সুলতানা কামালকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার অথবা নির্বাসনে পাঠানোর দাবি

আপডেট: জুন ২, ২০১৭
0

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সুলতানা কামালকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার অথবা নির্বাসনে পাঠানোর আল্টিমেটাম দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম।

আজ (শুক্রবার) জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররমের মূল গেটে এক সমাবেশ থেকে হেফাজতের শীর্ষ নেতারা এই সময় বেঁধে দেন। সমাবেশে হেফাজতে ইসলামের ঢাকা মহানগর সহ-সভাপতি মাওলানা জোনায়েদ আল হাবীব সরকারকে উদ্দেশ করে বলেন, “তথাকথিত বুদ্ধিজীবী সুলতানা কামাল বলেছেন, মূর্তি সরাতে হলে মসজিদ সরাতে হবে। আমি বলতে চাই, এই ধর্ম ও দেশদ্রোহী সুলতানা কামালকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করুন, না হয় তাকে তসলিমা নাসরিনের মতো দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেন। সুলতানা কামালের দেশ বাংলাদেশ নয়”

তিনি বলেন, “আমি বলতে চাই, বদরের যুদ্ধ কিন্তু রমজান মাসে হয়েছে। মক্কায় যত মূর্তি সরানো হয়েছে, সেটা রমজান মাসেই সরানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি, মূর্তি কি এখান থেকে সরাবেন? নাকি আমরা আসব? যদি আমাদের আসতে হয়, বাংলাদেশে পূজামণ্ডপ ছাড়া আর কোথাও মূর্তি রাখা হবে না। প্রশাসন ও সরকারকে বলতে চাই, আমরা যে আসতে পারি, আপনাদের নিশ্চয় তা জানা আছে। ২৪ ঘণ্টায় কোটি মানুষ ঘেরাও করবে হাইকোর্ট। মেহেরববানি করে আমাদের আসতে বাধ্য করবেন না। আমরা যে দিন আসব, পুলিশ ঠেকাতে পারবে না। আমরা যে দিন আসব, কাফনের কাপড় হাতে নিয়ে আসব।”

সমাবেশে হেফাজত নেতা মাওলানা মামুনুল হক বলেন, “বাংলাদেশ স্পষ্টভাবে দুটি শিবিরে বিভক্ত। একটি মূর্তির পক্ষে, অন্যটি মূর্তির বিরুদ্ধে। সুপ্রিম কোর্টের সামনে মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে ভিনদেশি এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য। সুপ্রিম কোটের কোনো স্থানেই মূর্তি থাকতে দেয়া হবে না।”

ঢাকা মহানগর হেফাজতের সহ-সভাপতি মুজিবুর রহমান পেশওয়ারী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী, আপনি কলা ঝুলিয়ে মূলা খাওয়ালেন। তিন/চারজন লোকের কারণে আপনার ভোট বাক্স কমছে। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন সামনে আশা করবেন না। আগামী নির্বাচনে স্বয়ং মোদি এসে আপনাকে ক্ষমতায় বসাতে পারবেন না।”

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা নূর হোছাইন কাসেমী বলেন, “গ্রিক দেবী অপসারণের কারণে আমরা গত শুক্রবার ধন্যবাদ জানিয়েছিলাম প্রধানমন্ত্রীকে। কিন্তু অত্যন্ত ব্যথা-বেদনার সঙ্গে আজ আমাদের প্রতিবাদ সমাবেশে সমবেত হতে হয়েছে। মূর্তি অপসারণের পর আবার প্রতিস্থাপন তামাশা, এছাড়া আর কিছু নয়। অনতিবিলম্বে মূর্তি অপসারণ করা হোক, না হলে রমজানের পরে বৃহৎ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন, ঢাকা মহানগর হেফাজতের সহ-সভাপতি মুফতি মাহফুজুল হক, গোলাম মুহিউদ্দীন ইকরাম, আতাউল্লাহ আমিন, হাকিম আব্দুল করিম প্রমুখ

পার্স টুডে

LEAVE A REPLY