সেলিমকে যেখানে মাটি চাপা দেয়া হয়েছে তার ওপরই চৌকি রেখে ৯দিন ঘুমিয়েছে খুনি!!

আপডেট: এপ্রিল ১৫, ২০১৯
0

সদর উপজেলার ফতুল্লায় ঝুট ব্যবসায়ী কামরুজ্জামান সেলিম চৌধুরী হত্যা মামলায় গ্রেফতারকৃত তিনজনের মধ্যে একজন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেছে। এতে ফয়সাল নামের একজন স্বীকার করেছে, তিনি যে ঝুটের গোডাউনে চাকরি করে সেই গোডাউন মালিক ২ লাখ টাকা আত্মসাৎ করতেই সেলিম চৌধুরীকে হত্যা করে।
১২ এপ্রিল শুক্রবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাউছার আলমের আদালতে ফয়সাল নামের ওই ব্যক্তির জবানবন্দী রেকর্ড করা হয়। একই দিন এ মামলায় গ্রেফতার ঝুটের গোডাউন মালিক মোহাম্মদ আলী ও পার্টনার সোলায়মানের ১০ দিন করে রিমান্ড আবেদন করা হলেও সোমবার আদালত শুনানীর দিন ধার্য করেছেন। আদালত পরে তিনজনকেই কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার তদন্তকারী অফিসার ফতুল্লা মডেল থানার এস আই মামুন আল আবেদ জানান, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ফয়সাল ঝুট ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলীর কর্মচারী ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু। মোহাম্মদ আলীর কাছে ব্যবসায়ীক দুই লাখ টাকা পাওনা ছিল সেলিম চৌধুরী। এ টাকা আত্মসাতের জন্যই সেলিমকে হত্যার পরিকল্পনা করে মোহাম্মদ আলী। পরিকল্পনা মতে ৩১ মার্চ বিকেলে সেলিম ভোলাইলের ঝুটের গোডাউনে গেলে আলোচনার এক পর্যায়ে মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করে ফয়সাল। এতে সেলিম চৌধুরী মাটিতে পড়ে গেলে আরো কয়েকটি আঘাত করা হয়। এরপর ফয়সাল একাই সেলিমের হাত পা বেধে প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে মাটি খুড়ে চাপা দেয়। তখন মোহাম্মদ আলী ও তার আরো লোকজন ঘটনাস্থলে দাড়িয়ে দেখেছে।
তিনি আরো জানান, সেলিমকে যেখানে মাটি চাপা দেয়া হয়েছে সেখানে চৌকি রেখে ৯দিন ফয়সাল ঘুমিয়েছে।
প্রসঙ্গত নিখোঁজের ১০দিন পর ১০ এপ্রিল বুধবার বিকেলে ভোলাইলে মোহাম্মদ আলীর ঝুটের গোডাউনে মাটি খুড়ে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ওই ঝুটের গোডাউন মালিক মোহাম্মদ আলী, দুইজন কর্মচারী ফয়সাল ও ইউনুসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কামরুজ্জামান সেলিমের বাড়ি ফতুল্লার বক্তাবলী কানাইনগর এলাকার মৃত সামছুল হুদা চৌধুরীর ছেলে। সে পরিবার নিয়ে শিবু মার্কেট এলাকায় বসবাস করতেন।

এম আর কামাল

LEAVE A REPLY