বৃহস্পতিবার | ২৪শে জানুয়ারি, ২০১৯ ইং | ১১ই মাঘ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ১২:১২

সংলাপে যাচ্ছেন যে ১৬ জন

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী বাসভবন গণভবনে সংলাপে অংশ নিতে যাওয়ার জন্য একটি প্রতিনিধি দলের তালিকা তৈরি করেছে ফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ। মঙ্গলবার বিকেলে গণফোরাম কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ১৬ জনের নাম চূড়ান্ত করেন নেতারা।

ঐক্যফ্রন্টের নেতা আ স ম আব্দুর রব গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ১৬ জনের একটি দল যাবে গণভবনের সংলাপে অংশ নিতে। ১ নভেম্বর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সংলাপের জন্য ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের নৈশভোজের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে।

ড. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য জগলুল হায়দার আফ্রিক, জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, সহ-সভাপতি তানিয়া রব, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, সাবেক ছাত্রনেতা সুলতান মুহাম্মদ মনসুর, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ।

সংলাপে যাচ্ছেন যারা:

গণভবনের সংলাপে ঐক্যফ্রন্টের প্রতিনিধি দলের দলনেতা হিসেবে থাকবেন ড. কামাল হোসেন। বিএনপি থেকে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার ও মির্জা আব্বাস। নাগরিক ঐক্য থেকে থাকবেন মাহমুদুর রহমান মান্না ও এস এম আকরাম। গণফোরাম থেকে মোস্তফা মহসিন মন্টু ও সুব্রত চৌধুরী। জেএসডি থেকে আ স ম আব্দুর রব, আব্দুল মালেক রতন ও তানিয়া রব। ঐক্য প্রক্রিয়া থেকে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর, আ ব ম মোস্তফা আমিন ও স্বতন্ত্র হিসেবে থাকবেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

যেভাবে চূড়ান্ত হলো সংলাপ প্রক্রিয়া :

গত বেশ কয়েকদিন ধরেই জাতীয় রাজনীতিতে সংলাপের বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। গত রোববার জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে সংলাপের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে একটি চিঠি দেয়া হয়। পরদিন সোমবার প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রীদের এক অনির্ধারিত বৈঠক থেকে সেই সংলাপের আহ্বানে সাড়া দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় সরকারের পক্ষ থেকে।

ওই দিন বিকেলে আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সংবাদ সম্মেলন করে তাদের সংলাপের আহবানে সাড়া দেয়ার
কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের জানান, তফসিলের আগেই ঐক্যফ্রন্টের সাথে সংলাপে রাজি আছে সরকার। সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আজ আমি আপনাদের ও পুরো জাতিকে সারপ্রাইজ দেবো। আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনার সম্মতিক্রমে একটি সুখবর জানাবো। এ খবরে রাজনীতির মাঠে শান্তির বাতাস বইবে বলে মনে করি।’

পরে তিনি বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ড. কামাল হোসেন একটি চিঠি দিয়েছেন। আজ মন্ত্রিসভা বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী ও সভাপতি শেখ হাসিনা উপস্থিত নেতাদের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা করেন। অনির্ধারিত এ বৈঠকে আলোচনা শেষে সর্বসম্মতি সিদ্ধান্ত হয়েছে যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংলাপে বসবে। কারণ শেখ হাসিনার দরজা কারও জন্য বন্ধ থাকে না।’

ঐক্যফ্রন্টের নেতারা এত দ্রুত সরকারের সাড়া পেয়ে বিস্মিত হলেও তারা বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে নিয়েছেন। তারা সরকারের এই সংলাপের আগ্রহকে স্বাগত জানান। সোমবারই জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে ফোন করেন ওবায়দুল কাদের। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা ও গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টুকে ফোন করে তিনি সংলাপের আমন্ত্রণ জানান। সংলাপের আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের জানতে চান ঐক্যফ্রন্টের কতজন সদস্য সংলাপে অংশ নেবে।

ওই দিন রাত ৮টার দিকে এই দু’নেতার মধ্যে ফোনে কথা হয়। এ সময় ঐক্যফ্রন্টকে গণভবনে নৈশভোজের আমন্ত্রণ জানান ওবায়দুল কাদের। জবাবে মহসিন মন্টু তার জোটের নেতাদের সাথে আলোচনা করে সময় দিবেন বলে জানান।

পরদিন মঙ্গলবার সংলাপের বিষয়ে ঐক্যফ্রন্টকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর চিঠি পৌঁছে দিতে মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর বেইলি রোডে ড. কামাল হোসেনের বাসায় যান আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ। ড. কামাল তার চিঠি গ্রহণ করে কিছুক্ষণ কথাবার্তা বলেন। এ সময় সেখানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য ও গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টুও উপস্থিত ছিলেন।

২ নভেম্বর ঢাকায় সমাবেশ করবে ঐক্যফ্রন্ট

লেট এবং চট্টগ্রামের পর এবার রাজধানীতে সমাবেশ করতে চায় নবগঠিত রাজনৈতিক মোর্চা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

এজন্য আগামী ২ নভেম্বর সম্ভাব্য তারিখ ঠিক করা হয়েছে।

আজ সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে এই ঘোষণা দেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম সদস্য বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

রিজভী জানান, আগামী ২ নভেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অথবা নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে জনসভা করতে চান তারা।

তবে এটা নির্ভর করছে অনুমতি সাপেক্ষ। অর্থাৎ এই দুটি স্থানের যেখানে অনুমতি মিলবে সেখানেই সমাবেশ করা হবে।

রিজভী আরও বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাত দফা দাবি আর ১১ দফা লক্ষ্যকে সামনে রেখেই এই সমাবেশের আয়োজন করা হবে।

এর আগে গত ২৭ অক্টোবর চট্টগ্রামের কাজীর দেউড়ি এলাকায় নাসিমন ভবনে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করে ঐক্যফ্রন্ট।

এছাড়া আইনজ্ঞ ও সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপিকে নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের পর গত ২৪ অক্টোবর সিলেটে প্রথম সমাবেশ হয়।

নির্বাচনে অনিয়ম ও রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ: মার্কিন কর্মকর্তার টুইট

রাখাইন ও রোহিঙ্গা সংকট, সদ্য সমাপ্ত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের যাবতীয় অনিয়মে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ এবং বন্ধুসহ নিজ বাসায় নির্মম হত্যাকোণ্ডের শিকার মার্কিন দাতব্য সংস্থার কর্মী জুলহাজ মান্নানের ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা- এই ৩ ইস্যুতে সফররত বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে ওয়াশিংটন বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

এমনটাই জানিয়েছেন ইউএসএআইডি প্রশাসক মার্ক গ্রীণ।

নিজের টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে প্রচারিত ক্ষুদে বার্তায় তিনি উল্লিখিত তিন ইস্যুতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে ‘ইতিবাচক’ আলোচনা হয়েছে বলে দাবি করেছেন। ২২ জানুয়ারির ওই বৈঠকের সচিত্র সংবাদ বিজ্ঞপ্তিও টুইট বার্তায় প্রচার করেছেন তিনি।

সাংবাদিকদের ফ্ল্যাট দেওয়ার কথা ভাবছে সরকার : তথ্যমন্ত্রী

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, আবাসন সংকট নিরসনে সাংবাদিকদের ফ্ল্যাট দেওয়ার কথা ভাবছে সরকার। এসব ফ্ল্যাট কারা পাবে তা সাংবাদিক সমিতিগুলোই ঠিক করবে। বুধবার সচিবালয়ের গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) সঙ্গে এক সংলাপে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিএসআরএফ সভাপতি শ্যামল সরকারসহ অন্যান্য নেতারা বক্তৃতা করেন।

সাংবাদিকদের ওয়েজবোর্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, সংবাদকর্মীদের জন্য সরকারের দেওয়া ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নে মালিকদের সঙ্গে আলোচনায় বসবো। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, টেলিভিশনের সাংবাদিকদের জন্য একটা বেতন কাঠামো থাকা প্রয়োজন। আমরা সে লক্ষ্যে কাজ করছি।

সাংবাদিকদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকদের আবাসন সমস্যা সমাধানে ফ্ল্যাট নির্মাণের চিন্তাভাবনা করছি, কারা পাবে সাংবাদিক সমিতিগুলোই ঠিক করবে।

বিএনপি মহাসচিব ‘সজ্জন মানুষ’ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন মন্তব্যের একদিন পরই দলটির প্রচার সম্পাদক তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বললেন, ফখরুল ইসলাম আলমগীর সজ্জন মানুষ, তবে তিনি সুন্দর করে মিথ্যা কথা বলতে পারেন।

রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীতা যখন সাংঘর্ষিক রুপ নেয় তখন রাষ্ট্রের ক্ষতি হয় মন্তব্য করে হাছান মাহমুদ বলেন, এই রাজনীতির অবসান হলে দেশ এগিয়ে যাবে। হরতাল অস্ত্র যে ভোঁতা হয়ে গেছে, এটির ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের বিরাট ভূমিকা আছে। সাংঘর্ষিক রাজনীতি বন্ধ করতে আপনারের বিরাট ভূমিকা আছে।

আগামী মার্চ থেকে শুরু হওয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিচ্ছে না বলে দলটির বিভিন্ন সূত্রের বরাতে গণমাধ্যমে খবর এসেছে। হাছান মাহমুদ আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিতে বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তা না করলে ‘আত্মহনন ও মহাভুলের মতো’ সিদ্ধান্ত হবে। তবে বিএনপি দলগতভাবে উপজেলা নির্বাচনে অংশ না নিলেও তাদের অনেক নেতা ভোট করবেন।

মহানবীর (সা) অনন্য নূর ও আদর্শের প্রতীক ফাতিমা (রা:)

আজ ১৩ ই জমাদিউল আউয়াল। কোনো কোনো বর্ণনা অনুযায়ী এ দিনে শাহাদাত বরণ করেছিলেন সর্বকালের সেরা নারী নবী-নন্দিনী হযরত ফাতিমা জাহরা (রা:)।

এ উপলক্ষে সবাইকে জানাচ্ছি গভীর শোক ও সমবেদনা। ইসলাম ধর্ম কেন শ্রেষ্ঠ ধর্ম, আল্লাহর নবী-রাসূলরা কেমন ছিলেন ও কেন এবং কিভাবে তাঁদের মেনে চলব ?-এসব প্রশ্নে উত্তর জানা খুবই জরুরি। আমরা অনেকেই ইসলামের মূল নেতৃত্বের স্বরূপ ও ধারাবাহিকতার বিষয়েও মাথা ঘামাই না। তাই রাসূলুল্লাহ্ (সা.) কিংবা হযরত ফাতিমাকে যেভাবে জানা উচিত সেভাবে তাঁদেরকে জানতে পারিনি।

আমরা বলি হযরত ফাতিমা মহানবীর মেয়ে। কিন্তু এর চেয়ে বড় ও আসল পরিচয় হল তিনি বেহেশতের নারীদের নেত্রী। আমরা জানি, কেবল আত্মীয়তার সম্পর্ক থাকলেই যে কেউ বেহেশতে যেতে পারবে না। যদি তারা নবী-রাসূলগণের স্ত্রী-সন্তানও হয় তবুও না। হযরত নূহ (আ.)-এর স্ত্রী-সন্তান এবং হযরত লূত (আ.)-এর স্ত্রী জাহান্নামবাসী হয়েছে, এটি পবিত্র কুরআনেই বর্ণিত হয়েছে।

আল্লাহর বিরোধিতা করে কেউ বেহেশতে যেতে পারবে না। এমনকি কেউ যদি রাসূলুল্লাহ্ (সা.)-এর স্ত্রী-সন্তান হন, তবুও তাঁরা কেবল এ সম্পর্কের ভিত্তিতে বেহেশতে যেতে পারবেন না। যেমনটি বলা হয়েছে সূরা আহযাবের ৩০ নং আয়াতে :

‘হে নবীপত্নিগণ! তোমাদের মধ্যে যে কেউ প্রকাশ্য অশ্লীল আচরণ করবে তার শাস্তি দ্বিগুণ বৃদ্ধি করা হবে এবং এটা আল্লাহর পক্ষে অতি সহজ।’

হযরত ফাতিমা মাত্র ১৮ বা ২০ কিংবা সর্বোচ্চ ৩০ বছর বয়সে শাহাদত বরণ করেন। অথচ রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁকে ‘বেহেশতবাসী নারীদের নেত্রী’ বলে সম্মান দিলেন। এটা স্পষ্ট, রাসূলুল্লাহ্ (সা.) নিজের খেয়াল-খুশিমতো তাঁকে এ উপাধি দেননি। কারণ, কুরআনের ভাষায় তিনি প্রবৃত্তির খেয়ালে কোন কথা বলেন না। তাই আমরা বলতে পারি, হযরত ফাতিমা (রা:)ইসলামের জন্য অসাধারণ বড় খেদমত আঞ্জাম দিয়েছেন বলেই আল্লাহর রাসূল (সা.) তাঁকে এত বেশি ভালবাসতেন এবং তাঁকে অনুসরণ করতে আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু আমরা এ বিষয়ে উদাসীন থেকেছি।

ইসলামের মহানবীর কোনো পুত্র সন্তান ছিল না। এ কারণে কাফের বা পথভ্রষ্টরা মহানবীকে নিয়ে উপহাস করে বলত যে নবী নির্বংশ হয়ে যাবেন। তাদের সে মশকরার জবাব হিসেবে সুরা কাউসার নাজিল হয়। কাউসার মানে অফুরন্ত নেয়ামত। তফসিরকারকদের মতে, কাউসার বলতে নবী কন্যা ফাতিমাকে ইংগিত করা হয়েছে। আল্লাহর বাণীর সেই সীমাহীন মহিমায় পৃথিবী আজও আওলাদে রাসুল বা নবী বংশের সন্তানদের পদচারণায় মুখর। অন্যদিকে এককালের সেই গর্বিত পুরুষ ও অন্ধকারের উপাসক ও মহানবীর প্রাণের শত্রু খল নায়কদের বংশ বিলীন হয়ে গেছে। সত্যিকার অর্থে নির্বংশ হয়ে গেছে আবু লাহাবের মতো গোত্রপতিরা। আর নবী বংশের জ্যোতিধারা রক্ষা পেয়েছে ফাতিমার ধারাবাহিকতার মধ্য দিয়ে।

মহানবীর আহলে বাইত বা পবিত্র বংশ হিসেবে রসুলে খোদার বংশধরকে যে শ্রদ্ধা জানানো হয়ে থাকে তার উৎসধারা ফাতিমা। যে যুগে নারীকে ভোগের পণ্য মনে করা হতো ও কন্যা সন্তানকে হত্যা করে পারিবারিক মর্যাদা রক্ষা করা যায় বলে মনে করা হতো সে যুগে হজরত ফাতিমার(রা:) মাধ্যমে বংশ রক্ষার এই ঘোষণা এক অনন্য সমাজ বিপ্লবেরই ধ্বনি হয়ে ওঠে।

নবী নন্দিনী ফাতিমাকে ঘিরে এমন আরো অসাধারণ ঘটনা রয়েছে। নবী নিজ কন্যাকে ‘উম্মে আবিহা’ বলে সম্মান দেখাতেন। এর অর্থ ‘বাবার মাতা’। ইসলাম প্রচারের প্রাথমিক দিনগুলোতে নবী মোস্তফাকে অশেষ কষ্ট ও লাঞ্ছনা সইতে হয়েছে। কাফিররা মহানবীকে বারবার আঘাত হেনেছে। ইবাদত মগ্ন রসুলে খোদার দেহে নোংরা এবং ময়লা পদার্থ ঢেলে দিত তারা। এই দিনগুলোতে হযরত ফাতিমা ইসলামের বাণী ছড়িয়ে দেয়ার কাজে ছিলেন মহানবীর দুঃসাহসী সহযোগী ও মাতৃতুল্য সেবিকা।

হজরত ফাতিমা সব যুগের নারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হিসেবে সম্মানিত। হুজুরে পাক বলেছেন, ঈসার মাতা মরিয়ম নিজ যুগের সম্মানিতা মহিলা। কিন্তু আমার কন্যা ফাতিমা সকল যুগের শ্রেষ্ঠ নারী। তিনি আরো বলেছেন, ফাতিমা আমার দেহের একটি অংশ, যে জিনিসে সে দুঃখ পায় তাতে আমিও দুঃখ পাই। ফাতিমা বেহেশতে সর্ব প্রথম প্রবেশে করবে। অন্যদিকে ফাতিমার অনুসারীদের স্পর্শ করবে না আগুন।

হযরত ফাতিমা কাছে এলে দ্বীনের নবী নিজে উঠে দাঁড়িয়ে তাঁকে বরণ করে নিজের পাশে বসতে দিতেন। এ থেকে বোঝা যায় ফাতিমাকে সম্মান দেখানোর পেছনে রয়েছে ঐশীলোকের সুস্পষ্ট ইংগিত ।

ফাতিমার স্বামী আলী(রা:)কে খোদ নবী নিজের জ্ঞান-নগরীর দরজা বলে অভিহিত করেছিলেন। তাঁর দুই সন্তান ইমাম হাসান ও ইমাম হুসাইনকে বেহেশতে যুবকদের নেতা বলেছেন মহানবী। অথচ ফাতিমা বা তাঁর বংশধরদের কেউই এই ঐশী সম্মানকে পার্থিব ভোগের কাজে লাগান নি। হজরত আলীকে (রা:) মসজিদে তরবারির আঘাতে ও ইমাম হাসানকে বিষ দিয়ে শহীদ করা হয়েছে। আর ইমাম হুসাইনকে কি মর্মস্পর্শী পরিস্থিতিতে কারবালায় আত্মত্যাগ করেতে হয়েছে তা সবাই জানে।

আত্মত্যাগের বিশালত্বে ফাতিমা এবং তার বংশধররা এ ভাবেই ইতিহাসকে অতিক্রম করে গেছেন। এ সবই হলো ফাতিমার শিক্ষা, ত্যাগ এবং মহিমার শ্রোতধারার ফসল। তাদের সে আত্মত্যাগের গাঁথা আজও মানুষকে অন্যায়-অত্যাচার-জুলুম-নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রেরণা যোগায়। সত্যকে জানতে হলে, স্রষ্টার পথ চিনতে হলে এবং স্বাধীন ভাবে বেঁচে থাকতে হলে ধরতে হবে হযরত ফাতিমার পথ । হজরত ফাতিমা(রা:) কেবল নবী দুলালি বা নারীদের আদর্শ নন তিনি এক কথায় আদর্শ মানবাত্মার প্রতীক ।

কোনো কোনো বর্ণনা অনুযায়ী রাজনৈতিক কারণে হযরত ফাতিমাকে আহত করা হয়েছিল প্রভাবশালী একটি মহলের পক্ষ হতে এবং পরবর্তীকালে এ আঘাতজনিত কারণেই তিনি শাহাদাত বরণ করেন।

অনেকেই মনে করেন শত্রুতার প্রেক্ষাপটে হযরত ফাতিমা (রা:)-কে দাফন করা হয়েছিল মধ্যরাতে গোপনীয়ভাবে অতি গোপন স্থানে যা আজো গোপন রয়েছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত গোপন থাকবে। হযরত ফাতিমার ওসিয়ত অনুযায়ী গোপনীয়তা বজায় রাখতে তাঁর দাফনেও অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানানো হয় মাত্র কয়েকজন অতি ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিকে। মুসলমানদের মধ্য থেকে বিশ্বনবীর আহলে বাইতের অতি ঘনিষ্ঠ ওই কয়েকজন ব্যক্তি দাফনে অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেন।

ফাতিমা (সা) জানতেন কখন তাঁর মৃত্যু হবে। আর এ জন্য তিনি নিজে গোসল করে নতুন ও পরিষ্কার পোশাক পরে কিবলামুখী হয়েছিলেন।

তিনি নিজের মৃত্যু কবে হবে এবং তাঁর দুই প্রিয় সন্তান হাসান ও হুসাইন (আ.) কিভাবে মারা যাবেন সেই তথ্যসহ ভবিষ্যৎ ইতিহাসের অনেক খবর রাখতেন। হুসাইন ‘র হত্যাকারীদের অভিশাপ দিয়ে গেছেন তিনি। মদিনার নারী সমাজ ধর্মীয় বিষয়সহ নানা বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করত ফাতিমা (রা:)’র কাছ থেকে। ফাদাক ও মানজিল শীর্ষক তাঁর ভাষণ এই মহামানবীর অতুল জ্ঞান, খোদাভীরুতা এবং দূরদর্শিতাকেই তুলে ধরে। বিশ্বনবী (সা.) বলেছেন, মহান আল্লাহ আলী, তাঁর স্ত্রী ও তাঁদের সন্তানদেরকে মানুষের জন্য হুজ্জাত বা দলিল করেছেন এবং তাঁরা হল জ্ঞানের দরজা।

‘মাসহাফই ফাতিমা’ নামে খ্যাত গ্রন্থটির সমস্ত তথ্য সন্নিবেশিত হয়েছে জিবরাইল ফেরেশতার সঙ্গে ফাতিমা ((রা:)’র কথোপকথনের মাধ্যমে যা লিখে গেছেন হযরত আলী ((রা:)।

নবী-নন্দিনী ((রা:)) বলেছেন, পৃথিবীতে তিনটি জিনিস আমার খুবই প্রিয়। আল্লাহর পথে ব্যয়, রাসূলে খোদা (সা.)র চেহারার দিকে তাকানো এবং পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত। পবিত্র কুরআনের আয়াত শ্রবণ মুসলমানদেরকে মুক্তির তীরে পৌঁছে দেয়।

ফাতিমা ((রা:) রাসূল (সা.)’র উম্মতের উদ্দেশে বলেছেন: আল্লাহ ঈমানকে তোমাদের জন্য শির্ক হতে পবিত্র হওয়ার ও নামাজকে অহংকার থেকে পবিত্র হওয়ার এবং আমাদের আনুগত্য করাকে ধর্মের ব্যবস্থায় বা ধর্মকে প্রতিষ্ঠিত করার মাধ্যম করেছেন, আমাদের নেতৃত্বকে অনৈক্যের পথে বাধা ও আমাদের সঙ্গে বন্ধুত্বকে ইসলামের জন্য সম্মানের মাধ্যম করেছেন।

হযরত ফাতিমা (রা:) বলেছেন, আল্লাহর সেবায় মশগুল হয়ে যে সন্তুষ্টি পাই তা আমাকে অন্য সব সন্তুষ্টি বা আনন্দ থেকে বিরত রাখে এবং সব সময় মহান আল্লাহর সুন্দর দৃষ্টি আমার দিকে নিবদ্ধ রাখার প্রার্থনা ছাড়া আমার অন্য কোনো প্রত্যাশা নেই।

বিশ্বনবী (সা.) ও তাঁর পবিত্র বংশধর ও বিশেষ করে ফাতিমা ((রা:)’র প্রতি অশেষ দরুদ ও সালাম পাঠানোর পাশাপাশি সবাইকে আবারও শোক ও সমবেদনা জানাচ্ছি আজকের এই গভীর শোকের দিনে। হযরত ফাতিমা জাহরা ((রা:)’র একটি বক্তব্য তুলে ধরে শেষ করব আজকের এই আলোচনা। তিনি বলেছেন, নারীদের জন্য সর্বোত্তম বিষয় হচ্ছে, তারা যেন কোনো অচেনা পুরুষকে না দেখে এবং কোনো অচেনা পুরুষও তাদের না দেখে। #

পর্দায় এলেন মৌলানা আজাদ

মুম্বই ইন্ডাস্ট্রির বায়োপিক বা জীবনী ছবির তালিকায় সংযোজিত হল আরও একটা নাম। তিনি মৌলানা আবুল কালাম আজাদ।

সম্প্রতি ‘‌দ্য অ্যাক্সিডেন্টাল প্রাইম মিনিস্টার’‌ নিয়ে যখন সারা দেশ জুড়ে চলছে বিক্ষোভ, সেই আবহের মধ্যেই মুক্তি পেতে চলেছে এই ছবি। সঞ্জয় সিং নেগির পরিচালনায় এই ছবির নাম ‘‌ও যো থা এক মসিহা মৌলানা আজাদ’‌।

একটা সময়ে এই শহরের সঙ্গে মৌলানা আজাদের সম্পর্ক ছিল নিবিড়। বড়ভাই ইয়াসিন আর তিন দিদির সঙ্গে তাঁর ছোটবেলা কেটেছিল এই শহরেই। তখন তাঁর নাম ছিল আবুল কালাম মহিউদ্দিন আহমেদ। অল্পবয়সে এই শহরেই তিনি অরবিন্দর সান্নিধ্যে এসেছিলেন। কাজেই এই ছবিরও একটা অংশ জুড়ে আছে এই শহর কলকাতা। আর মৌলানা আজাদের পাশাপাশি এই ছবিতে দেখা যাবে তাঁর দুই কাছের মানুষ মহাত্মা গান্ধী ও জওহরলাল নেহরুকেও।

মাত্র ৩৫ বছর বয়সেই কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি।

মৌলানা আজাদের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন থিয়েটারের অভিনেতা লিনেস ফানসে। এটি তাঁর দ্বিতীয় ছবি। আজাদের স্ত্রী জুলেখা বেগমের চরিত্রে অভিনয় করেছেন সিরালি।

অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন সুধীর যোগলেকর, আরতী গুপ্ত, রাজেন্দ্র সঞ্জয়, শারদ শাহ, কেটি মেঘানী, চেতন ঠক্কর প্রমুখ।
পরিচালক জানালেন, ইতিহাস নির্ভর এই ছবিতে বেশিরভাগ অভিনেতাই মঞ্চ থেকে এসেছেন। ছবিতে মৌলানা আজাদের ছোটবেলা থেকে শেষ দিন পর্যন্ত তুলে ধরা হয়েছে। কলকাতা ছাড়াও এই ছবির শুটিং হয়েছে মুম্বই ও দিল্লিতে। এই শুক্রবারই মুক্তি পেল ‘‌ও যো থা এক মসিহা মৌলানা আজাদ’‌।

সক্রিয় রাজনীতিতে পা প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর, সরগরম ভারতীয় রাজনীতি

চমক না মাস্টারস্ট্রোক?‌ জাতীয় রাজনীতি এখন এই প্রশ্নের উত্তরে তোলপাড়। কারণ এই প্রথম সরাসরি সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করলেন কংগ্রেস সভাপতির বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। সামনেই লোকসভা নির্বাচন। তার আগে এই সিদ্ধান্ত আস্তিনের বড় তাস বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

কারণ সোনিয়া তনয়া প্রিয়াঙ্কা সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দিলেন উত্তরপ্রদেশ পূর্বের সাধারণ সম্পাদক হিসাবে। যাকে এককথায় কংগ্রেসের মাস্টারস্ট্রোক বলা যায়।

বুধবার এই মাস্টারস্ট্রোকের পাশাপাশি কংগ্রেস আরও চমকে দিল উত্তরপ্রদেশ পশ্চিমে জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়াকে সাধারণ সম্পাদক করে। একইসঙ্গে কেসি বেনুগোপালকে সাধারণ সম্পাদক (‌সংগঠন)‌ করে দেওয়া হল। এদিন সব নামই ঘোষণা করেছেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী।

৪৭ বছরের প্রিয়াঙ্কা বরাবরই আমেঠি এবং রায়বরেলি কেন্দ্রে দাদা রাহুল ও মা সোনিয়ার হয়ে প্রচারে এসেছেন। এবার এলেন সক্রিয় রাজনীতিতে অন্য মেজাজে। যা বিজেপিকেও চাপে ফেলে দিল বলে মনে করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, কংগ্রেসকে দুটি আসন ছেড়ে নিজেদের মধ্যে জোট করেছে অখিলেশ–মায়াবতীর দল। সেখানে সব আসনে প্রার্থী দেওয়া হবে আগেই ঘোষণা করেছিল কংগ্রেস। কিন্তু কিসের ভিত্তিতে রাহুল গান্ধী এমন আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিতে চলেছেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

সেই বিশেষজ্ঞদের কার্যত জবাব দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হল, পিকচার আভি বাকি হ্যায়। ফলে সমাজবাদী পার্টি–বহুজন সমাজবাদী পার্টিকে এখন ভাবতে হবে উত্তরপ্রদেশে নয়া সমীকরণ।

দলীয় সূত্রে খবর, ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে দায়িত্ব নেবেন প্রিয়াঙ্কা। সূত্রের খবর, এবার রায়বরেলি লোকসভা আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। আর সরে যাবেন কংগ্রেস হাইকমান্ড সোনিয়া গান্ধী। ছেলেকে দলের সর্বোচ্চ পদ ছেড়ে দিয়েছেন তিনি।

এবার মেয়েকে ছেড়ে দেবেন তাঁর দীর্ঘদিনের লোকসভা আসন। এমনটাই গুঞ্জন। এই বিষয়ে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা মোতিলাল ভোরা বলেন, ‘‌প্রিয়াঙ্কাজিকে দায়িত্ব দেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। এর ফলে শুধু উত্তরপ্রদেশ পূর্বেই প্রভাব পড়বে না, প্রভাব পড়বে গোটা উত্তরপ্রদেশে।’‌

যারা মানুষের মধ্যে বিভেদ করে আমরা তাদেরকে নেতা মানি না: মমতা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, যারা দেশের মধ্যে ভাগাভাগি করে, মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে তাদেরকে আমরা দেশের নেতা মানি না। তিনি আজ (বুধবার) নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দার্জিলিংয়ে এক অনুষ্ঠানে ভাষণ দেয়ার সময় ওই মন্তব্য করেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি ও প্রধানমন্ত্রীর নাম উল্লেখ না করে বলেন, ‘যিনি দেশকে টুকরো টুকরো করতে চান, তিনি কখনোই দেশের নেতা হতে পারেন না। উনি তো কেবল ওদের জন্য নেতা হতে পারেন, দেশের নেতা হতে পারেন না। আমরা তাকে দেশের নেতা বলে মানি না, যিনি দেশকে বিভক্ত করেন। একে অন্যের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধিয়ে দেয়। যিনি সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চলেন তিনিই দেশের নেতা।’

মমতা বলেন, ‘দেশের নেতা কে হতে পারেন? যিনি দেশের প্রত্যেক জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও সম্প্রদায়কে নিয়ে চলেন। তিনিই দেশের নেতা। গান্ধীজি সবাইকে নিয়ে চলতেন বলেই তিনি দেশনেতা হতে পেরেছিলেন। বাবাসাহেব আম্বেদকর, মাওলানা আবুল কালাম আজাদের মতো দেশনেতারা সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চলতেন বলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মন্তব্য করেন।

বিজেপিকে ইঙ্গিত করে মমতা বলেন, ‘ওরা একটা কাজও করে না, পাহাড়ের কোনো উন্নয়ন করেনি, ভোট এলেই শুধু প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু ভোটের পরে সব ভুলে যায়।’

তিনি বলেন, ‘নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর জন্মদিনে রাজ্য সরকার ছুটি ঘোষণা করলেও আজও কেন্দ্রীয় সরকার জাতীয় ছুটি ঘোষণা করেনি। আজও নেতাজিকে রাষ্ট্রনায়ক মানে না। এটা দুঃখের বিষয়।’

মমতা বলেন, নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু কেবল ‘জয় হিন্দ’ স্লোগান দিয়েছিলেন, তাই নয়, তিনি ‘ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মি’ গঠন করেছিলেন, প্ল্যানিং কমিশন গঠন করেছিলেন। শাহনওয়াজ খান নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর ডান হাত ছিলেন।’

নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু ভারতের ঐক্য রক্ষা করার জন্য হিন্দু, মুসলিম, শিখ, খ্রিস্টান, গুজরাটি, পাঞ্জাবি যাই হোক না কেন সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে থাকাই সবচেয়ে মহত্ত্বপূর্ণ বলে মনে করতেন বলেও মমতা মন্তব্য করেন।#

চরফ্যাশন কিশোর নির্যাতনের ঘটনায় চরফ্যাশনে আঃন্ত ক্রীড়া প্রতিযোগিতা

চরফ্যাশন প্রতিনিধিa;
চরফ্যাশন উপজেলা আঃন্ত ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা গতকাল বুধবার স্টোডিয়াম মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই খেলা প্রধান অতিথি হিসাবে উপজেলা চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদিন আখন শুভ উদ্ধোধন করেন। ওই সময় উপজেলা শিক্ষা অফিসার তৃষিত কুমার চৌধুরী,উপজেলা সহকারি শিক্ষা অফিসার মো.রফিকুল ইসলাম,মোঃ খালিদ হোসেনসহ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষকগন উপস্থিত ছিলেন।
সকাল ৯টায় থেকে এই খেলা পুরো দিন ব্যাপী বিভিন্ন প্রতিযোগি ৬টি ইভেন্টে অংশ গ্রহন করেন। শেষে বিজয়দের মাজে পুরুস্কার বিতরন করেন।
জানা গেছে, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস এ আয়োজন করেন। এতে চরফ্যাশন উপজেলা মোট ২শ’ ১২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়। পৌরসভাসহ মোট ২২টি ইউনিয়ন থেকে প্রতিযোগিরা এই ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অংশ গ্রহন করেছেন।

রবিবারের মধ্যে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ: গ্রেফতার-১: দু‘দিনের রিমান্ড

এম সিরাজুল ইসলাম, চরফ্যাশন :
চরফ্যাশন উপজেলার হাজারীগঞ্জ গ্রামে মুরগি চুরির অপবাদে কিশোর রুবেল (১৪) কে নির্মম নির্যাতনের ঘটনায় বাবুল মাঝি (৪৫) নামের এক ব্যাক্তিকে গ্রেফতার করে মঙ্গলবার আদালতে সোর্পদ করেছেন শশীভূষণ থানা পুলিশ। কিশোর নির্যাতনের ঘটনাটি আইনজীবী অমিত দাসগুপ্ত হাইকোর্টের নজরে আনেলে হাইকোর্ট রাষ্ট্রপক্ষের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশারকে ঘটনার সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সমন্বয়ে একটি অনুসন্ধান প্রতিবেদন তৈরি করে এক সপ্তাহের অর্থাৎ আগামী রবিবারের মধ্যে আদালতে দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার স্বপ্রণাদিত হয়ে ওই আদেশ দেন। আটককৃত বাবুল মাঝির আদালত দু‘দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। বুধবার রিমান্ড শেষ হবে।
রুবেলের মা বিলকিছ বেগম অভিযোগ করেন, রুবেল জেলেদের নৌকায় বাবুরচির কাজ করে। ঘটনার আগের দিন এলাকায় প্রীতিভোজের জন্য রুবেলসহ আরও কয়েকজন মুরগি কিনে আনে। তবে ওই মুরগি চুরি করে আনা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন হাজারীগঞ্জ ইউপি মেম্বার আমজাদ হোসেন। গত ১৫ নভেম্বর/১৮ তারিখে আমজাদ মেম্বার রুবেলকে বাড়ি থেকে হাজারীগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে গ্রামবাসীর সামনে তাকে মধ্যযুগীয় কায়দায় মারধর করা হয়।
রুবেলের মা ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম হাওলাদারের কাছে ছেলেকে বাঁচানোর অনুরোধ করেন। তখন চেয়ারম্যান মেম্বারকে নির্দেশ দেন পাঁচ হাজার টাকার বিনিময়ে রুবেলকে ছেড়ে দিতে। নিরুপায় হয়ে বিলকিছ বেগম নাকফুল ও গলার গহনা বন্ধক রেখে টাকা নিয়ে এসে ছেলেকে মুক্ত করেন। তবে অর্থাভাবে ছেলের চিকিৎসা করাতে পারেননি তিনি এবং মেম্বারের হুমকির কারণে মামলা করতেও সাহস পাননি।
তবে নির্যাতনের নির্মম দৃশ্যের স্থিরচিত্র ও ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ায় ঘটনার দুই মাস ৩দিন পর পুলিশ ভুক্তভোগীর মাকে ডেকে থানায় নেন। এরপর নির্যাতনকারী হাজারীগঞ্জ ইউপি মেম্বার আমজাদ হোসেনসহ ছয়জনকে আসামি করে ১৮ জানুয়ারী শুক্রবার শশীভূষণ থানায় মামলা করেছে।
শশীভূষণ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, হাইকোর্ট ডিসি, এসপি, ইউএনও, ওসি কে ভিক্টিটিমের চিকিৎসা ও তার পরিবারের নিরাপত্তা এবং আসামী গ্রেফতারে কি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে আগামী রোববারের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জানান, আসামীদের এক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, প্রধান আসামী আমজাদ মেম্বারসহ বাকীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

পোশাক কারখানার উন্নতির পদ্ধতি করতে আগ্রহী জাপানী প্রতিষ্ঠান

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ : জাপানের বিখ্যাত পোশাক শিল্পের কারখানা পদ্ধতিাধুনিকরন ও যুগোপযোগী, করার প্রতিষ্ঠান ওয়াইআইএন জাপান কোম্পানির পরিচালক ইয়ূমিং ইন বুধবার (২৩ জানুয়ারি) বেলা ১১ টায় নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ভবনে নারায়ণগঞ্জ চেম্বারের নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন।
এই সময় তিনি তার প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের নানা দিক তুলে ধরেন। ইয়ূমিং ইন বলেন, তাদের তৈরী সিস্টেম ও মেশিন ব্যবহার করে বর্তমানে বাংলাদেশ, চীন, ভিয়েতনাম সহ বিভিন্ন দেশ তাদের গার্মেন্টস কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৩৫ ভাগ বৃদ্ধি করেছে। তাদের সিস্টেম বর্তমানে বাংলাদেশর বহু গার্মেন্টস কারখানা ব্যবহার করে সুফল পাচ্ছে।
অচিরের জাপান তাদের মেশিন তৈরীর কারখানা বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা করবে। এতে করে বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থান হবে এবং পোশাক শিল্পের রপ্তানিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
মতবিনিময় সভার উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক সাইফুল ইসলাম মাসুম, সোহেল আক্তার সোহান, খন্দকার সাইফুল ইসলাম, সাবেক পরিচালক ফারুক বিন ইউসুফ পাপ্পু সহ চেম্বারের সাধারণ সদস্যরা।

নারায়ণগঞ্জ

ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়া হলো শীতলক্ষ্যা তীরের অবৈধ আরএফএল গ্রুপের পাকা স্থাপনা

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের নিয়ন্ত্রণাধীন নরসিংদী জেলার পলাশ থানাধীন শীতলক্ষ্যা নদীর সহ¯্রাধিক বর্গফুট তীরভূমি দখল করে অবৈধভাবে পাকা স্থাপনা গড়ে তুলেছিল প্রাণ আরএফএল গ্রুপের চরখা টেক্সটাইল মিল। বুধবার ২৩ জানুয়ারী বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমান এর নেতৃত্বে ও নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের যুগ্ম-পরিচালক মোঃ গুলজার আলী এর তত্ত্বাবধানে সেখানে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, বিআইডব্লিউটিএর উপ-পরিচালক মোঃ শহীদ উল্লাহ, সহকারী পরিচালক মোঃ এহতেশামুল পারভেজ, সহকারী পরিচালক মোঃ শাহ-আলম, বিআইডব্লিউটিএর মেডিকেল অফিসার ডা: জাকিরুল হাসান ফারুক, সুপারভাইজার মোঃ জিল্লুর রহমান, কারিগরি সহকারী মোঃ ইয়াসিন দেওয়ান, নুরনবী মিন্টুসহ অন্যান্য কর্মকর্তা/কর্মচারীবৃন্দ।
এছাড়া বিআইডব্লিউটিএর জাহাজ অগ্রনী, একটি এক্সাভেটর (ভেকু), একটি টাগবোট, সহ বিপুল সংখ্যক উচ্ছেদ কর্মী, নৌ পুলিশ, থানা পুলিশ ও আনসার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম-পরিচালক মোঃ গুলজার আলী জানান, নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের নিয়ন্ত্রণাধীন নরসিংদী জেলার পলাশ থানাধীন শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে কয়েক হাজার বর্গফুট জায়গা দখল করেছিল প্রাণ আরএফএল গ্রুপের চরখা টেক্সটাইল মিল। যার মধ্যে একটি পাকা স্থাপনাই ছিল দেড় হাজার বর্গফুট। যা দৈর্ঘ্যে ছিল ২০০ ফুট ও প্রস্থে ছিল ৭০ ফুট। এছাড়া আরো কিছু টিনশেড ঘর গড়ে তুলেছিল। দুদিন ব্যপী উচ্ছেদ অভিযানের প্রথম দিনে বুধবার ২৩ জানুয়ারী বিকেল পর্যন্ত ওই সকল অবৈধ পাকা স্থাপনা ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমান জানান, শীতলক্ষ্যার তীরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া থেকে ইয়াবা সহ ইউপি মেম্বার গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়া এলাকা থেকে ধামগড় ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ও বন্দর থানার এক নাম্বার তালিকাভুক্ত মাদক বিক্রেতা কবির হোসেন ওরফে ফেন্সি কবিরকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এসময় তার হেফাজত থেকে ৫০০ পিছ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে জেলার বিভিন্ন থানা ১০ টি মাদক মামলা রয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ জানুয়ারী) মধ্য রাতে চাষাঢ়া শহীদ মিনারের সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত কবির হোসেন ওরফে ফেন্সি কবির বন্দর থানার গোকূলদাসের বাগ এলাকার আব্দুর রউফরে ছেলে।
ডিবির এস আই আনোয়ার হোসেন জানান, মঙ্গলবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় বন্দর থানার ১নাম্বার তালিকাভুক্ত মাদক বিক্রেতা কবির হোসেন ওরফে ফেন্সি কবির শহরে চাষাঢ়া এলাকায় মাদক বিক্রি করা উদ্দেশ্যে ঘুরাফেরা করছে। এসময় তাকে আটক করা হয়। পরে তার দেহ তল্লাশী করে ৫০০ পিছ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। কবির হোসেন ওরফে ফেন্সি কবির একজন চিহ্নিত মাদক বিক্রিতা তার বিরুদ্ধে জেলার বিভিন্ন থানায় ১০ মামলা রয়েছে।

গাজীপুরে ময়লার স্তুপ থেকে কারখানা কর্মীর লাশ উদ্ধার

গাজীপুর সংবাদদাতা ঃ গাজীপুরে ময়লার স্তুপ থেকে বুধবার বিকেলে এক কারখানা কর্মীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের নাম মো. কামরুজ্জামান (৩০)। সে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার মালদহ ডাপাঁচিলা এলাকার নয়া মিয়ার ছেলে।

জয়দেবপুর থানার হোতাপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির এসআই সাইফুল মালেক জানান, গাজীপুর সদর উপজেলার মনিপুর (খাসপাড়া) এলাকায় সপরিবারে ভাড়া থাকে কামরুজ্জামান। সে স্থানীয় বিকে বাড়ি তালতলী এলাকার বেঙ্গল হারিকেন কারখানায় স্টোর সহকারী হিসেবে চাকরি করতো। মঙ্গলবার রাতে কারখানায় কাজের কথা বলে বাসা থেকে বের হয় কামরুজ্জামান। পরদিন সকালে সে আর বাসায় ফিরে নি। বুধবার এলাকাবাসী স্থানীয় ময়লার স্তুপে লাশ পরে থাকতে দেখে। খবর পেয়ে পুলিশ বিকেলে ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

বানারীপাড়ায় পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি সুব্রত লাল কুন্ডু উপজেলা নির্বাচনে নৌকার কান্ডারী হতে চান

রাহাদ সুমন,বিশেষ প্রতিনিধি:
বানারীপাড়ার এক সময়ের তুখোর ফুটবলার,উপজেলা ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সাবেক সফল ও জনপ্রিয় সাধারণ সম্পাদক বর্তমানে পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি সুব্রত লাল কুন্ডু আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন। ৮০’র দশকে বানারীপাড়া সহ দক্ষিনাঞ্চলের তুখোর ফুটবলার সুব্রত লাল কুন্ডুর স্বপ্ন ছিলো জাতীয় ফুটবল দলে খেলে দেশবরণ্যে ফুটবলার হওয়ার। ১৯৮৪ সালে জাতীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিত শের-ই বাংলা কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে তিনি পিরোজপুর জেলা দলের হয়ে খেলে খেলার নৈপুন্যতা দেখিয়ে সবার নজর কেড়ে ছিলেন। ওই সময় ফুটবল খেলোয়ার হিসেবে তাকে সবাই স্বনামে চিনতেন। তিনি আবাহনী কিংবা মোহামেডান দলে খেলারও স্বপ্ন লালণ করতেন বুকের গহীনে। এলাকার মাটি ও মানুষের টানে এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শকে বাস্তবায়ন করতে গিয়ে কৃতী খেলোয়ার হওয়ার স্বপ্নকে জলাঞ্জলী দিয়ে তিনি জড়িয়ে পড়েন ছাত্রলীগের রাজনীতিতে। ছাত্র জীবনে ১৯৮৬ সালে বানারীপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। টানা অর্ধ যুগ এ পদে গৌরবময় দায়িত্ব পালণ করে ১৯৯২ সালে উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নিবাচিত হন। ২০০০ সাল পর্যন্ত নেতৃত্ব দিয়ে তিনি যুবলীগকে সুসংগঠিত ও সুশৃঙ্খল সংগঠনে রূপান্তরিত করেন। সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে এর পর তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটির সর্বকনিষ্ট সদস্য নির্বাচিত হন। সর্বশেষ ২০১২ সালে অনুষ্ঠিত কাউন্সিলে তিনি পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। তার বলিষ্ঠ ও সুযোগ্য নেতৃত্বের কারণে পৌর আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক ভাবে উপজেলা আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমানতালে শক্তিশালী সংগঠনে রূপান্তরিত হয়েছে। দলের পক্ষে কাজ করতে গিয়ে বিএনপি-জামায়াতের রোষানলে পড়ে তাকে বিভিন্ন সময় হামলা-মামলার শিকার হতে হয়েছে। মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলায় কারাবাসও করতে হয়েছে অনেক বার। দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও যোগ্যতার যথার্থ মূল্যায়ন করে তাকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হবে বলে তার ঐকান্তিক বিশ^াস। সদালপী প্রজ্ঞাবান ও মেধাবী দুঃসময়ের পরিক্ষীত মুজিব অন্তঃ প্রাণ এ নেতাকে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী করা হলে বিজয়ের ধারা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা বির্নিমাণ ও বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরতœ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রূপকল্প-২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়নে তিনি তৃনমূলে অগ্রণী ভূমিকা পালণ করতে পারবেন বলে দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা মনে করছেন। ###

রাহাদ সুমন,বানারীপাড়া

‌বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটিতে এক লাখ তরুণ তরুণীর কর্মসংস্থান

গাজীপুর সংবাদদাতাঃ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটির উন্নয়ন কাজ শতভাগ সম্পন্ন হবে। ইতোমধ্যে এ সিটির ৫০ ভাগ উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এ হাইটেক সিটির উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হলে এখানে এক লাখ তরুণ তরুণীর কর্মসংস্থান হবে এবং ৫০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ হবে।

তিনি বুধবার বিকেলে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।

এসময় তিনি আরো বলেন, বর্তমানে ৩৫৫ একর এ র্সিটিকে আরো বর্ধিত করা হবে। ইতোমধ্যে দেশে বিদেশে এ সিটির চাহিদা বেড়েছে। বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটির উন্নয়ন কাজ এগিয়ে চলেছে। এ সিটির ৭ একর জায়গায় টিআর-ফোর মানের একটি ডেটা সেন্টারের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ২০ একর জায়গায় টেকনো সিটির দু’টো ভবন নির্মাণ হচ্ছে। আরো ৫০ একর জয়গায় টেকনো পলিস তাদের নির্মাণ কাজ করছে। এছাড়া ৯৭ একর জায়গায় ১৮ জন বিনিয়োগকারী তাদের কারখানার নির্মাণ কাজ এগিয়ে নিচ্ছেন। গাজীপুর ছাড়াও যশোরে টিআর-থ্রি মানের ডিজেস্টার রিকোভারি ডাটা সেন্টার নির্মাণ কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। আমাদের গাজীপুর ও যশোরের দু’টো ডাটা বেজই থাকবে, যাতে ব্যাকআপ হিসেবে কিছু জায়গায় ডিস্ট্রিবিউটেড স্টোরেজ হিসেবে রাখতে পারি।

এর আগে তিনি বিনিয়োগকারীদের জন্য সদ্য চালুকৃত কমিউটার ট্রেনে চড়ে ঢাকা থেকে প্রায় ৪০ কিমি দূরে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটিতে আসেন। পরে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে নিয়ে হাইটেক সিটির সামগ্রিক কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।

’বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটি কমিউটার ট্রেন-১’ এবং ’বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটি কমিউটার ট্রেন-২’ নামে দুটি ট্রেন প্রতিদিন চারবার ঢাকা থেকে কালিয়াকৈর যাতায়াত করছে। এর মাধ্যমে হাইটেক সিটিতে বিনিয়োগকারী এবং সেখানে কর্মরতরা খুব সহজে আসা-যাওয়া করতে পারছেন। পরিদর্শনকালে হাইটেক সিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হোসনে আরা বেগমসহ মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ক্যাপশনঃ গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বঙ্গবন্ধু হাই-টেক সিটি পরিদর্শণ করছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।
###
মোঃ রেজাউল বারী বাবুল

মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহালের দাবিতে মানববন্ধন

রাবি প্রতিনিধি: সরকারী চাকুরীতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহালের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন্ম এর ব্যানারে এ কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনে রাবি মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সাধারণ সম্পাদক ধীরাজ চন্দ্র রায় সঞ্চালনায় মুক্তিযোদ্ধা সন্তান মুনির হোসেন, রাজশাহী মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সমন্বয়ক পরিষদের আহ্বায়ক সাফকাত মঞ্জুর বিপ্লব, সহকারী কমান্ডার রাজশাহী মহানগর ইউনিট বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার, বঙ্গবন্ধু পরিষদের উপদেষ্টা নাজিম উদ্দীন, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান জ্যাতিবসু বর্মন, মুহতাসিম বিল্লাহ মারুফ, দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ।
পরবর্তীতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ও প্রজন্মের পক্ষে মুখপাত্র অমর রায় শুভ ৬ দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো, রাজাকার স্বাধীনতা বিরোধী ও তাদের বংশধরদের সরকারী সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি, চাকরীচ্যুত এবং নিয়োগের ক্ষেত্রে অযোগ্য ঘোষনা, সরকারী সকল চাকরীতে ৩০%মুক্তিযোদ্ধা কোটা পূর্ণবহালের, সংরক্ষন,বিশেষ কমিশন গঠন করে প্রিলিমিনারী থেকে শতভাগ বাস্তবায়ন এবং স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে বর্তমান পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা কোটা সংরক্ষিত পদগুলো বিশেষ নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ। জাতির পিতা ও তার পরিবারের বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের অবমাননা কারীদের বিচার ও দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তি ব্যবস্থা নিশ্চিত। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাংবিধানীক স্বীকৃতি ও পারিবারিক সুরক্ষা আইন প্রনয়ণ এবং প্রয়োগ নিশ্চিত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ চেতনা বিরোধী সকল অপপ্রচার বন্ধ,কোটা সংস্কার আন্দোলন নামে স্ব-ঘোষিত রাজাকার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভিসির বাসভবনে হামলা সহ সকল প্রকার অরাজকতা সৃষ্টিকারী স্বাধীনতা বিরোধীদের বিরুদ্ধে যথাযথ এবং দ্রুত আইনানুক ব্যবস্থা নিশ্চিতসহ সরকারী চাকরীতে নিয়োগের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ও প্রজন্মের বয়সসীমা প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী আনুপাতিক হারে বৃদ্ধি করা।
এদিকে দাবি বাস্তবায়ন না হলে কঠোর কর্মসূচির হুশিয়ারী দেন বক্তারা। এর আগে কর্মসূচি শুরুতে কোরআন তিলাওয়াত ও মুক্তিযোদ্ধারে সকল শহীদেরর স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।###

এ এইচ রাজু
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে বগুড়া থেকেই গণআন্দোলন: ফখরুল

বগুড়া: কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে বগুড়া থেকে গণআন্দোলন শুরুর আহ্বান জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বুধবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও থেকে ঢাকা ফেরার পথে বগুড়ার শহরতলির বকুল এলাকায় একটি হোটেলে জেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এ আহ্বান জানান।
মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের কারণে মিথ্যা মামলায় খালেদা জিয়া আজ জেলে আর তারেক রহমান বিদেশে।

তাই খালেদা জিয়াকে জেল থেকে বের করতে, তারেক রহমানকে দেশে আনতে ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে বগুড়া থেকেই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন শুরু করতে হবে।

৩০ ডিসেম্বর তামাশার নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ গণবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশ আজ গভীর সংকটে। এর আগে এ রকম অবস্থা আর হয়নি। একাদশ নির্বাচনে মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হয়নি।
‘নির্বাচনব্যবস্থাকে ধ্বংস করা হয়েছে। নির্বাচনের নামে তামাশা করা হয়েছে। তাই ফল প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। সব দলকে ঐক্যবদ্ধ করে বলেছি- নির্বাচন বাতিল করতে হবে।’
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচন বয়কট করার সিদ্ধান্ত যে সঠিক ছিল, ২০১৮ সালের নির্বাচন তা প্রমাণ করেছে।

তিনি বলেন, একাদশ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পরাজিত হয়েছে। কারণ জনগণ ভোট দিতে পারেনি। এমনকি আওয়ামী লীগের ভোটাররাও ভোট দিতে পারেননি। এ কারণে আজ সারা দেশে বিএনপি ও ধানের শীষের গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের বক্তব্যকে ‘চোরের মার বড় গলা’ আখ্যায়িত করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ভোট ডাকাতি করে জয়লাভ করে তারা এখন বলছেন- তারা দেশে জনপ্রিয়।

‘কিন্তু জরিপ বলছে, ৯৯ শতাংশ মানুষ বিএনপির পক্ষে। তাই আওয়ামী লীগ এখন গণশত্রুতে পরিণত হয়েছে।’

আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করবে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদিন চাঁন, সাবেক এমপি গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট একেএম মাহবুবুর রহমান, সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম বাদশাহ, বগুড়া শহর বিএনপির সভাপতি মাববুবুর রহমান বকুল, সাধারণ সম্পাদক হামিদুল হক চৌধুরী হিরু প্রমুখ।

ডাকসু নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেবেন কোটা আন্দোলনকারীরা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে (ডাকসু) স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেবেন কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা।
বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারে তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেবেন বলে তারা নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তবে সংগঠনটির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, পরিবেশ ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রয়োজনে জোটবদ্ধ হওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের।
২৮ বছর পর ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রস্তুতি চলছে। কোটা সংস্কার আন্দোলনও এ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্র করে শুরু হয়েছিল।

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে গত বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে আন্দোলন শুরু করে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ছিল অভূতপূর্ব।

লাগাতার আন্দোলনের মুখে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে ৪৬ বছর ধরে চলা কোটাব্যবস্থা বাতিল করে সরকার।

ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় কোনো ছাত্র সংগঠনেরই তেমন কোনো সফল আন্দোলন সাম্প্রতিক সময়ে নেই। সেদিক থেকে কোটা সংস্কারের দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে গড়ে ওঠা এই মঞ্চ দেশের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর দাবি আদায়ে সমর্থ হয়েছে।

ভাইস চেয়ারম্যান মনোনয়ন প্রত্যাশী দীঘিনালার জীবন চৌধুরী উজ্জ্বল

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:: একাদশ জাতীয় সংসদ শেষ হওয়ার পর বইতে শুরু করেছে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের হাওয়া। সে হাওয়া লেগেছে দীঘিনালায়ও। কৌশলী রাজনৈতিক দলগুলো নেতাকর্মীরা তাদের যোগ্যতা যাছাই ও মনোনয়ন নিয়ে এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন এখন। তারই ধারাবাহিকতায় দলের কার্যালয় থেকে শুরু করে চায়ের দোকানসহ সর্বত্রই আলোচনা এখন আসন্ন্ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরপরই অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে সাধারণ ভোটারদের মাঝেও কৌতুহল অনেক।

দীঘিনালায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ইতিমধ্যে প্রার্থী হিসেবে আলোচিত হচ্ছেন দীঘিনালা উপজেলা আওয়ামী সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক ও ক্রীড়া সংগঠক তরুণ নেতা জীবন চৌধুরী উজ্জ্বল। দীঘিনালা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে তরুণদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছেন তিনি । তিনি এর আগে দীঘিনালা উপজেলা ছাত্রলীগের যগ্ম সম্পাদক ও জেলা ছাত্রলীগের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে।

দীঘিনালা উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য বি আহমদ রাজু বলেন,‘ তরুণ আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে জীবন চৌধুরী উজ্জ্বল অত্যন্ত জনপ্রিয়। দলের ছাত্র ও যুব নেতাকর্মীদের সাথে উনার সুসর্ম্পক রয়েছে। এছাড়া ২০০১-০৬ সালে বিএনপির জামায়াতের মেয়াদকালে নির্যাতিত ছিলেন তিনি। আওয়ামী লীগের রাজনীতির সম্পৃক্ত থাকায় সন্ত্রাসীরা হুমকি ও মামলা দিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করেছিল তিনি। তিনি একজন ত্যাগী ও পরিশ্রমী সাবেক ছাত্র নেতা হিসেবে জীবন চৌধুরী উজ্জ¦লকে ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনয়ন দিলে দলের কর্মীদের প্রত্যাশা পূরণ হবে।’

সূত্রে জানায়, দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে দীঘিনালা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে তরুণ নেতা জীবন চৌধুরী উজ্জ্বল এগিয়ে। কারণ তার ত্যাগ, নীতি,আর্দশ। এছাড়াও দ্ইু দশক ধরে বঙ্গবন্ধুর আর্দশের রাজনীতির সাথে জড়িত তিনি। দলীয় মনোনয়ন প্রশ্নে জীবন চৌধুরী জানান, উপজেলাবাসীর সেবা করা ভাগ্যের ব্যাপার। বিভিন্নভাবে সবাই চাইছেন আমি নির্বাচন করি। ভোটারদের দোয়া ও ভালবাসায় দলীয় মনোনয়ন পেয়ে সরকারের উন্নয়নের জোয়ারে এই উপজেলাবাসীর উন্নয়নে কাজ করতে চাই।

আল-মামুন,খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি

প্রেস টিভির সাংবাদিক আটক: সুইস রাষ্ট্রদূতকে তলব করল ইরান

আমেরিকায় ইরানের ইংরেজি নিউজ চ্যানেল প্রেস টিভি’র সাংবাদিক ও উপস্থাপক মারজিয়া হাশেমিকে অবৈধভাবে আটকের প্রতিবাদে তেহরানে নিযুক্ত সুইস রাষ্ট্রদূত মার্কোস লাইটনারকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাহরাম কাসেমি এ খবর জানিয়ে বলেছেন, বেআইনিভাবে ইরানি নাগরিক মারজিয়া হাশেমিকে আটক এবং বেশ কয়েকদিন পরও তাকে মুক্তি না দেয়ায় সুইস রাষ্ট্রদূতকে তলব করে তেহরানের তীব্র প্রতিবাদের কথা জানিয়ে দেয়া হয়েছে।

১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে ইরানে সুইস দূতাবাস মার্কিন স্বার্থ দেখাশোনা করে।

কাসেমি বলেন, প্রেস টিভির সাংবাদিককে অবৈধভাবে আটক, তার সঙ্গে অমানবিক ও বৈষম্যমূলক আচরণের ব্যাপারে একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদপত্র সুইস রাষ্ট্রদূতের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে যেখানে অবিলম্বে মারজিয়া হাশেমি’র নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়েছে, প্রেস টিভির সাংবাদিকের সঙ্গে এফবিআই’র অসঙ্গত আচরণ এবং তাকে আটকের ব্যাপারে মার্কিন কর্মকর্তাদের রহস্যজনক নীরবতা আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের পরিপন্থি। কাজেই এ ব্যাপারে মার্কিন সরকারকে জবাবদিহী করতে হবে।

এ সময় সুইস রাষ্ট্রদূত লাইটনার বলেন, তিনি অবিলম্বে ইরানের এ প্রতিবাদের কথা মার্কিন সরকারকে জানাবেন এবং ওয়াশিংটনের জবাব সম্পর্কে তেহরানকে অবহিত করবেন।

আমেরিকায় জন্মগ্রহণকারী ৫৯ বছর বয়সি সাংবাদিক মারজিয়া হাশেমি তরুণ বয়সে ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি একজন ইরানি নাগরিকের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে গত কয়েক দশক ধরে ইরানে বসবাস করছিলেন।

গত রোববার আমেরিকার সেন্ট লুইস ল্যাম্বার্ট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে আটক করা হয়। তিনি নিজের অসুস্থ ভাই ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যের সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে আমেরিকা সফরে যান।#

কুমিল্লায় নাশকতার মামলা: খালেদার আবেদন ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা নাশকতার মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন আগামী ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নিষ্পত্তি করতে বিচারিক আদালতকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আজ (বুধবার) বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি জাফর আহমেদের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এজে মোহাম্মদ আলী ও ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে মামলাটি বিচারিক আদালতে নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেন।

পরে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ওই আদালতে শুনানি চার বার পেছানো হয়। এখন ৪ ফেব্রুয়ারি সময় নির্ধারণ করা আছে। ওইদিনই আবেদনটি নিষ্পত্তি করতে হবে।

গত ২০ ডিসেম্বর বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা এ মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়। হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় ওই দিন আবেদনটি করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী প্যানেলের অন্যতম সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ভোরে ২০-দলীয় জোটের অবরোধের সময় চৌদ্দগ্রামের জগমোহনপুরে একটি বাসে পেট্রলবোমা ছুড়ে মারে দুর্বৃত্তরা। এতে আট যাত্রী দগ্ধ হয়ে মারা যান, আহত হন ২০ জন।

এ ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই নুরুজ্জামান বাদী হয়ে ৭৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় খালেদা জিয়াসহ বিএনপির শীর্ষস্থানীয় ছয় নেতাকে হুকুমের আসামি করা হয়। ৭৭ আসামির মধ্যে তিনজন মারা যান, পাঁচজনকে চার্জশিট থেকে বাদ দেয়া হয়। খালেদা জিয়াসহ অপর ৬৯ জনের বিরুদ্ধে কুমিল্লা আদালতে তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক ফিরোজ হোসেন চার্জশিট দাখিল করেন।#

সর্বশেষ সংবাদ

পর্দায় এলেন মৌলানা আজাদ