানুষের ঘৃণা নিয়ে বেঁচে থাকতে চাই না। জীবনের এই শেষ নির্বাচনে জীবন দিয়ে হলেও গাজীপুরবাসীর ইজ্জত রক্ষা করবো। তিনি সাংবাদিকদের সঠিক চিত্র তুলে ধরার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, মহান আল্লাহ্র পরে আপনারা আমাদের ভরসা। আপনারা সঠিক চিত্র তুলে ধরতে পারলে এবং ন্যুনতম সুষ্ঠু ভোট হলে সম্মানজনক ভোটে বিজয়ী হবো।
তিনি ভোটারদের প্রতি আস্থা রেখে বলেন, শত উস্কানি ও উৎপীড়নের মধ্যেও ভোটাররা স্বত:স্ফূর্তভাবে ভোট কেন্দ্রে আসবে বলে আমি বিশ^াস করি।
হাসান সরকার বলেন, আমাদের দলীয় এই কার্যালয়টি এ পর্যন্ত চারবার আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আমাদেরকে দলীয় কার্যালয়ে বসতে দেয়া হয় না। তাই আমরা বাড়িতে বসে দলীয় কর্মকান্ড পরিচালনা করি।
তিনি বলেন, পুলিশ আমাদের নেতাকর্মীদের বাসা-বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল করছে। নির্বাচন পর্যন্ত এলাকায় না থাকতে হুমকি দিচ্ছে। এমনকি একজন নেতার মেডিকেলপড়–য়া মেয়েকেও বাড়িতে গিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেছে। এতে সে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, দেশে নেক্কারজনক রাজনীতি চলছে। আমাদের একজন পেরালাইজড নেতাকেও তুলে নেয়া হয়েছে। ওমর ফারুক নামের ওই নেতাকে এখন কোথায় রাখা হয়েছে তা জানানো হচ্ছে না। আটক করেই ভিন্ন জেলায় পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে ঢাকা, টাঙ্গাইল ও নারায়ণগঞ্জের জেল খানায় কয়েকজনের সন্ধ্যান পাওয়া গেছে। অনেকের এখনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। শনিবার রাতে বাসনের স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন চৌধুরীর বাড়ির গেট ভেঙ্গে পুলিশ ভেতরে প্রবেশ করে। এসময় তাকে না পেয়ে তার ম্যানেজারকে বলে আসে, ‘আগামীকাল আওয়ামীলীগ মেয়রপ্রার্থী জাহাঙ্গীরের সাথে দেখা করতে বলবি, আর দেখা না করলে নির্বাচন দিন পর্যন্ত বাড়ি থেকে যেন বাহির না হয়।’
সার্বক্ষনিক গোয়েন্দা তৎপরতার সমালোচনা করে হাসান সরকার বলেন, আমি কাপুরুষ নেতা নই। আমার এখানে গোপন কিছু নেই। আমি কলকাতা হোটেলে গিয়ে ঘুরাঘুরির মুক্তিযোদ্ধা নই। আমি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে এবং প্রশিক্ষণ দিয়ে দেশে এসে শত্রুর মোকাবেলা করেছি। আমি অন্যায়ভাবে নির্বাচিত হওয়া প্রত্যাশা করতে পারি না। বাংলাদেশে যে কয় জনের অধিক নির্বাচন করার অভিজ্ঞতা রয়েছে আমি তাদের থেকে কম নই।
তিনি বলেন , আমি এ যাবত যথাযথভাবে আচরণবিধি মেনে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা চালিয়ে আসছি।
আপরদিকে আওয়ামীলীগ আচরণবিধির কোন তোয়াক্কা করছে না। তাদের মন্ত্রী-এমপিরাও আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন। ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন বহিরাগতদের নির্বাচনী এলাকায় অনুপ্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে। কিন্তু আওয়ামীলীগ প্রার্থীর পক্ষে খুলনার বিতর্কিত ভোটের মেয়রসহ কেন্দ্রীয় নেতাদেরকেও আজকে (রোববার) প্রচারণা করতে দেখা গেছে। তিনি বলেন, খুলনার ওই মেয়র এখনো গাজীপুরে অবস্থানের মধ্যে গভীর রহস্য নিহীত। তাকে ভোট কারচুপির প্রশিক্ষণের জন্য এখনো গাজীপুরে রাখা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, গাজীপুর জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি সালাহ উদ্দিন সরকার, টঙ্গী থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম শুক্কুর, জেলা যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি প্রভাষক বসির উদ্দিন, জেলা হেফাজতে ইসলামের যুগ্ন সম্পাদক মুফতি নাসির উদ্দিন প্রমুখ।
এদিকে সংবাদ সম্মেলন শেষে হাসান উদ্দিন সরকার গাজীপুর জেলা বিএনপি কার্যালয়ে গিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের খোঁজ খবর নেন এবং গ্রেফতারকৃতদের নিয়মিত খোঁজ খবর রাখার জন্য দলের দায়িত্বশীল নেকাদের নির্দেশনা দেন। বিকেলে হাসান উদ্দিন সরকার টঙ্গীর ৫৭ নম্বর ওয়ার্ডে সর্বশেষ প্রচারণায় অংশ নেন। হাসান সরকার এসময় অভিযোগ করে বলেন, কাশিমপুরের ৫ ননম্বর ওয়ার্ডে আবির হোসেন নামের এক কর্মীকে আওয়ামীলীগ ক্যাডাররা মারধর করে ধানের শীষ প্রতীকের লিফলেট ছিনিয়ে নিয়েছে এবং জোরপূর্বক তার গলায় নৌকার ব্যাজ ঝুলিয়ে ছবি তুলেছে। এছাড়া গাজীপুরের ৫টি সিনেমা হল কতৃপক্ষকে জোরপূর্বক বাধ্য করে তাদের পর্দায় আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যাকান্ডকে পুঁজি করে হাসান সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
জাহাঙ্গীর আলমের গণসংযোগঃ
রবিাবর দুপুরে নিজ বাসার সামনে সংবাদ সম্মেলনে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, আমাকে সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব দেন,দল মত হয়ে দলমত নির্বিশেষে সকলকে নিয়ে নগরীর উন্নয়ন করতে চাই। এছাড়া জাহাঙ্গীর আলম গাজীপুর সিটি নির্বাচনের প্রচারের শেষ দিন রবিবার গণসংযোগ ও বৈঠক করে ব্যস্তদিন কাটিয়েছেন। এদিন সকালে তিনি নগরীর সালনা এলাকায় গণসংযোগ ও পথসভা করে দিনের কর্মসূচি শুরু করেন। পরে তিনি চান্দনা চৌরাস্তা, কোনাবাড়ি, বাসন, জয়দেবপুর, শিববাড়ি, গাছা, বোর্ডাজার, টঙ্গীর মিলগেইট এলাকায় গণসংযোগ করেন। দুপুরে তিনি ছয়দানা এলাকার নিজ বাসায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলণে বক্তব্য রাখেন।
পথসভায় বক্তব্য কালে মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গত নির্বাচনে এ সিটির মেয়র পদে বিএনপি নির্বাচিত হলেও গত ৫ বছরে এলাকার কোন উন্নয়ন হয়নি। গাজীপুরের মানুষ আর অনুন্নয়ের পথে থাকতে চান না। গাজীপুরের মানুষ এবার উন্নয়নের পক্ষে ভোট দেবেন। তাই এ নির্বাচনে নৌকার পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি সকল ভোটারকে আগামী ২৬ জুন এ নৌকা প্রতীকে ভোট দেয়ার আহবান জানান।
এসময় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমণ¦য়ক ও গাজীপুর মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি মোঃ আজমত উল্লাহ খানসহ প্রমূখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাচন কমিশন শনিবার রাত ১২টা থেকে গাজীপুর সিটি করপোরেশন এলাকা থেকে বহিরাগত ব্যক্তিদের চলে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। ২৬ জুন ভোটের দিন পর্যন্ত ওই এলাকায় বহিরাগত ব্যক্তিদের চলাফেরায় এই বিধিনিষেধ বলবৎ থাকবে।  ২২ জুন এ-সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করে নির্বাচন কমিশন।
কিন্তু কমিশনের এই নির্দেশনা ভেঙে গাজীপুরে নির্বাচনী কর্মকা- পরিচালনা করেছেন সরকারদলীয় নেতারা। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল রবিবার নগরের হারিকেন এলাকায় মতবিনিময় সভা করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্যও দিয়েছেন।
অন্যদিকে, খুলনা সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত মেয়র ও খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার আবদুল খালেক চালিয়েছেন নির্বাচনী প্রচারপ্রচারণা।
রোববার দুপুরে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ করেন মহিবুল হাসান। গাজীপুর সিটি করপোরেশন এলাকার বাসিন্দা বা ভোটার না হওয়া সত্ত্বেও সেখানে অবস্থানের বিষয়ে সাংবাদিকেরা তাঁর কাছে জানতে চাইলে নওফেল বলেন, এ ধরনের প্রজ্ঞাপনের বিষয়ে তাঁর জানা নেই। আজ থেকেই যে আসা যাবে না, সেটা তিনি জানতেন না। কাল সোমবার থেকে প্রচার-প্রচারণা বন্ধ এটা তিনি জানতেন। এ সময় সাংবাদিকেরা প্রজ্ঞাপনটি দেখালে তিনি বলেন, ‘সরি, আমি জানতাম না। দ্রুত চলে যাচ্ছি। টাইম নিয়ে কনফিউজড ছিলাম। চলে যাচ্ছি, তা না হলে বিধি লঙ্ঘন হবে।’
আওয়ামী লীগের নেতা খালেক তালুকদার সভা করেন শহরের চৌরাস্তা এলাকায়।
এ ছাড়া আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমের হারিকেন এলাকার বাসার নিচে সংবাদ সম্মেলনে এসে উপস্থিত হন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ও আদালতের আদেশে স্থগিত থাকা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম, শ্রমিক লীগ নেতা রায় রমেশ চন্দ্র। কিন্তু নির্দেশনার বিষয়টি জেনে দ্রুত সেখান থেকে চলে যান তাঁরা।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ নেতাদের গাজীপুর সিটি করপোরেশন এলাকায় নির্বাচনী প্রচারে আসা প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমি সর্বক্ষণ নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত ছিলাম। আমি জানতামও না এই প্রজ্ঞাপনের ব্যাপারে। এই আইনের আর কোনো লঙ্ঘন ঘটবে না। বহিরাগতদের আসার বিরুদ্ধে আমি ছিলাম সবচেয়ে সজাগ। কারণ, এখানে সন্ত্রাসীরা যেন ভিড়তে না পারে, আমি প্রশাসনকে আগে অনুরোধ করেছিলাম।’
গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমতউল্ল্যা খানও বলেন, ‘খেয়াল করিনি। গণমাধ্যম বিষয়টির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। সে জন্য গণমাধ্যমকে ধন্যবাদ। সুন্দর জিনিস আমাদের ধরিয়ে দিয়েছেন।
নজিরবিহীন প্রস্তুতি গাজীপুরেঃ
নজিরবিহীন কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে। নির্বাচনের আর মাত্র একদিন বাকি থাকলেও ইতোমধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সার্বিক প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন করেছেন নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনে সার্বিক নিরাত্তার জন্য বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ, এপিবিএন, আনসারসহ আইনশৃংখলা বাহিনীর প্রায় ১১ হাজার সদস্য মোতায়েন থাকবে।
বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ, আনসার সদস্যদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বিজিবি সদস্যদের বহনকারী যানবাহন গাজীপুরে মহাসড়কের চলাচল করতে দেখা গেছে, তারা বিভিন্ন এলাকা রেকি করছেন। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ২৯ প্লাাটুন বিজিবি দায়িত্ব পালন করবে বলে জানা গেছে।
গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ জানান, সিটি নির্বাচন উপলক্ষে ইতোমধ্যে পুরো গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন এলাকা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলেছে আইনশৃংখলা বাহিনী। পোশাক ছাড়াও বিপুল পরিমাণ পুলিশ সাদা পোশাকে নগরীর বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালন করছেন। নির্বাচন উপলক্ষে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পুলিশসহ আইনশৃংখলা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার রকিব উদ্দিন মন্ডল জানান, রবিবার মধ্যরাতে শেষ হচ্ছে নির্বাচনের সব ধরনের প্রচার-প্রচারণা। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন উপলক্ষে আমাদের প্রস্তুতি প্রায় শেষ। ইতোমধ্যে ৯ হাজার ভোটগ্রহন কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োগ রবিবার থেকে শুরু হয়েছে।
তিনি জানান, নগরীর ৫৭টি ওয়ার্ডে পুলিশ ও আনসারের সমন্বয়ে ৫৭টি স্ট্রাইকিং ফোর্স ও সংরক্ষিত আসনে ২০টি স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকবে। র‌্যাব ইতোমধ্যে ডিপ্লয়মেন্ট শুরু করেছে। ৫৭টি ওয়ার্ডে ৫৭টি এবং অতিরিক্ত একটিসহ মোট ৫৮টি টিম মোতায়েন থাকবে। প্রতি দুইটি ওয়ার্ডে এক প্লাটুন করে মোট ২৯ প্লাটুন বিজিবি দায়িত্ব পালন করবে। এদের মধ্যে ৭ প্লাাটুন কোনাবাড়ি ও কাশিমপুর এলাকায়, ১০ প্লাটুন টঙ্গী এলাকায় এবং ১২ প্লাটুন জয়দেবপুর, বাসন চান্দনা চৌরাস্তা ও কাউলতিয়া এলাকায় দায়িত্ব পালন করবেন।
এছাড়া পুলিশ এপিবিএন ও ব্যাটালিয়ান আনসার সমন্বয়ে ৫৭টি ওয়ার্ডে ৫৮টি মোবাইল ফোর্স, ২০টি স্ট্রাইকিং ফোর্স নিয়োজিত থাকবে।
নির্বাচনের আগে ও পরে চার দিন ৫৭টি ওয়ার্ডে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত থাকবেন। আরো ১০ জন অতিরিক্ত হিসেবে সর্বমোট ৬৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন থাকবেন। সিটি কর্পোরেশনের প্রতি তিনটি ওয়ার্ডের জন্য একজন করে মোট ১৯জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত থাকবেন। তারা ২৪ জুন থেকে ২৭ জুন পর্যন্ত নগরীতে দায়িত্ব পালন করবেন।
রিটার্নিং অফিসার বলেন, এই বিপুল পরিমাণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের প্রধান উদ্দেশ্য হলো নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ এবং শান্তিপূর্ণ করা। নির্বাচনী এলাকায় যাতে কেউ গোলযোগ, অনিয়ম করতে না পারে। যারা কাজে নিয়োজিত থাকবে আগামী ২৫ জুন সকালে তাদের জন্য একটা প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। এই প্রশিক্ষণে তাদের দায় দায়িত্ব সম্পর্কে অবহিত করা হবে।
সিটি কর্পোরেশনের ৪২৫টি কেন্দ্রে এ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ৩৩৭টি গুরুত্বপূর্ণ এবং ৮৮টি সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র গুলোতে পুলিশ, আনসার ভিডিপিসহ ২৪ জন (১২ জন অস্ত্রধারী) সদস্য মোতায়েন থাকবে। আর সাধারণ কেন্দ্রগুলোতে ২২ জন (১০ জন অস্ত্রধারীসহ) সদস্য মোতায়েন থাকবে।
আগামী ২৬ জুন অনুষ্ঠিত হবে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন। ৫৭টি সাধারণ এবং ১৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড বিশিষ্ট এ সিটি কর্পোরেশনের মোট ভোটার ১১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৭। এরমধ্যে ৫ লাখ ৭৯ হাজার ৯৩৫ জন পুরুষ এবং ৫ লাখ ৬৭হাজার ৮০১ জন নারী ভোটার।

‘মাঠে নামো জামায়াত কোথায় এসব খালেদার কনভার্সেশন‘: অ্যার্টনি জেনারেল

নিজস্ব প্রতিবেদক

অ্যার্টনি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, ২০১৫ সালের অবরোধের আগে নেতাদের সঙ্গে ফোনে বা ওভার ফোনে বিএনপি নেতাদের বেগম খালেদা জিয়ার কথোপকথনের ‘মাঠে নামো জামাত (বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী) কোথায় এসব কনভার্সেশনের রেকর্ড আছে।

তিনি বলেন, ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বাসে পেট্টোল বোমা ছোড়ে মানুষ হত্যার ঘটনার আগে অবরোধ ডাকা এবং পরে মানুষ হত্যার দায় কোন ভাবেই এড়াতে পারেন না বেগম খালেদা জিয়া।

রোববার (২৪ জুন) কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের ওপর উভয় পক্ষের শুনানি শেষে অ্যার্টনি জেনারেল তার নিজ কাযালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন।

অ্যার্টনি জেনারেল বলেন, “২০১৫ সনের ৩ ফেব্রুয়ারিতে ১৪ গ্রামে গভীর রাতে একটি বাসের ওপরে বোমা ককটেল নিক্ষপ্ত করে বাসে আগুন লাগিয়ে দেয় হয়। এবং তৎক্ষনাত সাতজন লোক মারা যায়। পরে একজন হাসপাতালে মারা যায়।”

তিনি বলেন, “এই মামলাটিতে যে এফআইআর করা হয়েছে, তাতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে খালেদা জিয়ার উস্কানিতে যে অবরোধ হয়েছে। খালেদার হুকুমের পরিপ্রেক্ষিতেই এই ঘটনা ঘটেছে। এই অবরোধ সফল করতে গিয়ে কর্মকান্ড করেছে তাতে লোক মারা গেছে। চার্জশিটে বলা হয়েছে বেগম খালেদা জিয়ার কনভার্সেশন ওভার টেলিফোন, তিনি (খালদা জিয়া) বলেছেন লোক নামাও, মাঠে থাকো, জামাত (বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী) কোথায়।’ ইত্যাদি কথা।’

অ্যার্টনি জেনারেল বলেন, “তাতে (চার্জশিটে) স্পষ্ট উল্লেখ আছে খালেদা জিয়া হলেন মূখ্য নির্দেশ দাতা। খালেদা জিয়ার নির্দেশে খালেদা জিয়ার উস্কানিতে এই ঘটনা ঘটেছে।” “এই ঘটনায় নিম্ন আদালতে মামলা পেন্ডিং রেখে হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেছিল। এবং হাইকোর্ট তাদের বেইল দেয়। তার এগিনেস্টে আমরা আপিল করেছিলাম। সেই মামলাটি আজ শুনানির জন্য ছিল। ‘মানুষ পুড়ে কিভাবে কয়লা হয়েছিল তা আমি আদালতে দেখিয়েছি।’

তিনি জানান, আদালতে বলেছি নির্দেশদাতা এবং উস্কানি দাতা হলেও এই মামলায় হাইকোর্টে খালেদা জিয়াকে জামিন দিয়েছিল।” এই মামলায় জামিন দিতে পারে না। শুনানি শেষ করার পর আগামী ২ জুলাই এই মামলাটি আদেশের জন্য রেখেছেন। আরেকটি মামলাও ওই সময়ের। বাস পোড়ানোর ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ সালের। সেই মামলাতেও খালেদাকে জামিন দিয়েছিল হাইকোর্ট। সেটির বিষয়ে আগামীকাল সোমবার শুনানির জন্য রেখেছেন।

ঘটনার বিষয়ে অ্যার্টনি জেনারেল আারো বলেন, বাস পোড়ে সাতজন লোক মারা গেছে সত্য ঘটনা। এটা কেউই অ-স্বীকার করতে পারবে না। এই মামলায় যে হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে তার বিভৎসতা আদালতে তুলে ধরেছি। এর পরেও যদি মামলার মূখ্য ইন্ধনদাতা জামিন পেয়ে যায় তা হলে বিচার ও বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদবে। এবং এই ধরণের অপরাধে জামিন নিতে পারেন না।

বিএনপি আইনজীবীরা ঘটনা স্বীকার করলেও খালেদা জিয়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত না বলেছেন এর জবাবে অ্যার্টনি জেনারেল বলেন, আমরা বলেছি যে খালেদা জিয়ার উস্কানিতে এবং নির্দেশে ঘটনা হয়েছে। সেখানে টেপ রেকর্ড করা আছে তার বক্তব্য আদালতে চাইলে সেটা জমা দেয়া যাবে।

এখানে তিনি বলেছেন, তোমরা মাঠে নামো। অর্থাৎ মাঠে নামার মানে দেখা গেলো বাসে আগুন। বাসে আগুন মানে হত্যা। সেটা হরতাল শুধু ছিল না এটা ছিল অবরোধও। গাড়ীতে যে হামলা করা হয়েছিল, তার মানে হলো অবরোধকে সার্থক করা। ‘হরতাল করার গণতান্ত্রিক অধিকার হয়তো বলতে পারেন। সেটা করতেই পারে। কিন্তু অবরোধ করার অধিকার তো কারো নেই। তারা করতে পারে না। মানুষের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করা সেটা সাংবিধানিক না। ’

অ্যার্টনি জেনারেল বলেন, ‘সেই অবরোধ যেন মানতে বাধ্য হয় সেই জন্যই মানুষ হত্যা।’ সাতজন লোক যে মারা গেছেন তার মূখ্য ইন্ধনদাতা খালেদা জিয়া। আমরা বলছি যে খালেদা জিয়ার উস্কানিতে এই ঘটনা ঘটেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমি আদালতে বলেছি যে ইহুদিদের হিটলার যে ভাবে মেরেছে, ঠিক একই ভাবে বাসে আবদ্ধ রেখে বোমা মেরে মানুষ মারা হয়েছে। এর চেয়ে বিভৎসতা আর হতে পারে না। ‘ওনি বলেছেন যে তোমরা মাঠে নামো। মাঠে নামার ফলশ্রুতিতে এই ঘটনা। তৎক্ষনাত সাত লোকের মৃত্যু।’

বিচারপতিদের সঙ্গে বিএনপি আইনজীবীদের হট্টগোল এর বিষয়ে অ্যার্টনি জেনারেল বলেন, ‘তারা আদালত সমন্বন্ধে অশালিন একটি মন্তব্য করেছেন। তাই আমি প্রতিবাদ করেছি।’ তিনি বলেন, ‘আদালতকে কথা বললে তো আমি অ্যার্টনি জেনারেল হিসেবে চুপ করে বসে থাকতে পারি না। প্রতিবাদ করেছি। সেটার বাদানোবাদ হয়েছে। তাই তারা (বিএনপির আইইনজীবীরা) হট্ট্রগোল শুরু করেছেন।’

# কাশেম

খালেদার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যাবহার করছে সরকার- জয়নুল আবেদীন

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সরকার একটি আদেশের মাধ্যমে, একজন জাজের মাধ্যমে জাজমেন্ট দিয়ে রাজতৈকি উদ্দেশ্যে হাসিল করেছে। সরকার অন্যায়ভাবে খালেদা জিয়াকে সাজা দিয়ে কারাগারে নিক্ষেপ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন।

তিনি বলেন, এই সরকারের অভিযোগ খালেদা জিয়া নাকি এক সময় ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। সেটিও প্রমাণ দিতে পারেনি।’

বিএনপি চেয়ার পার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবীতে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের উদ্দ্যেগে আয়োজিত রোববার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনের চত্বরে অবস্থান কর্মসুচিতে এ মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, সারাদশের মানুষ জানে বেগম খালেদা জিয়া একটি পয়সাও চুরি করেন নাই। আর যে জাজমেন্ট হয়েছে সেটি বুঝতে হবে। একটি দেশের সরকার প্রধান এতিমের টাকা চুরি করে মেরে খেয়েছে। কিন্তু সেটি আদালতে প্রমান হয়নি। তাদের অভিযোগ খালেদা জিয়া ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। সেটিও প্রমান হয়নি, এজন্য এটি বলা যাবে না।

জয়নুল আবেদীন বলেন, আপনারা জানেন খালেদা জিয়া দীর্ঘ চারমাস ধরে কারাগারে রয়েছেন। এমন জায়গায় আছেন সেখানে কোনো মানুষ থাকে না। সরকারের নীল নকশা খালেদা জিয়াকে জেল খানায় রেখে তারা একটি নির্বাচন করতে চায়। আমরা আইনী লড়াইয়ের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে চাই। খালেদা জিয়া আইনগতভাবেই বেইল(জামিন)পাওয়ার অধিকারী। কিন্তু আইনগতভাবে খালেদা জিয়াকে জামিন দেওয়া হচ্ছে না।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়া সরকারের কারণে বেইল পাচ্ছে না। আমাদের দেশের সর্বোচ্চ্ আদালতের প্রতি একটি কথা বলতে চাই। দেশের মানুষ তাকিয়ে আছে আপনাদের প্রতি। সরকারের এজেন্ডা আপনারা ওখানে বসে বাস্তবায়ন করবেন না। সরকার চায় খালেদা জিয়াকে দীর্ঘ দিন আটকিয়ে রাখতে। সরকার চায় খালেদা জিয়াকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করতে। আর আপনারা(আদালত)সরকারের সেই ইচ্ছা বাস্তবায়ন করতে সহযোগিতা করেন তাহলে বিচার বিভাগের ওপর সারা দেশের মানুষের আস্থা থাকবে না। আমাদের আইনজীবীদেরও আস্থা থাকবে না।

খালেদা জিয়ার মক্তির দিবে জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালতের প্রতি আমাদের অুনরোধ অন্যান্য মানুষ যেভাবে বিচার পায় খালেদা জিয়াকেও সেই দৃষ্টিকোন থেকে দেখে আপনারা বিচার কার্য পরিচালনা করুন। যদি সেটা করেন তাহলে খালেদা জিয়া মুক্ত হতে পারবে। আর যদি সেটি না করেন তাহলে বুঝতে হবে সরকার যেভাবে খালেদা জিয়াকে কারাগারে আটকিয়ে রাখতে চায় আপনারা সেটা সহযোগিতা করতে চান। দয়া করে এটি করবেন না।

জয়নুল আবেদীন বলেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আইনজীবী সমিতির সভাপতি হিসেবে অমি আপনাদের প্রতি বিনয়ের সঙ্গে বলতে চাই, আপনারা দয়া করে নিরপেক্ষভাবে বিচার করুন। কালো কোর্টকে ক্ষেপাবেন না। আইনজীবীরা যদি রাস্তায় নামে তাহলে আপনাদেরকে জনগনের কাঠগড়ায় দাড়াতে হবে।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় দুর্নীতির অভিযোগে ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত হয়ে গত ৮ ফেব্রুয়ারী থেকে পুরান ঢাকার নাজিম রোডের কারাগারে রয়েছেন খালেদা জিয়া
# কাশেম

চট্টগ্রামে অনুষ্ঠান থেকে ২১০জন গ্রেফতার: জামায়াতের নিন্দা

চট্টগ্রাম অফিস:
চট্টগ্রামের একটি হোটেলে পারাবার নামক একটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত একটি মনোজ্ঞ ঈদ পুনর্মিলনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মত একটি ঘরোয়া বিনোদনমূলক অরাজনৈতিক সামাজিক অনুষ্ঠান থেকে ২১০ জন শ্রোতা ও দর্শককে গত ২৩ জুন রাত ৮টায় পুলিশের অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করার ঘটনার তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমীর ও সাবেক এমপি মাওলানা আ.ন.ম. শামসুল ইসলাম আজ ২৪ জুন প্রদত্ত এক বিবৃতিতে বলেন, “গত ২৩ জুন রাতে চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক সংগঠন পারাবার কর্তৃক স্থানীয় একটি হোটেলে আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থেকে থেকে ২১০ জন শ্রোতা এবং দর্শককে পুলিশের অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
ঈদ পুনর্মিলনী এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মত একটি ঘরোয়া বিনোদনমূলক শান্তিপূর্ণ অরাজনৈতিক সামাজিক অনুষ্ঠান থেকে ২১০ জন শ্রোতা ও দর্শককে পুলিশের অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করার ঘটনার মধ্যে দিয়ে সরকারের ফ্যাসিবাদী চরিত্রই অত্যন্ত নগ্নভাবে প্রকাশিত হয়েছে। এ থেকেই স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে যে, সরকার দেশকে একটি পুলিশী রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। হয়রানি করার হীন উদ্দেশ্যেই তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। এভাবে অহেতুক মানুষকে হয়রানি করার কোন যুক্তি নেই। এ ধরনের ঘটনা সম্পূর্ণ অনভিপ্রেত ও অনাকাক্সিক্ষত।
গ্রেফতারকৃত সবাইকে অবিলম্বে নিঃশর্তভাবে মুক্তি দেয়ার জন্য আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”

১৫ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণকালে চট্টগ্রাম মেডিক্যালের মিলন কান্তি গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক:
বোগীর অভিভাবকদের কাছে জখমি মেডিক্যাল সার্টিফিকেট দেওয়ার নামে ১৫ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণকালে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে হাসপাতালের উচ্চমান সহকারী মিলন কান্তি রুদ্রকে গ্রেফতার করেছে দুদক।রোববার বিকেলে ওই হাসপাতালের পাশ থোকে ঘুষখোর মিলন কান্তি রুদ্রকে গ্রেফতার করা হয়।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, রোগীর ভাই মোজাম্মেলের কাছে ওই সার্টিফিকেট বাবদ ২৫ হাজার টাকা ঘুষ দাবী করেন মিলন কান্তি রুদ্র। পরে বাধ্য হয়ে ইতোপূর্বে ১০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। কিন্তু হাসপাতালের কর্মচারী মিলন কান্তি রুদ্র সার্টিফিকেট না দিয়ে বাকী ১৫ হাজার টাকার জন্য উল্টা চাপ দেন।

তিনি বলেন, এদিকে নিরুপায় হয়ে এই বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনকে জানান ভিকটিম মোজাম্মেলের। পরে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মো. আক্তার হোসেনের তত্বাবধানে এবং চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এর উপ পরিচালক মোহাম্মদ লুৎফুল কবির চন্দনের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে হাসপাতালের উচ্চমান সহকারী (কর্মচারী) মিলন কান্তি রুদ্রকে ১৫ হাজার টাকা ঘুষসহ হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে।
দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা জানান, জনৈক মো. মোজাম্মেল হক দুদক চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ে অভিযোগ করেন যে, তার আপন ছোট ভাইয়ের জখমি মেডিক্যাল সার্টিফিকেট দেওয়ার নামে মিলন কান্তি ২৫ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেছেন। ইতোপূবে মোজাম্মেল দাবিকৃত ঘুষের ২৫ হাজার টাকার মধ্যে ১০ হাজার টাকা পরিশোধ করেছেন।
বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনকে অবহিত করা হলে,দুদক ফাঁদ মামলা পরিচালনার মাধ্যমে অভিযোগ সংশ্লিষ্টের বিরুদ্ধে এই ফাঁদ মামলা পরিচালনা করা হয়।
দুদক উপ পরিচালক মোহাম্মদ লুৎফুল কবির চন্দনের নেতৃত্বে ৮ সদস্যের একটি বিশেষ টিম
রোববার (২৪ জুন) দুপুর থেকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চারিদিকে ওৎ পেতে থাকে। বিকেল বেলা ৩ টা ৫০ মিনিটে মিলন কান্তি রুদ্র ঘুষের ১৫ হাজার টাকা মো মোজাম্মেল হকের নিকট থেকে গ্রহণ করেন। ঠিক ওই সময় দুদক বিশেষ টিমের সদস্যরা ঘুষগ্রহণকারী মিলন কান্তি রুদ্রকে গ্রেফতার করা হয়।
পরে এ বিষয়ে দুদকের চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এর সহকারী পরিচালক জাফর আহমেদ বাদী হয়ে পাঁলাইশ (সিএমপি) থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
# কাশেম

নারায়ণগঞ্জ বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থা নাজুক

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ : এক বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও নারায়ণগঞ্জ বিএনপি সাংগঠনিকভাবে তৎপর হতে পারেনি। এখানকার বিএনপি দিনকে দিন দুর্বল হয়ে ওঠছে। বিশেষ করে জেলা ও মহানগর বিএনপির কমিটিতে নিষ্ক্রিয় নেতাদের ঠাঁই দিয়ে সক্রিয় ত্যাগী নেতাদের মাইনাস করার ফলে দুটি গ্রুপই এখন জিমিয়ে পড়েছে। তবে জেলা বিএনপির তুলনায় মহানগর বিএনপির বিরোধের কারনে দুটি গ্রুপ এখানে প্রতিযোগীতামূলকভাবে সক্রিয় থাকার চেষ্টা করছে।
বিশেষ করে গত বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি জেলা ও মহানগর বিএনপির কমিটি গঠনের পর যারা পদ পেয়েছেন তারাও রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় হয়ে যান। আবার যারা বঞ্চিত হয়েছেন তারাও নিক্রিয় হয়ে যান। বিশেষ করে জেলা বিএনপি কমিটি গঠন করা হয় বেশির ভাগ নিষ্ক্রিয় ও ব্যবসায়ী নেতাদের দিয়ে। যে কারণে জেলা বিএনপির সক্রিয়তা নেই বললেই চলে। আবার মহানগর বিএনপিতেও একই অবস্থা। কিন্তু এখানে সাবেক এমপি আবুল কালাম ও অ্যাড ভোকেট সাখাওয়াতের মধ্যে মনোনয়ন প্রতিযোগীতা থাকায় পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি হয়। ফলে মহানগর বিএনপির কিছুটা সক্রিয়তা দেখা যায়।
কমিটি গঠনের এক বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও নির্দিষ্ট সময়ে কমিটি পূর্ণাঙ্গভাবে গঠন করতে পারেনি জেলা ও মহানগর বিএনপি। এমনকি কমিটি গঠনের পর একটি মাত্র মিটিং দলীয় মিটিং করতে সক্ষম হলেও আর কোন দলীয় মিটিং করতে পারেনি জেলা ও মহানগর বিএনপি। এখানে সাংগঠনিক কোন তৎপরতা দেখাতে পারেনি বিএনপি। উল্টো বিএনপির নেতাকর্মীরা বিএনপি থেকে আরও নিষ্ক্রিয় হয়ে যাচ্ছেন। দলের মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা ধীরে ধীরে রাজনীতি থেকে সটকে পড়ছেন।
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান মনির ও সিনিয়র সহ-সভাপতি মুহাম্মদ শাহআলম এ দুজনই বিএনপির রাজনৈতিক কর্মকান্ডে সক্রিয় থাকেন না। তবে ঠান্ডা কর্মসূচিতে বাধাবিহীন কর্মসূচিতে কাজী মনিরকে দেখা গেলেও শাহআলম কখনই আসেন না। একইভাবে এখন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নানকেও মাঠের রাজনীতিতে দেখা যাচ্ছেনা।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহামুদ। তিনি দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকলেও সাংগঠনিক কোন কর্মকান্ড চালিয়ে যেতে পারেননি। এমনকি তার নিজ থানা এলাকায় বিএনপির সাংগঠনিক কোন কর্মকান্ড নেই। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব অধ্যাপক মামুন মাহামুদ। এ থানায় আহ্বায়ক সফর আলী ভুইয়া রাজনীতিতে নেই। ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক আলী হোসেন প্রধান মৃত্যুবরণ করেছেন কারাগারে। যে থানায় জেলা বিএনপির সেক্রেটারি সেই থানায় বিএনপির নাজুক অবস্থা।

গণভবনে শামীম ওসমান ও মেয়র আইভী কিন্তু….

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ : বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ৬৯ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে গণভবনে আয়োজিত দলের বিশেষ বর্ধিত সভায় যোগ দিয়েছিলেন ক্ষমতাসীন দলটির নারায়ণগঞ্জ জেলা দুই প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধি নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের এমপি শামীম ওসমান ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভী।
আর এই সুযোগে নেতাকর্মীরা শামীম ওসমান ও আইভীর মধ্যে সাক্ষাতের পাশাপাশি আলাপচারিতা হওয়ার প্রত্যাশা করলেও কারো সাথে কারো দেখাই হয়নি বলে জানিয়েছেন তাঁদের ঘনিষ্টজনেরা।
শনিবার (২৩ জুন) দুপুরে প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গণভবনে দলে এই বিশেষ বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়।
যেখানে যোগ দেয়ার লক্ষ্যে এমপি শামীম ওসমান ঢাকা থেকেই আমন্ত্রণ পত্র পেলেও শুক্রবার রাতে হস্তগত হওয়ার পর সিটি মেয়র আইভীর কাছে তাঁর আমন্ত্রণ পত্র পাঠান নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই।
পরবর্তীতে শনিবার গণভবনে অনুষ্ঠিত আওয়ামীলীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় যোগ দেন আইভী ও শামীম ওসমান।
সভাস্থলে আইভীর যোগ দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, আওয়ামীলীগের জাতীয় কমিটির সদস্য এড. আনিসুর রহমান দিপু। আর শামীম ওসমানের উপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সভাস্থলে যোগদানকারী ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক হাজী এম শওকত আলী।
জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে প্রধান ফ্যাক্টর হচ্ছেন, আইভী ও শামীম ওসমান। আর এই দু’জনের সাপে-নেউলে সম্পর্কের কারনে আদৌ জন্মস্থান নারায়ণগঞ্জে উত্তর-দক্ষিণে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা রয়েছে বিভক্ত।
আওয়ামীলীগের কমিটি গঠন থেকে শুরু করে দলীয় যে কোন কর্মসূচীতেই থাকে ক্ষমতাসীন দলের এই শীর্ষ দুই জনপ্রতিনিধির প্রভাব। জেলায় অনেক বড় বড় নেতা থাকলেও বাস্তবে দলের কান্ডারী হিসেবে শামীম ওসমান ও আইভীকেই প্রাধান্য দেয়া হয়ে থাকে। ফলে তৃণমূল থেকে শীর্ষস্থানীয় পর্যন্ত দলীয় নেতাকর্মীরা এই দুই নেতার বলয়ে থেকে রাজনীতি করায়, যুগের পর যুগ যাবত জন্মস্থান নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগ উত্তর-দক্ষিণে বিভক্ত হয়ে রয়েছে।
উভয়ের মধ্যকার অর্ন্তদ্বন্দ নিরসনে খোদ দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা উদ্যোগ নেয়ার পরেও শামীম ওসমান ও আইভীর সম্পর্কে ঐক্যের সূচনা না হওয়ায় হতাশ তৃণমূল থেকে শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দরা।
তবে এমপি শামীম ওসমান অতীত অভিমান ভুলে একাধিবার ছোট বোন আইভীর সাথে সুসম্পর্ক স্থাপনের প্রয়াস চালালেও সর্বশেষ গত ১৬ জানুয়ারী নগরীতে হকার বসাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংঘাতের ঘটনায় শামীম ওসমান ফের আইভীর চির শত্রু বনে যান।
সেইদিন হকার সংঘর্ষের সময় আত্মরক্ষার্থে শামীম ওসমান অনুগামী যুবলীগ কর্মী নিয়াজুল ইসলাম তাঁর সাথে থাকা অস্ত্র উঁচিয়ে ফাঁকা গুলি ছুড়ার চেষ্টা করলেও এটিকে নিজেকে হত্যা চেষ্টার দাবী করে আইভী এরজন্য শামীম ওসমানকে দোষারোপ করতে থাকেন।
পরবর্তীতে এই ঘটনায় হত্যা চেষ্টার অভিযোগে আইভীর নির্দেশে শামীম ওসমান অনুগামী আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় ৮/১০ জন নেতার বিরুদ্ধে নাসিকের আইন কর্মকর্তা থানায় অভিযোগ দায়ের করার পর পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে উঠে।
আর এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে যদি পুলিশ কোন কর্মীর শরীরের পশম ধরার চেষ্টা করে তবে নারায়ণগঞ্জে আগুন জ¦ালিয়ে দেয়ার হুংকার দেন শামীম ওসমান।
এরপর থেকে শামীম ওসমান ও আইভীর মধ্যকার সাপে-নেউলে সম্পর্ক ফের বিরাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন তাঁদের ঘনিষ্টজনেরা

না’গঞ্জের সোনারগাঁওয়ে নৈশপ্রহরীকে হত্যা

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে নুরুল ইসলাম শিকদার (৬৫) নামে এক নৈশপ্রহরীকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার (২৪ জুন) সোনারগাঁওয়ের সাদীপুর ইউনিয়নের বাইশটেক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত নুরুল ইসলাম একই গ্রামের দুলু হাজীর ছেলে।
জানা যায়, শনিবার (২৩ জুন) রাতে বাইশটেকে একটি মুরগীর খামারের নৈশপ্রহরীর দায়িত্ব পালন করছিলেন নুরুল ইসলাম। তাকে হত্যার পর পাশের শালবনে ফেলে রেখে যায় হত্যাকারীরা। সকালে স্থানীয়রা মরদেহটি দেখতে পেয়ে থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর জেনারেল হাসপাতালে মর্গে পাঠিয়ে দেয়।
সোনারগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জসীম উদ্দিন জানান, কে বা কারা তাকে হত্যা করে ফেলে গেছে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে নুরুল ইসলামকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। তবে হত্যাকারীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।