সুখ নদীতে নেট-পাটা ক্রসবাঁধ দিয়ে নোনা পানিতে মাছ চাষ ; জলাবদ্ধতাসহ কৃষি ফসল বিপর্যয়ের সম্মুখীন

আপডেট: অক্টোবর ২৩, ২০১৯
0

মোঃ আনোয়ার হোসেন আকুঞ্জী, খুলনা ব্যুরো :
অসুখে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে ডুমুরিয়ার প্রবাহমান সুখ নদী। নেট-পাটা ও ক্রসবাঁধ দিয়ে নোনা পানি উঠিয়ে একটি সমিতির নামে মাছ চাষ করছে প্রভাবশালী মহল। ফলে জলাবদ্ধতাসহ কৃষক ও কৃষি ফসল বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়ে পড়েছে। কৃষক, কৃষি ফসল ও জনপদকে বাঁচাতে সুখনদীর নেট-পাটা ও পূর্ণাঙ্গরুপে ক্রসবাঁধ অপসারণসহ সুষ্ঠুভাবে স্লুইসগেট পরিচালনার দাবিতে ইউএনও’র নিকট আবেদন জানিয়েছেন এলাকাবাসি। অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য খুলনা বিভাগীয় কমিশনার, খুলনা জেলা প্রশাসক এবং পাউবোর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীর নিকট অনুলিপি প্রদান করেছেন।

অভিযোগে প্রকাশ, খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলাধীন ১৪নং মাগুরখালী ইউনিয়নের প্রায় ৯৭ ভাগ মানুষ কৃষক ও কৃষির উপর নির্ভরশীল। নিষ্কাশন ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রবহমান সুখনদী এলাকার ফসল উৎপাদনের প্রাণকেন্দ্র। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে নিষ্কাশন ব্যবস্থার অব্যবস্থাপনায় এলাকার কৃষক ও কৃষি ফসল বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় প্রভাবশালী কতিপয় ব্যক্তি আলাদিপুর মৎস্য সমবায় সমিতির নামে সরকার থেকে জলমহল ইজারা গ্রহণ করে অর্থের বিনিময়ে একাধিক ব্যক্তিকে লীজ প্রদান করেছেন।

তারা উক্ত নদীতে নেট-পাটা স্থাপনের মাধ্যমে নোনাপানির মাছ চাষ করছেন। যার ধারাবাহিকতায় চলতি অর্থবছরে জলমহল ইজারা না থাকা সত্ত্বেও নোনা পানির মাছ চাষ অব্যাহত রেখেছে। সুখনদী সংলগ্ন একমাত্র স্লুইসগেটটিও তাদের নেতৃত্বে স্বেচ্ছাচারিতাভাবে পরিচালিত হচ্ছে। ফলে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
একটু বৃষ্টি হলেই এলাকার রাস্তাঘাট, বাড়িঘর তলিয়ে যায় এবং বীজতলাসহ আবাদী জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নদীতে একাধিক নেট-পাটা, ক্রসবাঁধ অপসারণ এবং নদীর মুখে খাগড়াবুনিয়া স্লুইসগেট পরিচালনায় অব্যবস্থাপনার কারণে অত্র এলাকার পানি সহজভাবে অপসারণ বা নিষ্কাশন হচ্ছে না।

তাছাড়া চলতি অর্থবছরে নদীটি সরকার কর্তৃক জলমহল ইজারা প্রদান করা না হলেও স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তির সহায়তায় আলাদিপুর মৎস্য সমবায় সমিতির মাধ্যমে অবৈধভাবে মাছ চাষ অব্যাহত রেখেছে।
অভিযোগকারিদের মধ্যে মুকুন্দ বিহারি মন্ডল, পঙ্কজ ফৌজদার এবং পঞ্চানন মন্ডল বলেন; অতি দ্রুত নদীর ভিতরে স্থাপিত সকল নেট-পাটা-বাঁধ অপসারণ এবং গুরুত্ব প্রদান পূর্বক নদীটির মুখে নির্মিত একমাত্র স্লুইসগেটটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য একটি নিরপেক্ষ কার্যকরী কমিটি গঠন করা প্রয়োজন। তা না হলে এলাকার বসতি এলাকা, রাস্তাঘাট ও কৃষি আবাদ মারাত্মকভাবে হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়বে।

আলাদিপুর মৎস্য সমবায় সমিতির সাঃ সম্পাদক সুরঞ্জন সরকার ওরফে পঞ্চানন বলেন; সুখ নদীটি আমরা সমিতির নামে সরকারিভাবে ইজারা নিয়ে মাছ চাষ করে আসছি। তবে চলতি বছরে ইজারা নেয়া হয়নি তবে নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন আমরা অর্ধেকটা ভোগ করছি আর অর্ধেক ৩০-৩৫ জনে আমাদের কাছ থেকে সরকারি খরচ দিয়ে লীজ নিয়ে নেট- পাটা ও বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করে। নেট পাটা বা বাধেঁ যদি ক্ষতি হয় তা হলে আমরা তুলে দেব।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার দপ্তরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা কাজী আব্দুল হাই বলেন; অভিযোগের প্রেক্ষিতে আলাদিপুর মৎস্য সমবায় সমিতির কর্মকর্তাদের কাগজপত্র দেখানোর জন্য অফিসিয়ালভাবে নোটিশ জারী করা হচ্ছে।
ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোছা. শাহনাজ বেগম বলেন; আবেদনের প্রেক্ষিতে অবশ্যই বিষয়টি তদন্ত করা হবে। কৃষি ফসল রক্ষা, জলবদ্ধতা নিরসন এবং এলাকাবাসীর জীবন মান উন্নয়নে নদীর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতকল্পে আইনানুগ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মোঃ আনোয়ার হোসেন আকুঞ্জী

LEAVE A REPLY