সৌদিতে নারী শ্রমিকদের ভয়াবহ নির্যাতন নিয়ে মানবাধিকার কর্মীর উদ্বেগ

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৮

সৌদিতে নারী শ্রমিকদের ভয়াবহ নির্যাতন নিয়ে মানবাধিকার কর্মীর উদ্বেগ জানিয়ে তাদের উদ্ধারের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগীতা চাইলেন । মানবাধিকার কর্মী সোনিয়া দেওয়ান প্রীতি তার স্টাটাসে এই মুর্হূতের সৌদিতে ঘটে যাওয়া কয়েকটি নির্মম ঘটনার বর্ণনা করেছেন ।

তার স্টাটাসটি হুবুহু তুলে ধরা হলো-

সৌদি আরবের জেদ্দার আর রেহাব এলাকায় এক ক্যাম্পে সুপারভাইজার ইয়াসমিন কর্তৃক বাংলাদেশী ৩ নারী শ্রমিককে প্রতিনিয়ত অমানুষিক নির্যাতনের খবর পেয়েছিলাম কয়েকদিন আগে। সোমা(৩২), মাউঞ্জিরা(৩৪), বুলবুলি(৪৫), এরা প্রত্যেকেই চাপাইনবাবগঞ্জের বাসিন্দা। দালাল এবং মতিঝিল শাপলা চত্তরের পাশে অবস্থিত এমপি ট্রাভেলস্ এর মাধ্যমে সাবলম্বী হবার স্বপ্ন নিয়ে মাত্র ২ মাসও হয়নি পারি জমিয়েছিল সৌদি আরব।

ক্লিনিকে কাজের কথা বলে সৌদি নিয়ে গিয়ে তাদেরকে জোড়পূর্বক দৈনিক নতুন নতুন ক্রেতার কাছে বেঁচা-কেনার মতো গৃহকর্মীর কাজে দেয়া হচ্ছে। প্রতিনিয়ত শারীরিকভাবে মারধর ও অকথ্য ভাষায় গালাগালি করা হচ্ছে কোনো ধরনের কারণ ছাড়াই। প্রতিবাদ করলে ধর্ষণ ও পতিতালয়ে বিক্রির ভয় দেখানো হচ্ছে, কারো সাথে যোগাযোগ করতে দেয়া হচ্ছে না। দিন-রাত পরিশ্রম করিয়েও বেতন দেয়া হচ্ছে না কাউকে।

প্রত্যেকের সাথে থাকা কাপর, গহনা সহ সমস্ত কিছু সুপারভাইজার ইয়াসমিন কেরে রেখে দিচ্ছে। আমার পরামর্শে এই ভুক্তভোগি নারী ও তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে স্ব স্ব এজেন্সিকে সমস্যার কথাটি জানানোর পরেও এজেন্সি কর্তৃপক্ষ কোনো ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। কিছুক্ষণ আগে এই ৩ নারীকে প্রচন্ড মারধর ও লাঞ্ছিত করেছে ক্যাম্প সুপারভাইজার ইয়াসমিন। কর্তৃপক্ষের নজরদারি না থাকাতে এই মহিলা সুপারভাইজারের সাহস দুঃসাহসে পরিনত হয়েছে।

এর আগেও সে বাংলাদেশ থেকে সৌদি যাওয়া নারীদের দিয়ে জোড়পূর্বক দেহ ব্যবসা করাতো বলে অভিযোগ করেছে সেখানকার ভুক্তভোগি নারীরা। এই নারীরা আর সৌদি থাকতে চায় না। তারা যে কোনো মূল্যে দেশে ফিরতে চায়। অন্তত সম্মান থাকা অবস্থায় দেশে ফিরতেচায় তারা।

যোগাযোগ বন্ধ করার জন্য তাদের হাত থেকে একটু আগে মোবাইল ফোনগুলোও কেরে নিয়েছে লেডি কিলার সুপারভাইজার ইয়াসমিন। দূতাবাস কর্তৃপক্ষকে এসব সমস্যার কথা জানালেই তারা আমাকে তাদের শত্রু মনে করেন। ভাব এমন ধরেন, যেনো আমি কেনো এসব বিষয়ে নাক গলাচ্ছি। এমন অবস্থায় করণীয় নির্ধারন করা কঠিন। নিচের ছবিতে সেই সুপারভাইজার ইয়াসমিন।