সাগর-রুনি হত্যার ৮ বছরেও শেষ হলো না সেই ৪৮ঘন্টা

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২০
0

সাগর-রুনি হত্যার ৮ বছরেও শেষ হলো না সেই ৪৮ঘন্টা !!

সাগর-রুনি হত্যার ৮ বছরেও শেষ হলো না সেই ৪৮ঘন্টা । স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনের প্রতিশ্রুত ৪৮ ঘন্টা ইতোমধ্যেই ৪৮ দিন ও ৪৮ মাস পেরিয়ে গেছে, এখন হাটছে ৪৮ বছরের পথে। তারপরও সাগর-রুনির হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় আনা দূরের কথা, আদালতে এই মামলার প্রতিবেদনটাই এখনো জমা দিতে পারেনি তদন্তকারী সংস্থা র‌্যাব।

রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে নিজ বাসায় ২০১১ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি নৃশংসভাবে খুন হন সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি। আগামীকাল (মঙ্গলবার) সেই চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ডের ৮ বছর পূর্তি হতে চলেছে।

এই হত্যাকান্ডের ৮ বছর পূর্তির একদিন আগে সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ফের মামলাটিতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য আছে। তবে র‌্যাব সূত্র বলছে, আজও (সোমবার) আদালতে সময় চাওয়া হবে। তাদের দাবি, তদন্ত শেষ না হওয়ায় প্রতিবেদন জমা দিতে পারছে না তারা। গত আট বছরে প্রায় ৭০ বার প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ধার্য করেন আদালত। কিন্তু কোনো তারিখেই প্রতিবেদন দাখিল হয়নি।

তারপরও বিচারের আশা ছাড়ছেন না সাগর-রুনির স্বজনরা। সাগর সারোয়ারের মা সালেহা মনির বলেন, ‘৩০ বছর পর যদি সগিরা মোর্শেদ হত্যা মামলার বিচার শুরু হতে পারে, তবে আমাদের সন্তান হত্যার বিচার কেন হবে না। একদিন না একদিন বিচার হবেই। হয়তো আমি দেখে যেতে পারব না।’

তিনি বলেন, ‘তদন্ত সংস্থার সদিচ্ছা দরকার। আর আদালতকে ভূমিকা নিতে হবে। তারা (আদালত) তদন্তের জন্য একটি সময় বেঁধে দিতে পারেন। যদি আমার সন্তানরা রাষ্ট্রদ্রোহী হয়ে থাকে তদন্ত করে দেখাক, আমি বিচার চাইবো না। মামলায় যারা গ্রেফতার হয়েছে তারা হতে পারে অন্য কোনো ক্ষেত্রে অপরাধী, তবে এ ঘটনায় নয়।’ তাই প্রকৃত আসামি গ্রেফতার এবং বিচারের আশায় আছেন বলে জানান তিনি।

এ সম্পর্কে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আব্দুল্লাহ আবু বলেন, ‘এটা দুঃখজনক যে, আট বছরেও মামলাটির তদন্ত শেষ হয়নি। বিলম্ব জনমনে প্রশ্ন সৃষ্টি করে। আশা করি তদন্ত সংস্থা সেটা উপলব্ধি করে দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দাখিল করবে।’

মামলাটি প্রথম তদন্ত করে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ। তারপর এর তদন্তভার দেওয়া হয় ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখাকে (ডিবি)। দুই মাসের বেশি সময় ডিবি তদন্তের পর একপর্যায়ে ২০১৩ সালের জানুয়ারি মাসে হাইকোর্টের নির্দেশে মামলার তদন্তভার বর্তায় র‌্যাবের ওপর। কিন্তু এখন পর্যন্ত র‌্যাবও তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি।

হত্যাকাণ্ডের পর মামলাটিতে নিহত রুনির কথিত বন্ধু তানভীর রহমান, বাড়ির সিকিউরিটি গার্ড এনাম আহমেদ ওরফে হুমায়ুন কবির, রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মিন্টু ওরফে বারগিরা মিন্টু ওরফে মাসুম মিন্টু, কামরুল হাসান অরুণ, পলাশ রুদ্র পাল ও আবু সাঈদ গ্রেফতার হন। তাদের মধ্যে তানভীর ও পলাশ রুদ্র পাল জামিনে আছেন। সূত্র : আমাদের সময় ডটকম

LEAVE A REPLY